বাংলাদেশে তো বটেই সারা পৃথিবীতেই ফ্রিজ গৃহস্থালির সবচেয়ে ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক সামগ্রীগুলোর একটি। কাঁচা খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণ, খাদ্যদ্রব্য কে হিমায়িত করে সংরক্ষণ করা, রান্না করা খাদ্যদ্রব্য পরবর্তীতে খাওয়ার জন্য ঠান্ডা করে সংরক্ষণ করা এবং রান্নায় ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী সংরক্ষণের জন্য রেফ্রিজারেটর ব্যবহৃত হয়।

বর্তমানে বাংলাদেশে এমন কোনো বাসা পাওয়া যাবে না যেখানে রেফ্রিজারেটর ব্যবহৃত হয় না। আর বাংলাদেশের উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ায় খাদ্যদ্রব্য অধিক পচনশীল বিধায় রেফ্রিজারেটরের ব্যবহার অনেক বেশি। তাই নির্দ্বিধায় বলা যায় রেফ্রিজারেটর সর্বাধিক ব্যবহৃত ইলেক্ট্রনিক যন্ত্র।

বর্তমানে দেশে অনেক দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ডের সাশ্রয়ী ও দামী উভয় ধরনের রেফ্রিজারেটর পাওয়া যায়। তবে ভালো ফাংশন, দীর্ঘস্থায়িত্ব, ইত্যাদি দিক চিন্তা করে ভালো মানের ফ্রিজ কিনতে চাইলে একটু ভালো ও বিখ্যাত ব্র্যান্ডের ফ্রিজ কেনাই উত্তম। আর সকল ভালো ব্র্যান্ডেরই একটু কম দামের মধ্যে যথেষ্ট ভালো ফ্রিজ রয়েছে। এরকম ৫টি সাশ্রয়ী রেফ্রিজারেটরের তালিকা নিয়ে সাজানো হয়েছে এই লেখাটি।

১. স্যামসাং ফ্রস্ট ফ্রি রেফ্রিজারেটর, মডেল আরটি২৮কে৩০৫২এস৮ (Samsung Frost Free Refrigerator, Model RT28K3052S8):

কোরিয়ান ইলেকট্রনিক পণ্য ম্যানুফ্যাকচারিং প্রতিষ্ঠান স্যামসাং সারা বিশ্বেই অত্যন্ত জনপ্রিয়। বিগত কয়েক দশক জুড়েই স্যামসাং ইলেক্ট্রনিক্স ম্যানুফ্যাকচারারদের মধ্যে অন্যতম সেরার আসন দখল করে আছে। এরই ধারাবাহিকতায় রেফ্রিজারেটর ম্যানুফ্যাকচারিংয়েও বিশ্বে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি হলো স্যামসাং, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বাজারেও।

স্যামসাংয়ের ফ্রিজ গুলো মানে যেমন সেরা, তেমনি এর রয়েছে সাশ্রয়ী মূল্যের অনেক রেফ্রিজারেটর। এগুলো যে কেউ সহজে কিনতে পারবেন এবং ব্যবহার করে লাভবান হবেন ভালো সার্ভিস পাওয়ায়।

স্যামসাং এর এমন একটি সাশ্রয়ী মূল্যের ফ্রিজ হলো আরটি২৮কে৩০৫২এস৮ মডেলের ফ্রস্ট ফ্রি রেফ্রিজারেটর। শক্তিশালী কুলিং ক্ষমতা, শক্ত গ্লাস শেলফ, ইনভার্টার প্রযুক্তি, ইত্যাদি সবই রয়েছে এই ফ্রিজে। এছাড়াও এর রয়েছে ১০ বছর কম্প্রেসার ওয়ারেন্টি, ফ্রস্ট ফ্রি হওয়ায় অতিরিক্ত বরফ জমে না এবং এর ধারণ ক্ষমতা ২৫৩ লিটার। দেশের বাজারে এর বর্তমান দাম পড়বে প্রায় ৪৬ হাজার টাকা।

স্যামসাং ফ্রস্ট ফ্রি রেফ্রিজারেটর, মডেল আরটি২৮কে৩০৫২এস৮; Image Source: transcomdigital.com

২. হিতাচি টপ মাউন্ট রেফ্রিজারেটর, মডেল আর-এইচ৩৫০পি৪পিবিকে (Hitachi Top Mount Refrigerator, Model R-H350P4PBK):

বাংলাদেশের বাজারে প্রতিযোগিতায় থাকা আরেকটি উন্নতমানের ও বিখ্যাত আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড হলো হিতাচি। হিতাচি রেফ্রিজারেটর ম্যানুফ্যাকচারার হিসেবে সারা বিশ্বে সমাদৃত। এর অনেক ভালো মানের ও ভালো ফাংশনযুক্ত দীর্ঘস্থায়ী ও সাশ্রয়ী ফ্রিজ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম একটি রেফ্রিজারেটর হলো আর-এইচ৩৫০পি৪পিবিকে মডেলের টপ মাউন্ট রেফ্রিজারেটর।

এর রয়েছে ইনভার্টার কন্ট্রোল যার ফলে বিদ্যুৎ খরচ কমে যায়। উজ্জ্বল এনার্জি সেভিং এলইডি লাইট ব্যবহৃত হয় এতে এবং ন্যানো টাইটেনিয়াম এর ব্যবহারের মাধ্যমে খাদ্য ব্যাকটেরিয়া থেকে সুরক্ষা পায়। ইকো থার্মোসেন্সর থাকায় পরিবেশের তেমন ক্ষতি করে না অতিরিক্ত সিএফসি নিঃসরণের মাধ্যমে। এর ধারণক্ষমতা ৩১৮ লিটার এবং এর রয়েছে ১০ বছরের কম্প্রেসার ওয়ারেন্টি। বিভিন্ন রঙে পাওয়া যায় এ ফ্রিজটি। বর্তমানে এর বাজারদর প্রায় ৬৩ হাজার টাকা।

হিতাচি টপ মাউন্ট রেফ্রিজারেটর, মডেল আর-এইচ৩৫০পি৪পিবিকে; Image source: transcomdigital.com

৩. হোয়্যার্লপুল সিএনভি ৪৫৫ ফ্লেক্সি ফ্রিজার টু ডোর ফ্রস্ট ফ্রি রেফ্রিজারেটর (Whirlpool CNV 455 Flexi Freezer Two-Door Frost Free Refregerator):

বিখ্যাত হোয়ার্লপুল কোম্পানিও বাজারে নিয়ে এসছে নানা ধরনের সাশ্রয়ী মূল্যের, উন্নত ফিচার ও ফাংশন বিশিষ্ট রেফ্রিজারেটর। এর মধ্যে অন্যতম একটি মডেল হলো সিএনভি ৪৫৫ টু ডোর ফ্রস্ট ফ্রি ফ্লেক্সি ফ্রিজার। এটি ফাইভ ইন ওয়ান মোড, অর্থাৎ ৫টি ভিন্ন ধরনের মোড রয়েছে এতে। সেগুলো হলো- অল সিজন, শেফ, ডেজার্ট, পার্টি ও ডীপ ফ্রিজ।

হোয়ার্লপুলের ইন্টেলিসেন্স ইনভার্টার প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে এতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয় এবং লোডশেডিং এর সময় হোম ইনভার্টারের সাথে যুক্ত হয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু থাকে ফ্রিজটি। সাধারণের চেয়ে ৯০ শতাংশ শক্তিশালী কুলিং সিস্টেম থাকায় অন্য সাধারণ রেফ্রিজারেটরের চেয়ে ৪০% দ্রুত কাজ করে এই ফ্রিজটি।

মাইক্রোব্লক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ৯৯% ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য জীবাণু রোধ করে খাদ্যদ্রব্যকে স্বাস্থ্যকর রাখার ব্যবস্থা আছে এতে। সিলফ্রেশ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে খাদ্যদ্রব্য থাকে সতেজ ও সুন্দর। ফল, সবজি, তরল খাদ্য, ইত্যাদি রাখার আলাদা আলাদা শেলফের পাশাপাশি রয়েছে অ্যাডাপ্টার সিস্টেম, যার ফলে শেলফ উঠানামা করতে পারে। বর্তমানে এর বাজারদর ৮৩ হাজার টাকা প্রায়।

হোয়্যার্লপুল সিএনভি ৪৫৫ ফ্লেক্সি ফ্রিজার টু ডোর ফ্রস্ট ফ্রি রেফ্রিজারেটর; Image Source: transcomdigital.com

৪. হিতাচি স্টাইলিশ বটম ফ্রিজার, মডেল আর-বিজি৪১০পিজিপিবিএক্স (Hitachi Stylish Bottom Freezer, Model R-BG410PGPBX):

বিখ্যাত হিতাচি কোম্পানির আরেকটি অন্যতম সাশ্রয়ী মূল্যের মধ্যে সেরা মডেলের রেফ্রিজারেটর হলো আর-বিজি৪১০পিজিপিবিএক্স মডেলের স্টাইলিশ বটম ফ্রিজার। এই ফ্রিজটির কুলিং ক্ষমতা অনেক শক্তিশালী। ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়ও এটি ঠান্ডা করার কাজ করে যেতে পারে।

চ্যাপ্টা ও শক্ত কাঁচের সুন্দর দরজা ব্যবহার করা হয়েছে এতে, যাতে সহজে দাগ না পড়ে ও পরিষ্কার করাও সহজ হয়। আর এই দরজার উপর রয়েছে টাচ স্ক্রিন কন্ট্রোলার। উচ্চ ক্ষমতার ইনভার্টার কম্প্রেসার ব্যবহৃত হয় বিধায় প্রচুর পরিমাণে ঠান্ডা সতেজ বাতাস নির্গত হয় এবং বিদ্যুতের অপচয় ও রোধ হয়। স্টাইলিশ বটল-ওয়াইন শেলফ ছাড়াও এর রয়েছে কয়েক ধরনের অ্যাডজাস্টেবল পকেট। এর বর্তমানে দাম প্রায় ৮০ হাজার টাকা।

৫. স্যামসাং আরটি৩৪এম৫৫৩৫এস৮ রেফ্রিজারেটর (Samsung RT34M5535S8 Refregerator):

তালিকার শেষে রয়েছে স্যামসাং এর সাশ্রয়ী মূল্যের মধ্যে আরেকটি উন্নত মডেল যেটি হলো আরটি৩৪এম৫৫৩৫এস৮ রেফ্রিজারেটর। ৭০% আর্দ্রতা থাকা সত্ত্বেও এটি খাদ্যদ্রব্য কে নষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। খাদ্যদ্রব্যে সহজে দুর্গন্ধ ছড়াতে দেয় না এবং ৫ ধরনের কনভার্সন মোডের সাহায্যে খাদ্যকে সতেজ রাখে।

এছাড়াও ইনভার্টার থাকায় কম বিদ্যুৎ অপচয় করে ও ব্যাকটেরিয়া প্রটেক্টরের মাধ্যমে খাদ্য জীবাণুমুক্ত রাখে। এর ধারণক্ষমতা ৩২১ লিটার। এর রয়েছে ১০ বছরের ওয়ারেন্টি। বর্তমানে এর বাজারদর প্রায় ৫৯,০০০ টাকা।

স্যামসাং আরটি৩৪এম৫৫৩৫এস৮ রেফ্রিজারেটর; Image Source: evaly.com.bd

এই তালিকার বাইরেও অনেক ভালো মানের সাশ্রয়ী মূল্যের ফ্রিজ রয়েছে। তবে তালিকার এই ৫টি বাজারের অন্যতম সেরাগুলোর অন্তর্ভুক্ত।

ফিচার ছবি- homestratosphere.com

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *