৫০ হাজার টাকার মধ্যে ৫টি ডেল ল্যাপটপ

সাশ্রয়ী বাজেটের মধ্যে পাওয়ারফুল, টেকসই ডেল কোম্পানির ল্যাপটপের বিস্তর সম্ভার রয়েছে বাংলাদেশের ল্যাপটপের বাজারে। এমনই পাঁচটি বাজেট ফ্রেন্ডলি ডেলের ল্যাপটপ নিয়ে সাজানো হয়েছে এই লেখাটি।

১) Dell INSPIRON 15 5584

ডেলের ইন্সপাইরন সিরিজের এই মডেলটিতে ব্যবহৃত হয়েছে অষ্টম জেনারেশন ইনটেল প্রসেসর, যা অসাধারণ রেসপনসিভনেস, স্মুথ এবং সিমলেস মাল্টিটাস্কিং ডেলিভার করে থাকে। ফুল এইচডি ১৫.৬ ইঞ্চির এন্টি গ্লেয়ার স্ট্যান্ডার্ড ডিসপ্লের ন্যারো ব্যাজেলসের সাথে ডিপ ওসান ব্লু কালারের ল্যাপটপটি দেখতে খুবই চমৎকার।

ডেল মোবাইল কানেক্ট সফটওয়্যার এর মাধ্যমে মাল্টিপাল ডিভাইস আপনার দৃষ্টির অগোচরেই একসেস করা সম্ভব হয়। আপনার প্রিয় সব অ্যাপের সাথে ইন্টার‍্যাক্ট করতে পারবেন ল্যাপটপেই। কেননা আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনটিকে আয়নার মতো ব্যবহার করা যাবে ডেল মোবাইল কানেক্টের মাধ্যমে। এছাড়াও বাজেট ফ্রেন্ডলি এই ল্যাপটপটির পোর্টস সিলেকশনও ভীষণ স্মার্ট।

Image Credit: dell.com

এক নজরে স্পেসিফিকেশন:

  • Processor: 8th Gen Intel Core i3-8145U (4MB Cache, up to 3.9 GHz)
  • Ram: 4GB DDR4-SDRAM
  • Storage: 1TB HHD
  • Graphics: Intel UHD Graphics 620 with shared graphics memory
  • Display: 15.6” FHD (1920*1080) IPS Anti-Glare LED Backlit Narrow Border
  • Battery: 42Wh Lithium-Ion, 3Cells

বাজার মূল্য: আল্ট্রা ডিউরেবল এই ল্যাপটপটির বাজার মূল্য ৪৫ হাজার টাকা।

২) Dell Vostro 3478

বাসায় কিংবা অফিসের যাবতীয় কাজের জন্য এই ল্যাপটপটি প্রয়োজনীয় পাওয়ার ডেলিভার করতে সক্ষম, তার সাথে এএমডি দুই জিবি ডিস্ক্রিট গ্রাফিক্স পারফরমেন্সকে বুস্ট করবে আরো। যাদের একটু কমপ্যাক্ট সাইজের ল্যাপটপ পছন্দ, ১৪ ইঞ্চির এই ল্যাপটপে তারা অনেক স্বচ্ছন্দ বোধ করবে।

পাওয়ার বাটনের সাথে ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডার এবং উইন্ডোজ হ্যালো বায়োমেট্রিক রিকগনিশন ফিচারটি বেশ আধুনিক। প্রোডাকটিভিটি বাড়ানোর জন্য এইচডিএমআই পোর্টের সাথে সহজেই সেকেন্ডারি মনিটর বা প্রজেক্টর লাগিয়ে নেওয়া যায়। এছাড়াও ল্যাপটপটির ফুল এসডি কার্ড রিডার পোর্টটি ফটোগ্রাফার ইউজারদের অনেক কাজে আসে। বিল্ট ইন এইচডি ওয়েবক্যাম, ম্যাক্স অডিও প্রো সফটওয়্যার, এন্টি গ্লেয়ার ডিসপ্লের ল্যাপটপটি যেমন স্টাইলিশ, বাজেটের দিকদিয়েও তেমনি ভীষণ সাশ্রয়ী।

Image Credit: dell.com

এক নজরে স্পেসিফিকেশন:

  • Processor: 8th Gen Intel Core i5- 8250U
  • Ram: 4GB Ram
  • Display: 14” Diagonal HD SVA Bright View WLED Backlit (1366*768)
  • Battery: 6 cell Li-ion
  • Storage: 1TB Hard disk
  • Graphics: AMD Radeon 520 2 GB

বাজার মূল্য: মাত্র ১.৭ কেজির এই ল্যাপটপটির বাজার মূল্য ৪৮ হাজার টাকা।

৩) Dell Inspiron 15-3581

যাদের ল্যাপটপের ক্ষেত্রে বাজেটটা থাকবে আরো একটু সাশ্রয়ী তাদের জন্য একদম সঠিক পছন্দ হতে পারে ইন্সপাইরন সিরিজের এই মডেলটি। ১৫.৬” ইঞ্চির এইচডি রেজুলেশন সম্পন্ন ডিসপ্লে ভিউইং ইফেক্টকে উপভোগ্য করে তুলে ব্যবহারকারীর কাছে। ডিভাইসটিতে রয়েছে ইনটেলের এইচডি গ্রাফিক্স ৬২০ এবং ৪ জিবি ডেডিকেটেড র‍্যাম, যা ল্যাপটপটিকে শক্তিশালী করে তুলেছে

এছাড়া আপগ্রেড করবার জন্য এক্সট্রা র‍্যাম এবং এসএসডি স্লট রেখেছে ডেল এই ল্যাপটপটিতে। এটিতে প্রায় সব ধরনের কানেকটিভিটিরই সুযোগ থাকছে। মাল্টিটাচ এবং জেসচার ইনএবলড প্রিসিশন টাচপ্যাডে ক্রলিং সুবিধাটি ইন্টিগ্রেটেড আছে, যা ডিভাইসটির পারফরমেন্সকে আরো আপটিমাইজ করেছে।

Image Credit: dell.com

এক নজরে স্পেসিফিকেশন:

  • Processor: 7th Gen Intel Core i3-7020U (3M Cache, up to 2.30 GHz)
  • Ram: 4GB DDR4 Ram (Upgradable)
  • Storage: 1TB HDD (M.2 Upgradable)
  • Graphics: Intel HD Graphics 620
  • Display: 15.6” HD (1366*768) Anti-Glare LED Backlit Display
  • Weight: 2.18 kg

বাজার মূল্য: স্ট্যান্ডার্ড ফুল সাইজ স্পিল-রেজিস্ট্যান্ট কিবোর্ডসহ ল্যাপটপটির বাজার মূল্য ৩৮ হাজার টাকা।

৪) Dell Inspiron 15-3573 

বেসিক কম্পিউটিং এর জন্য ইনটেলের পেন্টিয়াম সিলভার কোয়াড কোরের প্রসেসর যুক্ত ল্যাপটপটি প্রফেশনাল ব্যবহারের জন্য বাছাই করা যেতে পারে। এছাড়া ল্যাপটপটির চার জিবি র‍্যাম ও ৫০০ জিবি স্টোরেজ পাওয়ারফুল পারফরমেন্স নিশ্চিত করে। আর ইনটেলের ইন্টিগ্রেটেড গ্রাফিক্সের মাধ্যমে এডিটিংয়ের কাজও করা সম্ভব।

চার সেলের ব্যাটারি দীর্ঘতর ব্যাটারি ব্যাকআপ দেয় এবং ২.২ কেজির ল্যাপটপটি ক্যারি করা যাবে সহজেই। তাই ল্যাপটপ ব্যবহার যদি অফিসের কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে বাড়তি খরচ ছাড়া এই ল্যাপটপটি পছন্দ করা যেতে পারে। এমনকি পেন্টিয়াম প্রসেসরের পরিবর্তে সেলেনিয়াম প্রসেসরসহ ল্যাপটপটি আরো কম মূল্যে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।

Image Credit: startech.com.bd

এক নজরে স্পেসিফিকেশন:

  • Processor: Intel Pentium Silver N50000 (4MB Cache, up to 2.70 GHz)
  • Ram: 4GB DDR4 2400MHz
  • Storage: 500 GB 5400 rpm HDD
  • Display: 15.6” inch HD (1366*768) Anti-Glare LED Backlit Display
  • Graphics: Intel UHD Graphics 600
  • Battery: 40Wh, 4 cells

বাজার মূল্য: সাশ্রয়ী ল্যাপটপটি বাজারে এভেইলএবেল আছে ২৯ হাজার টাকায়। একই স্পেসিফিকেশনে সেলেনিয়াম প্রসেসরে ল্যাপটপটির মূল্য ২৪ হাজার টাকা।

৫) Dell Inspiron 15-3580

এই জেনারেশনের কোর আই থ্রি প্রসেসরের সাথে পাওয়া যাচ্ছে ইন্সপাইরন সিরিজের এই মডেলটি। সাথে চার জিবি র‍্যাম, ১ টেরা বাইট স্টোরেজ ল্যাপটপটিকে করেছে শক্তিশালী। ল্যাপটপটিতে ইন্টিগ্রেটেড ডিভিডি রিডার রয়েছে, সাথে এক্সট্রা র‍্যাম, এসএসডি স্লট। ফলে ব্যবহারকারী তার ইচ্ছা মতো ল্যাপটপটিকে আপগ্রেড করতে পারবে।         

Image Credit: startech.com.bd

এক নজরে স্পেসিফিকেশন:

  • Processor: 8th Gen Intel Core i3-8145U Processor (4MB Cache, up to 3.9 GHz)
  • Ram: 4GB DDR4 2666 MHz
  • Storage: 1TB 5400 rpm SATA Hard Drive
  • Graphics: Intel UHD Graphics 620
  • Display: 15.6” FHD (1920*1080) Anti-Glare LED Backlit
  • Battery: 3 cell 42 Wh

বাজার মূল্য: ফুল এইচডি ডিসপ্লের ল্যাপটপটির বাজার মূল্য ৪৪ হাজার টাকা।

সাশ্রয়ী বাজেটের ল্যাপটপে ঘুরেফিরে এক টেরা বাইট স্টোরেজ, চার জিবি র‍্যাম, কোর আই ৩ অথবা ৫ প্রসেসর, ইন্টিগ্রেটেড ইনটেল গ্রাফিক্সই দেখা যায়। কিন্তু ব্যবহারকারী স্পিডি পারফরমেন্স এবং অতিরিক্ত স্টোরেজ এর জন্য এক্সট্রা র‍্যাম এবং এসএসডি লাগিয়ে নিতে পারবেন। আবার কোন ল্যাপটপে এক্সট্রা এসএসডি স্লট না থাকলে, সেক্ষেত্রে ডিভিডি রিডারটি রিমুভ করে সেখানে এসএসডি ইমপ্লিমেন্ট করাও সম্ভব।

ফিচার ছবি- getwallpapers.com/

বাজারের সেরা পাঁচ গেমিং ল্যাপটপ

ল্যাপটপের বিভিন্ন ক্যাটাগরির মধ্যে গেমিং ল্যাপটপের ক্ষেত্রে ইউজারদের নানা স্পেসিফিকেশনের চাহিদা থাকে একদম ভিন্ন। এক্ষেত্রে দেখতে হবে আকর্ষনীয় একইসাথে শক্তিশালী। ভালো গেমিং ল্যাপটপগুলো তাদের ডেস্কটপ কাউন্টারপার্টের চেয়ে আকারে ছোট হতে পারে কিন্তু সেগুলো লেটেস্ট মোবাইল ভার্সনের কাটিং এজ সিপিইউ এবং জিপিইউ দিয়ে ঠাসা, যেমন এনভিডিয়া টিউরিং গ্রাফিক্স কার্ড, ইনটেলের কফি লেক রিফ্রেশ প্রসেসর।

এছাড়াও এসকল ল্যাপটপগুলোতে ম্যাক্সিমাম পারফরমেন্সের জন্য স্পিডি এসএসডি ইউটিলাইজ করা হয়ে থাকে। পাঁচটি ভিন্ন রকমের গেমিং ল্যাপটপ নিয়ে সাজানো এই লেখাটি।


Image Credit: hothardware.com

১. AlienWare Area 51m : বেস্ট গেমিং ল্যাপটপ

ল্যাপটপটির নাম শুনলে মনে হয় যেন স্পেসশিপ। ল্যাপটপটি বাস্তবে ঠিক তেমনই। ডেলের এলিয়েনওয়ার ইতিমধ্যে গেমারদের মধ্যে অনেক সাড়া ফেলে দিয়েছে। সে সাথে এ বছরের এরিয়া ৫১ এম মডেলটি যেন ব্যবহারকারীর সকল চাহিদাকে মুড়িয়ে তৈরি একটি ল্যাপটপ।

রিয়ার ভেন্টের কালারের সাথে কীবোর্ডের আরজিবি লাইটিং ব্যবহারকারীর গেমিং অভিজ্ঞতাকে বুস্ট করবে কয়েক গুনে। এনভিডিয়া আরটিএক্স গ্রাফিক্স এবং জি সিংক টেকনলোজির সাথে লভ্য এই ল্যাপটপটিতে আপগ্রেডেবিলিটির সুযোগও রেখেছে ডেল। সাড়ে তিন লক্ষ টাকার এই ল্যাপটপটি সকল লেটেস্ট গেমের পরীক্ষায় উতরে গেছে সহজেই।

স্পেসিফিকেশন:

  • Processor: Intel Core i9-9900 (8 core, 16MB Cache, up to 5.0 GHz with Turbo Boost)
  • Ram: 32 GB, (2*16GB), DDR4, 2666MHz Ram
  • Storage: 512GB PCle M.2 SSD + 1TB (+8GB SSHD) Hybrid Drive
  • Graphics: NVIDIA GeForce RTX 2080 8GB GDDR6 (OC Ready)
  • Display: 17.3” FHD (1920*1080) 144Hz,IPS,NVIDIA G-SYNC,Eyesafe Display Tech

মুল্য: ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা।

লুক,পারফরমেন্স, কুলিং সিস্টেম, ডিসপ্লে সব মিলিয়ে ল্যাপটপটিকে বলা হচ্ছে ‘আ ল্যাপটপ ফ্রম দা ফিউচার’।


Image Credit: techspot.com

২. MSI GS65 Stealth: নান্দনিক গেমিং ল্যাপটপ

MSI গেমিং ল্যাপটপের বাজারে প্রবেশ করেছে অনেক আগে। ব্ল্যাক-গোল্ডেনের কম্বিনেশনের এই ল্যাপটপটি পেয়েছে এলিট স্ট্যাটাস। ন্যারো ব্যাজেলের এই ল্যাপটপের ৮২% স্ক্রিন টু বডি রেসিও ভিশন ম্যাক্সিমাইজ করে এবং গেমিং স্ট্রিমিংকেও করে উপভোগ্য।

যারা গেমিং ল্যাপটপ বলতেই মনে করে থাকে ভারী, মোটা ল্যাপটপ, তাদের ধারণাকে ভুল প্রমানিত করে স্লিক ডিজাইনের ১.৮ কেজির এই ল্যাপটপটি। একই কনফিগারেশনে বাজারে অন্যান্য ল্যাপটপের দাম আরো বেশি মনে হতে পারে। ফাস্ট ডিসপ্লে, ইফেকটিভ থার্মাল ম্যানেজমেন্ট, ইম্প্রেসিভ এনভিডিয়া ম্যাক্স কিউ গ্রাফিক্সের এই ল্যাপটপটি হতে পারে একটি স্মার্ট চয়েজ।

স্পেসিফিকেশন:

  • Processor: 8th Gen Intel Core i7-8750H
  • Ram: 16GB DDR4 2666MHz
  • Storage: 512GB M.2 NVMe SSD
  • Graphics: NVIDIA GeForce GTX 1060 with 6GB GDDR5
  • Display: 15.6” FHD( 1920*1080),144Hz

মূল্য: ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা।

Image Credit: newegg.ca

৩. Lenovo Legion Y740: একসেসেবল গেমিং ল্যাপটপ

লেনেভো লিজিয়নের এই মডেলটি গেমিং ল্যাপটপের মধ্যে অন্যতম এক শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী। ব্লেজিং ফাস্ট পারফরমেন্স, সুন্দর, ইউনিক ডিজাইনের সাথে ব্রাইট ১০৮০পি ডিসপ্লে, পাওয়ারফুল ইনটারনাল কমপোনেন্ট, ন্যারো ব্যাজেলস সবকিছু বিবচনায় লেনেভো একটি অত্যাধুনিক কম্পিউটার তৈরি করেছে।

এনভিডিয়া জি সিংক এনাবল থাকার কারণে ল্যাপটপটি আকর্ষণীয় ভিউয়িং ইফেক্টের সাথে ফ্রেমিং রেট দেয়, যা গেমারদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকে। পছন্দের গেমিং টাইটেল অত্যাধুনিক কনট্রাস্ট, ব্রাইটনেস, কালারের সাথে চোখে ফুটে উঠে। এর স্মুথ লাইফলাইক ডিসপ্লে গেমিং এবং মিডিয়া উভয় উদ্দেশ্যই অনেক ভালোভাবে পূরণ করে। আরজিবি সাপোর্টেড কীবোর্ড বাড়িয়ে দেয় সৌন্দর্যটাও। তবে ওয়েবক্যামের প্লেসমেন্টটা ন্যারো ব্যাজেলসের কারণে স্থান পেয়েছে স্ক্রিনের নীচের অংশে।

স্পেসিফিকেশন:

  • Processor: 8th Gen Intel core i7-8750H 6 Core Processor (2.20GHz up to 4.10GHz with Turbo Boost, 9 MB Cache)
  • Memory: 16 GB DDR4 266MHz SDRAM
  • Storage: 512 GB PCle NVMe SSD
  • Graphics: NVIDIA GeForce RTX 2060 6 GB
  • Display: 15.6’’ FHD (1920 * 1080), 72% color gamut, NVIDIA G-SYNC, 144 Hz, 300 nits, software enabled Dolby Vision HDR

মূল্য: ১ লক্ষ ৫০ হাজার থেকে ৬৫ হাজার টাকা।

Image Credit: Acer.com

৪. Acer Predator Helios 300 : বেস্ট এফোর্ডেবল গেমিং ল্যাপটপ

এসার তাদের গেমিং ল্যাপটপে বাজেটের দিকটা খেয়াল রেখেই ল্যাপটপ বাজারে আনে বলে মনে হয়। কেননা একের পর এক নানা সিরিজে বৈচিত্র্য নিয়ে এই কোম্পানি উৎপাদন করছে দুর্দান্ত সব ল্যাপটপ। এনভিডিয়া আরটিএক্স গ্রাফিক্স কার্ডের সাথে ইনটিগ্রেটেড এসএসডি ল্যাপটপকে করবে একইসাথে পাওয়ারফুল এবং ফাস্ট।

স্পেসিফিকেশন:

  • Processor: Intel Core i5-9300H processor (2.4 GHz with Turbo Boost up to 4.1 GHz)
  • Ram: 8GB DDR4 RAM (8GB x 1, upgradable to 16GB DDR4 x 2)
  • Storage: 512GB PCIe NVMe SSD   
  • Graphics: NVIDIA GeForce RTX 2060 with 6 GB of dedicated GDDR6
  • Display: 15.6″ IPS technology, Full HD 1920 x 1080, high-brightness (300 nits) supporting 144 Hz, 3 ms Overdrive

মূল্য: ১ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা।

এছাড়া, যাদের গেমিং এর ইচ্ছা,আবার বাজেটের দিকে সাশ্রয়ী দরকার তাদের জন্য রয়েছে এসারের Acer Nitro 5 ল্যাপটপটি।


Image Credit: Asus.com

৫. Asus ROG Strix GL503GE (Scar Edition): স্টাইলিশ গেমিং ল্যাপটপ

আসুসের হিরো সিরিজের পর রগের স্কার এডিশনটি বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। রগের গেমিং ল্যাপটপ নানারকম স্পেসিফিকেশনের সাথে বিভিন্ন রেঞ্জে উপস্থিত রয়েছে বাজারে। তার মধ্যে এই মডেলটি রগ স্ট্রিক্সের সিগনেচার লুকের সাথে হেক্সা কোর প্রসেসর, এনভিডিয়া ১০৫০ টি আই গ্রাফিক্স কার্ড গেমিং পারফরমেন্সকেও ইনহ্যান্স করেছে। ল্যাপটপটিতে ফুল এইচডি গেমিং এক্সপেরিয়েন্স আসলেই তুলনাহীন। আর আসুসের ল্যাপটপ সবসময়ই টেকসই হয়ে থাকে। এটিও সেক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নয়।

স্পেসিফিকেশন:

  • Processor: Intel Core i7-8750H (up to 4.10 GHz 9MB Cache, 6 Core)
  • Ram: 16 GB DDR4 2666MHz SDRAM
  • Storage: 1TB HDD+128GB SSD
  • Graphics: NVIDIA GeForce GTX 1050 Ti 4GB GDDR5
  • Display: 15.6-inch Full HD (1920×1080)

মূল্য: ১ লক্ষ টাকা।

ফিচার ছবি- wpppc.blogspot.com

এসার নিট্রো ৫: মিড বাজেট গেমিং ল্যাপটপ

মাঝামাঝি বাজেটের মধ্যে চাহিদামূলক সব স্পেসিফিকেশন নিয়ে ল্যাপটপ নির্মাতা কোম্পানি এসার বাজারে এনেছে এসার নিট্রো ফাইভ নামের পাওয়ারফুল গেমিং ল্যাপটপটি। মেটালিক কালারের সাথে সামনের বারে মেরুন কালারের সুন্দর কাটে ‘নিট্রো’ লেখাটি ব্যবহারকারীদের চোখে পড়বে।

ল্যাপটপটিতে নবম প্রজন্মের প্রসেসর রয়েছে। যেখানে বাজারে ১ লক্ষ টাকার নীচে গ্রাফিক্স কার্ড ইনক্লুডেড, লেটেস্ট জেনারেশনের প্রসেসরের কথা চিন্তাই করা যায় না, সেখানে এসার এ ল্যাপটপটির বাজার মূল্য রেখেছে ৭০ হাজার থেকে ৯০ হাজার এর মধ্যে। বাজারের অন্যান্য ব্র্যান্ডের ল্যাপটপগুলোকে এ দামে এরকম স্পেসিফিকেশনের দিক থেকে চ্যালেঞ্জ করে হারিয়ে ফেলতে পারে এসার নিট্রো ফাইভ।

Image Source: www.acer.com

এক নজরে স্পেসিফিকেশন:

  • Processor: 9th Gen Intel Core i5-9300H (quad-core, 8MB cache, up to 4.1 GHz)
  • RAM: 8GB DDR4 Ram (can be upgraded up to 32 GB)
  • Storage: 256GB NVMe + 1TB HDD
  • Display: 15.6” with IPS (In-Plane-Switching) FHD 1920 * 1080, 300 nits.
  • Graphics: NVIDIA GeForce GTX 1650 
  • Weight: 2075kg

ডিসপ্লে:

ল্যাপটপটির রয়েছে ১৫.৬” ইঞ্চির ফুল এইচডি ১৯২০X১০৮০ রেজ্যুলেশনের ডিসপ্লে। প্লাস্টিক বডির এ ল্যাপটপটির লিড খুললেই স্ক্রিনের দুপাশে দুটি কার্ভ দেখা যায়, যা এটিকে অনেকটা গেমিং ল্যাপটপের লুক এনে দিয়েছে।

মেটাল বডির না হলেও উপরের মেটালিক কালার বেশ একটা চাকচিক্যময় লুকই দেয় ল্যাপটপটিকে। গেমিং ল্যাপটপ দেখতে কিছু মোটা এবং ভারীই হয়ে থাকে। এ ল্যাপটপটি ৩৮.৯৯ সেমি. ওয়াইড, ২৬.৫৯ সেমি. ডেপথ, ২.৬৭ সেমি হাইটের সাইজে দৃশ্যমান। কিন্তু ল্যাপটপটি বেশ টেকসই। ফুল এইচডি হওয়াতে গেমিং এর ক্ষেত্রেও ডিসপ্লেটি জীবন্ত দৃশ্য ফুটিয়ে তুলতে পারে।

কীবোর্ড:

এই ল্যাপটএর সবচেয়ে আকর্ষণীয় ফিচারগুলোর একটি হলো এর কীবোর্ডটি। কীবোর্ডের সিম্বলগুলো কালো কি এর উপর লাল রঙের এবং এটি ব্যাকলিট কীবোর্ড। তাই অন্ধকারেও অনায়াসে কাজ করা যাবে এটি দিয়ে। ল্যাপটপটির কীবোর্ডটি অনেক আরামদায়ক এবং ফাস্ট রেসপনসিভ। এছাড়া গেমিং এর জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত WASD কিগুলোর সাথে Arrow চিহ্নগুলো হাইলাইট করা আছে।

এছাড়াও নিউম্যারিক কি পার্টের একপাশে উপরে আরো একটি হাইলাইট করা “(N)” কি চোখে পড়ে। এর বিশেষত্ব হচ্ছে বাটনটি প্রেস করার সাথে সাথে নিট্রো সেন্স নামের সফটওয়ারটি অন হয়ে যায়, যা ল্যাপটপের কুলিং সিস্টেমকে অপটিমাইজ করে অনেক গুণে। এছাড়া এই বাটন প্রেস করা ছাড়া ম্যানুয়ালিও এর কুলিং সিস্টেম অন করা যায়। ৪ স্টেজে ল্যাপটপটির ব্রাইটনেস কন্ট্রোল করা সম্ভব। তবে কীবোর্ডের শিফট এবং এন্টার বাটনটি একদম পাশাপাশি থাকাটা অনেক ইউজারের ক্ষেত্রে অসুবিধাজনক মনে হতে পারে।

মেরুন বর্ডারের,ফিজিকাল বাটন ছাড়া,উইন্ডোজ প্রিসিশন ড্রাইভারসহ ম্যানুফ্যাকচারড ট্যাকপ্যাডটি দেখতে আকর্ষনীয়। তবে এর পারফরম্যান্স খুব একটা সন্তোষজনক নয়। যেহেতু গেমিং এর ক্ষেত্রে এক্সট্রা মাউস ইউজ করাটাই উইজারদের কাছে প্রেফারেবল হয়।

 Image Source: trustedreviews.com

পোর্টস:

এসার তাদের এই মডেলে পোর্টস সিলেকশন বেসিক রেখেছে। ডান পাশে রয়েছে ৩.৫মিমি. হেডফোন, অডিও কম্বো জ্যাক, একটি ইউএসবি ২.০ টাইপ ‘এ’ আর একটি পাওয়ার কানেকটর। আর বাম পাশে রয়েছে একটি কেন্সিংটন লক, ল্যান ইথারনেট কানেকটর, এইচডিএমআই, একটি ইউএসবি ৩.০ টাইপ ‘সি’ (থান্ডারবোল্ট সাপোর্টেড নয়) এবং দুইটি ইউএসবি ৩.০ টাইপ ‘এ’ পোর্ট। এসারের কিলার ইথারনেট ই২৫০০ টেকনলোজি ল্যাপটপটির ওয়াইফাই পারফরমেন্সকে ইনহ্যান্স করেছে অনেকাংশে।

ব্যাটারি:

অনেক ল্যাপটপের ভারি ভারি কনফিগারেশন থাকা সত্ত্বেও প্রাপ্ত ব্যাটারি লাইফের তুলনায় এসার নিট্রো ফাইভের ব্যাটারি লাইফ আপনাকে চমকে দেবে। হেবি গেম ৫০% ব্রাইটনেসে খেলেও এর ব্যাটারি ব্যাক আপ প্রায় সাড়ে ৩ ঘন্টা পাওয়া সম্ভব, যা আসুসের স্ক্রিক্স স্কার এডিশনের চেয়ে ভালো।

Image Source: trustedreviews.com

গেমিং পারফরমেন্স:

এই দামে এনভিডিয়া জিটিএক্স গ্রাফিক্স কার্ড সহ নবম জেনারেশনের কোর আই সেভেন প্রসেসর ইউজারকে চমৎকার গেমিং পারফরমেন্স দেবে। ওয়ার্ল্ড ওয়ার জেড, ডেভিল মে ক্রাই, ফার ক্রাই এর মতো গেম অনেক ভালো ফ্রেমরেটে খেলা যায়। হাই গ্রাফিক্সে নিড ফর স্পিড গেইমে ৪০-৪৫ এফপিএস (ফ্রেইম পার সেকেন্ড) এবং মিডিয়াম গ্রাফিক্সে ৬০ এফপিএস পর্যন্ত পাওয়া সম্ভব। এছাড়াও ফিফা ১৯ গেমটি খেলা যায় ৬০ এফপিএস রেটে। যা দারুন এক অভিজ্ঞতা দিবে।

জেনারেল পারপাজ ল্যাপটপ ইউজারদের কাছে কিছু ইউজের পর হিট জেনারেট করে বলে মনে হয়, সেখানে গেমিং ল্যাপটপের ক্ষেত্রে হিট ইস্যুটি থাকে আরো মারাত্মক। তবে এসারের এই মিড বাজেট ল্যাপটপেও এসার কুলিংবুস্ট টেকনোলজি, সাথে নিট্রো সেন্স থার্মাল পারফরমেন্সকে বাড়িয়ে দেয় আরো কয়েক গুনে। তাছাড়া নবম প্রজন্মের লেটেস্ট প্রসেসর কম পাওয়ার কনজিউমিং হওয়াতে তাপ উৎপাদনও হয় কম।

ডুয়েল ফ্যানের সাথে ল্যাপটপটিতে আছে ডুয়েল এম.২ (M.2) এসএসডি স্লট এবং একটি সাটা স্লট। এমনকি এক্সট্রা হার্ডড্রাইভ ব্যবহারের জন্য ল্যাপটপের সাথে একটি ক্যাবল পাবেন ব্যবহারকারীরা। এছাড়াও এসারের স্টাইলিশ ব্যাকপ্যাকও থাকছে।

সব মিলিয়ে এই দামে আধুনিক সব স্পেশিফিকেশন নিয়ে এসার নিট্রো ফাইভ পেছনে ফেলবে অনেক ল্যাপটপকে। যারা ল্যাপটপে গেম খেলতে চান কিন্তু বাজেট সীমিত, তাদের ক্ষেত্রে মিড রেঞ্জ গেমিং এর ক্ষেত্রে এই ল্যাপটপটি হবে একটি পারফেক্ট চয়েজ।

ফিচার ছবি- pcworld.com

আসুস জেনবুক ১৫: বিশ্বের অন্যতম কমপ্যাক্ট ল্যাপটপ

২০১৯ সালে আসুস ব্র্যান্ডের জেনবুক ১৩, ১৪, ১৫ সিরিজের ল্যাপটপগুলোকে বলা হচ্ছে আল্ট্রাবুকের মধ্যে অত্যাধুনিক, ইনোভেটিভ এবং সবচাইতে পাতলা ও সুদৃশ্য ল্যাপটপ। তাইওয়ানি এ টেকনলোজি কোম্পানিটির প্রধান লক্ষ্যই হলো সৃজনশীলতা। গৎবাঁধা ল্যাপটপের ডিজাইন থেকে বের হয়ে অনন্য কিছু সিগনেচার ডিজাইন এনে ব্যবহারকারীদের তাক লাগিয়ে দিচ্ছে আসুস। শুধুমাত্র ডিজাইনের ক্ষেত্রেই ইনোভেশন নয়, পারফরমেন্সকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে নানা সংস্করণ বাজারে আনছে আসুস।

জেনবুক সিরিজের “আসুস জেনবুক 15 UX534FT” মডেলের ল্যাপটপটি নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজন।

দেখতে আলট্রাবুকের মতো হলেও গেমিং পারফরমেন্স চেক করলে মনে হতে পারে ল্যাপটপটি আলট্রাবুক-গেমিং হাইব্রিড। লাইটওয়েট, আলট্রা-থিন এবং শ্বাসরুদ্ধকর ফ্রেমলেস ন্যানো ব্যাজেলস ডিসপ্লের এই ল্যাপটপটিকে আসুস বলছে পৃথিবীর সবচেয়ে কমপ্যাক্ট ল্যাপটপ। ১৫.৬” ইঞ্চির ফুল এইচডি ডিসপ্লের সাথে ল্যাপটপটির ট্র্যাকপ্যাডে আছে ৫.৬৬” ইঞ্চির টাচস্ক্রিন,যেটিকে আসুস নাম দিয়েছে স্ক্রিনপ্যাড ২.০। গভীর নীল সমুদ্রের উপরে ভেসে ওঠা সোনালী সূর্যোদয়ের দৃশ্য থেকে ইন্সপায়ারড হয়ে আসুস ল্যাপটপটিতে এক ধরনের এলিগেন্ট রয়্যাল ব্লু রঙ ব্যবহার করেছে।

Image Source: www.laptopsuggest.com

এক নজরে আসুস জেনবুক 15 UX534FT ল্যাপটপটির স্পেসিফিকেশন:

  • Processor: 8th Gen Intel Core i7-8565U Quad Core (6MB Cache, up to 4.6 GHz)
  • Ram: 16 GB LPDDR3 on-board RAM
  • Storage: 1TB PCle NVMe SSD
  • Display: 15.6 inch FHD with 5.66 inch 4K Screenpad 2.0
  • Graphics: NVIDIA GeForce GTX1650 Max-Q discrete Graphics
  • Weight: 1.55 Kg

ডিসপ্লে:

আলট্রাকমপ্যাক্ট, আলট্রাপোর্টেবল ডিজাইন, আলট্রালাইট চেসিসের এই ল্যাপটপটির আছে ১৫.৬” ইঞ্চির ফুল এইচডি ডিসপ্লে। চারিদিকের ২.৯ মি.মি. ন্যানো ব্যাজেলস সহ ১৮.৯ মি.মি. চিকন এই মডেলের ল্যাপটপটি আসুস এর প্রিভিয়াস জেনারেশন জেনবুক ১৫(UX530) এর চেয়ে ১২% বেশি চিকন। এ কারণে আসুস এর সাইট অনুযায়ী বিশ্বের সবচেয়ে চিকন ল্যাপটপ হল জেনবুক ১৫ সিরিজের এই ল্যাপটপটি।

ল্যাপটপটির ৯২% স্ক্রিন টু বডি রেসিও ব্যবহারকারীকে এক অবিশ্বাস্য ভিউইং এক্সপেরিয়েন্স দেয়। আসুস এর একটি সিগনেচার ফিচার হলো আরগোলিফট (ErgoLift), যার মাধ্যমে ল্যাপটপের লিডটি ওপেন করার সাথে সাথে ল্যাপটপের বেস স্ক্রিনটি ৩ ডিগ্রী উপরে উঠে আসে। বলে রাখা ভালো, ১৪৫ ডিগ্রী ল্যাপটপটির ম্যাক্সিমাম ডিসপ্লে এংগেল। এই ফিচারটি ইউজারকে দেয় অপটিমাম টাইপিং পজিসন। এছাড়াও এতে আছে অত্যাধুনিক কুলিং সিস্টেম ও চমৎকার অডিও পারফরমেন্স।

Image Source:www.notebookcheck.net

কীবোর্ড:

ফুলমেটাল বডির এই ল্যাপটপের কীবোর্ডটি স্ট্যান্ডার্ড ফরম্যাটেই তৈরি। কুইক কি এর সাথে ডানপাশে রয়েছে নিউমেরিক কিপ্যাড, যা অন্য ল্যাপটপগুলোর তুলনায় একটু কনজেস্টেড মনে হতে পারে। কীবোর্ডের উপরে রয়েছে গোল্ডেন কালারের অডিও স্পিকার,যা ল্যাপটপটিকে অনেক ক্লাসি এবং আকর্ষণীয় চেহারা দিয়েছে। ল্যাপটপটির নিচে দুইপাশেও রয়েছে দুটি স্পিকার যা আসুস সনিকমাস্টার সফটওয়ার সাপোর্টেড।

পোর্টস:

ক্লাসি লুকের কথা মাথায় রেখে আসুস মডেলটির সামনে, পেছনে কোন কানেকটিভিটি সিস্টেম রাখে নি। ডান পাশে রয়েছে ইউএসবি টাইপ “সি” ৩.১, ইউএসবি টাইপ “এ” ৩.১, এইচডিএমআই,এসি এডাপটার এবং একটি ফুল এইচডি কার্ড রিডার। মাইক্রো এসডি কার্ড রিডারের জায়গায় ফুল এসডি কার্ড রিডার ফ্যাসিলিটি ফটোগ্রাফার, এডিটরদেরকে অনেক উপকৃত করবে। বামপাশে রয়েছে আরেকটি ইউএসবি ৩.১ টাইপ “এ” এবং একটি হেডফোন জ্যাক। তবে ইউএসবি টাইপ “সি” পোর্টে থান্ডারবোল্ট সাপোর্ট থাকছে না।

স্ক্রিনপ্যাড:

এই অংশটি ল্যাপটপটির প্রধান আকর্ষন বলা যায়। সচরাচর দেখা টাচপ্যাডের জায়গায় কীবোর্ডের এফ৬ (F6) বাটন প্রেস করার সাথে সাথে ঝলমল করে উঠে ৫.৬৬ ইঞ্চির ফোর কে সাপোর্টেড এই স্ক্রিনটি। এটিকে ইউজাররা সেকেন্ডারি স্ক্রিন হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। মাল্টিটাস্কিংয়ের জন্য অসাধারনভাবে ব্যবহার করা যায় এই স্ক্রিনটি। স্ক্রিনটিতে রয়েছে অ্যাপ সুইচার (App Switcher) অপশন, যার মাধ্যমে অতি সহজেই এক অ্যাপ থেকে অন্য অ্যাপে চলে যাওয়া যায়।

অত্যাধুনিক এই স্ক্রিনটির মাধ্যমে চ্যাট করা ও ইউটিউব ভিডিও দেখা যাবে। সর্টকাট ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে এমনকি এই সর্টকাট কিগুলোও ইউজাররা ইচ্ছামতো পারসোনালাইজও করে নিতে পারবেন। মার্জিং ফ্যাসিলিটির জন্য বড় স্ক্রিনের কনটেন্ট নিচের দিকে সোয়াইপ করার মাধ্যমে ডিরেক্ট ছোট এই স্ক্রিনপ্যাডে দৃশ্যমান হয়, আবার উপরের দিকে সোয়াইপের মাধ্যমে স্ক্রিনপ্যাডটির কনটেন্ট চলে আসে বড় স্ক্রিনে। স্লাইড এক্সপার্ট, ডক এবং সিট এক্সপার্ট অ্যাপের মাধ্যমে অফিস ওয়ার্কগুলো হয়ে উঠে কম সময়সাপেক্ষ এবং একই সাথে আরামদায়ক।

Image Source: www.amazon.com

এরকমই নানা চমকপ্রদ ফিচার নিয়ে তৈরি এই স্ক্রিনপ্যাড ২.০। অত্যাধুনিক ইউনিক টেকনলোজির স্বাদ পাওয়ার জন্য আসুসের এ মডেলটি হতে পারে একটি স্মার্ট চয়েজ।

গ্রাফিক্স:

এনভিডিয়া জিফোর্স সিরিজের জিটিএক্স ১৬৫০ ম্যাক্স কিউ গ্রাফিক্স কার্ড ইন্টিগ্রেটেড থাকার কারণে এই আল্ট্রাবুকটির মাধ্যমে অনেক ভারি ভারি গেম অনায়াসে খেলা সম্ভব। কোর আই ৭ প্রসেসরের সাথে ১৬ জিবি র‍্যাম এবং ১ টেরাবাইট স্টোরেজ ল্যাপটপটিকে অনেক ফাস্ট করার পাশাপাশি ওভারঅল পারফরমেন্সকেও আপগ্রেড করে।

ব্যাটারি:

১.৫৬ কেজির এই ল্যাপটপটির ব্যাটারি লাইফ দুর্দান্ত। কেননা ফুল চার্জড ৭১ ওয়াট আওয়ার, ৮ সেল লিথিয়াম-পলিমার ব্যাটারি প্যাকটি ১৭ ঘন্টা পর্যন্ত ব্যাকআপ দিতে সক্ষম। এই মুহূর্তের বাজারে এতো থিন, লাইটওয়েটের সাথে আর কোন ল্যাপটপই দিচ্ছে না এরকম ব্যাটারি ব্যাকআপ। দারুণ ব্যাটারি ব্যাকআপের জন্য ল্যাপটপটি নিয়ে সহজেই ট্রাভেল করা সম্ভব।

মিলিটারি টেস্টেড পাওয়ারফুল এই ল্যাপটপটির বাজার মূল্য ১ লক্ষ ২২ হাজার থেকে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত। স্ক্রিনপ্যাডটি ছাড়া একই স্পেসিফিকেশনে আরো কম মূল্যে আসুস জেনবুক 15 UX533FD মডেলটি এভেইলএবল আছে।

কর্টানা, এলেক্সা সাপোর্টেড এই ল্যাপটপটি আধুনিক ইনোভেশনের ছোঁয়া দিবে প্রতি পদে। আসুস এভাবেই একের পর এক ইনোভেটিভ, ক্রিয়েটিভ ডিজাইন দিয়ে ম্যাক বুক, সার্ফেস বুক ল্যাপটপের পাশাপাশি নিজের ইউনিক অবস্থানটি ধরে রাখতে পেরেছে।

ফিচার ছবি- youtube.com

জীবনকে সহজ করতে ১০টি স্মার্ট গ্যাজেট

যে সকল কাজ আমাদের দৈনন্দিন করতে হয় সেগুলোর বেশিরভাগই বর্তমানে অনেক সহজ হয়ে গিয়েছে প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে। জীবনকে সহজ করতে নানাধরনের প্রযুক্তিনির্ভর যন্ত্রপাতি ব্যবহার করি। এগুলোর মধ্যে কিছু আছে যেগুলো আকারে ছোট ও বহনযোগ্য হলেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পাদন করে আমাদের সময় ও কষ্ট বাঁচিয়ে দেয়। এরকম ১০টি স্মার্ট গ্যাজেটের তালিকা নিয়ে সাজানো হয়েছে এই লেখাটি।

১. অ্যামাজন ইকো (Amazon Echo):

একটি স্মার্ট হোম সিস্টেম শুরু করার সবচেয়ে সাশ্রয়ী পদ্ধতি হলো অ্যামাজন ইকো ডট। অ্যামাজনের ক্লাউড নির্ভর ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যালেক্সা ভয়েস কমান্ড অনুযায়ী নানা কাজ করতে পারে। যেমন- স্পটিফাইয়ে গানের লিস্ট তৈরি করা, পিজা অর্ডার দেয়া, উবার কল করা, ঘরের স্মার্ট লাইট কন্ট্রোল করা ইত্যাদি। এটি শুধু কমান্ড শুনেই দ্রুত কাজ সম্পাদন করে থাকে। কাজেই ঘরে একটি অ্যামাজন ইকো ডিভাইস থাকলে জীবন হয় সহজ ও গতিশীল। একটি ইকো ডটের দাম পড়বে প্রায় ৪ হাজার টাকা।

অ্যামাজন ইকো অত্যন্ত উন্নতমানের ভয়েস এসিস্ট্যান্ট; Image Source: bhphotovideo.com

২. পোর্টেবল ব্যাটারি (Portable Battery):

ঘরের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ কাজের সময় ফোনের চার্জ শেষ হয়ে গেলে বোঝা যায় একটি পোর্টেবল ব্যাটারির গুরুত্ব। যেকোনো জায়গায় সহজেই ফোন চার্জ করা করা যায় পোর্টেবল ব্যাটারির সাহায্যে। তবে বাজারের সকল পোর্টেবল ব্যাটারির মধ্যে অ্যাংকার পাওয়ারকোর সিরিজের পাওয়ারকোর ১০,০০০ অন্যতম সেরা। এটির দামও বেশি না, আবার অনেক পাওয়ার ধরে রাখতে পারে। এটির বর্তমান বাজারদর প্রায় ২ হাজার টাকা।

৩. ওয়্যারলেস চার্জার (Wireless Charger):

ওয়্যারলেস চার্জার আসলে পুরাপুরি ওয়্যারলেস না, কারণ এটিকে দেয়ালে সকেটের সাথে লাগিয়ে চার্জ করে নিতে হয়। এখনো পর্যন্ত নিজে নিজে চার্জ হওয়ার মতো কোনো চার্জার তৈরি হয়নি। তবে এর পাওয়ারপ্যাডের সাথে স্পর্শ করে রাখলেই চার্জ হয় ফোনে।

ফোনের চার্জার পোর্টে পাওয়ার কর্ড ঠিকমতো লাগলো কি লাগলো না এসব খেয়াল রাখতে হয় না। তবে খেয়াল রাখতে হয় নির্দিষ্ট কোনো চার্জারে নির্দিষ্ট ফোন সাপোর্ট করে কিনা। সিএইচওটেক এর কিউআই চার্জার স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৮ সহ অনেক ফোনের জন্য ভালো। একটি কিউআই চার্জারপ্যাডের দাম পড়বে প্রায় ১২০০ টাকা।

কিউআই পোর্টেবল চার্জার প্যাড; Image Source: imgur.com

৪. নোম্যাড কি (Nomad Key):

নোম্যাড কি হলো এমন একটি আনুষঙ্গিক ব্যবহার্য যা দিয়ে তার বা কর্ডের ব্যবহার ছাড়াই ফোনকে অন্য কোনো ডিভাইস বা পোর্টেবল চার্জারের সাথে যুক্ত করা যায়। এটা থাকলে কাউকে আর কর্ড নিয়ে ঘুরতে হয় না। ইউএসবি ২.০ যেকোনো পোর্টের সাথেই কানেকশন সৃষ্টি করতে পারে এই নোম্যাড কি। এবং এটি সহজে চাবির রিংয়ে অন্য চাবির সাথে বহন করা যায়। লাইটেনিং এর একটি নোম্যাড কি এর দাম পড়তে পারে প্রায় ২৫০০ টাকা।

৫. মাল্টিটুল (Multitool):

একটি মাল্টিটুলে নানাধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবহার্য সামগ্রী একসঙ্গে থাকে যার মধ্যে রয়েছে ছুরি, ব্লেড, কাঁচি, এন্টিকাটার, স্ক্রু ড্রাইভার, কর্ক স্ক্রু, ইত্যাদি। সবসময় যেখানে সেখানে টুল বক্স নিয়ে ঘুরাঘুরি কখনোই সম্ভব নয়। আর বাড়িতেও ছোটখাটো কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে টুলবক্স খোঁজাখুজির চেয়ে এটি দিয়ে কাজ সেরে ফেলাই উত্তম। আর এগুলো ছোট ও হালকা হওয়ায় সহজেই পকেটে রাখা যায় সবসময়। ‘লেদারম্যান সাইডকিক’ হলো এরূপ একটি বিখ্যাত মাল্টিটুল, যার বর্তমান বাজারদর প্রায় ৪ হাজার টাকা।

৬. টাইল (Tile):

টাইল হলো চাবির রিং এর মতো দেখতে এক ধরনের ব্লুটুথ ট্র্যাকার, যা মোটামুটি ১০০ ফুটেরও বেশি দূর থেকে ফোনে সিগন্যাল পাঠাতে পারে। ফোনে রিং বাজিয়ে এটি জানান দেয় এর স্থান। কাজেই ছোট ছোট প্রয়োজনীয় ব্যবহার্য সামগ্রী যেমন চাবি, মানিব্যাগ এসবে যদি একটি টাইল লাগানো থাকে তাহলে এগুলো হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। হারালেও সহজেই খুঁজে পাওয়া সম্ভব। একটি টাইলের দাম প্রায় ২,০০০ টাকা।

একটি টাইল গ্যাজেট রক্ষা করতে পারে সব ছোটখাটো ব্যবহার্য সামগ্রী; Image Source: 9to5mac.com

৭. ফিলিপস হিউ স্মার্ট বাল্ব (Philips Hue Smart Bulb):

এই স্মার্ট বাল্ব ব্যবস্থা বিলাসবহুল হলেও জীবনকে অনেক সহজ করে তোলে। জায়গা ছেড়ে না উঠে বা এক রুম থেকে অন্য রুমে না গিয়ে শুধু ভয়েস কমান্ড বা অ্যাপে নির্দেশনা দিয়েই ঘরের সব লাইট জ্বালানো যায়। ঘরের বাইরে থেকেও লাইট জ্বালানো যায় নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য। আবার বন্ধও করে দেয়া যায়।

হিউ স্টার্টার কিটে ৩টি বাল্বের সাথে ১টি হিউ ব্রিজ থাকে যেটির সাহায্যে বাল্বগুলোকে হোম নেটওয়ার্কের সাথে কানেক্ট করা যায়। একটি ব্রিজ ৫০ টি বাল্বকে একসাথে কানেক্ট করতে পারে। একটি ফিলিপস হিউ কিটের দাম পড়বে প্রায় ১০ হাজার টাকা।

ফিলিপস হিউ স্মার্ট বাল্ব স্টার্টার কিট; Image Source: obi.de

৮. রোকু মিডিয়া স্ট্রিমার (Roku Media Streamer):

রোকু মিডিয়া স্ট্রিমার স্টিক হচ্ছে সবচেয়ে বেশি সোর্স থেকে সবচেয়ে বেশি শো স্ট্রিমের সুবিধা সম্পন্ন একটি ডিভাইস।এটি সহজেই যেকোনো জায়গায় বহন করে নিয়ে যাওয়া যায়। টিভি বা অন্য ডিভাইসে লাগালেই সাথে সাথে বিভিন্ন চ্যানেলের বিভিন্ন বিখ্যাত নতুন-পুরাতন শো দেখা যাবে। হালের ‘বোজ্যাক হর্সম্যান’ অথবা পুরাতন ‘দ্য অফিস’ স্ট্রিম করে সহজেই দেখা যাবে এই স্ট্রিমিং ডিভাইসের সাহায্যে। একটি রোকু স্ট্রিমিং স্টিকের দাম পড়বে প্রায় ৩১০০ টাকা।

৯. ইউনিভার্সাল রিমোট (Universal Remote):

ঘরের প্রত্যেকটি ডিভাইসের জন্য আলাদা আলাদা রিমোট কন্ট্রোল থাকে বিধায় মাঝে মাঝে কাজের সময় নির্দিষ্ট রিমোটটি খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন। আর কোনটি কোন কাজ করে এটা মনে রাখাও ঝামেলার। তাই সবগুলোর বদলে যদি একটি ইউনিভার্সাল রিমোট ব্যবহার করা যায়, যেটি দিয়ে ঘরের সবগুলো ডিভাইসই কন্ট্রোল করা যায় তাহলে জীবন অনেক সহজ হয়।

লজিটেক হারমোনি হোম কন্ট্রোল এরূপ একটি ডিভাইস যা দিয়ে প্লেস্টেশন, অ্যামাজন ফায়ার টিভি সহ সব ধরনের ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এটার দাম পড়বে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার টাকা।

লজিটেক এর হারমোনি হোম কন্ট্রোল; Image Source: businesswire.com

১০. কিন্ডেল পেপারহোয়াইট (Kindle Paperwhite):

একটি সত্যিকারের বই পড়ার মতো আনন্দ ও অভিজ্ঞতা কিন্ডেল পেপারহোয়াইট না দিতে পারলেও এটি চেষ্টা করে কাছাকাছি যাওয়ার। আর জায়গা ও অন্যান্য সমস্যার কারণে ঘরে বই রাখা কঠিন হলেও একটি পেপারহোয়াইটে শত শত বই সংরক্ষণ করা যায় এবং যখন তখন সুবিধামত পড়া যায়।

এটি একবার চার্জ দিলে অনেকদিন চলে, হাই রেজ্যুলেশন স্ক্রিন সহজে পড়তে সাহায্য করে ও ব্যাক লাইট সুবিধার কারণে অন্ধকারেই পড়া যায়। কিন্ডেলের বিভিন্ন ভার্সনের মধ্যে এটিই অন্যতম সেরা এবং বর্তমানে এর দাম পড়বে প্রায় ৯,৫০০ টাকা।

ফিচার ছবি- Rightit.org

বাজারের অন্যতম সেরা ৫টি ভ্যাকুয়াম ক্লিনার

আমাদের ঘরবাড়িতে প্রতিদিন যে ধুলাময়লা জমে এগুলো পরিষ্কার করতে আমাদের যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। কিন্তু ধুলাময়লা পরিষ্কারের এই কাজকে সহজ করতে বাজারে এসেছে ভ্যাকুয়াম ক্লিনার, যা একটি নির্দিষ্ট স্থানের ধুলাময়লা কে এর সাথের ডার্টব্যাগে টেনে নেয় এবং ঐ স্থানকে পরিষ্কার করে।

বাজারে  নানা ধরনের ভ্যাকুয়াম ক্লিনার পাওয়া যায়। বেশ কিছু বিখ্যাত ব্র্যান্ডের ভালো মানের ও কম দামের ক্লিনার রয়েছে বাজারে যেগুলো ব্যবহার করে পরিষ্কার করার কাজ অনেক সহজে করা যায়। বাজারের অন্যতম সেরা ৫ টি ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের তালিকা নিয়ে সাজানো হয়েছে এই লেখাটি।

১. হিতাচি ভ্যাকুয়াম ক্লিনার সিভি-এসই২২ভি ২৪০সি (Hitachi Vacuum Cleaner CV-SE22V 240C):

দেশে বর্তমানে যেসকল ব্র্যান্ডের ভ্যাকুয়াম ক্লিনার পাওয়া যায় সেগুলোর মধ্যে অন্যতম বিখ্যাত ও আন্তর্জাতিক মানের একটি ব্র্যান্ড হলো হিতাচি। হিতাচি ব্র্যান্ডের ভ্যাকুয়াম ক্লিনারগুলো বেশ উন্নতমানের ও ভালো ফাংশন যুক্ত হওয়ায় বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। বাজারে হিতাচি এর যেসকল মডেলের ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের চাহিদা সবচেয়ে বেশি সেগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি মডেল হলো সিভি-এসই২২ভি ২৪০সি ভ্যাকুয়াম ক্লিনার।

এর রয়েছে শক্তিশালী ২২০০ ওয়াট এর মোটর। এতে আরো আছে উচ্চমানের পরিষ্কারকরণ ক্ষমতা ও কম শব্দ করার প্রবণতা। ডাস্ট নির্দেশক প্রযুক্তি থাকায় ময়লা খুঁজে বের করে পরিষ্কার করে এবং ২ লিটার ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ডাস্টব্যাগ থাকায় পর্যাপ্ত ময়লা পরিষ্কার করতে পারে।

মূল পরিষ্কারক অগ্রভাগ ছাড়াও ২ ধাপবিশিষ্ট বহুকোণ অগ্রভাগ ও ব্রাশ রয়েছে এটির, যার সাথে রয়েছে ডাস্ট ব্রাশ ও সরু নজেল। এগুলোর সাহায্যে ক্লিনারটি বিভিন্ন ধাপে ধুলা-ময়লা পরিষ্কার করতে পারে। স্টাইলিশ ডিজাইন ও ইকো পাওয়ারের সমন্বয় একে করেছে আরো আকর্ষণীয়। এর রয়েছে ১ বছরের সার্ভিস ও পার্টস ওয়ারেন্টি। এর বর্তমান বাজারদর ১৬,৪০০ টাকা।

হিতাচি ভ্যাকুয়াম ক্লিনার সিভি-এসই২২ভি ২৪০সি; Image Source: bestelectronicsltd.com

২. প্যানাসনিক ভ্যাকুয়াম ক্লিনার এমসি সিজি২৪০ (Panasonic Vacuum Cleaner MC CG240):

প্যানাসনিক বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। জাপানিজ এই প্রতিষ্ঠানটির তৈরি করা সামগ্রীগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ভ্যাকুয়াম ক্লিনার। বাংলাদেশের বাজারেও প্যানাসনিকের তৈরি ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের রয়েছে বিশেষ চাহিদা।

প্যানাসনিকের ভ্যাকুয়াম ক্লিনার মডেলগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো এমসি সিজি২৪০ মডেল এর ভ্যাকুয়াম ক্লিনার। এর অত্যধিক হালকা ওজন সাহায্য করে তাড়াতাড়ি ঘর পরিষ্কার করতে। ১৬০০ ওয়াট ক্ষমতার মোটরের পাশাপাশি ২৫০ ওয়াটের সাকশন ক্ষমতা এটিকে করেছে অন্যতম শক্তিশালী একটি ভ্যাকুয়াম ক্লিনার।

২টি প্লাস্টিক ওয়ান্ড, ১.৪ লিটারের ডাস্টব্যাগ এবং নরম রাবারের চাকা এর কার্যকারিতা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। ইকো ডিজাইনের কারণে বিদ্যুতের ব্যবহার হয় কম এবং উচ্চ পরিষ্কারকরণ ক্ষমতার সাথে কম শব্দ সৃষ্টির প্রবণতা একে করেছে অন্যতম জনপ্রিয় ভ্যাকুয়াম ক্লিনার। এর রয়েছে ১ বছরের সার্ভিস ও পার্টস ওয়ারেন্টি। এর বর্তমান বাজারদর ৭২০০ টাকা।

প্যানাসনিক ভ্যাকুয়াম ক্লিনার এমসি সিজি২৪০; Image Source: shopee.com.my

৩. হিতাচি ভ্যাকুয়াম ক্লিনার সিভি-ডাব্লিউ১৮০০ (Hitachi Vacuum Cleaner CV-W1800):

বিখ্যাত ব্র্যান্ড হিতাচি এর আরেকটি অন্যতম সেরা ও জনপ্রিয় ভ্যাকুয়াম ক্লিনার মডেল হলো সিভি-ডাব্লিউ১৮০০। গৃহস্থালি পরিষ্কারের কাজে একটি উন্নত সংযোজন এই ভ্যাকুয়াম ক্লিনারটি। এর ১৮০০ ওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন মোটরের কারণে পুরো ঘর পরিষ্কার করা যায় ঝামেলামুক্তভাবে।

এয়ার ডাস্ট ক্যাচার ব্যবহার করে বিধায় বাতাসে থাকা ধুলা ময়লাও পরিষ্কার করতে পারে এই ভ্যাকুয়াম ক্লিনারটি। আর ৫ লিটার ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ডাস্টব্যাগ থাকায় পর্যাপ্ত ময়লা পরিষ্কার করে এটি। ক্লথ ফিল্টার, প্লাস্টিক পাইপ, ডাস্টিং ব্রাশ, ফ্লোর নজেল ইত্যাদি ব্যবহার করে এটি হয়ে উঠেছে বাজারে প্রচলিত ক্লিনারগুলোর মধ্যে অন্যতম সেরা। স্টাইলিশ ডিজাইন ও ইকো পাওয়ার এই ক্লিনারকে দিয়েছে আরো কার্যকারিতা। এর রয়েছে ১ বছরের সার্ভিস ও পার্টস ওয়ারেন্টি। এর বর্তমান বাজারদর ১২,৩০০ টাকা।

৪. প্যানাসনিক ভ্যাকুয়াম ক্লিনার এমসি সিজি৩০১ (Panasonic Vacuum Cleaner MC CG301):

জাপানিজ প্রতিষ্ঠান প্যানাসনিকের তৈরি ভ্যাকুয়াম ক্লিনারগুলোর মধ্যে অন্যতম আরেকটি মডেল হলো এমসি সিজি৩০১। এই ভ্যাকুয়াম ক্লিনারটির শক্তিশালী ক্লিনিং ক্ষমতা তো রয়েছেই, তবে এর মূল শক্তি হলো এর ‘ইকো কনশাস’ ডিজাইন, যার দরুন এর উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন মোটর খুব দ্রুত ধুলা ময়লা সংগ্রহ করে বাড়িকে পরিষ্কার করার কাজ করে।

এই ক্লিনারটি বেশি বিদ্যুৎও খরচ করে না। এর পাওয়ার সেভিং এত কার্যকর যে সাধারণ ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের চেয়ে ১৩০ গুণ কম বিদ্যুৎ শক্তি ব্যবহার করে কাজ করে, যার ফলে বিদ্যুৎ বিল অনেক কমে আসে। এর সাকশন মোটরের ক্ষমতা অনেক বেশি, প্রায় ৪০০ ওয়াট। এর পাশাপাশি ২টি প্লাস্টিক ওয়ান্ড, ১.৪ লিটারের ডাস্টব্যাগ এবং নরম রাবারের চাকা থাকায় এর কার্যকারিতা অনেকগুণ বেড়ে যায়। এয়ার ডাস্ট ক্যাচারের সাহায্যে এটি বায়ু পরিষ্কার রাখে। এর রয়েছে  ১ বছরের সার্ভিস ও পার্টস ওয়ারেন্টি। এর বর্তমান বাজারদর ৭,৬০০ টাকা।

প্যানাসনিক ভ্যাকুয়াম ক্লিনার এমসি সিজি৩০১; Image Source: shop.panasonic.com

৫. ফিলিপস ভ্যাকুয়াম ক্লিনার এফসি ৮০৮২ (Philips Vacuum Cleaner FC 8082):

আরেকটি বিখ্যাত ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ফিলিপস ভ্যাকুয়াম ক্লিনার তৈরিতে অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করে। দেশের বাজারে ফিলিপসের তৈরি যে সকল মডেল পাওয়া যায়, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি মডেল হলো এফসি ৮০৮২। এটি আকারে ছোট ও অনেক হালকা হলেও ১০০০ ওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন মোটর থাকায় এর কর্মদক্ষতা অনেক বেশি এবং বেশ ভালো পরিষ্কারের কাজ করে থাকে।

এর সাকশন মোটরের ক্ষমতা ২০০ ওয়াট। এর লম্বা ও সহজে ব্যবহারযোগ্য হ্যান্ডেলের সাহায্যে যেকোনো জায়গায় সহজে পরিষ্কার করা যায়। ২ ধরনের ক্লিনিং সিস্টেমের কারণে এটি দ্বারা শক্ত মেঝে কিংবা কার্পেট, উভয়ের উপরই পরিষ্কার করা যায়। ছোট ও হালকা হওয়ায় সহজেই বহন করা যায় সব জায়গায়। এর বর্তমান বাজারদর ৮৪০০ টাকা।   

ফিলিপস ভ্যাকুয়াম ক্লিনার এফসি ৮০৮২; Image Source: philips.com.my

এসকল ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহারে সহজ হয় দৈনন্দিন ঘর বাড়ি পরিষ্কারের কাজ, বেঁচে যায় অনেক সময় ও শ্রম। সাশ্রয়ী মূল্যের হওয়ায় চিন্তা করতে হয় না দাম নিয়েও।

ফিচার ছবি- Shutterstock

গাড়িকে স্মার্ট করতে আকর্ষণীয় ৭ টি গ্যাজেট

প্রাত্যহিক জীবনকে আরেকটু গতিশীল ও আরামদায়ক করতে আমরা নানা ধরনের গ্যাজেট ব্যবহার করি। তবে এসকল গ্যাজেটের বেশীরভাগ আমরা ব্যবহার করি আমাদের বাসা বা অফিসে। কিন্তু দিনের একটা উল্লেখযোগ্য সময় আমদের কাটাতে হয় গাড়িতে। তাই গাড়িকে আরামদায়ক করতেও ব্যবহার করা হয় নানারকম গ্যাজেট। এরকম ৭টি স্মার্ট কার গ্যাজেট নিয়ে সাজানো হয়েছে এই লেখাটি।

১. অটোমেটিক প্রো রিয়েলটাইম কার ট্র্যাকার (Automatic Pro-Realtime Car Tracker):

এই স্মার্ট গ্যাজেটটি সবধরনের কার গ্যাজেটের মধ্যে অন্যতম সেরা। এই কার ট্র্যাকারটি গাড়িতে সেট করার সাথে সাথে গাড়ি ডিজিটাল জীবনব্যবস্থার একটি অংশ হয়ে ওঠে। যদি বাড়িতে অ্যামাজন ইকো কানেক্টেড থাকে তাহলে অ্যালেক্সা এই ট্র্যাকারের সাহায্যে গাড়ির ইঞ্জিন ডায়াগনোসিস করতে পারে এবং গাড়ি চুরি হলে ট্র্যাক করে গাড়িকে খুঁজে বের করতে পারে।

এছাড়াও গাড়ির ভিতর আর সেলফোন ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না, পাঁচ বছরের হাই স্পিড থ্রিজি নেটওয়ার্ক সার্ভিসের সাবস্ক্রিপশন পাওয়া যায়। আর ক্র্যাশ এলার্ট সার্ভিসের কারণে গাড়ির কোনো ক্ষতি হলে সাথে সাথে জানা যায়। মূলত এই হাবটি একটি গাড়িকে সম্পূর্ণরূপে একটি স্মার্ট কারে রূপান্তরিত করে। অনলাইন শপিং সাইটে এর দাম পড়বে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার টাকা।

অটোমেটিক প্রো রিয়ালটাইম কার ট্র্যাকার; Image Source: shreejeeonline.com

২. আইওটি ইজি ওয়ানটাচ ড্যাশবোর্ড ফোন মাউন্ট (iOttie Easy Onetouch Dashboard Phone Mount):

গাড়ি চালানোর সময় ফোনে কথা বলা বা ফোন ব্যবহার করা সম্পূর্ণ অবৈধ। এমনকি খুব প্রয়োজনীয় বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজও এসময় করা যায় না ফোনে। আর এই সমস্যা দূর করতে বাজারে এসেছে আইওটি ইজি ওয়ানটাচ ড্যাশবোর্ড ফোন মাউন্ট যা একটি সুন্দর রাবার রিং এর সাহায্যে ফোনকে যেখানে ইচ্ছা সেখানে রাখতে সাহায্য করে।

এই ড্যাশবোর্ডটির রয়েছে উচ্চ মানসম্পন্ন সাকশন কাপ। এছাড়া গাড়ি চালানোর সময় গুগল ম্যাপ দেখার জন্য বা কল শেষ করে ফোন রাখতে ফোন সুবিধামতো ব্যবহারের জন্য এটাকে ইচ্ছামতো ঘুরিয়ে বা উঠিয়ে সেট করা যায়।

আইঅটি ইজি ওয়ানটাচ ড্যাশবোর্ড ফোন মাউন্ট ফোন ব্যবহার সহজ করে; Image Source: bhphotovideo.com

৩. অ্যাংকার কুইক চার্জ ৩.০ ইউএসবি কার চার্জার (Anker Quick Charge 3.0 USB Car Charger):

অনেকসময় সকালে দ্রুত কর্মক্ষেত্রের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যাওয়ার সময় আমাদের চোখে পড়ে ফোনে চার্জ একদমই নেই। আর সময়ও নেই বাড়ি থেকে একটু চার্জ করে নিয়ে বের হবার। কিন্তু কেমন হয় যদি গাড়িতেই থাকে ফোনে দ্রুত চার্জ দেয়ার অত্যাধুনিক ব্যবস্থা?

বিখ্যাত ইলেক্ট্রনিক্স কোম্পানি অ্যাংকার নিয়ে এসেছে এমনই একটি চার্জার ডিভাইস যা গাড়িতে লাগানো থাকে আর যাত্রাপথে এটার সাহায্যে সহজেই ফোন চার্জ করে নেয়া যায়। আর এই চার্জারটির চার্জিং স্পিড এত বেশি যে আধা ঘন্টার মধ্যে ফোনের চার্জ ৮০% হয়ে যায়। কাজেই এটি সাধারণ চার্জার থেকে দ্রুত কাজ করে এবং সবচেয়ে বড় ব্যাপার ৩.০ ইউএসবি মডেলটি বাজারের প্রায় সকল ফোনের সাথে কাজ করে, সেটি আইওএস হোক অথবা অ্যান্ড্রয়েড। এছাড়াও এই ডিভাইসটির রয়েছে ১৮ মাসের ওয়ারেন্টি।

৪. ওয়াইআই মিরর ড্যাশ ক্যাম (YI Mirror Dash Cam):

মিরর ড্যাশ ক্যাম গাড়ির নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি গ্যাজেট। বর্তমান বিশ্বে বেশিরভাগ গাড়িতেই ব্যবহৃত হয় এটি, যার সাহায্যে গাড়ির আশেপাশে কী হচ্ছে দেখা যায়। ওয়াইআই ড্যাশ ক্যামে দুটি ক্যামেরা রয়েছে। এর মধ্যে সম্মুখমুখী ক্যামেরাটির রয়েছে ১০৮০পি মানের ভিডিও ধারণক্ষমতা, কেবিনমুখী ক্যামেরাটির রয়েছে ৭২০পি মানের ভিডিও ধারণক্ষমতা, যা স্বল্প পরিসর স্থানের জন্য যথেষ্ট।

ক্যামেরাটির সেটিংস ঠিক করার জন্য এলসিডি ডিসপ্লে রয়েছে, আর যথেষ্ট দূরত্ব থেকেও ক্যামেরাটি ফোনের ওয়াইআই অ্যাপের মাধ্যমে ফোনে ভিডিও রেকর্ডিং পাঠাতে থাকে, যা ফোনে সেভ করে রাখা যায়।এই গ্যাজেটটি অত্যন্ত কার্যকর।

ওয়াইআই মিরর ড্যাশ ক্যাম বহুল ব্যবহৃত একটি গ্যাজেট; Image Source: aliexpress.com

৫. ব্যাকট্র্যাক প্রোফেশনাল ব্রিদালাইজার (Bactrack Professional Breathalyzer):

মদ্যপান করে গাড়ি চালানো যেমন অপরাধ, তেমনি এটি একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। কারণ এই অবস্থায় গাড়ি চালালে গাড়ি যেকোনো সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে। এই গ্যজেটটি ব্যবহার করলে মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানোর আশঙ্কা কমে যায়।

মাত্র একটি বাটন প্রেস করলেই এটি বলে দেয় একজনের মদ্যপানের হার কতটুকু আর সে গাড়ি চালানোর উপযোগী কিনা। এই গ্যাজেটে পরীক্ষার মাধ্যমে একজন মদ্যয়ানের পর গাড়ি চালানো থেকে বিরত থেকে দুর্ঘটনা এড়াতে পারে। অর্থাৎ এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি গ্যাজেট। অ্যামাজনে এর দাম পড়বে প্রায় ১০ হাজার টাকা।

৬. রোভ ভিভা অ্যালেক্সা এনাবলড কার চার্জার (Roav Viva Alexa-Enabled Car Charger):

এই গ্যাজেটটি ব্যবহারের মাধ্যমে ঘরের পাশাপাশি আপনার গাড়িতেও পাশে পাবেন স্মার্ট ভয়েস হোম অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যালেক্সা কে। গ্যাজেটে থাকা মাইক্রোফোন আইকনটি কে ট্যাপ করলেই অ্যালেক্সা অ্যাক্টিভেট হয়ে যাবে। কোন দিকে যেতে হবে এই নির্দেশনার পাশাপাশি কাছে কোথায় রেস্টুরেন্ট বা কফিশপ বা গ্যাস স্টেশন বা অন্য কোনো প্রয়োজনীয় আউটলেট আছে তা খুঁজে পেতে সাহায্য করে অ্যালেক্সা।

ফোন রিসিভ করা সহ ফোনে দ্রুত চার্জ দিতেও ব্যবহার করা যায় এটি। অ্যালেক্সা বিষয়ক গ্যাজেট মূলত দামী হলেও রোভ ভিভার এই গ্যাজেটটি যথেষ্ট সাশ্রয়ী মূল্যের। পাশাপাশি এর রয়েছে ১২ মাসের ওয়ারেন্টি।

রোভ ভিভা অ্যালেক্সা এনাবলড কার চার্জার; Image Source: mightygadget.co.uk

৭. কুলিউলি মিনি ফ্রিজ ইলেক্ট্রিক কুলার (Cooluli Mini ridge Electric Cooler):

বাড়ি থেকে অন্য কোথাও খাবার নিয়ে গেলে দু ধরনের সমস্যা হয়। ঠান্ডা কোনো খাবার নিয়ে গেলে (পানীয়,শরবত) সেটি গরম হয়ে যায় কিংবা গরম খাবার হয়ে যায় ঠান্ডা। এই সমস্যা দূর করতে ব্যবহার করা যায় স্মার্ট কার গ্যাজেট কুলিউলি মিনি ফ্রিজ ইলেকট্রিক কুলার।

থার্মোইলেক্ট্রিক সিস্টেম ব্যবহার করে সচল থাকে এটি। এছাড়া এসি ও ডিসি উভয় সিস্টেমের বিদ্যুৎ ব্যবহার করে বিধায় সহজেই গাড়ির ইউএসবি পোর্টে লাগিয়ে ব্যবহার শুরু করা যায়। অ্যামাজনে এর দাম পড়বে প্রায় ৩৫০০ টাকা।

এসকল গ্যাজেট ব্যবহারের মাধ্যমে সহজেই আপনার গাড়িকে রূপান্তরিত করতে পারেন স্মার্ট কারে।

ফিচার ছবি- technofaq.org

গুগল হোম: একটি স্মার্ট হোম ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট

এক দশকের বেশি সময় ধরে আমাদের জীবনের একটি অপরিহার্য অংশে পরিণত হয়েছে গুগল। আমাদের যেকোনো বিষয়ে যেকোনো তথ্য প্রয়োজন হলে আমরা সবার আগে যার কাছে ছুটে যাই সে হলো গুগল। ফোনে, কম্পিউটারে ইত্যাদি বিভিন্ন ডিভাইস ব্যবহার করে আমরা গুগল ব্রাউজ করে থাকি।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে গুগল আর স্ক্রিনে বন্দী থাকছে না। এখন আর গুগল ব্যবহার করতে কিবোর্ড বা স্ক্রিনে টাচের প্রয়োজন হয় না, এমনকি কোনো ডিভাইস হাতে নেয়ারই প্রয়োজন হবে না। কারণ গুগল বাজারে এনেছে প্রায় ১০ হাজার টাকা দামের স্মার্ট ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট ‘গুগল হোম’, যা একটি ভয়েস নিয়ন্ত্রিত স্মার্ট স্পিকার। এতে গুগলের সকল তথ্যের এক্সেস রয়েছে এবং ভয়েস কমান্ড অনুযায়ী নির্দিষ্ট অনেক কাজ করতে পারে।

একটি গুগল হোম ডিভাইস; Image Source: digitaltrends.com

গুগল হোম একটি মোটা ও খাটো ডিভাইস, যা ঘরের সাথে কেন্দ্রীয়ভাবে সংযুক্ত থাকে। এর সাহায্যে কোনো ডিভাইসের সাথে প্রত্যক্ষ সংযোগ ছাড়াই গুগলের যেকোনো সার্ভিস এক্সেস করা যায়। আর শুধু ভয়েস কমান্ড দিলেই এটি গান বাজাতে পারে। কোনো প্রশ্ন করলে গুগলের তথ্যভান্ডার থেকে খুঁজে উত্তর দিতে পারে, আবহাওয়ার খবর দিতে পারে, সকালে ঘুম থেকে উঠিয়ে দিতে পারে, টিভি, মোবাইলসহ সকল স্মার্ট গ্যাজেট কন্ট্রোল করা ছাড়াও আরো অনেক কিছু করতে পারে।

আপাতদৃষ্টিতে দেখলে মনে হবে অ্যামাজন ইকো বা অ্যালেক্সা এবং গুগল হোমের মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। অ্যালেক্সা সকল কাজই করতে পারে ভিন্ন কিছু ফিচারসহ। তবে গুগল হোম যেদিক থেকে অনেক এগিয়ে সেটি হলো গুগলের সুবিশাল তথ্যভান্ডার ও অন্যান্য সার্ভিসের এক্সেস।

গুগল হোমটি মূলত এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যে এটি ঘরের অন্যান্য সামগ্রীর সাথে মিলে যায়। এটি অ্যালেক্সা থেকে আকারে ছোট এবং দেখতে অধিক আকর্ষণীয়। হোম ডিভাইসটি দেখতে সাদা হলেও ১৫৬০ টাকা মূল্যমানের ভিন্ন ভিন্ন রঙের ও দেখতে আকর্ষণীয় কাপড় ও ধাতুর অপশনাল বেজ পাওয়া যায়। সেগুলো ব্যবহার করলে হোম ডিভাইসটিকে দেখায় অধিক সুন্দর, আধুনিক ও আকর্ষণীয়।

হোমের উপরে রয়েছে একটি স্পর্শ সংবেদনশীল প্যানেল, যার সাহায্যে ডিভাইসটির ভলিউম কন্ট্রোল, মিউজিক চালু ও বন্ধ করা এবং লিসেনিং মোড অ্যাক্টিভেট করার কাজ করা যায়। যখন কমান্ড দেয়ার জন্য ‘ওয়েক ওয়ার্ড’ বলা হয় তখন প্যানেলটির রঙবেরঙের লাইট জ্বলে ওঠে, যা ইকোর নীল লাইট থেকে বেশি স্বস্তিদায়ক।

তবে এর টাচ বেসড ভলিউম কন্ট্রোল সহজ নয়। টপ প্যানেলে দুটি ফার-ফিল্ড মাইক্রোফোন থাকায় যথেষ্ট দূর থেকে বা অন্য রুম থেকে কমান্ড ঠিক করে শুনতে পারে ও সেই অনুযায়ী কাজ করতে পারে নির্ভুলভাবে। কমান্ড শুনতে এর কোনো সমস্যা হয়না।

ইচ্ছামত বিভিন্ন রঙের সুন্দর ও আকর্ষণীয় বেজ ব্যবহার করা যায় এতে; Image Source: theverge.com

অ্যালেক্সার মতই গুগল হোমের নির্দিষ্ট ‘ওয়েক ওয়ার্ড’ রয়েছে অর্থাৎ যা বললে গুগল হোম অ্যাক্টিভেট হয়। হোমের ওয়েক ওয়ার্ড হলো ‘ওকে গুগল’ অথবা ‘হেই গুগল’ যা ইতোমধ্যে অ্যান্ড্রয়েড ইউজারদের নিকট পরিচিত স্মার্টফোনের গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট ব্যবহারের কারণে। এই ওয়েক ওয়ার্ড তেমন জনপ্রিয় না হওয়ায় গুগল নতুন নতুন ওয়ার্ড তৈরির প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।

আর হোম অ্যাক্টিভেট করার পর থেকে যা যা বলা হয় তার সবকিছু হোম শুনে গুগলের ক্লাউডে সংরক্ষণ করে রাখে এবং ব্যবহারকারী সম্পর্কে একটি সম্যক ধারণা নেয় তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে। গুগলের অন্য সব সার্ভিস যে তথ্য ইতোমধ্যে নিয়েছে সেগুলোর সাথে এসব সংরক্ষিত হয়। এই প্রক্রিয়ার ভালো ও কার্যকরী দিক থাকলেও ব্যক্তিগত তথ্য পাচার হওয়ার শঙ্কাও রয়েছে। তবে হোম অফ থাকা অবস্থায় কিছু রেকর্ড করে না এবং একটি মিউট বাটন রয়েছে এতে যার সাহায্যে লিসেনিং ফিচার বন্ধ করা যায়।

গুগল হোমে একটি স্পিকার ও দুটি প্যাসিভ রেডিয়েটর রয়েছে যেগুলোর সাহায্যে এটি আউটপুট দেয়। এর সাউন্ড কোয়ালিটি অত্যন্ত উন্নতমানের, আশেপাশের কয়েক ঘর পর্যন্ত শোনা যায় এর আওয়াজ। আর হোমের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ব্যবহার হচ্ছে এর মিউজিক সিস্টেমের ব্যবহার। ইউটিউব, গুগল প্লে মিউজিক ছাড়াও স্পটিফাই, প্যান্ডোরা ইত্যাদি মিউজিক স্ট্রিমিং সাইটের সাহায্যে হোম পছন্দমতো গান বাজাতে পারে ভয়েস কমান্ড দিলেই।

এটি প্লেলিস্ট তৈরি সহ পূর্বের শোনা পছন্দের গানের কথা মনে রাখতে পারে। আর হোম ডিভাইসের সাথে যদি এক্সটার্নাল স্পিকার কানেক্ট করা থাকে তাহলে তো কথাই নেই, মিউজিক এক্সপেরিয়েন্স পাবে নতুন মাত্রা। ভয়েস কমান্ড অনুযায়ী ভলিউম পরিবর্তনের সাথে সাথে যেকোনো অ্যালার্ম বা আর্টিস্টের যেকোনো গান বাজাতে পারে এটি।

ঘরের অন্যান্য সামগ্রীর সাথে সহজেই মানিয়ে যায় গুগল হোম ডিভাইসটি; Image Source: theverge.com

অ্যালেক্সার মতই গুগল হোমের অন্যতম প্রধান লক্ষ হলো ঘরের সকল স্মার্ট হোম গ্যাজেটের কন্ট্রোল সেন্টারে পরিণত হওয়া। যারই ধারাবাহিকতায় ঘরের স্মার্ট লাইট কন্ট্রোল করা যায় হোমের সাহায্যে। বর্তমানে হোম নেস্ট, ফিলিপস হিউ ও স্যামসাং স্মার্টথিংস সাপোর্ট করে, বেশিরভাগ জনপ্রিয় স্মার্ট লাইট ও হোম গ্যাজেট যেগুলোর অন্তর্ভুক্ত।

কমান্ড করার সাথে সাথেই ঘরে থাকা হিউ বা স্মার্টথিংস লাইট অন/অফ করতে পারে গুগল হোম। কোনোরকম অ্যাপ বা অন্য ডিভাইসের সহায়তা প্রয়োজন হয় না এ ক্ষেত্রে। মুখের নির্দেশই যথেষ্ট ঘরের সব রুমের বাতি জ্বালাতে বা নিভাতে, যার ফলে জীবন হবে আরো আরামদায়ক।

টেলিভিশনে ইউটিউব চালাতে গুগল হোম পারদর্শী হলেও এখনো টেলিভিশন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা নেই হোমের। গুগল হোমের এরকম আরো অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এটি সহজে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেয়া, কথোপকথন চালানো, অ্যালার্ম সেট করে জাগিয়ে দেয়া ইত্যাদি কাজ ঠিকমতো করলেও এটি ম্যাসেজ পাঠাতে বা ফোন রিসিভ করতে পারে না।

ক্যালেন্ডারে অ্যাপয়েন্টমেন্ট সেট বা কোনো রিমাইন্ডার সেট করতে পারে না এবং খাঁটি অ্যাসিস্ট্যান্টের মতো কোন দিন কোন কাজটি হবে সেটিও মনে রাখতে পারেনা।

এর টাচ প্যানেলে লাইট জ্বলার মাধ্যমে বোঝা যায় এটি অ্যাক্টিভেট হয়েছে; Image Source: cnet.com

তবে এর সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো একই সময়ে একটির বেশি অ্যাকাউন্ট সাপোর্ট করে না। কাজেই একটি পরিবারের সকল সদস্য ভিন্ন ভিন্ন অ্যাকাউন্ট সেট করতে পারে না হোম। একজনের অ্যাকাউন্টই সকলকে ব্যবহার করতে হয়।

মনে করুন একজনের অ্যাকাউন্টে তার পছন্দ অনুযায়ী হোমে সকল কিছু সেট করা থাকলেও বাকিদের তা পছন্দ না হতে পারে। ফলে একটিই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে হয় অথবা অ্যাকাউন্ট পরিবর্তন করে ফেলতে হয়।

আবার একই মানুষের দুটি একাউন্ট থাকতে পারে ব্যক্তিগত ও অফিশিয়াল কাজের জন্য। হোম এই দুটি অ্যাকাউন্টের মধ্যে সংযোগ করতে পারে না বিধায় একটি অ্যাকাউন্ট চলার সময় অপরটির কোনো তথ্যই দিতে পারে না। যার ফলে এক অ্যাকাউন্টে অ্যাপয়েন্টমেন্টের কথা থাকলেও অপর অ্যাকাউন্ট চালু থাকায় মনে করিয়ে দিতে পারেনা। গুগল এসকল সমস্যা শীঘ্রই দূর করে নতুন আপডেট আনার ঘোষণা দিয়েছে।

বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও গুগল হোম একটি স্মার্ট হোম অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে যথেষ্ট কার্যকর এবং অনেক প্রয়োজনীয় ও আকর্ষণীয় সার্ভিস দিতে পারে। গুগল শীঘ্রই সীমাবদ্ধতাগুলো দূর করে নতুন আপডেট আনতে পারলে গুগল হোম বাজারের সেরা ভয়েস কন্ট্রোল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

ফিচার ছবি- wikipedia.org

বাজারের অন্যতম সেরা ৬ টি ইভাপোরেটিভ এয়ারকুলার

প্রচন্ড গরমে আমরা আমাদের বাড়িকে ঠান্ডা করতে নানা ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করি। এসকল উপায়ের মধ্যে কোনোটি ব্যবহারের ফলে হয় ঘর ঠিকমতো ঠান্ডা হয়না, নয়তো খরচ পড়ে অনেক বেশি। তবে ঘরকে আরামদায়ক তাপমাত্রায় ঠান্ডা করার জন্য কম দামী ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যে উপায়টি রয়েছে সেটি হলো ইভাপোরেটিভ এয়ার কুলার।

এসকল এয়ারকুলারের দাম যেমন কম, ব্যবহারেও তেমন বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী। আবার ঘর প্রয়োজন অনুযায়ী ঠান্ডা করতেও এরা সিদ্ধহস্ত। পৃথিবীজুড়ে বেশ কিছু বিখ্যাত ব্র্যান্ডের বিভিন্ন মডেলের এয়ারকুলার পাওয়া যায়। তার মধ্য থেকে ৬ টি এয়ারকুলারের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এই লেখায়।

১. ডিলংহাই ইভি২৫০ডাব্লিউএইচ (DeLonghi EV250WH):

মাত্র ১৬.২২ পাউন্ড ওজন বিশিষ্ট এই এয়ার কুলারটি অন্যতম হালকা এয়ার কুলারগুলোর মধ্যে একটি, যার ফলে এটিকে ইচ্ছামত একস্থান থেকে অন্য স্থানে নেয়া যায় এবং পোর্টেবল এয়ার কুলার মডেলগুলোর মধ্যে এই মডেলটি অন্যতম সেরা। আবার কুলারের নিচে চাকা থাকায় এটাকে ঠেলেও একস্থান থেকে অন্য স্থানে নেয়া যায়।

আর এই মডেলের সবচেয়ে ভালো দিকটি হলো এর ওয়াটার ট্যাংক মাত্র ৪.৫ লিটারের হওয়ার পরও এটি ঘন্টায় ৫৩৪.৯ বর্গফুট এর একটি বড় এলাকা কে ঠান্ডা করতে পারে। এটি চলার সময় শব্দ করে না। আর এটি দেখতে আধুনিক ও নান্দনিক হওয়াতে ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও এটি সাহায্য করে।

ডিলংহাই ইভি২৫০ডাব্লিউএইচ মডেলের এয়ারকুলার; Image Source: homegearx.com

২. হেশায়ার এমসি৩৭এম (Hessaire MC37M):

ইভাপোরেটিভ এয়ারকুলারগুলোর মধ্যে এই মডেলটি অন্যতম সেরা। এটি বিখ্যাত এর শক্তিশালি বায়ুপ্রবাহের জন্য। সবচেয়ে বেশি বায়ুপ্রবাহ ক্ষমতা সম্পন্ন এয়ার কুলারের মধ্যে এটি একটি, যার বায়ুপ্রবাহ ক্ষমতা প্রতি মিনিটে ৩১০০ ঘনফুট। এর রয়েছে ৪০ লিটার ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ওয়াটার ট্যাংক। ফলে ঘন ঘন পানি রিফিল করতে হয় না এবং এটি ৭৫০ বর্গফুট পরিমাণ এলাকাকে খুব দ্রুত ঠান্ডা করতে পারে।

কিছু আপগ্রেডের মাধ্যমে এই কুলারটির বায়ুপ্রবাহের মাত্রা বৃদ্ধি করে ৫৩০০ ঘনফুট পর্যন্ত করা যায়, যার ফলে ঘর আরো দ্রুত ঠান্ডা হয়। এর ওজন ৩৯ পাউন্ড হওয়ায় এটি বহন করা খুব কঠিন, তবে নিচে ৪ টি চাকা থাকায় গড়িয়ে বহন করা সম্ভব।

৩. হানিওয়েল সিও৩০এক্সই (Honeywell CO30XE):

হানিওয়েল সিও৩০এক্সই মডেলের এয়ারকুলারটি বায়ুপ্রবাহ বা কার্যক্ষমতার দিক থেকে তেমন শক্তিশালি নয়। তবে এর মূল আকর্ষণের দিকটি হলো সহজ ব্যবহারপ্রণালি, নির্ভরযোগ্যতা এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ফিচার। এছাড়াও আরেকটি ভালো দিক হলো এর রয়েছে ৩০ লিটার ধারণক্ষমতার পানির ট্যাংক, যার ফলে ঘনঘন পানি রিফিল করতে হয়না এতে।

এর বায়ুপ্রবাহ ক্ষমতা প্রতি মিনিটে ৫২৫ ঘনফুট এবং এর ঠান্ডা করার ক্ষমতা ঘন্টায় ৩২০ বর্গফুট। এই মডেলটি ভিন্ন ভিন্ন সাইজে পাওয়া যায় ছোট-বড় রুম আলাদাভাবে ঠান্ডা করার জন্য। এটি রিমোট কন্ট্রোলের সাহায্যে দূর থেকেই কন্ট্রোল করা যায়। ছোট অথবা মিডিয়াম সাইজ রুম ঠান্ডা করার জন্য এই কুলারটি বাজারের অন্যতম সেরা।

হানিওয়েল সিও৩০এক্সই মডেলের কুলার মিডিয়াম রুমের জন্য খুবই কার্যকর; Image Source: heatwhiz.com

৪. হোয়্যার্লপুল ডাব্লিউপিইসি১২ (Whirlpool WPEC12):

এই এয়ারকুলারটি অন্যান্য মডেলের এয়ারকুলারের চেয়ে একটু কম বৈচিত্র্যপূর্ণ হলেও এর নান্দনিকতা একে গৃহস্থালিতে ব্যবহারের জন্য অন্যান্য এয়ারকুলারের চেয়ে বেশি উপযোগী করে তুলেছে। বাড়ির অন্যান্য আসবাবের সাথে এটি খুব সহজেই মানিয়ে যায় এবং কালো ও সাদা  এই দুটি ভিন্ন রঙে পাওয়া যায় এই কুলারটি। এর ঠান্ডা করার ক্ষমতা ঘন্টায় ৪২৮ বর্গফুট, যার মানে এটি সহজেই ছোট বা মিডিয়াম সাইজের একটি রুম কে ঠান্ডা করতে পারে।

তবে এর বায়ুপ্রবাহ অন্যান্য কুলারের চেয়ে যথেষ্ট কম, যার মান মিনিটে ২১৪ ঘনফুট। তবে এই কম বায়ুপ্রবাহের একটি প্রধান সুবিধা হলো বলতে গেলে কোনো প্রকার শব্দই সৃষ্টি হয়না বায়ুপ্রবাহের সময়। ফলে রাতে ব্যবহারের জন্য এটি অত্যন্ত আরামদায়ক। আর এই মডেলের কুলারের দাম কম হওয়ায় যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এটি।

হোয়্যার্লপুল ডাব্লিউপিইসি১২ মডেলের কুলার বাসস্থানের সাথে সহজে মানিয়ে যায়; Image Source: whirlpoolhomecomfort.com

৫. লুমা কমফোর্ট ইসি২২০ডাব্লিউ (Luma Comfort EC220W):

ইনডোর ও আউটডোর উভয় ধরনের ব্যবহারের জন্য ডিজাইন করা উচ্চ তাপমাত্রা পরিবর্তনকারী ক্ষমতা ও কর্মক্ষমতা সম্পন্ন একটি ইভাপোরেটিভ এয়ারকুলার হলো লুমা কমফোর্ট ইসি২২০ডাব্লিউ। এর ঠান্ডা করার ক্ষমতা প্রতি ঘন্টায় ৬৫০ বর্গফুট ও বায়ুপ্রবাহের মাত্রা হলো মিনিটে ১৬৫০ ঘনফুট। ফলে একটি বড় আকারের ঘরকেও দ্রুতই শীতল করতে পারে এ যন্ত্রটি।

এর ওজন ৪১.৯ পাউন্ড হওয়ায় এটি সহজে পরিবহনযোগ্য নয়। তবে ৪ টি চাকা থাকায় কিছুটা সহজ হয়েছে। ৪০ লিটার পানি ধারণক্ষমতা থাকায় পানি রিফিল করার তেমন প্রয়োজন হয় না। রিয়ারে এয়ার ফিল্টারের ব্যবহার বায়ুপ্রবাহ বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিষ্কার ও তাজা বাতাস নির্গমন নিশ্চিত করে থাকে। এর বর্তমান বাজারদর প্রায় ২৭ হাজার টাকা।

লুমা কমফোর্ট ইসি২২০ডাব্লিউ একটি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন এয়ারকুলার; Image Source: overstock.com

৬. হানিওয়েল সিএস১০এক্সই (Honeywell CS10XE):

সাধারণ এয়ারকুলারের তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করে কাজ করার মাধ্যমে সাশ্রয়ী উপায়ে কাজ করা ইভাপোরেটিভ এয়ার কুলারগুলোর মধ্যে এই মডেলটি একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। ঘন্টায় ১৭৫ বর্গফুট জায়গা এটি ঠান্ডা করতে পারে, প্রতি মিনিটে ৩০০ ঘনফুট বায়ু নিঃসরণের মাধ্যমে। আর এটি এই কাজ করতে খরচ করে মাত্র ১০২ ওয়াট বিদ্যুৎ।

তবে এর বায়ুপ্রবাহের মাত্রা ৫২৫ ঘনফুট পর্যন্ত বৃদ্ধি করা যায়। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো কোনোরূপ শব্দ না করা। এর রিমোট কন্ট্রোল সুবিধা রয়েছে, যার সাহায্যে দূর থেকে এটি নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং অন/অফ করা যায়, ফ্যান স্পিড পরিবর্তন এবং শৈত্যের পরিমাণ বাড়ানো/কমানো, ইত্যাদি সমন্বয় করা যায়। এটির কার্যক্ষমতা অধিক না হলেও এর দাম যথেষ্ট কম এবং ব্যবহারও অনেক সহজ।  

কেউ যদি এয়ারকুলার কেনার কথা চিন্তা করে তাহলে এই তালিকার দিকে একবার নজর বুলিয়ে নির্দ্বিধায় উপরের যেকোনো একটি মডেলের এয়ারকুলার কিনে ফেলতে পারেন এবং এতে তিনি পাবেন এয়ারকুলার ব্যবহারের দারুণ অভিজ্ঞতা।

ফিচার ছবি- PNGio.com

১০টি ট্রাভেল গ্যাজেট যা আপনার ভ্রমণকে করবে আরো আরামদায়ক

ভ্রমণে যেতে পছন্দ করেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। আর ভ্রমণে যাওয়ার সময় আমাদের প্রয়োজন হয় নানা জিনিস যেগুলো ভ্রমণের সময় আমাদের বিভিন্নভাবে সাহায্য করতে পারে। তবে আমরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাড়াহুড়ো করে প্রয়োজনীয় অনেক জিনিস নিতে ভুলে যাই ও সনাতন সকল ডিভাইস ব্যবহার করেই আমাদের ভ্রমণ সম্পন্ন করি। এর ফলে ভ্রমণের সময় বিভিন্ন ক্ষেত্রে বেগ পোহাতে হয়।

বর্তমানে বাজারে বেশ কিছু স্মার্ট ট্রাভেল গ্যাজেট রয়েছে যেগুলো ভ্রমণকে করতে পারে সহজ ও আরামদায়ক। আপনার ভ্রমণকে সুন্দর ও আরামদায়ক করতে পারে এমন ১০টি স্মার্ট ডিভাইস বা ট্রাভেল গ্যাজেট নিয়ে সাজানো হয়েছে এই লেখাটি।

১. স্মার্ট ক্যারি-অন স্যুটকেস (Smart Carry-On Suitcase):

ভ্রমণে যাওয়ার সময় আর কিছু না হোক, যে জিনিসটি একেবারেই অপরিহার্য তা হলো একটি ট্রাভেল স্যুটকেস। আর সেরা ক্যারি অন স্যুটকেস বাছাই করতে লক্ষ রাখা হয় বেশ কয়েকটি বিষয়ের দিকে, যেমন- ব্যক্তিগত স্টাইল, পছন্দের ডিজাইন, প্রয়োজনীয় ফিচারসমূহ ইত্যাদি। আর সব ধরনের ফিচার ও ডিজাইন মিলিয়ে যে স্যুটকেসটি হতে পারে আপনার সবসময়ের ভ্রমণসঙ্গী সেটি হলো ‘সামসারা’ এর স্মার্ট অ্যালুমিনিয়াম ক্যারি-অন লাগেজ

এই ছোট মসৃণ ব্যাগটিতে রয়েছে নানা ধরনের টেক ফিচার যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ইউএসবি-সি সংযোগসহ অপসারণযোগ্য পাওয়ার ব্যাংক যার সাহায্যে ফোন চার্জ করা যায়। আরো রয়েছে ট্র্যাকার, যার সাহায্যে একে সহজেই খুঁজে পাওয়া যায় এবং আপনার অনুপস্থিতে খোলা হলে ফোনে সিগন্যাল পাঠানোর মাধ্যমে জানিয়ে দিবে এটি। এছাড়াও এতে রয়েছে বিল্টইন এলইডি লাইট।

২. অকলু অ্যাকশন ক্যামেরা (OCLU Action Camera):

ইনোভেটিভ সফটওয়্যার, অত্যাধুনিক প্রসেসর ও এক্সেসরিজের সমন্বয়ে তৈরি স্মুদ ও বায়ুনিরোধী ডিজাইন অকলু ক্যামেরা কে বানিয়েছে অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় ভ্রমণকারীদের নিকট অত্যন্ত পছন্দের।

এই অ্যাওয়ার্ড জয়ী ৪কে ক্ষমতার ক্যামেরাটি পানি নিরোধক এবং এর সাথে আরো রয়েছে জিপিএস ফাংশন, ইলেকট্রনিক ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন এবং স্ট্যান্ডার্ড ট্রাইপড স্ক্রু, যার ফলে এটি সার্বজনীন ব্যবহারযোগ্য। আর এর উচ্চমাত্রার ছবি ও ভিডিওধারণ ক্ষমতা সম্পর্কে নতুন করে না বললেও চলে। সহজেই ধারণ করা যায় ১০৮০পি থেকে ৪কে মানের ভিডিও।

অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী অকলু অ্যাকশন ক্যামেরা; Image Source: ifworlddesignguide.com

৩. পোর্টেবল ওয়াইফাই হটস্পট ও পাওয়ারব্যাংক (Portable Wi-Fi Hotspot and Powerbank):

বিশ্বভ্রমণের সময় বিদেশি সিম কার্ডের ঝামেলা ও রোমিং চার্জ নিয়ে আপনাকে কোনো চিন্তা করতে হবে না যদি সাথে থাকে একটি স্কাইরোম সলিস ওয়াইফাই হটস্পট ও পাওয়ারব্যাংক। এটি বাজারের অন্যতম সেরা মোবাইল হটস্পট ডিভাইস এবং এই প্রতিভাশালী সংযোগস্থাপনকারী গ্যাজেটটি পৃথিবীজুড়ে ১৩০ টির ও বেশি দেশে আনলিমিটেড ৪জি এলটিই সার্ভিস প্রদান করে।

একটি হটস্পট ডিভাইসে একত্রে ৫ টি ডিভাইস কানেক্ট করতে পারে এবং এর সাথে ৬০০০ এমএএইচ পাওয়ারব্যাংক যুক্ত থাকায় যেকোনো জায়গায় এর সাহায্যে ফোন চার্জ করে নেয়া যায়।

৪. বেস্ট ট্রাভেল ড্রোন (Best Travel Drone):

ডিজেআই এর আপগ্রেডেড ম্যাভিক প্রো বাজারের অন্যতম সেরা ট্রাভেল ড্রোন, যার রয়েছে ৪কে ক্ষমতাসম্পন্ন হ্যাজেলব্লাড ক্যামেরা, সহজ স্মার্টফোন কন্ট্রোল এবং একটানা ৩১ মিনিট উড্ডয়নের বিস্ময়কর ক্ষমতা। এই ছোট ভাঁজযোগ্য ডিভাইসটির রয়েছে নানা আকর্ষণীয় ফিচার যার মধ্যে রয়েছে ৪.৩ মাইল পর্যন্ত উড়ে যাওয়ার ক্ষমতা।

আশেপাশের সৌন্দর্য ৪কে বা ১০৮০পিতে ভিডিওধারণ করতে পারে। এছাড়াও আরো রয়েছে বিভিন্ন ফরম্যাটে ছবি তোলার ক্ষমতা। বিভিন্ন ফ্লাইট মোড, সেলফি ও ট্রাইপড সেটিংস ছাড়াও এর রয়েছে জিপিএস, ১০টি অপটিক্যাল সেন্সর যেগুলোর সাহায্যে এটি হয়ে উঠেছে প্রতি মুহূর্তের অ্যাডভেঞ্চার ধরে রাখার জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি গ্যাজেট।

ডিজেআই আপগ্রেডেড ম্যাভিক প্রো অত্যন্ত কার্যকর একটি ড্রোন; Image Source: time.com

৫. থ্রি-এক্সিস স্মার্টফোন গিম্বল (3-Axis Smartphone Gimbal):

ভ্রমণে যাওয়ার সময় যেসকল স্মার্টফোন এক্সেসরিজ নেয়া যায় সেগুলোর মধ্যে অন্যতম সেরা হলো একটি গিম্বল। আর ‘ফানস্ন্যাপ’ এর তিন-অক্ষ বিশিষ্ট হ্যান্ড স্ট্যাবিলাইজার গিম্বল এর মধ্যে অনন্য। নাড়াচড়া করা বস্তু শ্যুট করার সময় কম্পন রোধ করা ছাড়াও অটো ফেস ট্র্যাকিং, ইন্টেলিজেন্ট জুমিং হুইল, স্লো-মোশন, মোশন ল্যাপ্স ও হাইপার-ল্যাপ্স সহ তিন ধরনের টাইম ল্যাপ্স মোড ইত্যাদির ফিচার রয়েছে এর, যার সাহায্যে সহজেই ভ্রমণের সুন্দর ও আকর্ষণীয় ছবি ও ভিডিও তোলা যায়। তাছাড়া শক্তিশালি ব্যাটারির জন্য এটি ভ্লগার ও ইউটিউবারদের নিকট অত্যন্ত পছন্দের।

ছবি তুলতে সাহায্য করার ক্ষেত্রে থ্রি-এক্সিস গিম্বলের জুড়ি নেই; Image Source: travelaway.me

৬. গটেনা মেশ (goTenna Mesh):

যেসব জায়গায় কোনো নেটওয়ার্ক বা সিগন্যাল পৌঁছায় না সেখানে স্মার্টফোনের সাথে একটি পকেট সাইজের ব্লুটুথ কানেকশন যুক্ত গটেনা মেশ কানেক্ট করলে আশেপাশের ৪ মাইলের মধ্যে ম্যাসেজ ও লোকেশন পাঠানো যায়। ব্যক্তিগত বার্তার পাশাপাশি গ্রুপ ম্যাসেজ বা পাবলিক ম্যাসেজও দেয়া যায় এর সাহায্যে। হারিয়ে গেলে এই ডিভাইসটি অনেক কাজে দেয়।

৭. বেস্ট মাল্টিস্পোর্ট জিপিএস ওয়াচ (Best Multisport GPS Watch):

স্মার্ট নোটিফিকেশন, বিল্ট-ইন জিপিএস এবং ট্র্যাকিং ক্ষমতাসম্পন্ন হালকা ওজনের জার্মিন ফেনিক্স ৫ অন্যতম সেরা মাল্টিস্পোর্ট ঘড়ি। লেদার, ধাতু ও সিলিকন- এই ৩ টি মডেলের ব্যান্ডে পাওয়া যায় এই ঘড়িটি। যেকোনো দুর্গম অঞ্চলে ভ্রমণের সময় এই ডিভাইসটির জুড়ি নেই।

৮. ভিডিও রেকর্ডিং সানগ্লাস (Video Recording Sunglass):

স্ন্যাপচ্যাটের তৈরি এই দ্বিতীয় প্রজন্মের সানগ্লাস দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, কাজেও তেমন পারদর্শী। সূর্যের আলো থেকে রক্ষা তো করেই, এর রয়েছে বেশ কিছু চমৎকার ফিচার। এটি স্ন্যাপ তুলে স্ন্যাপচ্যাট আইডির মেমরিতে জমা রাখে এবং এর সাহায্যে হাই কোয়ালিটির ছবি তোলা যায় ও ১০ সেকেন্ডের ভিডিও ধারণ করা যায়।

দুটি মাইক্রোফোন থাকায় সাউন্ড কোয়ালিটি ভালো, আর সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকটি হলো কয়েক ফুট পানির নিচে এটা ব্যবহার করা যায়। বেশ কিছু আকর্ষণীয় রঙে পাওয়া যায় এই ডিভাইসটি।

স্ন্যাপচ্যাটের স্পেকট্যাকেলস ভি-টু অত্যন্ত আকর্ষণীয় একটি গ্যাজেট; Image Source: appadvice.com

৯. ফ্লাস্ক লাইট (Flask Light):

ভিএসএসএল এর এই মাল্টিটাস্কিং ফ্লাস্কটিতে রয়েছে শক্তিশালী এলইডি লাইট, কম্পাস, শট কাপস এবং বোতল ওপেনার। এতে ১০ আউন্স তরল ধারণ করার জায়গা রয়েছে, যাতে পছন্দের পানীয় রাখার সাথে সাথে প্রয়োজনীয় ফিচারগুলোর ব্যবহারের মাধ্যমে ভ্রমণের একটি প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গে পরিণত করা যায়।

ভিএসএসএল মাল্টিটাস্কিং ফ্লাস্ক ভ্রমণের একটি উপযুক্ত সঙ্গী; Image Source: thefunnybeaver.com

১০. আল্ট্রাপোর্টেবল ব্লুটুথ স্পিকার (Ultraportable Bluetooth Speaker):

ভ্রমণের সময় ঘরের মতো মিউজিক এক্সপেরিয়েন্স পেতে চাইলে একটি পোর্টেবল ব্লুটুথ স্পিকারের জুড়ি নেই। আর ১৪X৮X২.৮ সেমি আকারের ‘ব্যাং ও অলুফসেন’স বিওপ্লে’ বাজারের সবচেয়ে ছোট কিন্তু অত্যন্ত উন্নত সাউন্ড কোয়ালিটির পোর্টেবল স্পিকারের মধ্যে একটি। সুন্দর, স্মুথ ডিজাইনের সাথে ভয়েস কন্ট্রোল, ধুলাবালি প্রতিরোধ ক্ষমতা ও একটানা ১০ ঘন্টা চলার ক্ষমতা একে করেছে আরো আকর্ষণীয়।

এসকল ট্রাভেল গ্যাজেট ব্যবহারের মাধ্যমে আপনি আপনার ভ্রমণকে করতে পারেন আরো সহজ, সুন্দর ও আরামদায়ক।

ফিচার ছবি- knowtechie.com