বর্তমানে সারাবিশ্বেই নিরাপত্তার ব্যাপারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের দেশে এই সমস্যাটি দিনে দিনে প্রকট আকার ধারণ করছে। ঘরে বাইরে সর্বত্র নিরাপত্তার অভাবে ভুগছে মানুষ। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর উদাসীনতার ফলে দেশের মানুষের মনে নিরাপত্তা সংক্রান্ত নানা আশঙ্কার সঞ্চার হয়েছে। বাসা বাড়িতে ঘটছে চুরি-ডাকাতি সহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড।

তাই নিজ নিজ বাসস্থানের নিরাপত্তা বাড়াতে মানুষ নিচ্ছে বিভিন্ন পদক্ষেপ। তবে চাইলেই সকলে নিরাপত্তাকর্মী  নিয়োগ করতে পারেনা অতিরিক্ত বেতনভাতার কারণে। তবে প্রযুক্তির ক্রমাগত উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় বাজারে এসেছে নানা প্রযুক্তি নির্ভর নিরাপত্তা বিষয়ক গ্যাজেটস বা যন্ত্রপাতি যেগুলো বেশ ভালোভাবেই বাসস্থানের নিরাপত্তা প্রদান করতে সক্ষম। এসকল ইলেকট্রনিক গ্যাজেটস খুব ভালোভাবে ও বিশ্বস্ততার সাথে ওয়াচ ডগের দায়িত্ব পালন করে থাকে।

বর্তমানে বাজারে বেশ কিছু উন্নত মান ও প্রযুক্তিসম্পন্ন নিরাপত্তা প্রদানকারী গ্যাজেটস রয়েছে। সেগুলোর মধ্য থেকে ৬ টি বিশেষ গ্যাজেটের তালিকা নিয়ে সাজানো হয়েছে এই আর্টিকেলটি।

১. এলজি স্মার্ট সিকিউরিটি সলিউশন (LG Smart Security Solution):

এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে এডিটি হোম সিকিউরিটি এর বাজারে আনা এলজি স্মার্ট সিকিউরিটি সলিউশন। বেশিরভাগ সিকিউরিটি গ্যাজেট একটির বেশি কাজ না করলেও এটি একটি মাল্টিটাস্কিং গ্যাজেট। এই যন্ত্রটি একইসাথে ক্যামেরা, স্পিকার, মাইক্রোফোন এবং মোশন ট্র্যাকার হিসেবে কাজ করে।

Image Source: cnet.com

এই গ্যাজেটটি সহজেই দেয়ালে সেট করা যায়, এবং একটি অ্যাপ ডাউনলোডের মাধ্যমে সহজেই এই যন্ত্র ব্যবহার শুরু করা যায়। এই অ্যাপের সাহায্যে ক্যামেরার ভিউ লাইভ দেখা যায়। তবে ভিডিওগুলো পুনরায় দেখতে বা ব্যবহার করতে হলে একটি নির্দিষ্ট মাসিক সাবস্ক্রিপশন ফি প্রদান করতে হয়, যার পরিমাণ নিতান্ত কম নয়। বিখ্যাত অনলাইন শপিং সাইট অ্যামাজনে একটি এলজি স্মার্ট সিকিউরিটি সলিউশনের দাম পড়বে প্রায় ১৫,৫০০ থেকে ১৬,০০০ টাকার মতো।

২. নেস্ট প্রটেক্ট ফায়ার এবং কার্বন মনোঅক্সাইড ডিটেক্টর (Nest Protect Fire and Carbon Monoxide Detector):

বাড়ির বাহ্যিক নিরাপত্তা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, বাড়ির আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাও ঠিক একই রকম গুরুত্বপূর্ণ। আর বাড়িতে অগ্নিকান্ড সহ নানা ধরনের গ্যাস লিকেজ সংক্রান্ত বিপদ ঘটতে পারে। ধোঁয়া, আগুন, কার্বন মনোঅক্সাইডজনিত যেকোনো দুর্ঘটনা রোধ করতে বাজারে এসেছে নেস্ট এর তৈরি এই ডিটেক্টরটি।

এটি যেমন সহজে সেটাপ করা যায়, তেমনি সহজে ব্যবহারযোগ্য। কোনো প্রকার বিপদ আঁচ করার সাথে সাথেই এটি বাড়ির সকলের ফোনে নোটিফিকেশন পাঠায়, সাথে আরো কিছু পরিচিতজনের কাছেও পাঠায়। আর কখনো ভুল করে যন্ত্রটি চালু হয়ে গেলে অ্যাপের সাহায্যে সহজেই বন্ধ করা যায়। অ্যামাজনে এই যন্ত্রটির দাম পড়বে প্রায় ৭,৫০০-৮০০০ টাকার মতো।

৩. কুনা লাইট ফিক্সচার (Kuna Light Fixture):

যদি কেউ দরজার তালায় কোনো ধরনের পরিবর্তন না এনেই আউটডোর সিকিউরিটির ব্যবস্থা নিতে চান তাদের জন্য বাজারে রয়েছে কুনা’র স্মার্ট লাইট ফিক্সচার। প্রথম দেখায় ছিমছাম সুন্দর লম্বা একটি লাইট মনে হলেও লাইটটির নিচের অংশে রয়েছে একটি এইচডি ক্যামেরা, যা ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা হিসেবে কাজ করে৷ আর বেশিরভাগ মডেলেরই রয়েছে টু-ওয়ে কমিউনিকেটর, যার সাহায্যে সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি দরজার সামনে আসলে তার সাথে ভিতর থেকে কথোপকথন চালানো যায়, যার মাধ্যমে কারো সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত হয়ে নেয়া যায় দরজা খোলার পূর্বে। অ্যামাজনে এই লাইটের দাম পড়বে প্রায় ১২,৫০০ টাকার মতো।

Image Source: verge.com

৪. কুইকসেট কিভো স্মার্ট লক (Kwikset Kevo Smart Lock):

বাড়ির নিরাপত্তার সবচেয়ে প্রাথমিক অংশ হলো বাড়ির প্রধান দরজা। আর দরজায় যদি স্মার্টলক ব্যবহার করা হয় তাহলে নিরাপত্তা বৃদ্ধি পায় অনেকগুণে। কারণ, এই তালা নিয়ন্ত্রণ করা যায় ব্যক্তিগত ব্যবহার্য স্মার্টফোন ও অন্যান্য প্রযুক্তির সাহায্যে। কুইকসেট কিভো স্মার্ট লক একটি শক্তিশালী তালা যা দেয় নিরাপত্তা, স্বাচ্ছন্দ ও উপযোগিতার মধ্যে একটি সুন্দর ভারসাম্য।

Image Source: cnet.com

রিমোট কন্ট্রোল ও সেলফোন কিংবা সাধারণ চাবি দিয়ে খোলার ব্যবস্থা ছাড়াও নির্দিষ্ট কাউকে ঘরের ভিতর এক্সেস প্রদান করা যায় এই লকের ‘ই-কি’ সুবিধার সাহায্যে৷ অনলাইন শপিং সাইট অ্যামাজনে এই লকটির দাম প্রায় ১৮,০০০ টাকার মতো।

৫. স্যামসাং স্মার্ট থিংস হোম মনিটরিং কিট (Samsung SmartThings Home Monitoring Kit):

বেশিরভাগ স্মার্ট হোম সিস্টেম একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে পারদর্শী বা নির্দিষ্ট অঞ্চলের কাজসমূহ করতে পারলেও স্যামসাং স্মার্ট থিংস সিস্টেম বাড়ির নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একাধিক কাজ করতে পারে। আর এর সেরা স্টার্টিং পার্ট হলো স্মার্ট থিংস হোম মনিটরিং কিট। এই কিটে পাওয়া যাবে একটি স্মার্ট থিংস হাব, যা বাকি সব স্মার্ট থিংসের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে থাকে।

আরও থাকে বহুকাজে পারদর্শী মোশন সেন্সর, দুটি দরজা ও জানালা সেন্সর এবং সাথে একটি স্মার্টথিংস আউটলেট, যার সাহায্যে দূর থেকে যন্ত্রসামগ্রী কন্ট্রোল করা যায়। স্মার্ট থিংসের বাকি যন্ত্রগুলো না কিনলেও শুধু এই তিনটি ব্যবহারের মাধ্যমেই ঘরকে সার্বক্ষণিক সার্ভেইলেন্সের মধ্যে রাখা যায়। কে কখন ঘরে প্রবেশ করে অথবা ঘর থেকে বের হয় সবই ট্র‍্যাক করা যায় এগুলো দিয়ে। যার ফলে একজন বেশ নিরাপদ বোধ করতে পারেন নিজেকে। অ্যামাজনে এর দাম পড়বে প্রায় ১৬ হাজার টাকার মতো।

৬. ওয়াইথিংস হোম বেবি বান্ডেল (Withings Home Baby Bundle):

ঘরে যদি সদ্যজাত বা খুব ছোট শিশু থাকে তাহলে তাদের খেয়াল রাখার জন্য ওয়াইথিংস বেবি বান্ডেল খুব কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাচ্চা কী করছে, ঠিক আছে কিনা, ঘুমাচ্ছে নাকি না, এসকল বিষয় যেকোনো জায়গা থেকে সারাদিন খেয়াল রাখা যায় এই বান্ডেলের সাহায্যে।

Image Source: childdreams.com

এছাড়াও গভীর রাতে বাচ্চার ঘুম হঠাৎ ভেঙে গেলে বিশেষ নাইটলাইট জ্বালিয়ে দেয়া ছাড়াও সুন্দর মিউজিক বাজিয়ে তাদের শান্ত রাখতে সাহায্য করে এই যন্ত্র। আর মুভমেন্ট ও নয়েজ সেন্সরের সাহায্যে যন্ত্রটি জানিয়ে দেয় বাচ্চার ঘুম ঠিকমতো হচ্ছে কী না। বাচ্চাদের খেয়াল রাখতে অত্যন্ত কার্যকর এই যন্ত্রটি অ্যামাজনে পাওয়া যাবে প্রায় ১৫,৫০০-১৬,০০০ টাকার মতো।

এগুলো ছাড়াও আরো বেশ কিছু গ্যাজেট রয়েছে যেগুলো বিভিন্নভাবে নিরাপত্তা বজায় রাখা সহ ঘরের বিভিন্ন বিষয়ে নানাভাবে সাহায্য করে থাকে। তবে, তালিকার এই ৬ টি গ্যাজেট বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত জনপ্রিয় ঘরের পূর্ণ সার্ভেইলেন্স ও নিরাপত্তা প্রদানের কাজে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *