ক্যানন ব্র্যান্ডের ক্যামেরার সারিতে নতুন সংযোজন হলো ইওএস এম-সিক্স মার্ক টু এপিএস-সি ( EOS M6 Mark II APS-C ) মিররলেস ক্যামেরা। ক্যানন যে শুধু ফুলফ্রেমের ইওএস-আর ক্যামেরাই বানায়না তাই যেন প্রমাণ করছে এই ক্যামেরাটি। কোম্পানির ইওএস-এম সিরিজের এম-ফাইভ এবং এম- সিক্স মডেলকে পেছনে ফেলে বাজারে এই সিরিজের জনপ্রিয় ক্যামেরা হয় উঠেছে এম-সিক্স টু।

ক্যানন ব্র্যান্ডের নতুন সংযোজন এম-সিক্স মার্ক টু; Image Source: www.engadget.com

আর হবেই না কেন? অত্যাধুনিক ৩২.৫ মেগাপিক্সেল সেন্সরযুক্ত এই ক্যামেরাটি বাজারের সর্বোচ্চ রেজ্যুলেশনযুক্ত ক্রপ সেন্সর ক্যামেরা যা আপনি কেনার কথা ভাবতে পারেন। অন্যান্য মিররলেস ক্যামেরার তুলনায় এটি দিবে অনেক দ্রুততর শ্যুটিং স্পিড।

আবার দ্রুততম এসব শটের শার্পনেস ঠিক রাখতে পাচ্ছেন আই এবং ফেস ডিটেকশন। সেইসাথে আছে ডুয়েল পিক্সেল সিস্টেমের মতো আপডেটেড অটোফোকাস টেকনোলজির সুবিধা। আগের এম-সিক্স মডেলের মতো ক্রপড নয় এটি। বরং ফুল সেন্সরড এবং ফোর কে এই ক্যামেরাটিকে ভিডিওগ্রাফার ও ভ্লগারদের কাছেও জনপ্রিয়।

মডেলটির দাম সমমানের অন্যান্য মডেল, যেমন- সনির এ৬৪০০, ফুজিফিল্ম এর এক্সটি থার্টি, নিকনের জেড ফিফটির সাথে প্রতিযোগিতায় থাকার কথা মাথায় রেখেই নির্ধারণ করা হয়েছে। চমৎকার সব টেকনোলজির সংযোজন শুনে ক্যামেরাটি কেনার কথা অনেকেই হয়ত ভাবতে শুরু করেছেন। কিন্তু মডেলটির বেশ কিছু মৌলিক ফিচার আবার আপনার কাজের উপযোগী নাও হতে পারে। তবে চলুন, ইওএস এম-সিক্স মার্ক টু এপিএস-সি ( EOS M6 Mark II APS-C ) মিররলেস ক্যামেরার ফিচারের আদ্যোপান্ত দেখে নেয়া যাক।

বডি ও পরিচালনা

ফুলফ্রেম ক্যামেরার তুলনায় এপিএসসি ক্যামেরার সুবিধা হলো এর ছোট ও সুবিধাজনক আকার। ৬৬০ গ্রামের ইওএস আর এর তুলনায় ব্যাটারি ও মেমোরি কার্ড সহ নতুন এই মডেলের ওজন মাত্র ৪০৮ গ্রাম। এর বেশিরভাগ লেন্সও খুব হালকা। তবে সমস্যা হচ্ছে ইওএস-এম এর ক্যামেরায় অন্য লেন্স আপনি ব্যবহার করতে পারবেন না।

ম্যানুয়াল বাটনের আধিক্য ক্যামেরার ব্যবহারকে করেছে আরও সহজ;Image Source: www.engadget.com

আবার এই ক্যামেরায় বিল্ট ইন ইলেকট্রনিক ভিউফাইন্ডার ও নেই। এসব খুঁটিনাটি বাদে মডেলটির কর্মদক্ষতা বেশ ভালো। সনির এ৬৪০০’র চেয়েও বেশি মেনুয়াল বাটনসহ ক্যামেরাটির ব্যাবহার ও বেশ সহজ।

পারফরমেন্স

এম সিক্স টু’র তড়িৎ দ্রুত স্পিডের কথা মাথায় রেখে আপনাকে সবসময় এক্সট্রা ব্যাটারী রাখতে হবে সাথে। সমসাময়িক অন্য যেকোনো হাই রেজ্যুলেশন ও বেশি পিক্সেলের ক্যামেরার তুলনায় মেকানিকাল শাটারে এদের যেকোনোটির তুলনায় বেশি বার্স্ট স্পিডে শুট করা যায় এ ক্যামেরায়, তাও অটো ফোকাস ও অটো এক্সপোজারের সুবিধা সহ।

এমসিক্স টু’র সাইলেন্ট শ্যুটিং মোড থাকলেও এটি আপনি কন্টিনিউয়াস বার্স্ট শ্যুটিং এর জন্য ব্যবহার করতে পারবেননা। এটা একটা সীমাবদ্ধতা স্পোর্টস ও ওয়াইল্ডলাইফ শ্যুটিং এর ক্ষেত্রে যা সমসাময়িক অন্য মডেলের চেয়ে ক্যাননের এমসিক্স টু কে একটু পেছনে ফেলে দেয়।

ছোট আকার আর হাই রেজ্যুলেশন সেন্সরের কথা মাথায় রাখলে শ্যুটিংয়েই এমসিক্স টু’র সর্বোচ্চ সুবিধাটুকু আপনি পাবেন। স্পোর্টস থেকে শুরু করে, ল্যান্ডস্কেপ এবং ওয়েডিং ফটোগ্রাফির জন্য এই ক্যামেরার পারফরমেন্স খুবই ভালো। শুধু সাইলেন্ট বার্স্ট শ্যুটিং এর সীমাবদ্ধতার কথাটি আপনার মাথায় রাখতে হবে।

ইমেজ কোয়ালিটি

যখন বছরের পর বছর আমরা ২৫ মেগাপিক্সেল ক্যামেরায় আটকে আছি তখন ক্রপ সেন্সর ক্যামেরায় ৩২.৫ মেগাপিক্সেল সেন্সর পাওয়ার বিষয়টি আসলেই দারূণ। অন্য যেকোনো এপিএস-সি ক্যামেরার তুলনায় এই ক্যামেরাটি হাই রেজ্যুলেশনের গ্যারান্টি দেয়। এর মানে আপনি শার্প শট তো পাচ্ছেনই সেই সাথে পাচ্ছেন কোনো ডিটেইল না হারিয়েই ক্রপ করার সুবিধাও।

এত হাই রেজ্যুলেশনের ক্যামেরা হিসেবে এর লো লাইট ক্যাপাবিলিটিও বেশ ভালো। আইএসও ১২,৮০০ পর্যন্ত আপনি কম আলোয় ভালো শট পাবেন। তবে সবচেয়ে ভালো ফলাফলের জন্য আইএসও ৬,৪০০ বা তার নীচে থাকাই ভালো।

বিল্ট ইন ইলেক্ট্রনিক ভিউ ফাইন্ডার না থাকা মডেলটির সীমাবদ্ধতা;Image Source: www.engadget.com

তবে এই ক্যামেরার হাই রেজ্যুলেশন সেন্সরের বড় ধরনের অসুবিধাও রয়েছে। ক্যাননের এম সিরিজের কেবল আটটি লেন্স রয়েছে যার অনেকগুলোই হয়ত ৩২.৫ মেগাপিক্সেলে সর্বোত্তম ফলাফলটি দিতে পারেনা। ছবি জুম করলে ঠিকই ঘোলা দেখায় লেন্সের কারণে। এক্ষেত্রে  ক্যাননের ডিএসএলআর ইএফ-এস লেন্স ব্যাবহার করা যেতে পারে। কিন্তু সেক্ষেত্রে ক্যামেরার ছোট আকারের সুবিধাটি আপনাকে বিসর্জন দিতে হচ্ছে।

ভিডিও

ক্যাননের ইওএসআর বা  এম ফিফটি’র তুলনায় এম সিক্স টুই একমাত্র ক্যামেরা যা ফুল সেন্সর ভিডিও আউটপুট দিতে পারে। ফ্লিপ আপ স্ক্রিন ও ডুয়েল পিক্সেল অটোফোকাসের ফিচারের হিসেবে এটিকে ভ্লগিং ও সাধারণ ভিডিওর জন্য ভালো একটি ক্যামেরা বলা যায়। তবে এর দূর্বলতাগুলোর কথাও না ভাবলেই নয়।

এমসিক্স টু এপিএস-সি’র পূর্ণ ওয়াইডথ নিতে গিয়ে লাইনস্কিপিং করে, অর্থাৎ সবগুলো পিক্সেল রিড করেনা। অন্যদিকে সমসাময়িক ক্যামেরার পিক্সেল একটু কম হলেও সবগুলো পিক্সেল রিড করে, ফোর-কে রেজাল্ট দেওয়ার জন্য। তাই দেখা যায় এমসিক্স টু’র ভিডিও শার্পনেস কম হয় সমসাময়িক অন্যান্য ক্যামেরার তুলনায়। আরেকটি অসুবিধা হলো এতে কোনো হেডফোন জ্যাক নেই। অর্থাৎ, ভিডিও করার সময় আপনি অডিও মনিটর করার সুযোগ পাচ্ছেন না যদিনা এক্সট্রা এডাপটর যুক্ত করেন।

ফ্লিপ আপ স্ক্রিন ক্যামেরাটিকে করে ভ্লগিং বান্ধব; Image Source: www.engadget.com

এম সিক্স টু’র শ্যুটিং স্পিডও দারুণ। অটোফোকাস এবং হাইরেজ্যুলেশন ক্যামেরাটিকে বাজারের অন্য ক্যামেরার তুলনায় অনন্য করে। কিন্তু এই সেন্সরের পুর্ণ সুবিধা নিতে আপনাকে শার্প ইএফ-এম প্রাইম লেন্স বা ভারী ইএফ-এস গ্লাস ও এডাপটর যুক্ত করে নিতে হবে।

সেই সাথে বাড়তি খরচের হিসাব ও মাথায় রাখতে হবে ইলেকট্রনিক ভিউ ফাইন্ডারের জন্য। তবে আপনি যদি অ্যাকশন সইতে পারে এমন হাই রেজ্যুলেশনের ক্যামেরা খুঁজে থাকেন, তবে বাজারে ক্যাননের এমসিক্স টু’র কোনো বিকল্প নেই।

ফিচার ছবি- canon-europe.com

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *