প্রযুক্তির ব্যবহার আমাদের সকলের জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গিয়েছে। আর যে প্রযুক্তিটি ছাড়া আমাদের একদমই চলে না, তা হলো মোবাইল ফোন। মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন না এমন মানুষ বর্তমান সমাজে সহজে খুজে পাওয়া সম্ভব না। মোবাইল এখন আর শুধু কথা বলার জন্যই ব্যবহৃত হয়না, বরং স্মার্টফোনের আবির্ভাবের পর এমনকিছু নেই যা এই স্মার্টফোনের সাহায্যে করা যায় না।

কথা বলা ও ম্যাসেজ পাঠানোর পাশাপাশি ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে স্মার্টফোনের গুরুত্ব। ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম, টুইটারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম খুব সহজে ব্যবহারের সুবিধা, ভিডিওকল, হাই কোয়ালিটি গেমিং, গান শোনা, মুভি দেখা থেকে শুরু করে প্রায় সকল প্রযুক্তিভিত্তিক সুবিধাই পাওয়া যায় বর্তমান সময়ের স্মার্টফোনগুলোতে।

স্মার্টফোনের ফিচারসমূহ দিন দিন যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে, একইসাথে বাড়ছে বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা। কোন প্রতিষ্ঠান কতটা উন্নত প্রযুক্তি ও কত বেশি ফিচার যুক্ত নতুন প্রজন্মের ফোন বাজারে আনতে পারবে তা নিয়েই চলে প্রতিযোগিতা। সহজে মানুষের হাতে স্মার্টফোন পৌঁছে দেয়ার একটি লক্ষ্য থাকলেও উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার ও বিভিন্ন অত্যাধুনিক ফিচার যোগ করার ফলে স্মার্টফোনের দাম অনেক বৃদ্ধি পায়।

অ্যাপল, সনি, স্যামসাং, হুয়াওয়ে, মটোরোলা, ইত্যাদি স্মার্টফোন ম্যানুফ্যাকচারিং প্রতিষ্ঠান প্রতিবছরই নতুন নতুন ফিচারযুক্ত উচ্চমূল্যের ফোন বাজারে নিয়ে আসছে এবং ফোনগুলোর দেয়া সুবিধাদির কথা বিবেচনা করে মানুষ লুফে নিচ্ছে সেগুলো। বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় অপেক্ষাকৃত কম হলেও এসকল উচ্চমূল্যের ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশের মানুষও। বাংলাদেশে তাই এসকল ব্র্যান্ডের বেশ দামী মডেলের ফোন পাওয়া যায় এখন। বাংলাদেশের বাজারে পাওয়া যায় এমন সবচেয়ে দামী ৫ টি স্মার্টফোন মডেল হলো-

১. স্যামসাং গ্যালাক্সি ফোল্ড (Samsung Galaxy Fold):

বর্তমানে বাংলাদেশে যেসকল স্মার্টফোন পাওয়া যায় সেগুলোর মধ্যে সবচাইতে দামি ফোনটি হলো কোরিয়ান স্মার্টফোন ম্যানুফ্যাকচারার  স্যামসাংয়ের একটি বিশেষ মডেল, যা স্যামসাং গ্যালাক্সি ফোল্ড নামে পরিচিত। বাংলাদেশে এই ফোনটির বর্তমান বাজারদর প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার টাঁকা।

Image Source: PCMag.com

এই ফোনটি বাজারে এসেছে ২০১৯ সালের অক্টোবরে। এই ফোনটি তে যুক্ত করা হয়েছে ফোল্ডিং টেকনোলজি, যা স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী একটি পদক্ষেপ। এর রয়েছে ১২ জিবি র‍্যাম ও ৫১২ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ। উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি ছাড়াও এর রয়েছে উচ্চ প্রযুক্তির সিপিইউ ও জিপিইউ।

এর প্রসেসর হলো কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮৫৫ ও অ্যানড্রয়েড ভার্সন ৯.০। এর সবচেয়ে সেরা ফিচারগুলোর মধ্যে একটি হলো এর ব্যাক ক্যামেরা ও ফ্রন্ট ক্যামেরা, যেগুলোর রেজোল্যুশন অনেক উচ্চমাত্রার।

২. হুয়াওয়ে মেইট আরএস পোরশে ডিজাইন (Huawei Mate RS Porsche Design):

এটি বাংলাদেশে লভ্য স্মার্টফোনগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দামী স্মার্টফোন। এর বর্তমান বাজারদর প্রায় ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। এই স্মার্টফোনটির সবচেয়ে সেরা ফিচারটি হলো এর চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্য। ক্লাসিক কালো রঙের ধাতু ও কালোর মিশেলে গড়া এই ফোনটির ভিতরের ও বাইরের সকল যান্ত্রিক কাজেই রয়েছে সৌন্দর্যের ছোঁয়া।

শুধু সৌন্দর্যই নয়, এর রয়েছে অত্যন্ত উন্নতমানের কৃত্তিম বুদ্ধিমতা। ডলবি এটমোস মানের মুভি দেখার ও মিউজিক শোনার এক্সপেরিয়েন্স পাওয়া যাবে এই ফোনে। ৪০ মেগাপিক্সেল মানের ক্যামেরা ছাড়াও এই ফোনে রয়েছে উচ্চ প্রযুক্তির সিপিইউ, জিপিইউ এবং ডুয়েল ফিঙ্গারপ্রিন্ট সিস্টেম। একই মডেলের আরো বেশ কিছু ভার্সন রয়েছে কাছাকাছি দামেই।

হুয়াওয়ে মেইট আরএস পোরশে ডিজাইন; ছবি: consumer.huawei.com

৩. স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ১০ প্লাস (Samsung Galaxy Note 10 Plus):

বাংলাদেশে সবচেয়ে দামি ফোনের এই তালিকার তিন নম্বরে রয়েছে স্যামসাংয়েরই আরেকটি মডেলের ফোন, যেটি হলো স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ১০ প্লাস। বাংলাদেশে ভার্সনভেদে এর বর্তমান বাজারদর প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার মতো।

এর রয়েছে ৬.৩-৬.৮ ইঞ্চির ডায়নামিক স্ক্রিন, ৮-১২ জিবি র‍্যাম এবং ২৫৬-৫১২ জিবির স্টোরেজ। এর ব্যাকক্যামেরা হিসেবে কাজ করছে যথাক্রমে ১০, ১২ ও ১৬ মেগাপিক্সেলের ভিন্ন ভিন্ন তিনটি লেন্স। এছাড়াও রয়েছে ১০ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা যাতে রয়েছে অনেকগুলো ফাংশন ও সেন্সরের সহায়তা। এর  প্রসেসর হল কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮৫৫, আর সাথে রয়েছে ৩৫০০ এমএএইচ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যাটারি। এই ফোনটি বাজারে আসার পর পেয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা।

স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ১০ প্লাস; ছবি: xtremeskins.co.uk

৪. অ্যাপল আইফোন এক্সএস ম্যাক্স (Apple IPhone Xs Max):

পশ্চিমা বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় স্মার্টফোন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান হলো অ্যাপল। প্রায় সকলেই চায় অ্যাপলের একটি আইফোনের মালিক হতে, কারণ আইফোনের সবগুলো মডেলেই রয়েছে আভিজাত্য ও উন্নত প্রযুক্তির ছোঁয়া। আর আইফোনের যে লেটেস্ট ভার্সনটি বাংলাদেশের বাজারে পাওয়া যাচ্ছে সেটি হলো আইফোন এক্সএস ম্যাক্স, যা এদেশের সবচেয়ে দামি ফোনের তালিকায় রয়েছে চতুর্থ স্থানে।

অ্যান্ড্রয়েড ফোনগুলোর চেয়ে এর অপারেটিং সিস্টেমও আলাদা, যা আইওএস নামে পরিচিত। এর রয়েছে উন্নতমানের ক্যামেরা, সিপিইউ, জিপিইউ এবং অ্যাপলের সকল স্পেশাল উন্নতমানের ফিচার ব্যবহারের সুবিধা, যা অন্য ব্র্যান্ডের ফোনগুলোতে ব্যবহার করা যায় না। এর দুটি ১২ মেগাপিক্সেলের ব্যাকক্যামেরা ছাড়াও রয়েছে ৭ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্টক্যামেরা, যেগুলো দ্বারা উন্নতমানের ভিডিও করা সম্ভব।

আইফোন এক্সএস ম্যাক্স; ছবি: boostmobile.com

৫. অ্যাপল আইফোন এক্সএস (Apple IPhone Xs):

সবচেয়ে দামি ফোনের তালিকার পঞ্চম স্থানটিও অ্যাপলের দখলে। আইফোনেরই আরেকটি মডেল আইফোন এক্সএস রয়েছে এই স্থানে। এ মডেলটিও আইফোনের অন্য মডেলগুলোর মতো আইওএস অপারেটিং সিস্টেমে চলে ও অত্যন্ত উন্নতমানের সিপিইউ ও জিপিইউ-এর অধিকারী।

এর রয়েছে ৬৪ জিবি স্টোরেজ, ১২+১২ মেগাপিক্সেলের রিয়ার ক্যামেরা, ৭ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা এবং উচ্চ রেজ্যুলেশনের ৫.৮ ইঞ্চি একটি স্ক্রিন। এই ফোনটি ওয়্যারলেস চার্জিং সাপোর্ট করে। বাংলাদেশে এর বর্তমান বাজারদর হলো প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা।

আইফোন এক্সএস; ছবি: three.co.uk

উপরের এই পাঁচটি মডেলের ফোন ছাড়াও আরো অনেক ব্র্যান্ডের অনেক দামী ফোন রয়েছে দেশের বাজারে, যেগুলোর রয়েছে তুমুল জনপ্রিয়তা। কিন্তু এগুলোকে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি কোনোটি। আরো বেশকিছু মডেলের স্মার্টফোন রয়েছে যেগুলো বর্তমানে বাজারে আসার অপেক্ষায় রয়েছে এবং বাজারে আসার পর ছাড়িয়ে যেতে পারে উপরের সব মডেল কে। কারণ প্রযুক্তি প্রতিদিনই নিজেকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

ফিচার ছবি- marketingbandar.com

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *