নিঃসন্দেহে যেকোন ঘরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কক্ষ হলো শয়ন কক্ষ। এখানেই আপনি দিনের শেষে বিশ্রাম নিতে আসেন, সবচেয়ে দীর্ঘ ও একান্ত সময় কাটান। শয়নকক্ষ সাজানোর সময় সৌন্দর্যের পাশাপাশি আরামের কথাটিও মাথায় রাখতে হয়। আজকাল এমন সব প্রাযুক্তিক সরঞ্জাম বাজারে এসেছে যে আপনার শয়নকক্ষের সজ্জার বস্তুগুলোই আপনার ঘুম ও বিশ্রামকে করবে আরো আরামদায়ক ও সহজ। এমন ১০ টি গ্যাজেটের কথা জেনে নেওয়া যাক চলুন

এলেক্সা

এলেক্সার ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্স বেডরুমের আরাম ও সুবিধা দুটোই বাড়াবে; Image Source:  www.engadget.com

ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ বা খোলা থেকে শুরু করে বৈদ্যুতিক বাতির তীব্রতা কমানো কিংবা নিভিয়ে দেয়া, ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, টেলিভিশনের চ্যানেল বদল, সকালে ঘুম থেকে জাগানো এই সব কাজই একটি গ্যাজেট যদি আপনার মুখের কথায়ই আপনার জন্য করে দেয় ভাবুন কত সহজ হয়ে যাবে জীবন!

কেবল দু-চারটি শব্দ খরচ করেই অ্যামাজন ইকো, অ্যামাজন এলেক্সা কিংবা শুধু এলেক্সা নামের এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তিটি এসব কাজ করে দিয়ে শয়নকক্ষে আপনার জীবনকে আরেকটু সহজ করে তুলবার জন্য অত্যন্ত উপযোগী

প্রোগ্রামেবল থার্মোস্ট্যাট

তাপমাত্রার চাহিদা দিনের বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন হয়। বিশ্রাম বা কাজের ভিত্তিতে মানুষের শারীরিক তাপমাত্রা সর্বক্ষণ ওঠানামা করে। তাই, প্রয়োজন হয় চাহিদা মোতাবেক পরিবর্তন। আর এ পরিবর্তনের কাজটিই করে দেবে একটি স্মার্ট ডিভাইস যার নাম ‘প্রোগ্রামেবল থার্মোস্ট্যাট’।

এই ডিভাইসটি শুধু যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করবে তা-ই নয়, এটি ব্যবহারকারীর ব্যবহার থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তী সময়ে নিজে থেকেই পছন্দসই তাপমাত্রার ব্যবস্থা করে।

সানলাইট ওয়েকআপ অ্যালার্ম

এভাবেই তীব্র আলোতে জ্বলে উঠবে ওয়েক আপ অ্যালার্ম; Image Source: berightlight.com

সানলাইট ওয়েকআপ অ্যালার্ম মূলত কোনো শব্দ করা ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে আপনার ঘুম ভাঙাতে সহায়তা করবে। সানলাইট ওয়েকআপ অ্যালার্মে যথাসময়ে সূর্যের আলোর মতো প্রখর আলোয় জ্বলতে শুরু করবে এবং সময়ের সাথে আলোর তীব্রতা বাড়তে থাকবে। ফলে, কয়েক মিনিটের মধ্যেই ব্যবহারকারীর ঘুম ভাঙতে বাধ্য। অ্যামাজনের ফিলিপস সানলাইট অ্যালার্ম এখন বাজারে সবচেয়ে জনপ্রিয়।

স্লিপ ট্র্যাকার

প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনে নানারকম স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকতে থাকতে দেখা যায় ঘুম পরিপূর্ণ হয়না। সাথে সাথে দেখা দেয় নানা শারীরিক জটিলতা যেগুলো আবার অনেকেই ধরতে পারেনা। তাদের জন্য বাজারে এসেছে অত্যাধুনিক গ্যাজেট স্লিপ ট্র্যাকার। এই ডিভাইসটি ব্যবহারকারীর ঘুমের দৈর্ঘ্য, মান, বিভিন্ন স্তর সহ ঘুম সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করে। আর এসব তথ্য থেকে ব্যবহারকারীকে এটাও জানিয়ে দেয় নিজের ঘুমের মান উন্নয়নের জন্য করণীয়।

ভরযুক্ত কম্বল

তাপমাত্রা কমিয়ে দিয়ে কম্বল গায়ে দিয়ে ঘুমাতে সবারই ভালো লাগে। তবে এই ভালো লাগাটা সর্বোচ্চ হতে পারে একপ্রকার ভরযুক্ত কম্বলের কল্যাণে, যা কিনা রাতের ঘুমকে অধিকতর আরামদায়ক করার নিমিত্তে প্রস্তুত করা হয়েছে। অত্যন্ত মসৃণ এ কম্বল গায়ে দিলে মনে হবে যেন কেউ আরামদায়কভাবে আলিঙ্গন করে আছে। এরকম ভরযুক্ত কম্বলের বাজারে বর্তমানে গ্রাভিটি ব্লাংকেট সবচেয়ে জনপ্রিয়।

কুশিয়ন ব্লুটুথ স্পিকার বালিশ

বালিশ স্পিকারের ধারণা নতুন না হলেও কুশিয়ন বালিশ স্পিকার এই শ্রেণির প্রথম স্মার্ট স্পিকার। এর কার্বন নির্মিত অ্যাকাউস্টিক ফোমগুলো শব্দ উৎপন্ন করায় অত্যন্ত দক্ষ এবং বুদ্ধিমান। কুশিয়ন স্মার্ট স্পিকার বালিশ নিজে থেকেই বুঝতে পারে ব্যবহারকারীর চাহিদা এবং সে অনুযায়ী ভলিউম পরিবর্তন করে। ফোন আসলে বালিশে আপনি শুয়ে থাকুন বা দূরেই থাকুন ,কুশিয়ন স্মার্ট স্পিকার আপনার প্রয়োজন ও অবস্থান অনুযায়ী তৈরী করবে পরিমিত শব্দ।

কুশিয়ন স্পিকার বালিশ; Image Source: us-mattress.com

ড্রিমপ্যাড অ্যাডভান্সড স্মার্ট মিউজিক পিলো

ঘুমের আগে ইয়ারফোন কানে লাগিয়ে রাখতে অনেকসময় অস্বস্তি হয় আবার জোরে গান ছাড়লে হয় অন্যদের অসুবিধা। এক্ষেত্রে সমাধান মিউজিক পিলো। এই মিউজিক বালিশগুলো ব্যবহারকারীকে গান শোনাবে ইন্ট্রা-সাউন্ড পদ্ধতিতে। এ পদ্ধতিতে শব্দ কম্পনে রূপান্তরিত হয়ে বালিশে শুয়ে থাকা ব্যক্তির কানের গভীরে প্রবেশ করবে ‘বোন-কন্ডাক্টর’ পদ্ধতিতে। ফলে তৈরি হবে অত্যন্ত মোলায়েম এবং প্রশান্তিদায়ক শব্দ যা পাশের ব্যক্তির কানে পৌঁছুবে না।

অরিও স্মার্ট ল্যাম্প

অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এ গ্যাজেটটি শহুরে ঘিঞ্জি ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দাদের জন্য, যাদের দিনের বেলাতেও বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালিয়ে রাখতে হয়। সাধারণ বৈদ্যুতিক বাতির মতো সারাক্ষণ একই তীব্রতায় জ্বলবে না এই ল্যাম্প। শুধু তা-ই নয়, আলোর তীব্রতা পরিবর্তনের পাশাপাশি পরিবর্তিত হবে দিকও! এতে করে কৃত্রিম আলোক ব্যবস্থাও ব্যবহারকারীর নিকট অনেকটাই প্রাকৃতিক মনে হবে।

ডাইসনের পার্সোনাল পিউরিফায়িং ফ্যান

এই ফ্যানগুলো বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে ৯৯ শতাংশ ধূলিকণা, দূষক পদার্থ, নানারূপ অ্যালার্জেন, ব্যাকটেরিয়া, ইত্যাদি আটকে ফেলে এবং দূষণমুক্ত বাতাস দেয়। একই ঘরে একাধিক ব্যক্তি উপস্থিত থাকলেও এই ফ্যান কেবল যাদের প্রয়োজন তাদের লক্ষ করে বাতাস দিতে পারে। চাইলে বাতাসের পরিধি বৃদ্ধি বা কমানো যায় এবং দিক পরিবর্তন করা যায়।

মোশন অ্যাক্টিভেটেড বেড লাইট

নড়াচড়া পেলেই জ্বলে উঠবে এ বেডলাইট; Image Source: Amazon.com

একই শয়নকক্ষে একাধিক মানুষ থাকলে দেখা যায় একজনের মাঝরাতে ঘুম ভাঙলে লাইট জ্বালানোর প্রয়োজন হয়। এদিকে অন্যজনের ঘুমটা যায় ভেঙ্গে। এ সমস্যার সমাধান দিচ্ছে আরেকটি স্মার্ট গ্যাজেট, মোশন অ্যাক্টিভেটেড বেড লাইট। কেউ বিছানা থেকে নামলে তার নড়াচড়া টের পেয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিছানার পাশের স্মার্ট বাতিগুলো জ্বলে উঠবে, যেগুলোর আলো সহনীয় মাত্রায় থাকবে এবং কেবল মেঝে আলোকিত করবে।

অ্যান্টি-স্নোর পিলো

এই বালিশের উপর শুয়ে থাকা ব্যক্তি যখনই নাক ডাকতে শুরু করবে, এর স্মার্ট সেন্সর নাক ডাকার শব্দ সনাক্ত করে ফেলবে। তখন এর ভেতরে থাকা একটি ছোট এয়ারব্যগ বায়ুপূর্ণ হয়ে যাবে এবং প্রায় সাথে সাথেই বায়ুশূন্য হবে। ফলে ঘুমন্ত ব্যক্তি খানিকটা ঝাঁকুনি অনুভব করে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করবেন এবং নাক ডাকাও বন্ধ করবেন।

ফিচার ছবি- youtube.com

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *