একটি হাতঘড়ির দাম সর্বোচ্চ কত হতে পারে? যাদের ঘড়ি সম্পর্কে জানাশোনা নেই, তারা হয়তো বলবেন কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত। একটি ঘড়ির যন্ত্রাংশে কীই বা আছে যার দাম কয়েক হাজার টাকার চেয়ে বেশি হবে? যদি এরকম হয় আপনার ধারণা, তাহলে বড় ধরনের ধাক্কা খাবার জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে ফেলুন। কারণ এ লেখায় যে ঘড়ির তালিকা দেয়া হবে, তাতে কয়েকশ কোটি টাকা মূল্যের ঘড়িও রয়েছে! হ্যাঁ, শত কোটি টাকা মূল্যের হাতঘড়ি!

এ লেখায় বিশ্বের সবচেয়ে দামী ১০টি ঘড়ির তালিকা দেয়া হলো। তালিকার মূল্য বিভিন্ন সময় পরিবর্তিত হতে পারে। ট্রেন্ডস্পটার্স এবং ম্যান অব মেনি’র তালিকা থেকে এই তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে।

১০. পাটেক ফিলিপ রেফারেন্স- ১৫২৭; মূল্য- ৫.৭ মিলিয়ন ডলার

ঘড়ির জগতে মূল্যমান, ঐতিহ্য আর শ্রেষ্ঠ্যত্বে পাটেক ফিলিপসের নিকটবর্তী আর কেউ নেই। সবচেয়ে দামী ঘড়ির তালিকায় ১০ম স্থানে রয়েছে ১৯৪৩ সালে ডিজাইনকৃত পাটেক ফিলিপসের এ ঘড়িটি, যেটির মূল্য ৫.৭ মিলিয়ন ডলার। দেখতে সাধারণ ঘড়ির মতো হলেও এ ঘড়িটি তৈরি হয়েছে ২০টির বেশি মূল্যবান পাথর আর ২০ ক্যারেট রোজ গোল্ডে।

৯. পাটেক ফিলিপ রেফারেন্স- ১৫১৮; মূল্য- ১১ মিলিয়ন ডোলার

Image Source: phillips.com

রেফারেন্স সিরিজের আরেকটি পাটেক ফিলিপ হাতঘড়ি হলো রেফারেন্স- ১৫১৮, যার মূল্য রেফারেন্স- ১৫২৭ এর দ্বিগুণেরও বেশি। এই ঘড়িটির বিশেষত্ব হলো এর ক্যালেন্ডার ক্রোনোক্রাফটি উন্নতমানের স্টিলের তৈরি, যেখানে অন্যান্য পাটেক ফিলিপের ঘড়িগুলো ইয়েলো বা রোজ গোল্ডে তৈরি করা হয়। লিমিটেড এডিশনের এ ঘড়িটি মাত্রা ৪টি তৈরি করেছে কোম্পানি।

৮. পল নিউম্যান রোলেক্স ডেটোনা; মূল্য- ১৭.৬ মিলিয়ন ডলার

বিশ্বখ্যাত অভিনেতা এবং মোটর রেসার পল নিউম্যানের হাতে শোভা পাওয়া এই রোলেক্স ডেটোনা ঘড়িটি নিলামে বিক্রি হয়েছিল ১৭.৬ মিলিয়ন ডলারে। রোলেক্সের এই লিমিটেড এডিশন ঘড়িটিতে আছে কাল এক্সোটিক ডায়াল যা এই এডিশনের আর কোনো ঘড়িতে নেই। নিউম্যানের স্ত্রী তাকে এই ঘড়িটি উপহার দিয়েছিলেন।

Image Source: watchseek.com

৭. জ্যাক অ্যান্ড কো বিলিয়নেয়ার ওয়াচ; মূল্য- ১৮ মিলিয়ন ডলার

২৬০ ক্যারেট হীরকে তৈরি এ ঘড়িটি দেখলে বাস্তবিকই মধ্যযুগীয় কোনো রাজা বা সম্রাটের কথা মনে পড়ে যাবে, যার পরিধেয় জুড়ে থাকতো সোনা আর হীরকখন্ডের মতো অমূল্য সব পাথর। স্টাইলিশ এ ঘড়িটি এর চোখ ধাঁধানো বডি এবং উজ্জ্বল স্ট্র্যাপের কারণে যে কারো নজর কাড়বে। তবে ঘড়িটি পছন্দ হলেও তো সবার কেনার জো নেই। ১৮ মিলিয়ন ডলার মূল্যের হাতঘড়ি কজনই বা কিনতে পারে!

৬. পাটেক ফিলিপস হেনরি গ্রেভস সুপার কমপ্লিকেশন; মূল্য- ২৪ মিলিয়ন ডলার

ঐতিহ্যবাহী যেসব ঘড়ি কোটি কোটি ডলারে বিক্রি হয়েছে, সে তালিকা করলে হয়তো পাটেক ফিলিপের ঘড়ি ছাড়া অন্য ঘড়ি খুঁজেই পাওয়া যাবে না। তবে সবচেয়ে দামী ঘড়ির এ তালিকায় নিলামে বিক্রিত সর্বোচ্চ দামী ঘড়ি হলো এ ঘড়িটি। ২০১৪ সালে হেনরি গ্রেভস সুপার কমপ্লিকেশন নামের এ ঘড়িটি ২৩.৯৮ মিলিয়ন ডলার মূল্যে নিলামে বিক্রয় হয়েছিল। এটি মূলত একটি পকেট ঘড়ি।

Image Source: celebremagazine.world

একটি স্থায়ী ক্যালেন্ডার, সূর্যদয় ও সূর্যাস্ত, আকাশবিদ্যা সংক্রান্ত চার্ট, মিনিট রিপিটার সহ ২৪টি কমপ্লিকেশন রয়েছে এই ঘড়িতে। কমপ্লিকেশনগুলো যেকোনো স্থানের সময় অনুযায়ী সেট করে নেয়া যায়।

৫. চপার্ড ২০১ ক্যারেট ওয়াচ; মূল্য- ২৫ মিলিয়ন ডলার

একটি ঘড়ির মূল্য কীভাবে ২৫ মিলিয়ন ডলার হতে পারে তা অনুধাবন করতে হলে আপনাকে ঘড়িটির উৎপাদন প্রক্রিয়ার দিকে তাকাতে হবে। উজ্জ্বল রঙিন এ ঘড়িটিতে রয়েছে নানা রঙের অনেকগুলো হীরার টুকরা। এর মধ্যে রয়েছে একটি ১৫ ক্যারেটের পিংক হীরকখণ্ড, একটি ১২ ক্যারেটের নীল এবং ১১ ক্যারেটের সাদা হীরকখণ্ড।

কিন্তু এই তিন খণ্ড হীরকেই দাম ২৫ মিলিয়ন ডলার হয়ে গেছে? না। এই ঘড়ির মূল আকর্ষণ আসলে একটি ১৬৩ ক্যারেটের হলুদাভ সাদা হীরকখণ্ড।

৪. জেগার লেকুল্ট্রে জোয়েললিরি ১০১ ম্যানশেট; মূল্য- ২৬ মিলিয়ন ডলার

অমূল্য এ ঘড়িটির আকাশছোঁয়া দামের কারণটা সহজেই অনুধাবন করতে পারবেন যখন জানবেন এটি রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথকে তার সিংহাসনে বসার ৬০ বছর পূর্তীতে উপহার দেয়া হয়েছিল। ৫৭৬ টুকরা হীরকখণ্ডে খচিত এ ঘড়িটি ঘোর অন্ধকারে জ্বলজ্বল করবে। এছাড়াও এতে রয়েছে একটি স্যাফায়ার ডায়াল, যা এর সৌন্দর্য বাড়িয়েছে আরো কয়েকগুণ।

Image Source: thejewelleryeditor.com

৩. ব্রেজেট গ্র্যান্ড কমপ্লিকেশন ম্যারি অ্যান্টোনেট; মূল্য- ৩০ মিলিয়ন ডলার

সাবেক ফরাসি রাণী ম্যারি অ্যান্টোনেটের জন্য তার প্রেমিক এ ঘড়িটি তৈরি করতে দিয়েছিলেন। ১৭৮২ সালে এ ঘড়ি তৈরির কাজ শুরু হয়, শেষ হয় ১৮২৭ সালে! হ্যাঁ, একটি ছোট্ট পকেট ঘড়ি তৈরি করতে সময় লেগেছিল ৪৫ বছর! তৎকালীন সময়ে প্রচলিত সবরকমের প্রযুক্তি সম্বলিত সোনায় মোড়ানো এ ঘোড়িটির দাম তাই ৩০ মিলিয়ন ডলার।

২. গ্রাফ ডায়মন্ডস দ্য ফ্যাসিনেশন; মূল্য- ৪০ মিলিয়ন ডলার

Image Source: pursuitist.com

ঘড়িটি যখন তৈরি করা হয়, তখন এটি ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে দামী হাতঘড়ি। ১৫৩ ক্যারেটের অসংখ্য ছোটবড় উজ্জ্বল হীরকখণ্ডে সার্বক্ষণিক চোখ ধাঁধানো দ্যুতি ছড়াবে এ ঘড়িটি। আর ঘড়ির মাঝে রয়েছে একটি ৩৮ ক্যারেটের ডায়মন্ড রিংও! এ যেন একটি কিনলে একটি ফ্রি’র মতো। ঘড়ি কিনলে সাথে হীরার আংটিও কেনা হয়ে যাচ্ছে!

১. গ্রাফ ডায়মন্ড হ্যালুসিনেশন; মূল্য- ৫৫ মিলিয়ন ডলার

গ্রাফ ডায়মন্ডের ফ্যাসিনেশনে যদি ‘ফ্যাসিনেটেড’ হয়ে থাকেন, তাহলে এবার হ্যালুসিনেশনে ‘হ্যালুসিনেটেড’ হবার পালা। পৃথিবীর সবচেয়ে দামী হাত ঘড়ি গ্রাফ ডায়মন্ড হ্যালুসিনেশনের মূল্য সাড়ে চারশো কোটি টাকারও বেশি!

Image Source: thebillionaireshop.com

প্লাটিনাম ব্রেসলেটের উপর তৈরি এ ঘড়িতে রয়েছে নানা আকারে কাটা অনেকগুলো দুষ্প্রাপ্য রঙিন হীরখণ্ড, যেগুলোর কোনোটিই ১১০ ক্যারেটের কম নয়। অনেকে তাই বলে থাকেন, এর চেয়ে দামী ঘড়ি তৈরি আর সম্ভবই না! কিন্তু কে জানে, হাত ঘড়ি তৈরিতে মানুষের শৌখিনতা একদিন বিলিয়ন ডলারেও পৌঁছে যেতে পারে!

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *