অত্যাধুনিক এবং ব্যয়বহুল ৫টি ল্যাপটপ

বর্তমানে মানুষের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই পূর্বের যা বিলাসবহুল পণ্যসমূহ ছিল এখন সেসব নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসে পরিণত হচ্ছে। যেমন মোবাইল ফোন, স্মার্ট ঘড়ি এবং ল্যাপটপ। ল্যাপটপ এখন কেবল চাকুরীজীবীদের জন্যই নয়, এটি এখন ছাত্রছাত্রীদের জন্যও বেশ গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কেউ গেইম খেলতে পচ্ছন্দ করে যার জন্য দরকার উঁচু মানের ল্যাপটপ। আবার কারো দরকার একাডেমিক কাজে ব্যবহার করার জন্য, কেউ আবার ফটোশপ এবং ডিজাইনিং এর জন্য ব্যবহার করে। মোট কথা ল্যাপটপ ক্রয় করা এখন বিলাসিতা না বরং সময়ের দাবি।

তবে এখানে ব্যয়বহুল ৫ টি ল্যাপটপের তালিকা আপনাদের জন্য দেয়া হয়েছে। যারা ভালো গ্রাফিক্স, উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ল্যাপটপ ব্যবহার করতে ইচ্ছুক, যারা গেইম খেলতে ইচ্ছুক এবং গেইম এর জন্য অর্থ খরচ করতেও দ্বিধা বোধ করেন না, এই লেখাটি তাদের জন্যই। ক্রেতা তার পছন্দ ও বাজেট মোতাবেক ল্যাপটপ সম্পর্কে এখান থেকে ধারণা নিয়ে ক্রয় করতে পারবেন। 

১. ডেল এক্সপিএস ১৩

সিপিইউ: অষ্টম প্রজন্মের ইন্টেল কোর আই ৫ – কোর আই ৭। গ্রাফিক্স: ইনটেল ইউএইচডি গ্রাফিক্স ৬২০, র‌্যাম: ৪ জিবি- ১৬ জিবি। স্ক্রিন: ১৩.৩-ইঞ্চি এফএইচডি (১৯২০ x ১০৮০) – ৪ কে (৩৮৪০ x২১৬০)।  স্টোরেজ: ২৫৬ জিবি টিবি এসএসডি।

এর ওয়েবক্যাম মাঝ বরাবর, ব্যাটারি জীবন বেশ ভালো। তাছাড়া ফোর কে ডিসপ্লে আরেকটি আকর্ষণীয় ফিচার। ২০১৯ সালের নতুন সংস্করণটি আকারে বড় তবে ব্যয়বহুল নয়। “ডেল এক্সপিএস ১৩” বছরের পর বছর  ধরে আমাদের সেরা ল্যাপটপের তালিকার একটি নিয়মিত সদস্য। ২০১৯ সালের এই মডেলটিও এর ব্যতিক্রম নয়।

ডেল ফ্ল্যাগশিপের ১৩-ইঞ্চির এই মডেলটি বেশ চমৎকারভাবে নকশা করা হয়েছে। “ডেল এক্সপিএস ১৩” এ ৮ম প্রজন্মের ইন্টেল কোর আই-৫ থেকে কোর আই-৭ প্রসেসর এবং একটি বেজেল-কম ‘ইনফিনিটি এজ’ ডিসপ্লে রয়েছে। এই “ডেল এক্সপিএস ১৩” সর্বাধিক জনপ্রিয় উইন্ডোজ ল্যাপটপ হিসেবে বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে পেরেছে। এর মূল্য ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা।

২. হুয়াওয়ে ম্যাটবুক ১৩

Image Source: pocket-lint.com

                         
সিপিইউ: অষ্টম প্রজন্মের ইন্টেল কোর আই-৫, আই-৭। গ্রাফিক্স: ইনটেল ইউএইচডি গ্রাফিকস ৬২০, এনভিডিয়া জিফর্স এমএক্স ১৫০, ২ জিবি জিডিডিআর-৫। র‌্যাম: ৪ জিবি, স্ক্রিন: ১৩-ইঞ্চি ১৪৪০p (২১৬০ x ১৪৪০)। স্টোরেজ: ২৫৬ জিবি – ৫১২ জিবি এসএসডি।

হুওয়ায়ের অন্যতম সেরা ল্যাপটপ বললে ভুল হবে। এর গ্রাফিক্স ক্ষমতা, মেমোরি, ভালো কার্যক্ষমতা সম্পন্ন। বাহিরের দিক থেকেওঁ দেখলে ল্যাপটপটি খুব সুন্দর। ল্যাপটপটির বেধ পাতলা। এর বাজার মূল্য ৯৭ হাজার ৫ শত টাকা।

৩. এইচপি স্পেকটার এক্স ৩৬০ (২০১৯)

সেরা একের ভেতর দুই নিয়ে  উপস্থিত হয়েছে এইচপি স্পেক্টার এক্স ৩৬০ ল্যাপটপটি। এর সিপিইউ: ইন্টেল কোর আই-৫ ও কোর আই-৭। গ্রাফিক্স: ইনটেল ইউএইচডি গ্রাফিক্স ৬২০, র‌্যাম: ৪ জিবি ও ১৬ জিবি। স্ক্রিন: ১৩.৩-ইঞ্চি এবং পূর্ণ এইচডি (১৯২০ x ১০৮০) – ইউএইচডি (৩৮৪০ x ২১৬০) টাচস্ক্রিন। স্টোরেজ: ২৫৬ জিবি থেকে ২ টিবি পিসিআই এসএসডি।

সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে নির্মিত, শক্তিশালী এবং ব্যয়বহুল এইচপি আল্ট্রাবুক এবং এইচপি স্পেক্টর লাইনের একের ভেতর দুই ল্যাপটপগুলো সর্বদা আকর্ষণীয় ডিভাইসের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এটি এই মুহূর্তে বাজারের অন্যতম সুন্দর ল্যাপটপ, এর মণি কাটা নকশা ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে যথেষ্ট।  ইন্টেল ভিস্কি লেক প্রসেসর এবং দীর্ঘ ব্যাটারি লাইফ ল্যাপটপটিকে দিচ্ছে দারুন কার্যক্ষমতা। আপনি এই ল্যাপটপটিকে বাজারে অন্যসব সেরা ল্যাপ্টপগুলোর তালিকায় রাখতে পারেন। এর বর্তমান মূল্য ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা।

৪. ম্যাকবুক প্রো ২০১৮, টাচ বার ১৩ ইঞ্চি

Image Source: pcmag.com

সিপিইউ: কোয়াড-কোর ইন্টেল কোর আই-৫ ও কোর আই-৭, গ্রাফিক্স: ইন্টেল আইরিস প্লাস গ্রাফিকস ৬৫৫। র‌্যাম: ৪ জিবি থেকে শুরু করে ১৬ জিবি পর্যন্ত, স্ক্রিন: ১৩.৩-ইঞ্চি, (২৫৬০ x ১৬০০) আইপিএস। স্টোরেজ: ১২৮ জিবি থেকে ২ টিবি পিসিআই ৩.০ এসএসডি।

যারা ম্যাকবুক ব্যবহার করে অভ্যস্থ এবং অ্যাপল ভক্ত তাদের জন্যে এই পণ্যটি সেরা। অ্যাপলের এযাবতকালের সবচেয়ে আলোচিত ল্যাপটপ এটি। এর মূল্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার মত হবে।

৫. আসুস আরওজি জেফেরিস এস জিএক্স ৭০১

2019 এর সেরা গেমিং ল্যাপটপ এটি। সিপিইউ: ইন্টেল কোর আই ৭-৮৭৫০ এইচ। গ্রাফিক্স: এনভিডিয়া জিফোর্স আরটিএক্স ২০১৮ (৪ জিবি জিডিডিআর ৬ ভিআরএম, সর্বাধিক-কিউ), র‌্যাম: ২৪ জিবি। স্ক্রিন: ১৭.৩-ইঞ্চি এফএইচডি (১৯২০ x ১০৮০) ১৪৪ হার্জ প্যানেল ও স্টোরেজ: ১ টিবি এম ২ এসএসডি।

Image Source: pcmag.com

চমৎকার কাজ, উজ্জ্বল রঙ, অসাধারণ নকশা এবং সেই সাথে অত্যন্ত ব্যয়বহুল এই গেমিং ল্যাপটপ যা ব্যবহার করলে গেমিং এর ক্ষেত্রে আপনার অভিজ্ঞতা বদলে যাবে। উয়িচার ৩, গড অফ ওয়ারের মত গেইম অনায়াসে খেলতে পারবেন। কোথাও কোন ভাবে আটকাবে না। এর শক্তিশালী উপাদান গুলো এই ল্যাপটপটিকে বাজারে অন্যসব ল্যাপটপের তুলনায় এগিয়ে রাখে। শুধু গেইম খেলার জন্যেই না এই ল্যাপটপে যাবতীয় জটিল ও খুব বড় যায়গা দখল করে এমন সব সফটওয়্যার ব্যবহার করা যাবে। এটি এখনো বাংলাদেশে আসে নি তবে এর বাজার মূল্য ৩লাখ ৩০ হাজার টাকা বা এরও উপরে হতে পারে।

সল্প বাজেটে দারুন স্মার্ট ঘড়ি শাওমি আমেজফিট ভারজ

যারা স্মার্ট ঘড়ির ভক্ত তবে বেশি মূল্য হওয়ার জন্য ব্যবহার করতে পারছেন না তারা তুলনামূলকভাবে কম খরচে শাওমির আমেজ ফিট ভারজ ব্যবহার করতে পারেন। বাজারে অ্যাপলের স্মার্ট ঘড়িগুলো এখনো পর্যন্ত অধিক জনপ্রিয়, তবে তা ক্রয় করতে হলে আপনার গুনতে হবে ৩০ হাজারেরও বেশি টাকা। এস্থলে শাওমির এই ঘড়িটি  পেয়ে যাবেন মাত্র ১২ হাজার টাকার মধ্যেই।

শাওমির এই নতুন সংস্করণটি এর আগের মডেলসমূহ হতে সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং এর মাঝে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। যেমন স্ট্রেপ থেকে শুরু করে ডিসপ্লে এবং ডিসপ্লের রঙ সবকিছুতে আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে।

আমেজ ফিট ভারজ; Image Source: amazfit.com

                                  

এর ভেতর যা পাবেন

প্রথমত, ঘড়ির বক্সটি বেশ আকর্ষণীয়। এটি খুললেই পেয়ে যাবেন আপনার কাঙ্খিত আমেজ ফিট ভারজ স্মার্ট ঘড়িটি। কালোর মধ্যে নিচের অংশটুকু হালকা সাদা এবং এর ডায়ালের চারপাশে রয়েছে চারটি কমলা রঙের দাগ। পুরো ঘড়িটিতে একটিই বাটন বিদ্যমান সেটিও কমলা রঙের। বক্সটি খুললে দেখতে পাবেন বাক্সের ভেতর দুইটি জায়গা। একটিতে থাকবে চার্জার ও অপরটিতে থাকবে নির্দেশিকা বই যা চাইনিজ ভাষায় লেখা। চার্জারটি গোলাকার, এর মধ্যে খাজের মতো যায়গা আছে। এই খাজে ঘড়িটি বসিয়ে চার্জ করা হয়।

দেখতে যেমন  

কালোর মধ্যে হালকা সাদা ও একটু কমলার মিশ্রণে তৈরি ঘড়িটি বেশ আকর্ষণীয়। এর স্ট্রেপ তথা বেল্টটি সিলিকনের উপাদানে তৈরি যা ঘড়ির সাথে একাকার হয়ে মিশে গিয়েছে। স্ট্রেপটি কোনোভাবেই মনে হবে না যে এটি ঘড়ির বাইরের একটি অংশ। ঘড়িটিতে একটি কমলা রঙের বাটন রয়েছে। ঘড়ির উলটো পাশে রয়েছে চার্জের জন্য চারটি দাগ, তাছাড়া রয়েছে হার্টবিট সেন্সর। এছাড়াও রয়েছে মাইক্রোফোনের ব্যবস্থা। ঘড়িটির দেহ প্লাস্টিকের তৈরি।

বৈশিষ্ঠ্য

গোলাকার আকৃতির ঘড়িটি প্লাস্টিকের তৈরি এবং এটি চারটি রঙের মধ্যে পাওয়া যায়। যা হল, কার্বন গ্রে, কালো, নীল এবং সাদা। ঘড়িটির কেসের পরিমাপ হলো ৪.৩০/৪.৩০/১.২৬ সেন্টিমিটার। ওজন ৪৬ গ্রাম, আইওপি ৬৮, জল-রোধ ক্ষমতা হল ১ মিটারের বা ৩.৩ ফুট গভীরতার জন্য যা প্রায় ৩০ মিনিট পর্যন্ত এই জল-নিরোধ ক্ষমতা দিবে।

আমেজ ফিট ভারজ আপডেট নেয়ার পর; Image Source: zdnet.com

 ডিসপ্লে

এমোলেড ডিসপ্লে, স্ক্রিনের পরিমাপ ১.৩ ইঞ্চি এবং স্ক্রিন রেজুলেশন ৩৬০/৩৬০ পিক্সেল। এর গ্লাস বেশ উন্নত মানের, চাইলে কেউ আলাদা ভাবে গ্লাসটি নিরাপদে রাখার জন্য গ্লাস প্রটেক্টর লাগিয়ে নিতে পারেন। এটিতে গরিলা গ্লাস দেয়া আছে। এই আমেজ ফিটে একসাথে অনেকগুলো ফাংশন চালানো যায়। স্ক্রিনের উপরে আঙ্গুল দিয়ে স্পর্শ করে একপাশ হতে অপর পাশে আঙ্গুল দিয়ে সরালেই যাবতীয় অপশনগুলো ছোখের সামনে ওঠে আসবে।

এর সিপিইউ হল ১.২ গিগাহার্জ, র‍্যাম ৫১২, অভ্যন্তরীণ মেমোরি ৪ জিবি যার মধ্যে ১.৯ জিবি আলাদাভাবে ব্যবহার করার জন্য খালি থাকবে। তবে আলাদা মেমোরি কার্ড ব্যবহার করার কোন ব্যবস্থা নেই।

ব্যবহারকারীর কাজের পরিমাপ

ব্যবহারকারী কতটুকু দূরত্ব অতিক্রম করেছে এই হিসাব ঘড়িতে পাওয়া যাবে। সাধারনত যেকোনো স্মার্ট ঘড়িতেই এসব সুযোগ সুবিধা দেওয়া থাকে। স্মার্ট ব্যান্ড থেকে শুরু করে যেকোনো ঘড়িতে এই সুবিধা গুলো থাকে। এছাড়াও আরো অনেক কিছু পাওয়া যাবে এই ঘড়িগুলোতে যেমন- হার্টরেট জানা যাবে, ব্যবহারকারী দৈনিক কত পদক্ষেপ নিয়েছে এগুলো জানা যাবে, শারীরিক ব্যায়ামে কতটুকু শক্তি বা ক্যালোরি ক্ষয় হয়েছে তা জানা যাবে।

আরো কিছু সুবিধা

সাদা বর্ণের আমেজ ফিট ভারজ; Image Source: geekbuying.com

ব্লুটুথ ৪.০, সাথে জিপিএস ব্যবস্থাও রয়েছে এই ঘড়িতে। ওয়াই-ফাই ও বেতারের ব্যবস্থাও রয়েছে। ঘড়িটির ওয়ালপেপার পরিবর্তন যোগ্য। চাইলেই কেউ নিজের পছন্দ অনুযায়ী পরিবর্তন করে নিতে পারবে। ঘড়িটিতে ভয়েস নির্দেশনা কাজ করে। রয়েছে অ্যাপল সিরির মতো ব্যক্তিগত সহায়ক। শাওমি এএল(XIO AL), স্মার্ট ফোন এন্ড্রয়েইড ৪.৪+ ও আইওএস ৯.০+ এর সাথে এটিকে যুক্ত করা যাবে। যেই এপ্লিকেশনের সহায়তায় ব্যবহারকারীর যাবতীয় সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারবে তা হল মি ফিট এপ্লিকেশন। এটি গুগোল প্লে স্টোরে পাওয়া যাবে। প্লে স্টোর হতে ডাউনলোড করে ইন্সটল করলেই ঘড়িটি আপনার ব্যবহার করার জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে।

ব্যবহারকারীর যেকোনো কাজের জন্যে ঘড়িটি বার্তা দিবে। সেটি ফোনে এসএমএস এর জন্য, মেইল এর জন্য, ফোন আসলে। তাছাড়া ক্যালেন্ডার রিমাইন্ডার ও আবহাওয়া বার্তাও দিবে।

এটিতে তড়িৎ মিটার, হার্টরেট পরিমাপক, বাতি ও কম্পন ক্ষমতা রয়েছে। স্পিকারের মাধ্যমে কোনো বার্তা আসলে শব্দ শুনতে পাওয়া যাবে। তাছাড়া মাইক্রোফোনে কথা বলা যাবে। এটিতে বেশ চমৎকার ব্লুটুথ ভয়েস কল সহায়তা রয়েছে, বাসার অয়াই আই বাতি, দেয়ালের সকেট, শীতাতপ যন্ত্র নিয়ন্ত্রণ, স্মার্ট রবটিক রাইস কুকার এছাএসব কিছু নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

ব্যাটারি

৩৯০ এমএএইচ এর ব্যাটারি বিদ্যমান, এক চার্জে ব্যাটারি যাবে পাঁচ দিনের মত। চার্জ করতে হলে কোন তার ব্যবস্থার প্রয়োজন নেই। এটি সম্পূর্ণ তারবিহীন ব্যবস্থায় চার্জ হয়।

কীভাবে ব্যবহার করবেন

প্রথমে আমেজ ফিট ঘড়িটির পাশে যে কমলা রঙের বাটন রয়েছে সেটি চেপে ধরে রাখতে হবে। তারপর ঘড়িটি চালু হবে। তবে এটি চালু হতে প্রথমে কিছু সময় নিবে। অন্যান্য স্মার্ট ঘড়ি চালাবার জন্য এখানেও একটি মি ফিট অ্যাপ ডাউনলোড করে ইন্সটল করে নিতে হবে তারপর ঐ অ্যাপের সাথে ঘড়িটির সংযোগ করাতে হবে। সংযোগ করানোর পর একটি আপডেট আসবে। প্রথমে ঘড়িটির ভাষা চাইনিজ থাকে যেমন টা শাওমির অন্যনান্য স্মার্ট ঘড়িতেও বিদ্যমান থাকে। অ্যাপের সাথে সংযোগ করার পর এবং আপডেট নেয়ার পর ভাষা চাইনিজ থেকে ইংরেজিতে রুপান্তরিত হয়ে যাবে। তারপর ব্যবহারকারী খুব সহজেই এর যাবতীয় সুবিধাবলি ব্যবহার করতে সক্ষম হবে।

উন্নত সাউন্ড আর শব্দ-নিরোধী প্রযুক্তি নিয়ে বাজারে এলো স্যামসাং গ্যালাক্সি ইয়ারবাড

পছন্দের তালিকায় সেরা পাঁচটি ইয়ারবাড বলতে হলে একটি হবে স্যামসাং গ্যালাক্সির বাড। কারণ, নতুন, আধুনিক এবং মোটামুটি সবধরনের  পরিস্থিতির সাথে খাপ খেয়ে নিতে পারে এমন একটি ইয়ারবাড এটি। ইয়ারবাডটি খুবই হালকা ও ছোট। এটি সাদা ও কালো রঙের মধ্যে পাওয়া যায়। তবে সিলভা রঙেরও একটি বাড বাজারে আসবে বলে শোনা যাচ্ছে।

অন্যান্য যেকোনো আগের ইয়ারবাডের সাথে তুলনা করতে হলে নিঃসন্দেহে এটিকে বলা যায় উন্নতমানের সংস্করণ। ইয়ারবাডটির আকার শ্রোতার কানের আকারের সাথে মিলে যাবে, অতিরিক্ত বড় মনে হবে না। তবে সব মানুষের কানের আকার প্রাকৃতিকভাবেই সমান নয় তাই অনেকের জন্যই এটি বড় বা ছোট হতে পারে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত এরকম সমালোচনা কমই শোনা গিয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন আকারের কানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একাধিক ইয়ারবাডও রয়েছে। এসব ইয়ারবাডের সম্মুখের রাবারের অংশ পরিবর্তন করে নিজের সুবিধামত ইয়ারবাড ব্যবহার করা যাবে।

স্যামসাং গ্যালাক্সি বাড; Image Source: zdnet.com

ব্যবহার

বাক্সটি খুললেই একটি কেস পাওয়া যাবে। এই কেসের ভেতরেই থাকে ইয়ারবাড। ইয়ারবাড দুটি নিয়ে প্রথমেই আপনার ফোনের সাথে যুক্ত করে নিতে হবে। যুক্ত হতে এটি খুবই কম সময় নেয়। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই একটি শব্দ করবে এবং ডিভাইসের সাথে যুক্ত হয়ে যাবে। অন্য ডিভাইসের যুক্ত করতে চাইলে ইয়ারবাড থেকে সরাসরি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে করেত পারেন আবার ফোন থেকেও বিচ্ছিন্ন করে অপর ডিভাইসের সাথে যুক্ত করতে পারেন।

ইয়ারবাডটি ফোনের সাথে যুক্ত করার পর একটি আপডেট হবে। এরপর ডিভাইসে থাকা সকল নাম্বার, অডিও ও ভিডিও মোড এবং আপনার অবস্থান জানতে চাইবে। এর প্রত্যেকটি প্রশ্নের উত্তর হ্যা দিলেই আপনি ইয়ারবাড দুটি ব্যবহার করতে পারবেন। কোন কোন অ্যাপ থেকে বার্তা আসলে ইয়ারবাড আপনাকে অবহিত করবে সেটিও আপনি আগে থেকেই ঠিক করে নিতে পারবেন।

ব্লুটুথ

এই ইয়ারবাডে ব্লুটুথ ৫.০ ব্যবহার করা হয়েছে। বর্তমান সময়ের সর্বোচ্চ ৫.০ পর্যন্তই ব্লুটুথ ব্যবস্থা রয়েছে। স্যামসাং গ্যালাক্সিও এটি দিয়ে থাকে। এ ইয়ারবাডে আরো দুটি উন্নত সুবিধা রয়েছে। একটি এর চার্জিং ব্যবস্থা ও আরেকটি হলো ব্যাটারির ক্ষমতা।

ব্যাটারি ও চার্জ

স্যামসাং গ্যালাক্সি ইয়ারবাডের চার্জিং কেস বেশ হালকা ও খুব সহজে বহনযোগ্য এবং ইয়ারবাডটি চার্জ করতে কোনো প্রকারের তারের প্রয়োজন হবে না। সম্পূর্ণ ওয়্যারলেস অর্থাৎ, তারবিহীন চার্জ হয় এতে। এর কেসটির উইএসবি পোর্টটি টাইপ সি ধরনের। এটি সবেচেয়ে আধুনিক এবং সমসাময়িক সময়ে বহুল ব্যবহৃত। এখন বেশিরভাগ ফোন বা পাওয়ারব্যাঙ্কের চারজার পোর্ট টাইপ সি ধরনের। এই টাইপ সি ধরনের পোর্টে দ্রুততার সাথে চার্জ করা যায়। সংগত কারণে এই ইয়ারবাডেও টাইপ সি উইএসবি দেয়া হয়েছে।

আবার এর আরেকটি সুবিধা হলো, দুই কানের দুই ইয়ারবাডে সমপরিমাণ চার্জ থাকতে পারে আবার না-ও থাকতে পারে। কেসে প্রবেশ করিয়ে বাড দুটিকে ফোনের সাথেও চার্জ করিয়ে নেয়া সম্ভব। ফোনের পাওয়ার শেয়ারিং অপশনে গিয়ে পাওয়ার শেয়ারিং চালু করে বাড দুটি কেসে রেখে কেসটিকে ফোনের উল্টো পাশের উপরে রেখে দিলেই একটি শব্দ হবে এবং চার্জ হওয়া শুরু হবে। চাইলে আপনি এভাবেও ইয়ারবাড দুটি চার্জ করতে পারেন।

ফোনের সাথে ইয়ারবাডের চার্জ শেয়ার; Image Source: theverge.com

ইয়ারবাডটি সম্পূর্ণ চার্জ হতে খুব বেশি সময় নেয় না। আর এর চার্জ অনেকক্ষণ যাবত বিদ্যমান থাকে। একবার সম্পূর্ণ চার্জে প্রায় চার থেকে সাড়ে চার ঘণ্টা ইয়ারবাডটি ব্যবহার করা যাবে। যদিও বাক্সের উপর লেখা আছে যে ৬ ঘণ্টার মতো এটি চালু অবস্থায় ব্যাটারি শক্তি যোগান দিবে এবং কেসের সাথে চার্জে যুক্ত থাকা অবস্থায় আরো ৭ সার্ভিস দিতে পারবে।

জল-নিরোধী ক্ষমতা

এই ইয়ারবাডের জল-নিরোধী ক্ষমতা খুব অল্প। এটি হালকা পানির ফোটা যদি অন্তত ১৫ ডিগ্রি কোণে এসে ইয়ারবাডটিকে স্পর্শ করে তবে এটি অক্ষত থাকবে। একটু এদিক-ওদিক হলেই পানি ঢুকে নষ্ট হয়ে যাবে ইয়ারবাডটি।

স্যামসাং গ্যালাক্সি বাড কালো রঙের; Image Source: amazon.com

শব্দ-নিরোধী ক্ষমতা

স্যামসাং গ্যালাক্সি ইয়ারবাডের তাৎপর্যপূর্ণ সুবিধা হলো, এটি উন্নতমানের ও একই সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ শব্দ-নিরোধী ক্ষমতা সম্পন্ন একটি ইয়ারবাড। যদি আশেপাশের পরিবেশ খুবই বিরক্তিকর ও শব্দবহুল মনে হয়, তবে এই ইয়ারবাডটি আপনাকে চারপাশের গোলযোগ থেকে পৃথক করে রাখতে পারবে।

যেকোনো গান বা অডিও অভ্যন্তরীন বাঁধা ছাড়াই আপনাকে পরিষ্কার সাউন্ড দিবে সাথে বাইরের শব্দ প্রবেশও বাঁধা দিবে। আরেকটি দিক হল রাস্তাঘাটে চলাচলের সময় যান চলাচলের আওয়াজ থেকে এটি আপনাকে পৃথক করবে না। আপনি চাইলে অ্যাম্বিয়েন্ট মোড চালু করতে পারেন। এতে করে চারপাশের শব্দ ভালো মত কানে প্রবেশ করবে। বিশেষ করে রাস্তাঘাটে চলাচলের সময় ইয়ারবাডে চলা গানের ভলিউম কমিয়ে ও অ্যাম্বিয়েন্ট মোড চালু করে রাখলে কোন অসুবিধা হবে না।

ফোনের অপশনে গিয়ে চালু বা বন্ধ করে এই সুবিধাটি ব্যবহার করা যাবে। বিশেষ কিছু শব্দই কেবল এটি বাঁধা দিবে বিষয়টা ঠিক এমনও নয়। এটি তৈরিই এমনভাবে করা হয়েছে যে শুধু  অত্যাধিক ক্ষমতা বা ডেসিবল সম্পন্ন শব্দ বাঁধা দিবেনা। যদি আপনি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে চিন্তা করেন তাহলে এই ইয়ারবাড পরে আপনি রাস্তায় চলাচল করতে পারবেন। বাকিটা নির্ভর করবে আপনি কতটুকু মনোযোগী ও ইয়ারবাডটির ভলিউম কত, অ্যাম্বিয়েন্ট চালু নাকি বন্ধ করে রেখেছেন এসবের উপর। সুতরাং বলা যায় যে এই ইয়ারবাড শব্দ-নিরোধী ক্ষমতার পাশাপাশি চারপাশের পরিবেশে কি ঘটছে এর মাঝে সামঞ্জস্য বজায় রেখেই সুবিধা দিচ্ছে।

আপনার বাজেট যদি মধ্যম পর্যায়ের হয় অর্থাৎ, ১০ হাজার টাকার নীচে, তবে স্যামসাং গ্যালাক্সি বাড আপনার জন্যই। এর বর্তমান বাজারমূল্য মাত্র ৮,৫০০ টাকা। এই দামে এরকম সুবিধাসমূহ খুব কম কোম্পানিই দিয়ে থাকে তাছাড়া ব্র্যান্ড ভ্যালুর কথা চিন্তা করলেও স্যামসাং এখন পর্যন্ত অনেক এগিয়ে।

২০১৯ সালের সেরা তিনটি আকর্ষণীয় শাওমি ফোন

শাওমি ফোনের নাম শোনেননি এমন মানুষ আছে? বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় মোবাইল ফোনের ব্র্যান্ডই যে শাওমি। শাওমি ফোনগুলো এখন আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপেও লভ্য। ব্র্যান্ডটি এর অভূতপূর্ব সুলভ মূল্যের জন্য বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত হয়ে উঠছে।

চীনা এই কোম্পানিটি এর কোনো হার্ডওয়্যারের উপরই ৫ শতাংশের বেশি লাভ করে না। ব্রিটেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের ব্যবহারকারীদের জন্য শাওমি একই মূল্যে কয়েকটি বিশেষ সুবিধাসহ মোবাইল ফোন সরবরাহ করে। আপনি যদি সেরা ফোনটি সর্বোচ্চ সুলভ মূল্যে কিনতে চান, তবে শাওমির চেয়ে উত্তম আর কী হতে পারে?

শাওমির মালিকানার ধারা প্রায়শই পরিবর্তিত হওয়ার কারণে এটি সমালোচিত হয়। এ বছরের শুরুর দিকে শাওমি তার বাজেট রেডমি ব্র্যান্ডটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা এখন প্রাক্তন-জিওনির প্রেসিডেন্ট উ লে লাইবিংয়ের মালিকানাধীন রয়েছে।

জানুয়ারিতে তিনি তার প্রথম ডিভাইস রেডমি নোট ঘোষণা করেছিলেন, যাতে একটি চমকপ্রদ ৪৮ এমপি ক্যামেরা এবং উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন ৪০০০ এমএএইচ ব্যাটারি থাকবে বলে বলা হয়েছিল। এটি এর পরে রেডমি নোট ৭ প্রো এবং রেডমি ৭ ঘোষণা করেছে এবং প্রো ব্যতীত অন্যরা সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে যাত্রা করেছে।

এ বছরের শেষের দিকে আমরা একটি রেডমি ফোন দেখতে পাব যাতে একটি ৬৪ এমপি ক্যামেরা দেয়া হবে। শাওমি  ফোনগুলোর এমনিতে বিরাট বাজার রয়েছে এবং শাওমি  ব্র্যান্ডের অধীনে বিক্রি হওয়া অনেকগুলো স্বতন্ত্র সংস্থাগুলোর সাথেও শাওমির বিস্তৃত যোগাযোগ আছে।

তাই যখন রেডমি বর্তমানে বাজেটের সমার্থক, মূল শাওমি (বা এমআই) ধারায় ক্রেতাদের জন্য বেশ কয়েকটি ফ্ল্যাগশিপ মডেল রয়েছে। উভয় ব্র্যান্ডের মধ্যেই স্বল্প বাজেটের মডেল রয়েছে। শাওমি ধারার ঠিক উপরে এমআই ৯ যা এমডব্লিউসি-তে ফেব্রুয়ারিতে ঘোষণা করা হয়েছিল। যুক্তরাজ্যে এটির৬ জিবি র‌্যামের জন্য ৪৯৯ ডলার, ৬৪ জিবি স্টোরেজ মডেল এবং ১২৮ গিগাবাইট স্টোরেজ সহ  ৫৪৯ ডলার ব্যয় করে কেনা যাবে।

তিনটি সেরা শাওমি ফোনের তালিকা দেখে নেয়া যাক চলুন।

১. শাওমি মি ৯

Image Source: amazon.com

                                  

ফিচারসমূহ:

এর ডিসপ্লেটি এইচডিআর ৬.৩৯ ইঞ্চির সুপার অ্যামোলেড রেজ্যুলেশন যার পিপিআই: ২৩৪০/১০৮০। তাছাড়া ‘৪০৩ বায়োমেট্রিক্স: ইন-ডিসপ্লে’, ফিঙ্গারপ্রিন্ট সিপিইউ: স্ন্যাপড্রাগন ৮৫৫ (দ্রুততম), র‌্যাম: ৬ জিবি, স্টোরেজ: ১২৮ জিবি, হেডফোন জ্যাক: টাইপ-সি (অ্যাডাপ্টার অন্তর্ভুক্ত), ব্যাটারি: ৩৩০০ এমএএইচ, ডিজাইন: গ্লাস স্যান্ডউইচ এবং ওজন ১৭৩ গ্রাম।

ওয়ানপ্লাস ফোনগুলো আগে যা ছিল তা আপনি শাওমি এমআই ৯ ভাবতে পারেন; শক্তিশালী, আড়ম্বরপূর্ণ এবং সাশ্রয়ী মূল্যের। ওপি ৭ প্রোটির দাম ৭০০ মার্কিন ডলারের কাছাকাছি। শাওমি এমআই ৯ দেখতেও খুব আকর্ষণীয় দেখায়।

সুবিধাসমূহ

এর ৪৮ মেগা পিক্সেলের প্রশস্ত কোণ রিয়ার ক্যামেরাটি বেশ ভালো মানের। মি ৯ এর তিনটি ক্যামেরার (অ্যামাজন) সমন্বিত সেটাপে সনির বিশেষজ্ঞদের দ্বারা তৈরি একটি অসাধারণ ক্যামেরা রয়েছে। আপনি অবিশ্বাস্য পরিমাণের ক্যাপচারের প্রত্যাশা করতে পারেন এই ক্যামেরা থেকে, যার সাথে পাবেন অসাধারণ জুম ইন এবং জুম আউট।

তাছাড়া, বর্তমানে এর ডিসপ্লে AMOLED, যা সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সম্বলিত এবং এইচডিআর সমর্থনও অন্তর্ভুক্ত। আগ্রহীরা জেনে খুশি হবেন যে, এই চমৎকার এবং মানসম্মত ডিসপ্লেটি গরিলা গ্লাস ৬ দ্বারা সুরক্ষিত।

সবশেষে, এতে ৬ গিগাবাইট র‌্যাম এবং ১২৮ জিবি স্টোরেজের সাথে মিলিত দ্রুততম কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮৫৫ চিপ ব্যবহার করছে। আপনি অন্যান্য হাই-এন্ড বৈশিষ্ট্যগুলো যেমন এনএফসি, ব্লুটুথ ৫.0, এসি ওয়াইফাই এবং কোয়ালকমের কুইক চার্জ ৪.০ ইত্যাদিও পাবেন এর মাঝে।

 

২. শাওমি এমআই ৯ টি প্রো

Image Source: gadgetaffair.com

২০১৯ সালে চলছে পপআপ সেলফি ক্যামেরার রাজত্ব। শাওমি ব্র্যান্ডে যারা নতুন, তাদের জন্য, এটি এমআই ৯ এর গড় ৩৩০০ এমএএইচ ব্যাটারি সংস্করণ করে থাকলেও, বর্তমানে এটি আরো বাড়িয়ে ৪০০০ এমএএইচে উন্নীত করেছে, যা বাড়িয়েছে এর দীর্ঘস্থায়ীত্ব। এতে একটি ২০ এমপি পপআপ সেলফি ক্যামেরা যুক্ত।

এতে ৩.৫ মিমি হেডফোন জ্যাকটিও ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সেই সাথে ৬.৩৯ ইঞ্চি সুপার অ্যামোলেড ডিসপ্লে, স্ন্যাপড্রাগন ৮৫৫ পারফরম্যান্স এবং সর্বাধুনিক ৪৮ মেগা পিক্সেলের তিনটি ক্যামেরা এই ব্যবস্থাটিকে দুর্দান্ত করেছে। আর এর ওয়াইড অ্যাঙ্গেল লেন্স তো একে করেছে অনন্য।

৩. শাওমি মি মিক্স ৩ (ফাইভ জি)

 Image Source: www.androidpit.com

শাওমি ব্র্যান্ডের আরেকটি জনপ্রিয় ফোন শাওমি মি মিক্স ৩। এতে ৪৩০ নিট উজ্জ্বলতা এবং এইচডিআর সমর্থিত ৬.৩৯ ইঞ্চির চমৎকার স্যামসাং অ্যামোলেড ডিসপ্লে রয়েছে। এর ৯৩.৪৫ শতাংশ স্ক্রিন টু বডি অনুপাত একে করেছে অধিক আকর্ষণীয়।

অল-ডিসপ্লে প্রদর্শনের প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে এটি অন্যান্য ফোনের তুলনায় বেশ সাফল্যের সাথে এগিয়ে রয়েছে। মি মিক্স ৩ (৫জি) ফোনের ২০১৯ সালের ফ্ল্যাগশিপে  স্ন্যাপড্রাগন ৮৫৫ প্রসেসরের বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা একে অতি দ্রুত ৫ জি নেটওয়ার্ক সমর্থন করতে সক্ষম করে।

গত কয়েক বছর ধরেই শাওমি ব্র্যান্ডটি হুয়াওয়ে, ওপ্পো আর ওয়ানপ্লাসের মতো অন্যান্য বিখ্যাত চীনা কোম্পানিগুলোর সাথে শক্ত প্রতিযোগীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। চীনা আমদানি পণ্য হিসেবে অন্যান্য পণ্যের সাথে একই সমতলে দাঁড়িয়ে আছে এই শাওমি ফোনসমুহ, যা ভারতীয় উপমহাদেশের বাজারও বেশ সফলতার সাথে মাতিয়ে রেখেছে। এর প্রমাণ আমরা ঘরে ঘরে শাওমির কোনো না কোনো ফোনের উপস্থিতি থাকার মধ্যেই পাই।

 


সনির নতুন ইয়ারফোন এখন সম্পূর্ণ বাইরের শব্দোরোধী!

গত কয়েক বছর ধরে সনি ইয়ারফোন জগতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন করে চলেছে। সংস্থাটি অতিরিক্ত নয়েজ ক্যান্সেলিং বা শব্দ-রোধী হেডফোন তৈরি করার অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। তাছাড়া, তাদের প্রযুক্তিটি এমনভাবে তৈরি করা যা আপনি নিজের পকেটে রাখতে পারেন যেকোনো উপায়ে সংকুচিত করে।

নতুন WF 1000Xp3 যার বাজার মূল্য ২৩০ মার্কিন ডলার, দুর্দান্ত শব্দনিরোধী প্রযুক্তিটিকে ক্ষুদ্রাকৃতিতে দেখার সর্বশেষ প্রয়াসকে উপস্থাপন করে। এগুলো কিছু চিত্তাকর্ষক অগ্রগতিরও প্রতিনিধিত্ব করে এবং সব মিলিয়ে ফলাফল, বাজারের অন্য যেকোনো সামগ্রীর বিপরীতে একটি দুর্দান্ত সেট।

1000XM3-এ সত্যিকারের ওয়্যারলেস ইয়ারবাডগুলো সম্পর্কে যে জিনিসটি লক্ষ্য করা যায় তা হল, এগুলো এতটা ছোট নয়। চার্জারকে আকারে বেশ বড় একটি সাবানের বক্সের সাথে তুলনা করলে ভুল হবে না। ইয়ারবাডগুলো দেখতে অনেকটা মাকু আক্রিতির, ক্ষুদ্র ও বাকানো।

তবে সনির নতুন এই ইয়ারফোনের সাথে আগেরগুলোর যথেষ্ট মিল পাওয়া যায়। বলা যায় এই একই সনি পরিবারের আগের মডেলের ‘ওভারহেড’ অর্থাৎ, মাথার উপর দিয়ে নেয়া যে হেডফোনগুলো তৈরি করা হয়েছিল, সেগুলোর গুণাগুণের সাথে যথেষ্ট মিল আছে।

তবে, যারা ওভারহেড হেডফোনগুলো ব্যবহার করে অভ্যস্থ, তাদের নিকট ভিন্ন মতও পাওয়া যায়। তথাপি, তাদের নিকটও সনির শব্দরোধী ইয়ারফোন যথেষ্ট পছন্দের। যাইহোক, কানের হেডফোনগুলো ওভারহেড হেডফোনগুলোর নকশার অনুকরণে তৈরি হয়নি। এদের আছে মাইক্রোফোন এবং আরও শক্তিশালী শব্দনিরোধী ক্ষমতা।

Image Source: kopfhoerer.de

বাহ্যিক বর্ণনা 

ইয়ারবাডটি প্রায় দেড় ইঞ্চি লম্বা এবং শ্রোতার কানের অভ্যন্তরে যথার্থভাবে প্রবেশ করে। বোস সাউন্ডস্পোর্ট ফ্রি তেমন বিশাল আকারের না হলেও ইয়ারবাড এর বাকি অংগশগুলো কানের বাইরে থাকে। এটি জাবরা এলিট-৬৫’র মতো কোনও বায়ুচাপ ফিট নয়। নতুন সনি ইয়ারবাডগুলো এমনকি পাতাল রেল ট্রেনের উচ্চ আওয়াজকেও ঠেকিয়ে রাখবার চেষ্টা করে।

এর একটি নেতিবাচক ফলও রয়েছে। বাংলাদেশের মতো দেশে যেখানে বিপুল সংখ্যক মানুষ বসবাস করে এবং এখানে রেল লাইনের পাশেও বস্তি গড়ে ওঠে। সাধারণ মানুষ প্রতিদিন এসব পথে চলাচল করে থাকে। এক্ষেত্রে এধরনের ইয়ারফোন বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। আমরা অনেক সময় ইয়ারফোন কানে গুজে চলাচল করি যার ফলে নানান দুর্ঘটনার কথা সংবাদে শোনা যায়।

আপনি যদি ভিড়ভাট্টা থেকে দূরে থাকতে চান অথবা সবার মাঝে থেকেও সবার কথা বার্তা, চিৎকার থেকে নিজেকে পৃথক করে রাখতে চান, তাহলে এই ইয়ারফোন খুব কার্যকরী।

Image Source: topspeed.com

ব্যাটারি

1000XM3 ইয়ারবাডগুলো (ইয়ারফোনের যে ক্ষুদ্র অংশ কানে প্রবেশ করানো হয় তা-ই ইয়ারবাড) বিশেষ ধরনের। এই মডেলটিতে যে ডিজিটাল শব্দনিরোধী প্রক্রিয়া ব্যবহৃত হচ্ছে তা অন্যকোনো সত্যিকারের ওয়্যারলেস ইয়ারবাডগুলোর তুলনায় তুলনামূলকভাবে উন্নত।

আরো বলা যায় যে, সাধারনত আমরা যেসকল ওয়্যারলেস ইয়ারবাডগুলো দেখি, সেগুলো কোনো ধরনের শব্দ নিরোধী বৈশিষ্ট্য সরবরাহ করে না। সত্যিকারের ওয়্যারলেস ইয়ারবাড যথাযথভাবে কানের সাথে যুক্ত করার জন্য ছোট হওয়া দরকার। তাই, শব্দ নিরোধী প্রযুক্তির জন্য ব্যাটারি এবং বিশেষায়িত হার্ডওয়্যারের জন্য প্রয়োজনীয় প্রচুর স্পেস দেয়া যায়না।

যদিও 1000XM3 এখনো পর্যন্ত পরীক্ষা করা সবচেয়ে ছোট ইয়ারবাড নয়, তবে এটি একক চার্জে নির্ভরযোগ্য ছয় ঘন্টা ব্যাটারি লাইফ সরবরাহ করে থাকে। কেসটি আপনাকে আরও ১৮ ঘন্টা সার্ভিস দেবে। অবশ্য শব্দ নিরোধ না করে ৮ ঘন্টা এবং কেসের জন্য আরো ২৪ ঘন্টা সার্ভিসের নিশ্চয়তা দেয় সনি।

Image Source: www.cnet.com

                            

তুলনা

বেতার শব্দ-বাতিলকরণ প্রযুক্তিতে এটিই সনির প্রথম প্রচেষ্টা নয়। সংস্থাটি ২০১৭ সালে WF1000x মূল ইয়ারবাডগুলো প্রকাশ করেছিল এবং সেটি অনেক ক্ষেত্রেই মানের দিক থেকে পিছিয়ে ছিল। সুতরাং, মডেলটি সংস্কার করার সময়, সনি প্রযুক্তিবিদরা সম্ভবত নতুন কিছু করার চেষ্টা করেছিলেন।

বর্তমান সংস্করণে প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার আপগ্রেডগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার ফলে ইয়ারবাডের অভ্যন্তরীণ কাজগুলোতে বিশেষ পরিবর্তন এসেছে। এটি এই ইয়ারবাডের একটি প্রশংসনীয় দিক। WH-1000XM3 শব্দনিরোধী হেডফোনগুলোর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হতে শুরু করেছে। ওভারহেড হেডফোনগুলোর মতো, 1000XM3 ইয়ারবাডগুলোর প্রত্যেকটিতে একটি ডেডিকেটেড নয়েজ-ক্যান্সেলিং প্রসেসর রয়েছে, যা ডিজিটাল-টু-অ্যানালগ রূপান্তরকারী (ডিএসি) এবং একটি পরিবর্ধক হিসেবেও কাজ করে।

সমালোচনা

এটা সত্য যে এই এয়ারবাডটির বেশকিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাছাড়া, এখনো ওভারহেড শব্দরোধী হেডফোনগুলোর তুলনায় এসব এতটা ভালো বলা যায় না। ওভারহেড হেডফোনগুলোতে শব্দ প্রক্রিয়া করার জন্য অতিরিক্ত মাইক্রোফোন ব্যবহার করা হয় যা আপনাকে বাইরের জগৎ থেকে সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন করার অনন্য ক্ষমতা রাখে।

অন্য সনি তারবিহীন হেডফোনগুলোর মতো, এরা একই সময়ে কেবল একটি ডিভাইসে সংযুক্ত হতে পারে। যদি আপনি ক্রমাগত ফোন থেকে একটি ল্যাপটপে স্যুইচ করে থাকেন, তবে এটি সংযোগে কিছুটা সময় নিবে এবং পূর্বের সংযুক্ত ডিভাইসের সাথে সেটি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করতে হবে। উভয় ইয়ারবাড একই মূহুর্তে একাধিক ডিভাইসে সংযুক্ত হতে পারে না। যখন কেসটি থেকে ইয়ারবাডগুলি বের করে কানে রাখা হয় তখন তারা চালু হয় এবং কিছুটা সময় নিয়ে সংযুক্ত হয়।

সনি’র WF 1000Xp3 ইয়ারফোন জগতে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং এটির গ্রহণযোগ্যতাও বৃদ্ধি পাবার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, প্রথমত এটির শব্দরোধী বৈশিষ্ট্য, দ্বিতীয়ত এর ব্যাটারির ক্ষমতা। যারা ২০,০০০ টাকা ইয়ারফোনের পিছনে খরচ করতে আগ্রহী, তারা এটিকে বিবেচনায় রাখতে পারেন।

শাওমির মি ব্যান্ড ফোর: প্রযুক্তি আর আধুনিকতায় অনন্য

আপনি কী এমন কিছু পেতে চান যা আপনার যোগাযোগকে আরও সহজ করে দেবে? আপনার সেলফোন স্পর্শ না করেই এর যাবতীয় সুবিধা দিতে পারবে? আপনার স্বাস্থ্যের সাথে জড়িত যাবতীয় দিক নির্দেশনা দিতে পারবে?

সবগুলো উত্তর হ্যাঁ হলে আপনার জন্যই অপেক্ষা করছে শাওমি’র মি ব্যান্ড। আর ব্যান্ড ধারার বিস্ময় হল শাওমি’র মি ব্যান্ড ৪। আজকে আমরা শাওমির মি ব্যান্ড ৪ এর বৈশিষ্ট্য, সুবিধা সমূহ, শাওমি মি ব্যান্ড ৩ এর সাথে এর পার্থক্য অর্থাৎ, শাওমির মি ব্যান্ড ৪ সম্পর্কে বিস্তারিত জানব।

বৈশিষ্ট্য

শাওমি মি ব্যান্ড ৪ এর অন্যতম হালনাগাদ সংস্করণ হলো এর রঙিন ডিসপ্লে। আগের মি ব্যান্ড ৩ ছিল সাদা কালো যার কালো ডিসপ্লেতে সাদা রঙয়ের ফন্টগুলো ভেসে উঠতো। লেখাগুলো ব্যান্ড ৪ এর তুলনায় বেশ ছোটও ছিল। অপরদিকে স্ক্রিন তুলনামূলক বড় হওয়ার সাথে ব্যান্ড ৪ ক্রেতাদের দিচ্ছে রঙিন AMOLED ডিসপ্লে। ব্যান্ডটির ওজন ২১ গ্রাম।

মি ব্যান্ড ৪ এর ভাষা সাধারণত চাইনিজ। ব্যান্ড ৪ এর সাথে যে দিকনির্দেশনামূলক বইটি পাওয়া যায় সেটিও চাইনিজ ভাষায় লেখা। তাই মি ব্যান্ড ৪ ক্রয় করার পর যখন আপনি এটি চালু করবেন তখন ডিসপ্লেতে এর ভাষা চাইনিজ হবে। তবে চার্জ করার পরে যখন ব্যান্ডটিকে আপনার সেল ফোনের সাথে যুক্ত করবেন, তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভাষা ইংরেজিতে রূপান্তরিত হবে। এর আরেকটি অনন্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে। সেটি হল ব্যান্ড লক (বন্ধ) করার ব্যবস্থা।

ব্যান্ড ৪ হাত থেকে খুলে রাখলে সেটি যখন পুনরায় ব্যবহার করা শুরু করবেন, তখন সেলফোনে একটি পাসওয়ার্ড চাওয়া হবে সেই পাসওয়ার্ডটি দেয়া মাত্র এটি আপনি পুনরায় হাতে লাগিয়ে ব্যবহার করতে পারবেন।

মি ব্যান্ড ৪ ধারায় দুই ধরনের খেলাধুলা অর্থাৎ, ইনডোর ও আউটডোর নামে আলাদা করে বাছাই এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব খেলাধুলায় কত সময় ব্যাপি অংশ গ্রহণ করা হয়েছে তা মি ব্যান্ড ৪ তুলনামূলক নির্ভুলভাবে পাঠ দিবে।

ব্যবহার

Image Source: notebookcheck.net

প্রথমত মি ব্যান্ড ফোর এর ভাষা শুরুতে চাইনিজ থাকবে। ক্রয় করার পর ফোনে মি ফিট অ্যাপ টি ডাউনলোড করে ইনস্টল করলে সেটিতে মি ব্যান্ড ৪ সংযোগ করলে ফোনে একটি আপডেট দেখাবে। উক্ত আপডেটের পরে ভাষা চাইনিজ থেকে ইংরেজিতে রূপান্তরিত হয়ে যাবে। মি ফিট অ্যাপে প্রবেশ করে হৃদপিন্ডের কম্পন অর্থাৎ, হার্ট রেট পরিমাপ করার জন্য এবং কত সময় পর পর হার্ট রেট দেখাবে সেটিও অপশনে গিয়ে ঠিক করে নেয়া যাবে।

ব্যান্ড ৪ বায়ুমণ্ডলীয় চাপ ৫ এটিএম পর্যন্ত সহ্য করতে পারবে। অর্থাৎ, পানির ৫০ মিটার গভীরে যাবার পরেও মি ব্যান্ড ৪ ঠিকভাবে কাজ করতে পারবে। তবে পানির বেশি গভীরে গিয়ে হাত দ্রুত নাড়াচাড়া করলে চাপের পরিমাণ ৫ এটিএম হতে বেশি হতে পারে সেক্ষেত্রে এটিতে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

সুবিধা সমূহ

ব্যান্ড ৪ এর বেল্ট আগের মতই বেশ টেকসই এবং আরামদায়ক। সহজে খোলা এবং বন্ধ করা যায়। যদি হনোর ব্যান্ডের সাথে তুলনা করা হয়, তাহলে হনোর ব্যান্ডের ঘড়ির মতো খাজ কাটা রয়েছে। তবে মি ব্যান্ড ৪ এর বেল্টের মান এবং গুনাগুন অন্যান্য ব্যান্ডগুলোর মতই।

ডিসপ্লে

মি ব্যান্ড ৪ এর ডিসপ্লে মি ব্যান্ড ৩ থেকে তুলনামূলকভাবে আকারে বড়। এর ক্যাপসুল এর মত অংশটি যেখানে এর যাবতীয় কার্যাবলী দেখা যায়, সেটির পাশের দিকের অংশটুকু অল্প খাঁজকাটা। এতে করে মি ব্যান্ড ৩ এর ক্যাপসুল সমূহের মতো স্টেপ থেকে পড়ে যাওয়ার ভয় মি ব্যান্ড ৪ এ নেই।

হনোর ব্যান্ডের সাথে যদি তুলনা করা হয়, তবে হনোরের ব্যান্ডে ক্যাপসুলটিকে স্টেপ হতে আলাদা করার জন্য ক্যাপসুলের দুই প্রান্তে দুটি অংশ থাকে, যেগুলো খুলে ফেললেই ব্যান্ডটিকে স্টেপ হতে আলাদা করা সম্ভব। মি ব্যান্ড ৪ এর ডিসপ্লে রঙিন যা এর আগের মি ব্যান্ডে ছিল না। ব্যান্ড ৪ এর ডিসপ্লে ০.৯৫ রঙিন এমোলেড (AMOLED) এবং এর দৃশ্যমান রেজুলেশন ১২০×২৪০ পিক্সেল যা পূর্বে মি ব্যান্ড ৩ থ্রি তে ছিল ডিসপ্লে ০.৭৮ ও রেজুলেশন ৮০×১২৮ পিক্সেল

AMOLED দ্বারা মূলত, তুলনামূলক কম খরচ এবং কম শক্তি ব্যবহারে ভালো মানের রঙিন দৃশ্য দেখার জন্য প্রাযুক্তিক যে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, তা বোঝায়। সাধারণত এই এমোলেড ডিসপ্লে টেলিভিশন, স্মার্টফোন এবং ব্যান্ডগুলোতে ব্যবহার করা হয়। ব্যান্ড ৪ ডিসপ্লের নিচের অংশে একটি সেন্সর রয়েছে যেখানে আঙ্গুল দিয়ে ধরে রাখলে ডিসপ্লের বাতি জ্বলে উঠবে।

তবে, সময় দেখা বা অন্যান্য যে কোন কাজ করার জন্য ডিসপ্লে সেন্সর এর উপরে স্পর্শ করার প্রয়োজন নেই। হাত নাড়াচাড়া করলে ডিসপ্লের বাতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে জ্বলে উঠবে এবং আপনি আপনার কাজের ফলাফল দেখতে পাবেন। হাতের আঙ্গুল দিয়ে ডিসপ্লের উপর দিকে স্পর্শ করে নিচের দিকে আঙুল নামালে ব্যান্ড ৪ এর যাবতীয় কার্যাবলী ও সুযোগ সুবিধা সমূহ দেখা যাবে। তারপর নিজের পছন্দ অনুযায়ী বেছে নেয়া যেকোনো কাজের ফলাফল দেখতে পাবেন

শারীরিক ব্যায়াম

ব্যান্ড ৪ এ যেকোনো ধরনের ব্যায়াম কত সময় ধরে করা হয়েছে, এতে করে কতটুকু শক্তি (ক্যালোরি) ক্ষয় হয়েছে, তা আগের থেকে তুলনামূলক সূক্ষ্মভাবে নিরূপণ করতে পারে। এতে পাঁচ ধরনের শারীরিক ব্যায়াম যথা- সাইক্লিং, সাঁতার, দৌড়ানো, হাঁটা ও অন্যান্য যেকোনো প্রকারের কাজ করার সময় শক্তি (ক্যালোরি) পরিমাপ করা যাবে। তবে অবশ্যই ব্যায়াম করার আগে টাইমার চালু করে হিসেব শুরু করতে হবে।

Image Source: techradar.com

ফোন রিসিভ

ব্যান্ড ৩ এর মতো ব্যান্ড ৪ এ-ও ফোনে আসা যেকোনো ধরনের বার্তার জন্য একটি কম্পন করবে। তখন ব্যান্ড থেকে ফোনটি রিসিভ করা যাবে এবং ফোনটি কোন নম্বর থেকে এসেছে অথবা নম্বরটি কোনো নামে সেইভ করা থাকলে সেই নামটিও ডিসপ্লেতে দেখা যাবে। তাছাড়া যেকোনো বার্তা মি ব্যান্ড ৪ এ পড়া যাবে।

ব্যান্ড ৪ যদি ফোনের বিভিন্ন অ্যাপের সাথে যুক্ত করা থাকে, তবে সংযুক্ত অ্যাপগুলোতে যত প্রকার বার্তা আসবে তার প্রত্যেকটির জন্য ব্যান্ড ৪ এ কম্পন অনুভূত হবে এবং সেই বার্তাসমূহ পড়া যাবে।

ব্যাটারি

ব্যান্ড ৪ এর ব্যাটারি সম্পূর্ণ চার্জ হতে ৪০ মিনিটের মতো সময় নেয় এবং এক চার্জে ২০ দিন পর্যন্ত চালানো যায়। এর ব্যাটারি ক্ষমতা ১৩৫ এমএএইচ। তবে অতিরিক্ত ব্যবহার না করলে এটি প্রযোজ্য নতুবা ১৫-১৭ দিনের মত অনায়াসে ব্যবহার করা যায়। আগের সংস্করণের ব্যান্ডটি ১০-১২ দিন এক চার্জে ব্যবহার করা যেত।

মি ব্যান্ড ৪ সত্যিকার অর্থেই স্মার্ট ওয়াচ ও ব্যান্ড ভক্তদের জন্য নিয়ে এসেছে যাবতীয় সুযোগ সুবিধা, যা এর পূর্ববর্তী মি ব্যান্ড ৩ থেকে আরো বেশি সক্রিয় ও টেকসই। রঙিন ডিসপ্লে ও সূক্ষ্ম পাঠের সাথে অন্যান্য সুবিধা একে করেছে অনন্য।

তারবিহীন দ্রুত চারজিং ব্যবস্থা এখন অ্যাপলের দ্বিতীয় প্রজন্মের এয়ারপডে

ব্লুটুথ ইয়ারফোনের কথা সবাই শুনেছে। এটি এমন ইয়ারফোন যার জ্যাক ফোনে না প্রবেশ করিয়ে কেবল ব্লুটুথের সাথে সংযোগ ঘটিয়েই ব্যবহার করা যায়। এখন এর থেকেও সহজতর ও চমকপ্রদ প্রযুক্তি এসেছে যা ইয়ারফোন জগতে এক বিস্ময়কর অধ্যায়ের সূচনা করেছে। আর এ কাজটিতে সবচেয়ে এগিয়ে যে ব্র্যান্ডটি আছে সেটি হলো অ্যাপল।

অ্যাপলের দ্বিতীয় প্রজন্মের এয়ারপড এখন বাজারে আছে। এর সাথে তাদের প্রথম প্রজন্মের পণ্য অ্যাপল এয়ারপডের সাথে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মিল রয়েছে। কেবল কিছু জায়গায় এটি ব্যতিক্রম। আমরা আজকে এ লেখায় অ্যাপলের দ্বিতীয় প্রজন্মের এয়ারপড সম্পর্কে বিস্তারিত জানব।

বিগত কয়েক বছর ধরেই অ্যাপল তাদের বিভিন্ন নতুন পণ্য নিয়ে বাজিমাত করে আসছিল, যার মধ্যে এটিই সবচেয়ে বেশি আলোচিত- সমালোচিত হয়েছে। তিনবছর আগে নির্মিত এয়ারপড প্রথম প্রজন্মের সাথে এয়ারপড দ্বিতীয় প্রজন্মের অনেক মিল। এমনকি খালি চোখে এবং যারা আগে কোনো অ্যাপল পণ্য ব্যবহার করেননি তারা দেখলেও আলাদা করতে পারবেন না যে কোনটা প্রথম প্রজন্মের আর কোনটা দ্বিতীয়!

উভয়ের আকার, নকশা এবং শব্দের গুনাগুন হুবহু এক। পার্থক্য করার মতো কোন উপায় নেই। তবে যেহেতু নতুন প্রজন্মের এয়ারপড তাই কিছু পরিবর্তন অবশ্যই আনা হয়েছে। এই পরিবর্তনগুলো বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। কিন্তু, অ্যাপল ভক্তদের কিছু আক্ষেপ আগে থেকেই ছিল এসব এয়ারপড নিয়ে, যেমন শব্দ-রোধের ক্ষমতা, কানে দৃঢ়তার সাথে সংযুক্ত থাকা ইত্যাদি। অ্যাপল এখনো পর্যন্ত এসকল সমস্যা নিয়ে কোনো খোলামেলা কথা বলে নি।

Image Source: finance.yahoo.com

সুবিধাসমূহ

দুর্দান্ত তারবিহীন কার্যক্ষমতার সাথে বেশ নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠেছে অ্যাপলের দ্বিতীয় প্রজন্মের এই এয়ারপড। বেশ স্বাচ্ছন্দের সাথেই এটি ব্যবহার করা যায়। তাছাড়া, যেকোনো জায়গায় খুব সহজে বহনযোগ্য, চার্জ নিয়েও কোনো প্রকার সমস্যার মুখোমুখী হতে হয় না। এর ব্যাটারির জীবন দীর্ঘস্থায়ী। এর কেসটিও খুবই হালকা, সম্পূর্ণ আগের প্রজন্মের সাথে মিল পাওয়া যায়। ফাস্ট চার্জিং ব্যবস্থার সংযোজনে সহজে এবং দ্রুততার সাথে চার্জ করে নেয়া যায় এয়ারপডের।

অসুবিধাসমূহ

যে সমস্যাটি আগেও ছিল সেটি এখনও বিদ্যমান। যেমন প্রথমটির মতো দ্বিতীয় প্রজন্মের এয়ারপডও সবার কানে ঠিক মত সংযুক্ত হতে পারে না। বাহির থেকে আসা শব্দগুলো তাই সম্পূর্ণ রোধ করতে পারে না। এখনো পর্যন্ত অবশ্য এমন কোনো এয়ারপডই বাজারে কেউ আনেনি যেটি দাবি করতে পারবে তারা সম্পূর্ণ শব্দ-রোধী এয়ারপড বানিয়েছে। কিছুনা কিছু শব্দ বাহির থেক ভেতরে প্রবেশ করেই থাকে।

তবে অ্যাপলের এখানেই সুযোগ ছিল তাদের ভক্তদের হতাশ না করার। তারা তাদের দক্ষ ও সৃজনশীল প্রযুক্তিবিদদের দ্বারা এয়ারপড গুলো আরো ভালো শব্দ-রোধী ব্যবস্থা সম্পন্ন করে বানাতে পারত।

এর আরও একটি সমস্যা রয়েছে যে এটি একই সাথে দুটি যন্ত্রের সাথে সংযুক্ত হতে পারে না। একই সময়ে একটির সাথেই যুক্ত হতে পারবে এই এয়ারপড। যেমন, আপনি যদি আপনার ফোনের সাথে যুক্ত করেন তবে সেটি কম্পিউটার বা আইপ্যাড এর সাথে তখইন যুক্ত করা যাবে না।

এদিকে আইফোনের অন্যতম আকর্ষণ হলো, “হ্যালো সিরি” ভয়েস প্রতিক্রিয়া। এই চমৎকার ফিচারটি দ্বিতীয় প্রজন্মের এয়ারপডে খুবই মন্থর গতিতে কাজ করে।

Image Source: timesofindia.indiatimes.com

মূল্য

অ্যাপল এই তারবিহীন দ্বিতীয় প্রজন্মের এয়ারপড দুটি তারবিহীন চার্জারের সাথে বাজারে বিক্রয় করছে ১৯৯ মার্কিন ডলার মূল্যে, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৭ হাজার টাকার মতো। আগের যে মডেলটি ছিল তার মূল্য ছিল ১৫৯ মার্কিন ডলার যার বাংলাদেশি মূল্য ১৩ হাজার ৫ শত টাকা।

আর কেউ যদি আগের এয়ারপডটি ব্যবহার করে আগ্রহী হন, কিন্তু নতুন চার্জিং কেস ব্যবহার করতে চান, সেক্ষেত্রে আগের এয়ারপড এই নতুন চার্জিং কেস দিয়েও চার্জ দেয়া সম্ভব। এই চারজিং কেসের মূল্য পরবে ৭৯ ডলার যার এদেশের মূল্য ৬ হাজার ৭শত টাকা।

পরিবর্তন

দ্বিতীয় প্রজন্মে যে পরিবর্তনগুলো আনা হয়েছে এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল এর তারবিহীন কেস চার্জার ক্ষমতা। চারজিং কেসটি তারবিহীন হলেও এটি কিউআই ধরনের, যা অন্যান্য যেকোনো ফোনের চার্জ ব্যবস্থার মতই। তাই যেকেউ এই কেস দিয়ে একই সাথে ফোন এবং এয়ারপড দুটোই চার্জ দিতে পারবেন।

এটিতে ডাব্লিউ-ওয়ান চিপ এর বদলে এইচ-ওয়ান চিপ ব্যবহার করা হয়েছে যা এই এয়ারপডটিকে আর দ্রুততার সাথে ব্যবহার করতে সাহায্য করবে। এছাড়া ‘হ্যালো সিরি’ ব্যবহার, এক প্রযুক্তি হতে আরেক প্রযুক্তিতে সংযোগ করা, ইচ্ছে হলে গান বন্ধ রাখা, এগুলো আগের প্রজন্মের এয়ারপডের তুলনায় দ্রুত করা যাবে।

তবে এসকল সুযোগ সুবিধা থাকা স্বত্বেও সম্পূর্ণরূপে ক্রেতাদের সন্তুষ্টি এটি অর্জন করতে পারেনি। ‘হ্যালো সিরি’ বলার পর ফিরতি প্রতিক্রিয়া দিতে এখনও মোটামুটি ভালো সময়ই লাগে। তাছাড়া একই সাথে একের অধিক ডিভাইসে যুক্ত করা যায়না এই সমস্যাটি তো রয়েই গেছে।

Image Source: apple.com

                                          

এই এয়ারপডটি অন্যান্য স্মার্টফোনের সাথেও ব্যবহার করা যাবে। যেমন গ্যালাক্সি এস-১০ অথবা হুওয়ায়ের কোনো ফোনের সাথে সংযোগ ঘটিয়ে এটি ব্যবহার করা যাবে। তবে সেক্ষেত্রে দ্বিতিয়বার স্পর্শ করে যে সুবিধাসমূহ পাওয়া যেত, তা পাওয়া যাবে না। কান থেকে খুলে রাখার সাথে সাথেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গান বন্ধ হয়ে যাবেনা।

ব্যাটারি জীবনকাল

এইচ ওয়ান চিপের জন্যে এর ব্যাটারি জীবনকাল বেশ উন্নত হয়েছে। এটি কথা বলার জন্য এখন তিন ঘণ্টা ব্যাটারি সহায়তা দিয়ে থাকে যা আগের তুলনায় আরো এক ঘণ্টা বেশি বেড়েছে। গান ও যেকোনো অডিও শোনার ক্ষেত্রে এয়ারপডের ব্যাটারির আয়ু পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যমান থাকে। অন্য যেকোনো তারবিহীন এরকম ব্যবস্থায় এই সুবিধা গুলো পাওয়া যাবে না। এটির ১৫ মিনিটের চার্জে তিন ঘণ্টা শোনা আর দুই ঘণ্টা কল করার ক্ষেত্রে টানা ব্যবহার করা যায়।