ফটোগ্রাফি শুরু করতে চাচ্ছেন কিন্তু ভেবে পাচ্ছেন না কোন ক্যামেরাটি কিনবেন? একজন ফটোগ্রাফারের সর্বক্ষণের বিশ্বস্ত সঙ্গী হলো তার ক্যামেরা। আর এই ক্যামেরাটি যেন কাজের উপযোগী হয় তার জন্য ক্যামেরা কেনার আগে মাথায় রাখতে হবে নিজের কাজের ধরন, বাজেট, কাজের দক্ষতা, লেন্সের প্রয়োজনীয়তা ইত্যাদি।

প্রথম ক্যামেরাটি কেনার সময় একজন নতুন ফটোগ্রাফারের বাজেট স্বভাবতই খুব বেশি হয়না। বাংলাদেশের বাজারেই কম দামে আপনি কিনতে পারেন আপনার কাজের উপযোগী ক্যামেরা ও লেন্স। এমন পাঁচটি ক্রয়সাধ্য ক্যামেরার ব্যাপারে জেনে নেওয়া যাক-

১. ক্যানন EOS 1300D : 

ক্যাননের এই ক্যামেরাকে এন্ট্রি লেভেল বা একেবারে নতুন ফটোগ্রাফারদের উপযোগী ক্যামেরা বলা চলে। ক্যাননের এই মডেলের ক্যামেরাটি আবার রিবেল টি৬ নামেও পরিচিত। ১৮.০ মেগাপিক্সেলের এপিএস-সি সেন্সরযুক্ত ক্যামেরাটি দিয়ে অনায়াসে স্বতন্ত্র ডিএসএলআর মানের ছবি এবং সিনেম্যাটিক ফুল এইচডি চলচ্চিত্র ক্যাপচার করা যায়।

কম্পিউটার ও স্মার্টফোনগুলোর মতো ডিভাইসে ডেটা স্থানান্তর করার জন্য WIFI এবং NFC যুক্ত আছে এই ক্যামেরাটিতে। এটি শিক্ষানবিশদের জন্য ভাল একটি ক্যামেরা। তবে এর কোনো টাচস্ক্রীন নেই। এ মডেলটি ইএফএস লেন্সের মাউন্টটি ব্যবহার করে যা ক্যাননের অন্যান্য ইএফএসের সাথে মিল আছে। আইএসও ১০০-৬৪০০ সীমার সেন্সিটিভিটির ক্যামেরাটি দিয়েস্বল্প আলোতেও ভালো ছবি তোলা যায়। বাজেটের উপযোগী এই ক্যামেরাটির বাজার মূল্য ২৭,০০০ টাকা।

ক্যানন EOS 1300D ক্যামেরায় স্বল্প আলোতেও তোলা যায় ভালো মানের ছবি; Image source:  www.canon.co.uk

২. NIKON D5300 :

এবারে আমরা যে ক্যামেরাটির কথা বলবো সেটির মডেল নিকন ডি৫৩০০। ডি৫৩০০ একটি ২৪.২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা। এতে বিল্ট ইন ওয়াইফাই সংযুক্ত করা আছে ছবি শেয়ারের জন্য। নতুন ডিজাইন উদ্ভাবনে ২৪.২ মেগাপিক্সেল ডিএক্স ফরম্যাট সিএমওএস ইমেজ সেন্সর ক্যামেরাটিকে জীবন্ত ও অত্যন্ত শার্প ছবি তোলার উপযোগী করে তুলেছে। যার ফলে ক্রপ করলেও ছবির কোয়ালিটি নষ্ট হবেনা। 

১.০৪ মিলিয়ন-ডট এলসিডি স্ক্রিন ভিডিওগ্রাফির পাশাপাশি স্টিলিং ফটোগ্রাফারদের কাছে আকর্ষণীয় হবে। ক্যামেরাটির বর্তমান বাজারদর ৩৪,০০০ টাকা।

জীবন্ত ও অত্যন্ত শার্প কোয়ালিটির ছবি তোলা যাবে NIKON D5300 ক্যামেরায়; Image source: www.nikonusa.com

৩. ক্যানন EOS 2000D/rebel T7 : 

এই মডেলটি ক্যাননের তৈরি ২৪.০ মেগাপিক্সেল ডিজিটাল একক লেন্স রিফ্লেক্স ক্যামেরা। 2000D হলো একটি এন্ট্রি-লেভেল ডিএসএলআর যা ইওএস ২০০০ডি কেও ছাড়িয়ে যায় অনন্য সব ফিচারের দিক থেকে। ক্যামেরাটিতে আছে এলসিডি ডিসপ্লে, স্ক্রিন 3.0’র টাচস্ক্রিন, ডেটা স্থানান্তর করার জন্য রয়েছে বিল্ট ইন ওয়্যারলেস/ওয়াইফাই।

এটিও একটি ফুল এইচডি ভিডিও ক্যামেরা। ব্যবহারে সহজ তাই নতুন ব্যবহারকারীদের কাছে এই ক্যামেরাটির গ্রহণযোগ্যতা বেশি। ইওএস-এর প্রতিদ্বন্দ্বী  T7 বা ইওএস ২০০০ডি ক্যামেরাটি সাশ্রয়ী ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে বানানো হয়েছে। যারা হয়ত সাশ্রয়ী মূল্যের জন্য কয়েকটি বৈশিষ্ট্য ছাড় দিতে পারেন। এই মডেলটির দাম ৩৬,০০০ টাকা

ক্যানন EOS 2000D নতুন ব্যাবহারকারীদের উপযোগী একটি ক্যামেরা; Image source:  www.canon.co.uk

৪. ক্যানন EOS 200D : 

সহজে চালনা করা এবং টাচস্ক্রিন সুবিধাযুক্ত এই ক্যামেরাটি আপনাকে স্মার্টফোনের মতই ব্যাবহার অনুভূতি দিবে। ইওএস ২০০ডি শুরু থেকেই ব্যবহার করা সহজ। এর ২৪.২ মেগাপিক্সেল ফটোগুলি প্রকৃতির রঙের সাথে সমৃদ্ধ এবং সরাসরি ক্যামেরা থেকে দুর্দান্ত দেখায়। বড় আকারে প্রিন্ট করার জন্য, ফটোবুক এবং অনলাইন, গ্যালারী ও এক্সিবিশনের জন্য উপযুক্ত এই ক্যামেরায় তোলা ছবি।

ইওএস ২০০ডি এর বৃহৎ এপি এসসি সেন্সর অগভীর কিংবা গভীর, সকল ছবি সাবলীলভাবে তুলতে পারে, যার কারণে ক্যামেরাটিকে বহুমূখী কাজে ব্যবহার করা যায়। এটি একটি ক্যামেরার জন্য আদর্শ গুন। এই অসাধারণ ক্যামেরাটির মূল্য মাত্র ৩৮,০০০ টাকা।

ক্যানন EOS 200D ক্যামেরায় তোলা ছবি হবে বড় আকারে প্রিন্টের উপযোগী; Image source: www.canon.co.uk

৫. ক্যানন EOS 750D : 

স্বল্প খরচে ক্যানন এর এই মডেলে পাবেন সর্বাধুনিক ডিএসএলআর প্রযুক্তি এবং অটো মোডের সুবিধা, যা আপনার ফটোগ্রাফিকে অনায়াসে পরবর্তী স্তরে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে। সৃজনশীল শ্যুটিং স্কিলগুলো এক্সপ্লোর করতে পারবেন সহজেই এবং 3.0 “(7.7 সেমি) ভারি এঙ্গেল এলসিডি টাচ স্ক্রিন ব্যবহার করে ক্যামেরাটি নিয়ন্ত্রণ করাও সহজ।

ইওএস ৭৫০ ডিতে একটি ইন্টেলিজেন্ট ভিউফাইন্ডারের বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা শুটিংয়ের অনন্য অভিজ্ঞতা দিবে। আপনি যত সহজে ছবি তুলতে পারবেন তত সহজে সিনেম্যাটিক দৃশ্যও রেকর্ড করতে বা ভিডিওগ্রাফি করতে সক্ষম হবেন। বিভিন্ন দৃশ্যের জন্য ভিন্ন ভিন্ন মোড ব্যবহার করে স্বচ্ছন্দ্যে সৃজনশীল ফটো ক্যাপচার করতে পারবেন এর মাধ্যমে। এই ক্যামেরার জন্য আপনাকে খরচ করতে হবে ৩৮,০০০ টাকা।

৬. ক্যানন ইওএস ৪০০ ডি

এই ক্যামেরাটি ডিজিটাল রেবেল এক্সটিআই নামেও পরিচিত। এই ক্যামেরাটিও একটি এন্ট্রি লেভেল ক্যামেরা। ব্যবহারকারীদের কাছে এটি বেশ প্রশংসাও পেয়েছে। এই ক্যামেরায় পাবেন ১০.১ মেগাপিক্সেল সেন্সর এবং ২.৫ ইঞ্চি এলসিডি ডিসপ্লে। ক্যামেরাটিতে নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য সুবিধাজনক মেনুয়াল ও সেমি মেনুয়াল মোডে ব্যবহারের প্রয়োজনীয় সকল ফিচারই রয়েছে।

Image Source: pocket-lint.com

এটি ক্যাননের অন্যান্য ক্যামেরা, যেমন- ক্যানন ৩০০ডি এর চেয়ে খুব হালকা যার কারণে সহজেই বহন করা যায় এবং আউটডোর ফটোগ্রাফির জন্য ভালো অপশন। পয়েন্ট-এন্ড শ্যুট ক্যামেরা থেকে বেরিয়ে যেসব পুরোনো ব্যবহারকারীরা সহজে ব্যবহার্য ডিএসএলআর ক্যামেরা খুঁজছেন, তারাও এই মডেলটি বেছে নিতে পারেন। এই ক্যামেরার জন্য বাংলাদেশের বাজারে আপনাকে গুণতে হবে মাত্র ২৩,৫০০ টাকা।

ফিচার ছবি- unsplash.com

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *