শীতকাল সবমিলিয়ে একটি আরামদায়ক ঋতু হলেও শীতকালের প্রধান ঝামেলাটিই হলো প্রচুর ঠান্ডা আবহাওয়া। নানা ধরনের পিঠা, নানা অনুষ্ঠানে পূর্ণ ঝলমলে সন্ধ্যা প্রায় সকলেরই পছন্দের। কিন্তু ঠান্ডা সহ্য করতে না পারায় অনেকের কাছেই শীতকাল হয়ে পড়ে মলিন। ঠান্ডা থেকে বাঁচতে কেউ কেউ তো বাসা থেকে বের হওয়ার চিন্তা বাদ দেন, কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয় না।

বাড়িতে বসেই ঠান্ডায় কাবু হতে হয়, কারণ বেশিরভাগ বাড়িতেই নেই ঠান্ডা প্রতিরোধের যথার্থ ব্যবস্থা। একই বাড়ির আবার বিশেষ বিশেষ স্থানে ঠান্ডার তারতম্য বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই শীতকালে যাতে ঘরে একটি আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করা যায়, তার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে রুম বা স্পেস হিটার। ঘরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে শীতের কবল থেকে মুক্তি দিতে হিটারের জুড়ি নেই।

শীতকালে ঘরে টেলিভিশন দেখে বা বই পড়ে আরামদায়ক আলস্যে সময় কাটাতে চাইলে বা অফিসে আরামে কাজ করতে চাইলে একটি রুম হিটার দিতে পারে তার নিশ্চয়তা। সাইজ, ফাংশন, পোর্টেবিলিটি, পাওয়ার, ইত্যাদির উপর ভিত্তি করে নানা ধরনের রুম হিটার রয়েছে বাজারে। তার মধ্যে সেরা ৭ টি রুম বা স্পেস হিটার নিয়ে সাজানো হয়েছে এই তালিকাটি।

১. লাইফস্মার্ট ১৫০০ ওয়াট ৬ এলিমেন্ট উড ইনফ্রারেড পোর্টেবল হিটার (Lifesmart 1500 Watt 6 Element Wood Infrared Portable Heater):

বাড়ির একটি বড় অংশকে গরম রাখতে চাইলে এই হিটারটি সবচেয়ে কার্যকর। অবলাল তাপমাত্রা বৃদ্ধিকারক রশ্মি ব্যবহার করে এটি প্রায় ১০০০ বর্গফুট জায়গা গরম করতে পারে। আর এই হিটারটির তিন ধরনের হিট সেটিংস রয়েছে যার মধ্যে একটি হলো ইকো সেটিংস। এর সাহায্যে  হিটারটি নিজেই ৬৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রা সেট করে চলতে থাকে।

রিমোট কন্ট্রোল অথবা এলইডি ডিসপ্লে ব্যবহার করে সহজে যেকোনো তাপমাত্রা সেট করা যায়। আর নিরাপদভাবে ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এর জুড়ি নেই। কাঠের সুন্দর বাক্সটি কখনো গরম না হওয়ায় কোনো ক্ষতির আশঙ্কা থাকে না। এছাড়াও রয়েছে চাইল্ড লক ও ১২ ঘন্টার প্রোগ্রামেবল টাইমার যার ফলে হিটার বন্ধ করতে ভুলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে না। আর বেশি গরম হয়ে গেলে এটি নিজে নিজেই বন্ধ হয়ে যায়। এর বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১০,০০০ টাকা।

লাইফস্মার্ট ১৫০০ ওয়াট ৬ এলিমেন্ট উড ইনফ্রারেড পোর্টেবল হিটার; Image Source: homedepot.com

২. বায়োনেয়ার সাইলেন্ট মিকাথার্মিক কনসোল হিটার (Bionaire Silent Micathermic Console Heater):

খনিজ মিকার তৈরি মিকাথার্মিক হিটিং প্যানেল ব্যবহার করে তাপ প্রতিফলনের মাধ্যমে একটি বড় জায়গার তাপমাত্রা খুব দ্রুত বৃদ্ধি করতে পারে এই হিটারটি। এটি যেমন তাড়াতাড়ি আবহাওয়া গরম করতে পারে, তেমনি রয়েছে ওভারহিটিং সহ গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ফিচার। দুই ধরনের হিটিং সিস্টেমের মাধ্যমে নিখুঁত তাপমাত্রার ব্যবস্থা করে এটি।

এটি শুধু বাতাস না, পারিপার্শ্বিক সবকিছু কে গরম করে তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করে। অনলাইন শপিং সাইট অ্যামাজনের অন্যতম টপ রেটেড প্রোডাক্ট এই হিটারটি। এর বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৮,৫০০ টাকা।

৩. এয়ার চয়েস ইলেকট্রিক স্পেস হিটার (Air Choice Electric Space Heater):

এই হিটারটি সবচাইতে তাড়াতাড়ি তাপমাত্রা বৃদ্ধি করতে পারার জন্য খ্যাত। খোলা কয়েল ব্যবহার না করে সিরামিক হিটিং উপাদান ব্যবহার করে এটি মাত্র ৩ সেকেন্ডে পারিপার্শ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে থাকে। দোলন প্রক্রিয়া ব্যবহার করে এটি তাপ প্রবাহ সম্পন্ন করে। ফ্যান মোড, কম তাপ, বেশি তাপ, এই তিনটি প্রক্রিয়া ব্যবহার করে হিটারটি কাজ করে যার ফলে পছন্দমতো তাপমাত্রা তৈরি করতে পারে সহজেই।

হালকা ওজন ও বিল্ট ইন হাতলের কারণে সহজেই এক রুম থেকে অন্য রুমে বহন করা যায় এটি। ওভারহিট, টিপিং প্রটেকশন ইত্যাদি নিরাপত্তা ফিচারের কারণে এটি ব্যবহার অত্যন্ত নিরাপদ, এমনকি বাড়িতে শিশু ও পোষা প্রাণী থাকলেও। এর বর্তমান বাজারদর প্রায় ৩ হাজার টাকা।

এয়ার চয়েস ইলেকট্রিক স্পেস হিটার; Image Source: homeclimatecenter.com

৪. ল্যাসকো ৭৫৪২০০ সিরামিক হিটার (Lasko 754200 Ceramic Heater):

এই হিটারটি আকারে ছোট হলেও ১৫০০ ওয়াট ক্ষমতাবিশিষ্ট হওয়ায় তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে খুবই কার্যকরী। এর ৩ ধরনের তাপবৃদ্ধি প্রক্রিয়া থাকায় সহজেই তাপমাত্রা সমন্বয় করা যায়। এটি সহজে পরিবহনযোগ্য এবং যেকোনো জায়গায়ই রাখা যায়। এর সিরামিক হিটিং সিস্টেম নিজেই কাজ করায় নিরাপত্তা ঠিক থাকে।

এতে স্বয়ংক্রিয় ওভারহিট প্রোটেকশন থাকায় এবং ধরতে ঠান্ডা হওয়ায় নিরাপত্তা বিষয়ে কোনো দুশ্চিন্তা করতে হয় না। বেশিরভাগ জায়গায় এটি ব্যবহার্য হলেও অধিক আর্দ্রতাপূর্ণ জায়গায় ব্যবহার না করাই ভালো।

৫. ফিটফার্স্ট ৯৫০ ওয়াট পিটিসি সিরামিক স্পেস হিটার (Fitfirst 950 w PTC Ceramic Space Heater):

কোনো অল্প পরিসর স্থান তাড়াতাড়ি গরম করতে চাইলে এই হিটারটির জুড়ি নেই। ৯০ ডিগ্রি স্বয়ংক্রিয় দোলন ফিচার থাকায় তাপপ্রবাহ সারা রুমে সহজে ছড়িয়ে যায়। স্বাভাবিক বায়ুপ্রবাহ, নিম্ন ও উচ্চতাপ, এই তিন ধরনের সিস্টেম থাকায় সবসময় এটি ব্যবহারযোগ্য। হিটারটি অগ্নিরোধক হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি নেই।

এছাড়াও রয়েছে ওভারহিটিং ও টিপিং ওভার প্রোটেকশন, যা থাকার ফলে এটি পড়ে গেলে বন্ধ হয়ে যায়। এটি ছোট হওয়ায় সহজে পরিবহনযোগ্য ও এটি বায়ু দূষণ আটকাতে সাহায্য করে ফিল্টার ব্যবহারের মাধ্যমে। এর বাজারদর প্রায় সাড়ে ৩ হাজার টাকা।

ফিটফার্স্ট ৯৫০ ওয়াট পিটিসি সিরামিক স্পেস হিটার বাজারের অন্যতম সেরা; Image Source: amazon.com

৬. ভরনাডো ভিএমএইচ৩০০ হোল রুম মেটাল হিটার (Vornado VMH300 Whole Room Metal Heater):

একটি বড় রুমকে সহজে গরম করতে চাইলে এই হিটারটি অত্যন্ত কার্যকরী, তবে এটি সবচেয়ে ভালো কাজ করে ১০০ থেকে ৩০০ বর্গফুটের মধ্যে। এটির ২ ধরনের তাপবৃদ্ধি সিস্টেম রয়েছে এবং বায়ুপ্রবাহ পদ্ধতি ব্যবহার করায় হিটারটি গরম হয়না। আর তাই ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটি যথেষ্ট নিরাপদ।

অত্যধিক গরম হলে বা কোনো যন্ত্রাংশ পুড়ে গেলে নিজে নিজে বন্ধ হয়ে যায় এটি। সাধারণ ব্যক্তিগত হিটার থেকে বড় হলেও ওজন তেমন বেশি না হওয়ায় এটি সহজে বহনযোগ্য। এর দাম পড়বে প্রায় ৭ হাজার টাকা।

৭. হানিওয়েল এনার্জিস্মার্ট ইলেকট্রিক রেডিয়েটর হিটার (Honeywell EnergySmart Electric Radiator Heater):

এটি মূলত বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ব্যবহার খরচ কমায় ও কেন্দ্রীয়ভাবে বাড়ির তাপমাত্রা বৃদ্ধির কাজ করে থাকে। প্রোগ্রামেবল থার্মোস্ট্যাট ব্যবহার করে ইচ্ছামতো তাপমাত্রার পরিবর্তন করা যায়। অটো অফ টাইমার সহ টিপিং ওভার ও ওভারহিটিং প্রোটেকশন থাকায় ব্যবহার নিরাপদ। চাকা ও হাতল থাকায় এটি সহজে পরিবহনযোগ্য। এর দাম পড়বে প্রায় ৬৩০০ টাকা।

একটি হানিওয়েল এনার্জিস্মার্ট ইলেকট্রিক রেডিয়েটর হিটার; Image Source: airconditioners.ukbe.com

এসকল স্মার্ট রুম হিটার ব্যবহার করে যে কেউ শীতকালে সহজে পেতে পারেন আরামদায়ক উষ্ণতা। 

ফিচার ছবি- wallpaperflare.com

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *