স্মার্টফোনকে আরো স্মার্ট করতে চমৎকার ৫টি গ্যাজেট

আমরা যেসকল স্মার্টফোন ব্যবহার করে থাকি এগুলো ব্যবহার যথেষ্ট সহজ ও সুবিধাজনক। কিন্তু প্রযুক্তির ক্রমাগত উন্নতির এই যুগে যেকোন উচ্চমান সম্পন্ন প্রযুক্তি কে আরো উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। আর আমাদের স্মার্টফোনের ব্যবহারকে আরো অধিকতর সহজ, আরামদায়ক এবং সমৃদ্ধ করা যায় বেশ কিছু স্মার্ট গ্যাজেটের ব্যবহারের মাধ্যমে।

ফোনে আমরা অনেককিছু করে থাকি যেগুলোর মধ্যে কথা বলা, টেক্সট পাঠানো, গান শোনা, নেট ব্রাউজিং অন্যতম। এসব কাজকে আরো সহজে ও উত্তম উপায়ে করতে ব্যবহার করা যেতে পারে কিছু গ্যাজেট, যাদের ব্যবহারে স্মার্টফোন হবে আরো স্মার্ট। এরকম ৫টি স্মার্ট গ্যাজেটের তালিকা নিয়ে আজকের আয়োজন।

১. গুগল কার্ডবোর্ড (Google Cardboard):

স্মার্টফোনের পর্দায় আমরা মুভি, সিরিজ, শর্ট ভিডিওসহ আরো অনেক কিছুই দেখে থাকি। আবার অনেকেই খেলে থাকি নানা ধরনের ভিডিও গেম। এসকল বিষয় আমরা পর্দায় দেখে অভ্যস্ত হলেও ভার্চুয়াল রিয়েলিটির আবিষ্কার আমাদের দিয়েছে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের অভিজ্ঞতা।

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রযুক্তির মাধ্যমে আমাদের মনে হয় যেন আমরা যা দেখছি বা খেলছি তা আমাদের সামনেই হচ্ছে অথবা আমরা ঐ ঘটনার ভিতরেই অবস্থান করছি। স্মার্টফোনেও ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রযুক্তির নানাবিধ ব্যবহার হচ্ছে, বিশেষ করে গেমিং এর ক্ষেত্রে এর ব্যবহার অনেক বেশি। আর স্মার্টফোনে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করার জন্য একটি বিশেষ গ্যাজেট রয়েছে যা ‘ভিআর বক্স’ নামে পরিচিত।

টেক জায়ান্ট গুগলও বাজারে এনেছে এমন একটি ভিআর বক্স যা ‘গুগল কার্ডবোর্ড’ নামে পরিচিত। এটি প্রথমে অ্যান্ড্রয়েডের জন্য বাজারে আনলেও পরবর্তীতে আইওএসও এটি সাপোর্ট করা শুরু করে।

যেকোনো কিছুকে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে উপভোগ করতে চাইলে গুগল কার্ডবোর্ড তার জন্য একটি সহজ, আনন্দদায়ক ও সাশ্রয়ী পথ দেখায়। এই ডিভাইসটি কার্ডবোর্ডের তৈরি হওয়ায় এর দাম কম। গুগল অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করে ৩৬০ ডিগ্রি ভিডিও খুঁজে বের করে বা গুগল প্লে থেকে ভিআর গেম নামিয়ে এই যন্ত্র স্মার্টফোনে সংযুক্ত করে সহজেই উপভোগ করা যায় ভার্চুয়াল রিয়েলিটি।

গুগল কার্ডবোর্ড; Image Source: en.wikipedia.org

২. এনএফসি স্মার্ট রিংস (NFC Smart Rings):

স্মার্টফোন আমরা সহজেই ব্যবহার করতে পারলেও এমন কিছু গ্যাজেট রয়েছে যা দিয়ে স্মার্টফোনের প্রত্যক্ষ সংযোগ ছাড়াই ফোনটির অ্যাক্সেস পাওয়া যায় এবং বিভিন্ন ছোটখাটো কাজ সম্পন্ন করা যায় ফোন হাতে নেয়া ছাড়াই। এরকমই একটি গ্যাজেট হলো এনএফসি স্মার্ট রিং। এটি হলো একধরনের প্রযুক্তিসম্পন্ন আংটি যা দিয়ে ৩-৫ সেমি দূরে থাকা ফোনে বিভিন্ন কাজ সম্পাদন করা যায়, যদি ঐ নির্দিষ্ট ফোনে আংটিটির অ্যাক্সেস থাকে।

নিজের বাসস্থান, অফিস, জিম ইত্যাদি সম্পর্কে সকল তথ্য সংরক্ষণ করা যায় এই রিংয়ে। যেকোনো রেকর্ড বা তথ্য ফোনে পাঠানো যায় এর মাধ্যমে। জরুরি তথ্য, বিজনেস কার্ড, বিটকয়েন অ্যাড্রেস, ইত্যাদি পাঠানো ছাড়াও ফোন আনলক, কোনো অ্যাপ ব্লক করা, গান বাজানোই ইত্যাদি কাজ করা যায় এর সাহায্যে।

কাঠের তৈরি হওয়ায় দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি পরিবেশ বান্ধব এই গ্যাজেটটি। এটায় চার্জ দেয়ার প্রয়োজন হয়না এবং সম্পূর্ণরূপে পানি নিরোধক। অ্যামাজনে এর দাম পড়বে প্রায় ৩ হাজার টাকা।

এনএফসি স্মার্ট রিং অত্যন্ত কার্যকর গ্যাজেট; Image Source: banggood.com

৩. ওয়্যারলেস ব্লুটুথ স্পিকার (Wireless Bluetooth Speaker):

ফোনের ব্যবহারকে আরো মানসম্মত করতে এবং একটি সমৃদ্ধ স্মার্টফোন ইউজিং অভিজ্ঞতার জন্য বিভিন্ন অতিরিক্ত ডিভাইস স্মার্টফোনের সাথে সংযুক্ত করা যায়। এগুলোর মধ্যে অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য এবং বহুল জনপ্রিয় ও ব্যবহৃত একটি স্মার্ট ডিভাইস হলো ওয়্যারলেস ব্লুটুথ স্পিকার

ফোনে আমরা কথা বলার পাশাপাশি অনেক কাজ করি যার মধ্যে গান শোনা ও মুভি বা অন্যান্য ভিডিও দেখা অন্যতম। আর এই কাজগুলো করতে ফোনের স্পিকার ব্যবহৃত হলেও ফোনের দুর্বল স্পিকারে এগুলোর পূর্ণ আনন্দ ও অভিজ্ঞতা পাওয়া যায় না। ঘরে, অফিসে বা যেকোনো জায়গায় তাই ব্লুটুথ স্পিকার ব্যবহার উপযোগী।

গান শোনা ও মুভি দেখার  পাশাপাশি ভয়েস কল ও ভিডিওকলে ব্যবহার করা যায় এই স্পিকার বেটার এক্সপেরিয়েন্সের জন্য। আকারে ছোট ও ওজনে হালকা হওয়ায় যেকোনো জায়গায় যাওয়ার সময় সাথে রাখা যায় এগুলো।

বিওপ্লে পি-টু ওয়্যারলেস ব্লুটুথ স্পিকার; Image Source: mrporter.com

৪. সোলার চার্জার (Solar Charger):

স্মার্টফোনকে সচল রাখতে একে চার্জ করার কোন বিকল্প নেই যেহেতু এটি ব্যাটারিতে চলে। আর এই চার্জ দিতে প্রয়োজন হয় বৈদ্যুতিক চার্জার ও প্রচুর পরিমাণ বিদ্যুৎ। তবে, স্মার্টফোনের চার্জ খুব দ্রুত শেষ হয় তার যত শক্তিশালি ব্যাটারিই থাকুক না কেন। আবার ব্যাটারি যত শক্তিশালি হয় চার্জ দিতে বিদ্যুৎও খরচ হয় তত বেশি। আর এর ফলে বিদ্যুৎ বিল বেড়ে যায় অনেক।

অন্যদিকে সোলার চার্জার সাধারণ চার্জারের মতো বিদ্যুৎ ব্যবহার না করে সৌরশক্তি ব্যবহার করে যার ফলে কোনো খরচ পড়ে না এবং বিদ্যুতের প্রয়োজন না পড়ায় রাস্তাঘাটে বা যেখানে সেখানে চার্জ করা যায়। ভ্রমণের সময় ব্যবহারের জন্যও এই চার্জার অধিক উপযোগী। এর সবচেয়ে ভালো দিকটি হলো বিদ্যুৎ শক্তির অপচয় কম হয় ও প্রাকৃতিক সৌরশক্তি ব্যবহৃত হয় যার ফলে খরচ অনেক কমে যায়।

৫. মটো ৩৬০- স্মার্ট ওয়াচ (Moto 360- Smart Watch):

স্মার্টফোনকে বাইরে থেকে কন্ট্রোল করা যায়  যেসকল গ্যাজেটের সাহায্যে সেগুলোর মধ্যে আরেকটি উল্লেখযোগ্য গ্যাজেট হলো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান মটোরোলার ‘মটো ৩৬০- স্মার্ট ওয়াচ’। স্মার্ট ওয়াচগুলোর মধ্যে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। স্মার্ট ওয়াচ গ্যাজেট হিসেবে খুবই কার্যকর এবং এর দ্বারা অনেক কিছু করা যায় যেগুলোর মধ্যে ফোনে আসা নোটিফিকেশন গুলো দেখা সহ বিভিন্ন অ্যাপ নিয়ন্ত্রণ করা উল্লেখযোগ্য।

এছাড়াও টেক্সট ম্যাসেজ পাঠানো, ফোন করা, ছবি তোলা, মিউজিক প্লে করা ছাড়াও আরো বেশকিছু কাজ করা যায় এই স্মার্টওয়াচের সাহায্যে। অ্যান্ড্রয়েড, আইফোন দু’ধরনের ফোনই এই ওয়াচ ব্যবহারের জন্য উপযোগী। ওয়্যারলেস চার্জিং, ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স, লাইট সেন্সরের দ্বারা লাইটের সাথে ব্রাইটনেসের সমন্বয় করা, ওয়াইফাই কানেক্টিভিটি, ইত্যাদি আকর্ষণীয় ফিচার রয়েছে মটো ৩৬০- স্মার্ট ওয়াচের।

মটো ৩৬০- স্মার্ট ওয়াচ অত্যন্ত আকর্ষণীয় একটি ডিভাইস; Image Source: theverge.com

উপরোক্ত এসকল গ্যাজেট ব্যবহার করে আপনার স্মার্টফোনকে করতে পারেন আরো বেশি স্মার্ট এবং পেতে পারেন আরো সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা।

ফিচার ছবি- gadgetsnow.com

শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় ১০ টি স্মার্ট গ্যাজেট

দৈনন্দিন জীবনের নানা কাজ সম্পন্ন করতে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন হয় বিভিন্ন সামগ্রীর। তাদের প্রধান কাজ লেখাপড়া হলেও বিনোদনসহ নানা প্রয়োজন মেটাতে তারা আরো অনেক কিছু করে থাকে। শিক্ষাজীবনটাকে সহজ, সুন্দর ও সাবলীলভাবে কাটাতে তারা ব্যবহার করতে পারে নানা ধরনের স্মার্ট গ্যাজেট।

শুধু পড়ালেখাই নয়, এসকল গ্যাজেট তাদের সাহায্য করে থাকে অন্যান্য আনুষঙ্গিক নানা কাজেও। আর এসব গ্যাজেট ব্যবহার করে সব ধরনের কাজই তারা সহজে করতে পারে। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় এরূপ ১০ টি স্মার্ট গ্যাজেট নিয়েই এ লেখাটি।

১. অ্যামাজন কিন্ডেল পেপারহোয়াইট (Amazon Kindle Paperwhite):

সত্যিকারের বই পড়ার মত আনন্দ ও অভিজ্ঞতা অ্যামাজন কিন্ডেল পেপারহোয়াইট না দিতে পারলেও এটি চেষ্টা করে কাছাকাছি যাওয়ার। আর জায়গা ও অন্যান্য সমস্যার কারণে ঘরে বই রাখা কঠিন হলেও একটি পেপারহোয়াইটে শত শত বই সংরক্ষণ করা যায় এবং যখন তখন সুবিধামত পড়া যায়।

এটি একবার চার্জ দিলে অনেকদিন চলে, হাই রেজ্যুলেশন স্ক্রিন সহজে পড়তে সাহায্য করে ও ব্যাকলাইট সুবিধার কারণে অন্ধকারেই পড়া যায়। ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ালেখার ক্ষেত্রে এটি অনেক সাহায্য করতে পারে ও একাডেমিক সব পড়াশোনা এর সাহায্যেই করা যায়। কিন্ডেলের বিভিন্ন ভার্সনের মধ্যে এটিই অন্যতম সেরা এবং অ্যামাজনে এর দাম পড়বে প্রায় ৯,৫০০ টাকা।

বই পড়ার জন্য অ্যামাজন কিন্ডেল পেপারহোয়াইট অত্যন্ত কার্যকরী;
Image Source: goodereader.com

২. বেলকিন সার্জপ্লাস ইউএসবি সুইভেল চার্জার (Belkin SurgePlus USB Swivel Charger):

ইলেকট্রিসিটি এর উঠানামা এর কারণে যেকোনো গ্যাজেটে সমস্যা হতে পারে আর এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে ব্যবহার করা যেতে পারে বেলকিনের এই স্পেশাল কর্ডলেস চার্জারটি। এতে অতিরিক্ত প্লাগ ছাড়াও রয়েছে অতিরিক্ত ইউএসবি পোর্ট সুবিধা এবং দামেও অত্যন্ত সাশ্রয়ী।

আরো রয়েছে ৩৬০ ডিগ্রি ঘূর্ণনক্ষমতা সম্পন্ন প্লাগ যার রয়েছে চারটি লকেবল পজিশন। এই চার্জারটি দেয় ৯১৬ জুল মানের ডিভাইস নিরাপত্তা, যা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট। অ্যামাজনে এর দাম পড়বে প্রায় ২৫০০ টাকা।

৩. ক্যানন ইওএস এম৬ (Canon EOS M6):

একসময় ভালো ছবি তুলতে হলে অনেক বড় ও ভারী ক্যামেরার প্রয়োজন হলেও সময়ের সাথে সাথে সহজেই এখন ছোট আকারের ডিএসএলআর ক্যামেরা দিয়ে ভালো ছবি তোলা যায়। এরকম একটি উল্লেখযোগ্য মিররলেস ক্যামেরা হলো ক্যানন ইওএস এম৬

২৪ মেগাপিক্সেল সেন্সর, ডুয়েল পিক্সেল অটোফোকাস, বিল্ট-ইন ব্লুটুথ ও ওয়াইফাই ইত্যাদির সমন্বয়ে এম৬ একটি পরিপূর্ণ প্যাকেজ, যার সাহায্যে অসাধারণ এবং ইন্সটাগ্রাম ফলোয়ারদের ব্যাপক প্রশংসা পাবার মতো ছবি তোলা যায়। এটি সহজেই ব্যাগ বা পার্সে বহন করা যায়। এর বর্তমান বাজারদর প্রায় ৭০ হাজার টাকা।

ক্যানন ইওএস এম৬ ক্যামেরা; Image Source: bhphotovideo.com

৪. এইচপি স্প্রকেট ফটো প্রিন্টার (HP Sprocket Photo Printer):

স্মার্টফোনের কারণে ছবি তোলার জন্য ক্যামেরার প্রয়োজনীয়তা দিন দিন কমে গেলেও ছবি প্রিন্ট করার জন্য প্রিন্টার এখনো ব্যাপক প্রয়োজনীয় ও প্রিন্ট করা ছবির গুরুত্বও কম নয়।

স্মার্টফোনে তোলা চকচকে ছবি যেভাবে আছে সেভাবেই প্রিন্ট করতে, অর্থাৎ একই মানের ছবি প্রিন্ট করে বের করতে এইচপি স্প্রকেট ফটো প্রিন্টারের জুড়ি নেই। আর এই প্রিন্টারের প্রিন্ট করা ছবি স্টিকারের মতোও ব্যবহার করা যায়। এর আকার ছোট হওয়ায় সহজে বহনযোগ্য। অ্যামাজনে এর দাম পড়বে প্রায় ১০,০০০ টাকা।

একটি এইচপি স্প্রকেট ফটো প্রিন্টার; Image Source: store.hp.com

৫. লজিটেক স্লিম ফলিও আইপ্যাড কীবোর্ড কেস (Logitech Slim Folio iPad Keyboard Case):

যদি আপনি আপনার আইপ্যাডটি নিয়মিত নোট নেয়া ও অন্যান্য লেখালেখির কাজে ব্যবহার করেন তাহলে আপনার প্রয়োজন হবে একটি ভালো কীবোর্ড কেস। কারো যদি সর্বশেষ ভার্সনের আইপ্যাড থাকে তাহলে তার জন্য সবচেয়ে ভালো অপশন হলো লজিটেক এর স্লিম ফলিও কীবোর্ড কেস টি।

কারণ আইওএস এর শর্টকাট কিছু ফিচার যেমন সিরি, সার্চ ইত্যাদি কী এতে রয়েছে। এর পরিবর্তনযোগ্য কয়েন সেল ব্যাটারি ৪ বছর একটানা চলতে পারে। আইওএস এর স্মার্ট কানেক্টরের সাহায্যে এটি সহজেই কানেক্টেড হয় আইপ্যাডের সাথে। ব্লুটুথ ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না। এর দাম পড়বে প্রায় ৮০০০ টাকা।

৬. মফিই পাওয়ারস্টেশন মিনি (Mophie Powerstation Mini):

ফুল চার্জ নিয়ে দিন শুরু করলেও দেখা যায় দিনের মধ্যভাগেই চার্জ শেষ আপনার স্মার্টফোনটির। স্মার্টফোনে চার্জ খুব দ্রুত ফুরিয়ে যায়। ফলে কখনো কখনো কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করার সময় এর চার্জ শেষ হয়ে যেতে পারে।

মফি পাওয়ারস্টেশন মিনি এর রয়েছে শক্তিশালি ৩০০০ এমএএইচ ব্যাটারি, যেটি ব্যবহার করে যেকোন জায়গায় সহজেই স্মার্টফোনে চার্জ দিয়ে নেয়া যায়। কাজেই স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকরী একটি ডিভাইস। এটি আকারে ছোট হওয়ায় সহজে বহনযোগ্য। অ্যামাজনে এর দাম পড়বে প্রায় ২৩০০ টাকা।

মফিই পাওয়ারস্টেশন মিনি এর সাহায্যে সহজে ফোনে চার্জ দেয়া যায়; Image Source: apple.com

৭. নাইট আইজ ফ্ল্যাশলাইট এলইডি লাইট-আপ ফ্লায়িং ডিস্ক (Nite Ize Flashlight LED Light-Up Flying Disc):

ফ্রিজবি দিয়ে খেলা সকলেরই অত্যন্ত পছন্দের হলেও সূর্য ডুবে যাওয়ার পর খেলার উপায় থাকে না। তবে এই আধুনিক এলইডি ফ্ল্যাশলাইট যুক্ত ডিস্ক দিয়ে রাতে যেমন খেলা যায়, তেমনি এনে দেয় উৎসবমুখর পরিবেশ। অ্যামাজনে এর দাম পড়বে প্রায় ২০০০ টাকা।

৮. রোকু স্ট্রিমিং স্টিক (Roku Streaming Stick):

রোকু মিডিয়া স্ট্রিমিং স্টিক হচ্ছে সবচেয়ে বেশি সোর্স থেকে সবচেয়ে বেশি শো স্ট্রিমের সুবিধা সম্পন্ন একটি ডিভাইস।এটি সহজেই যেকোনো জায়গায় বহন করে নিয়ে যাওয়া যায়। টিভি বা অন্য ডিভাইসে লাগালেই সাথে সাথে বিভিন্ন চ্যানেলের বিভিন্ন বিখ্যাত নতুন-পুরাতন শো দেখা যাবে।

হালের ‘পিকি ব্লাইন্ডার্স’ অথবা পুরাতন ‘দা ওয়্যার’ স্ট্রিম করে সহজেই দেখা যাবে এই স্ট্রিমিং ডিভাইসের সাহায্যে। ছাত্র-ছাত্রীদের বিনোদনে এটি বিশাল ভূমিকা রাখতে পারে। একটি রোকু স্ট্রিমিং স্টিকের দাম পড়বে প্রায় ৩১০০ টাকা।

৯. সিগেট ব্যাকআপ প্লাস আল্ট্রা স্লিম (Seagate Backup Plus Ultra Slim):

যারা কম্পিউটারে নিয়মিত বিভিন্ন কাজ করেন, কম্পিউটারের সামান্য ঝামেলায় তাদের সকল সমাপ্ত কিংবা অর্ধ-সমাপ্ত কাজগুলো পুরোপুরি হারিয়ে যেতে পারে। আর হারিয়ে গেলে ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা খুব ক্ষীণ।

তাই ছাত্র-ছাত্রীদের উচিত নিয়মিত তাদের কম্পিউটারের কাজ ব্যাকআপ করা। আর সিগেট ব্যাকআপ প্লাস আল্ট্রা স্লিম এরকম একটি ক্লাউড ডিভাইস যার স্টোরেজ ২ টেরাবাইট। কাজেই যেকোন বড় ফাইল এতে ব্যাকআপ হিসেবে সংরক্ষণ করলে তা আর হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকেনা। এর দাম পড়বে প্রায় ৮০০০ টাকা।

সিগেট ব্যাকআপ প্লাস আল্ট্রা স্লিম; Image Source: digitaltrends.com

১০. টেওট্রনিক্স এলইডি ডেস্ক ল্যাম্প (TaoTronics LED Desk Lamp):

টেওট্রনিক্স এলইডি ডেস্ক ল্যাম্প কেবল ল্যাম্পই নয়, এতে রয়েছে ইউএসবি পোর্ট যার সাহায্যে স্মার্টফোনে চার্জ দেয়া যায়। উজ্জ্বল ও মিটমিট আলো দেয়া ছাড়াও এর রয়েছে ৫ টি ভিন্ন রঙের আলো দেয়ার ফাংশন ও ৭ টি ভিন্ন ব্রাইটনেস মোড। অ্যামাজনে এর দাম পড়বে প্রায় ৩ হাজার টাকা।

এসকল গ্যাজেট ব্যবহার করে একজন শিক্ষার্থী সহজেই তার পড়ালেখা ও পাশাপাশি বিনোদনের জন্য প্রয়োজনীয় নানা কাজ সম্পন্ন করতে পারবে।

ফিচার ছবি- nerdsmagazine.com

লেনোভো লিজিয়ন: ভিডিও গেমারদের জন্য আদর্শ পছন্দ

লেনোভো ল্যাপটপের বাজারে খুবই পরিচিত একটি নাম। চাইনিজ মাল্টিন্যাশনাল টেকনোলোজি কোম্পানিটি প্রায় ৩০ বছর ধরে বিশ্বের বাজারে ল্যাপটপ সরবরাহ করে আসছে। লেনোভো নামটি মাথায় আসলেই ফ্লেক্সিবল, লাইট ওয়েট, এভারেজ লুকিং ল্যাপটপের ছবি মনে আসে। কিন্তু সময় যেতে যেতে লেনোভো ব্র্যান্ডও নানা বৈচিত্র্য এনেছে তাদের ল্যাপটপের ডিজাইনে, সাথে এর হার্ডওয়্যারেও। লেনোভো তাদের Yoga, Thinkpad, Ideapad সিরিজের পর বাজারে এনেছে তাদের লেনোভো লিজিয়ন নামের গেইমিং ল্যাপটপ সিরিজ।

লিজিয়ন সিরিজের লেনোভো লিজিয়ন Y540 ল্যাপটপের পর আরো আপগ্রেডেড ফিচার নিয়ে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বাজারে এসেছে লেনোভো লিজিয়ন Y740 ল্যাপটপটি।

Image Source: www.techaeris.com

প্রথমে ল্যাপটপটি দেখলে নজরে পড়বে বামপাশের লিজিয়ন লোগো, যা অন্য লেনোভোর একঘেয়ে লোগোর চেয়ে অনেক ভিন্ন। এছাড়া লিজিয়ন লেখাটির ‘Y’ অংশে আলাদা করে রয়েছে আরজিবি সাপোর্ট। ফলে ল্যাপটপ অন করার সাথে সাথে বিভিন্ন রঙে এটি জ্বলে উঠে যা ল্যাপটপটিকে একটি ইউনিক লুক দিয়েছে।

এক নজরে স্পেসিফিকেশন:

  • Processor: 8th Gen Intel core i7-8750H 6 Core Processor (2.20GHz up to 4.10GHz with Turbo Boost, 9 MB Cache)
  • Memory: 16 GB DDR4 266MHz SDRAM
  • Storage: 512 GB PCle NVMe SSD
  • Graphics: NVIDIA GeForce RTX 2060 6 GB
  • Display: 15.6’’ FHD (1920 * 1080), 72% color gamut, NVIDIA G-SYNC, 144 Hz, 300 nits, software enabled Dolby Vision HDR
  • Weight: 2.8 kg
  • Battery: 3 cells up to 5 hours.

ডিসপ্লে

১৫.৬’’ ইঞ্চি স্ক্রিনের ল্যাপটপটির প্রায় পুরো বডিটিই মেটালের (এলুমিনিয়াম)। শুধুমাত্র ব্যাকসাইডে পোর্টের অংশটিতে কিছু প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়েছে, ল্যাপটপটি এজন্য বেশ টেকসই। পুরো স্ক্রিনটিই ফুল এইচডি, সাথে ডলবি ভিসন সাপোর্ট রয়েছে। ওপরের দিকটা বর্ডারলেস হওয়ার কারণে ডিসপ্লের পুরো অংশটিই ব্যবহারকারীরা উপভোগ করতে পারবেন। যদিও এই কারণে ল্যাপটপের ওয়েবক্যামটি স্ক্রিনের নিচের অংশে রাখা হয়েছে, যার ভিউয়িং এংগেল অনেকটা অদ্ভুত মনে হতে পারে ইউজারদের কাছে।

এনভিডিয়া জি সিংক সচল থাকার কারণে ল্যাপটপটি আকর্ষণীয় ভিউইং ইফেক্টের সাথে উন্নত ফ্রেমিং রেট দেয়। ফলে এটি গেমারদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকে। পছন্দের গেমটি সর্বোচ্চ কনট্রাস্ট, ব্রাইটনেস আর কালারফুল গ্রাফিক্সের সাথে খেলতে পারা যায়। এর স্মুথ লাইফলাইক ডিসপ্লে গেমিং এবং মিডিয়া, উভয় উদ্দেশ্যই অনেক ভালোভাবে পূরণ করে।

কীবোর্ড

গেইমিং ল্যাপটপের একটি প্রধান আকর্ষন হলো এর কীবোর্ড। লিজিয়ন সিরিজের এই ল্যাপটপে পুরো ব্যাকলিট এলুমিনিয়াম সেটিং ব্যবহার করা রয়েছে। সবচেয়ে চমকপ্রদ ফিচার হলো কীবোর্ডটির আরজিবি সাপোর্ট, যার কারণে শুধুমাত্র একটি কালো অথবা সাদা রঙে নয় বরং বিভিন্ন রঙে জ্বলে উঠবে কীবোর্ডটি।

ইউজারদের ক্রিয়েটিভিটি প্রকাশের জন্য লেনোভো রেখেছে ইচ্ছামতো জোনওয়াইজ কালার কাস্টমাইজের সুযোগ। রেকট্যাংগুলার টাচপ্যাডে ব্যবহার করা হয়েছে উইন্ডোজ প্রিসিশন ড্রাইভার সাথে জেসচার কনট্রোল। তবে ট্র্যাকপ্যাডটি আরেকটু বড় হতে পারতো। যোগ করা ভালো, কীবোর্ডটি ওয়াটার রেজিস্ট্যান্ট।

Image Source: www.windowscentral.com

পোর্টস

পোর্টসের বেশিরভাগই ল্যাপটপটিতে দেওয়া হয়েছে পিছনের অংশে। এতে করে ডেস্ক অর্গানাইজেশন করতে ব্যবহারকারীর অনেক সুবিধা হয় এবং ডেস্ক পরিষ্কার থাকে। পোর্টের মধ্যে রয়েছে একটি মিনি ডিপি, এইচডিএমআই, ইথারনেট, দুটি ইউএসবি ৩.১ জেন ১, একটি এসি এডাপটার এবং একটি কেনসিন্টন লক স্লট। বাম এবং ডানপাশ মিলিয়ে রয়েছে আরেকটি ইউএসবি ৩.১ জেন ২, মাইক/অডিও কম্বো জ্যাক এবং একটি থান্ডারবোল্ট টাইপ সি পোর্ট।

দুই পাশে পোর্ট কম রাখার কারণ হচ্ছে ল্যাপটপটির উভয় পাশেই এয়ার ভেন্টিলেশন সিস্টেম রাখা হয়েছে, এখান থেকেও দেখা যায় নানা রঙের ছটা। যা ল্যাপটপটিকে অনেক আকর্ষণীয় করেছে। এছাড়াও ল্যাপটপটির বটমে হানিকম্ব এয়ার ভেন্টিলেশন সিস্টেম রয়েছে।

গ্রাফিক্স

গ্রেটার পারফরমেন্সের লক্ষ্যে লেনোভো এই ল্যাপটপটিতে ব্যবহার করেছে হেক্সা কোর প্রসেসর, সাথে এনভিডিয়ার আরটিএক্স (জিটিএক্স এর পরের লেটেস্ট ভার্সন) ২০৬০, ম্যাক্স কিউ গ্রাফিক্স কার্ড গেমারদের চাহিদাকে সর্বসাকুল্যে মেটাতে পারবে। এনভিডিয়া জি সিংক সাপোর্ট ভিউকে করবে আরো স্মুথ। কুলিং সিস্টেম, পাওয়ার কনট্রোল সেটিং, রিয়েল টাইম ডিভাইস পারফরমেন্স, গ্রাফিক্স সব মিলিয়েই ব্যবহারকারীর গেমিংকে নিয়ে যাবে নেক্সট লেভেলে।

ব্যাটারি

ল্যাপটপটির ব্যাটারি মাত্র ৫৭ ওয়াট আওয়ার, যা তুলনামূলকভাবে অন্যান্য ল্যাপটপের থেকে অনেক কম। ব্যাটারি ব্যাক-আপ মোটামুটি ৫ ঘন্টার হলেও হেভি ইউজের ক্ষেত্রে মাত্র ৩ ঘন্টার মতো ব্যাক আপ পাওয়া যায়। কিন্তু হাইব্রিড সিস্টেম থাকার কারণে চাইলে এনভিডিয়া জি সিংক অপশনটি ডিজেবল করা যাবে, যার ফলে ব্যাটারি ব্যাক আপ আরো কিছুক্ষণ বেশি পাওয়া সম্ভব।

বর্তমান ল্যাপটপগুলোর তুলনায় এ ল্যাপটপটির বিশাল সাইজের চার্জিং এডাপটারটি (২৩০ ওয়াট) বেশ ভারী। ফলে এডাপটারটি ব্যাগে ক্যারি করা কিছুটা কষ্টসাধ্য।

ওয়েট

গেইমিং ল্যাপটপ ক্যাজুয়াল ব্যবহারের ল্যাপটপের চেয়ে ভারীই হয়ে থাকে। লেনোভো লিজিয়ন Y740-এর ওজন ২.৮ কেজির কাছাকাছি। সাথে চার্জিং এডাপটার ক্যারি করলে ওজন দাঁড়ায় প্রায় ৩.৩ কেজি, যা তুলনামুলক হেভি মনে হতে পারে। ল্যাপটপটির বাজার মূল্য ১ লক্ষ ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ ৬৫ হাজারের মধ্যে। কিছু সময় গেলে বাজারে এর দাম কিছুটা কমে আসবে।

এনভিডিয়া আরটিএক্স গ্রাফিক্স, ফুল এইচডি ডিসপ্লে, ডলবি অডিও, হেক্সা কোর সবমিলিয়ে পাওয়ারফুল এই ল্যাপটপটি হয়ে যেতে পারে ব্যবহারকারীর গেমিং ডেস্কটপের অলটারনেটিভ। যারা রেগুলার ইউজের জন্য একটি, আবার গেমের জন্য আরেকটি ল্যাপটপ ব্যবহার করেন তাদের ক্ষেত্রে লেনোভো লিজিয়ন Y740 ল্যাপটপটি হবে টু ইন ওয়ান কম্পেটিবল।

ফিচার ছবি- digitaltrends.com

এইচপি স্পেকট্রা এক্স: সাশ্রয়ী মূল্যে চমৎকার একটি ল্যাপটপ

বছরের পর বছর টেকনোলজির বাজারে ল্যাপটপের চাহিদা কোনো অংশেই কমছে না। বরং ব্যবহারকারীদের চাহিদার সাথে পাল্লা দিয়ে বাজারে বিভিন্ন ল্যাপটপ কোম্পানিগুলো একের পর এক যুক্ত করছে দারুন সব ফিচার।

সময়ের সাথে বিভিন্ন ল্যাপটপ ব্র্যান্ড এ প্রতিযোগিতায় যোগ হলেও আমেরিকান কোম্পানি এইচপি (হিউলেট-প্যাকার্ড) ল্যাপটপের বাজারে সেরাদের মুকুট এখনো ধরে রাখতে পেরেছে। চাহিদার কথা মাথায় রেখে ক্রোমবুক, নোটবুক, প্রোবুক, প্যাভিলিয়ন, এলিটবুক, স্পেকট্রা, এনভি, ওমেন, ইত্যাদির মতো দুর্দান্ত সিরিজের ল্যাপটপগুলো বাজার দখল রেখেছে। ২০১৯ সালের এক জরিপে পপুলার সব ল্যাপটপ ব্যান্ডের মধ্যে (৮৬/১০০) পয়েন্ট নিয়ে ১ম স্থানে রয়েছে এইচপি!

এইচপি ব্যান্ডের স্প্রেকট্রা এক্স৩৬০ ১৩, ২০১৯ (এইচপি Spectre x360 13, 2019) সিরিজের ল্যাপটপটির রিভিউ করবো আজ।

 Image Source: computermania.com.bd

এটি ‘টু ইন ওয়ান’যেটি একই সাথে কাজ করবে ল্যাপটপের মতো আবার ট্যাবলেটের মতো। টেবিলে বা ডেসকে ব্যবহারযোগ্য ল্যাপটপ তো দেখা যায় সেই ল্যাপটপের সূচনালগ্ন থেকেই, কিন্তু এইচপি স্পেকট্রা সিরিজের ল্যাপটপটি ৩৬০ ডিগ্রী এংগ্যালে ঘুরিয়ে ট্যাবলেটের মতোও ব্যবহার করা সম্ভব, যা এটিকে ট্রাভেল উপযোগী ল্যাপটপের ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করে।

এইচপি ব্র্যান্ডের এই ল্যাপটপটি সরাসরি ল্যাপটপ মোড থেকে ট্যাবলেট মোডে চলে যায় শুধুমাত্র এর স্ক্রিনটিকে ভাঁজ করার মাধ্যমে। ভাঁজ করার পর ল্যাপটপের কীবোর্ডটি চলে যায় ল্যাপটপের পেছনে। তখন এখানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইউজেবিলিটির ইস্যুটি চলে আসে। আকর্ষণীয় এই ফিচারটি অন্যান্য ব্র্যান্ড আনার চেষ্টা করলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা ভালো কাজ দেখাতে সমর্থ হয়নি।

এইচপি একটি দুর্দান্ত ডিজাইনের মাধ্যমে ফিচারটি সফলতার সাথেই এক্সপেট্রা সিরিজের আওতায় এনেছে। তাই প্রিমিয়াম ইউজারদের পছন্দের তালিকায় বেশ জনপ্রিয় এইচপি স্পেকট্রা এক্স ৩৬০ ল্যাপটপটি।

২০১৯-এ এইচপি এ সিরিজে একটি নতুন রিফ্রেশ ভার্সন এনেছে, যাকে তারা বলছে জেম কাট ডিজাইন।মানে ল্যাপটপটিতে থাকছে ডায়মন্ড কাট আকৃতির ডিজাইন।এই ল্যাপটপটি ১৩.৩” ইঞ্চি সাইজে পাওয়া যাবে। হাতে ভাঁজ করে ট্যাবলেট মোড ব্যবহারের ব্যাপার থাকে। তাই ১৩.৩” ইঞ্চির ডিসপ্লে ব্যবহারের দিক থেকে অনেক সুবিধাজনক। ডার্ক নেভি ব্লু,গোল্ডেন ওসিলভার কালারে ল্যাপটপটি পাওয়া যায়।

  Image Source: Neowin.com

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক স্পেসিফিকেশনগুলো:

  • Processor: 8th Gen Intel Core i5 or i7-8565U (Quad Core, 4MB Cache, up to 4.6 GHz)
  • Graphics: Intel UHD Graphics 620
  • RAM: 8 or 16 GB DDR4
  • Storage: 256 or 512GB SSD (PCle, NVMe, M.2)
  • Display: 13.3 inch FHD (1920*1080) Touch panel (WLED,IPS) or 4K OLED
  • Webcam: এইচপি True Vision FHD IR Webcam
  • Weight: 1.33 kg

শুরু করা যাক কীবোর্ড দিয়ে। ল্যাপটপের কীবোর্ডটি দেখতে যেমন সুন্দর, কাজেও ভীষণ ভালো। ব্যাকলিট ফ্যাসিলিটি রয়েছে, যা কম আলোতে বা অন্ধকারে টাইপিং এর জন্য খুবই সুবিধাজনক। এছাড়া কীবোর্ডের লে-আউট, স্পেসিং দু’টিই বেশ ভালো। বাটনগুলোর স্লিক ডিজাইন কীবোর্ডটিকে অনেকটাই ক্লাসি লুক দিয়েছে। আর রেকট্যাংগুলার টাচপ্যাড যেকোনো স্কয়ার সাইজ টাচপ্যাডের চেয়ে উপযোগী।

ল্যাপটপটিতে একই সাথে হ্যালো-কমপেটিবল ফেসিয়াল অথেনটিকেশন এবং হ্যালো-কমপেটিবল ফিংগার প্রিন্ট স্ক্যানার অথেনটিকেশনের সুযোগ রয়েছে। বলতেই হয় সিকিউরিটির কথা মাথায় রেখে এইচপি অনেক দারুন ফিচার যুক্ত করেছে এই ল্যাপটপে।

এছাড়াও এইচপি এর সিগনেচার ফিচার ‘কিল সুইচ’ বাড়তি সিকিউরিটি প্রদান করবে ব্যাবহারকারীকে। কেননা এই সুইচ চালু করলেই ক্যামেরার সাথে পাওয়ার বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে সাথেসাথে। ফলে কোনোভাবেই ওয়েবক্যাম হ্যাক করার সুযোগ থাকে না। তাই অযথাই হ্যাক হয়ে যাওয়ার ভয়ে অকারণে ওয়েবক্যামে স্টিকার, টেপ ইউজ করার চিন্তা করতে হয় না।

আধুনিক ডিজাইনের পাশাপাশি পোর্টেও কিছু নতুনত্ব থাকছে। জেম কাটের একপাশে রয়েছে একটি পাওয়ার বাটন এবং অপর পাশে রয়েছে একটি ৩.০ ইউএসবি পোর্ট (থান্ডারবোল্ট), যা দিয়ে ল্যাপটপে চার্জ দেওয়া যাবে। বডির ডানপাশে রয়েছে আরো একটি থান্ডারবোল্ট ৩ পোর্ট, একটি ৩.৫ মি.মি. হেডফোন জ্যাক, একটি মাইক্রো এসডি কার্ড স্লট এবং বামপাশে একটি ফুল সাইজ ইউএসবি টাইপ ‘এ’ পোর্ট রয়েছে।  

পেছনে এয়ার ভেনটিলেশন সিস্টেম রয়েছে, যা সহজেই ল্যাপটপের টেমপারেচার নিয়ন্ত্রনে রাখবে। ল্যাপটপ ব্যাবহারকারীদের সাউন্ড নিয়ে একটি সাধারণ অভিযোগ থেকে যায়, কিন্তু স্পেকট্রা ১৩-তে B&O সাউন্ড সিস্টেম, কীবোর্ডের উপরে দুইটি এবং নিচের দুই পাশে দুইটি, মোট চারটি স্পিকার রয়েছে। এজন্য অনেক ক্ষেত্রে সাউন্ড লাউডও মনে হতে পারে।

Image Source: theverge.com

ট্যাবলেট মোডে টাচের সুবিধার জন্য ল্যাপটপটির সাথে রয়েছে একটি স্টাইলাস। এটি দিয়ে দারুনভাবে নোট, ডিজাইন, ছবি আঁকা সহ আরো নানা কাজ করা যায়। এটি সারফেস বুকের স্টাইলাসের মতোই অনেকটা।  

ল্যাপটপটির গেমিং পারফরমেন্স খুব একটা সিগনিফিকেন্ট বলা যায় না। লাইট গেইম রিজনেবল ফ্রেমরেটে চললেও, দুর্দান্ত কিছু না। কেননা Intel UHD 620  কোনো গেইমিং GPU না। কিন্তু গ্রাফিক্স রিলেটেড কাজ, এডিটিং অনায়াসেই করে ফেলা যাবে এর মাধ্যমে।

ব্যাটারি ব্যাকআপের দিক থেকেও ল্যাপটপটি টপকে গেছে বাকি অনেক ল্যাপটপকে। এইচপি এর অফিসিয়াল সাইট অনুযায়ী এই ল্যাপটপের ব্যাক আপ প্রায় ২১ ঘন্টার কাছাকাছি। এই সিরিজের ল্যাপটপের দাম ১ লক্ষ ১০ হাজার থেকে ১ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।

এইচপি বরাবরই তাদের ব্যবহারকারীদের চাহিদা পূরণের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। এজন্য বাজারে ২০১৯ এর লেট ভার্সনে স্পেকট্রা এক্স ৩৬০ সিরিজে তারা ফোর কে (4K OLED) ডিসপ্লে যুক্ত করেছে। এছাড়াও ট্যাকপ্যাডে মাইক্রোসফট প্রিসিশন ড্রাইভার এবং মাইক্রো ব্যাজেলস যুক্ত করে এইচপি প্রমাণ করে দিয়েছে ব্যবহারকারীদের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা। তাই বাজারে বেস্ট টু ইন ওয়ান কনভার্টেবল ল্যাপটপের খেতাবও পেতে চলেছে এইচপি Spectre x360 13 2019 ল্যাপটপটি।

ফিচার ছবি- store.hp.com

অ্যালেক্সা বনাম গুগল হোম: কোনটি অধিক ব্যবহার উপযোগী?

আয়রনম্যান মুভি তে আয়রনম্যানের ‘জার্ভিস’ নামক  আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যাসিস্ট্যান্ট কে দেখে সবারই হয়তো মনে হয়েছে এমন একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট থাকলে মন্দ হতো না! নানা উন্নত প্রযুক্তি এবং অ্যান্ড্রয়েড ও অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেম ভিত্তিক স্মার্টফোনসহ অন্যান্য ছোট ডিভাইস আবিষ্কারের পরপরই ধারণা আসে স্মার্ট হোম ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্টের। আর এমন একটি সহকারী যেকারো বাসস্থানকে এনে দিতে পারে গতিশীলতা।

অ্যালেক্সা ও ইকো; Image Source: pcmag.com

শুধু মুখে যেকোনো কিছুর ভয়েস ইন্সট্রাকশন দেয়া মাত্রই সেই কাজ করে হোম ভয়েস এসিস্ট্যান্ট। এগুলো সম্পূর্ণরূপে প্রযুক্তিভিত্তিক এবং ঘরের সকল ইলেক্ট্রনিক গ্যাজেটের সাথে কানেক্টেড থাকে। আর কানেক্টেড থাকায় কোনোরকম সংস্পর্শ ছাড়াই মুখে আদেশ দিয়ে এসকল গ্যাজেট কে বিভিন্ন কাজের নির্দেশনা দেয়া যায়, বিভিন্ন বিষয় জানতে চাওয়া যায় এদের কাছে।

বিভিন্ন ধরনের অপারেটিং সিস্টেম বিভিন্ন অ্যাসিস্ট্যান্ট বাজারে আনছে বর্তমানে, তার মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় দুটি স্মার্ট হোম অ্যাসিস্ট্যান্ট হলো ‘অ্যামাজন ইকো’’ বা ‘অ্যালেক্সা’ এবং ‘গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট’ বা ‘গুগল হোম’। এই দুটির তারতম্য নিয়েই আলোচনা করবো আজ।

অ্যামাজন ইকো এবং গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট উভয়েই অত্যন্ত আধুনিক ও উন্নতমানের। এ দুটোরই বেশ কিছু স্বতন্ত্র ফিচার রয়েছে। অ্যালেক্সা’র যেমন একাধিক ‘ওয়েক ওয়ার্ড বা ফ্রেজ’ রয়েছে, আবার অন্যদিকে গুগল হোমের রয়েছে ইচ্ছামতো নিজস্ব মিউজিক তৈরি করে ক্লাউডে আপলোড করার সুবিধা।

Image Source: pcmag.com

অ্যালেক্সা এর কনফিগারেশন, ইনফর্মেশন সোর্স, থার্ড পার্টির সাথে কানেক্টিভিটি অপেক্ষাকৃত অনেক বেশি। কিন্তু এটি ব্যবহার একটু। কঠিন কারণ নির্দিষ্ট শব্দগুচ্ছ মনে রেখে এগুলো ব্যবহার করে বারবার নির্দেশ দিতে হয়। অন্যদিকে গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট ব্যবহার সহজতর, ঝামেলা কম এবং সহজে বিভিন্ন নতুন বিষয়ের সাথে মানিয়ে নিতে পারে। গুগলের স্পিকার গুলোর সাউন্ড অপেক্ষাকৃত উন্নত, কিন্তু ইকোও এ বিষয়ে দিন দিন উন্নতি করছে।

অ্যামাজন ইকো এর সর্বশেষ ভার্সনটি দেখতে অনেক বেশী চিত্তাকর্ষক। এটি ৬ ইঞ্চি লম্বা একটি মোটা ও খাটো সিলিন্ডার, যা ঘরের ডিজাইনের সাথে সুন্দরভাবে মানিয়ে যাওয়ার জন্য কাঠের অথবা বিভিন্ন রঙের কাপড়ে মোরা থাকে। এর দুটি বাটন রয়েছে যার একটি দিয়ে মাইক্রোফোন অফ করা হয়, অন্যটি দিয়ে বেশ কয়েকটি কাজ করা যায়। অ্যালেক্সা অ্যাক্টিভেটেড হলে এর উপরের অংশের ভলিউম রিংয়ে লাইট জ্বলে।

Image Source: theverge.com

অন্যদিকে গুগল হোম দেখতে সাদা এবং ৫.৬ ইঞ্চি লম্বা ও ৩.৮ ইঞ্চি ব্যাস যুক্ত। সাতটি ভিন্ন রঙের ধাতব বেজ ও পরিবর্তনযোগ্য কাপড় লাগানো থাকে এতে। গুগল হোমের নন্দনতত্ত্বের অনুপ্রেরণা এসেছে মোমবাতি ও ওয়াইন গ্লাসের ডিজাইন থেকে, যার ফলে এর উপরের অংশ মসৃণ, শক্ত প্লাস্টিকে তৈরি যাতে চারটি ভিন্ন রঙের এলইডি লাইট জ্বলে, যখন এটি কথা শুনতে থাকে।

এতে টাচ ইন্টারফেস রয়েছে যা দিয়ে ভলিউম চেঞ্জ, মিউজিক প্লে বা পজ এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাক্টিভেট করা যায়। এর সাথে রয়েছে একটি মিউট বাটন। দুটির ডিজাইন কাছাকাছি প্রকৃতির হলেও অ্যালেক্সা’র ডিজাইন বেশ ঘরোয়া প্রকৃতির। কারণ, এর রঙ ঘরের ডিজাইনের সাথে সহজে মিশে যেতে পারে গুগল হোমের তুলনায়। অন্যদিকে গুগল হোমে বেশি জোর দেয়া হয়েছে নন্দনতত্ত্বে।

অ্যালেক্সা ও গুগল হোমের  স্মার্ট হোম ব্র‍্যান্ড পার্থক্য অনেক কমে এসেছে। ‘ব্লিংক’ ও ‘রিং’ এর মালিকানা অ্যামাজনের, তাই এ দুটি শুধু অ্যালেক্সায় কাজ করে। আর ‘নেট’ এর মালিকানা গুগলের হওয়ায় নেট অ্যালেক্সার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করছে।

এ দুটি হোম অ্যাসিস্ট্যান্টই বাসার সবগুলো রুমের বিভিন্ন ডিভাইসের মধ্যে কানেকশন স্থাপন করে থাকে এবং শুধু ভয়েস নির্দেশনা নিয়েই এসকল ডিভাইস কন্ট্রোল করা যায়। যেমন- যেকোনো রুম থেকে লিভিং রুমের সবগুলো লাইট জ্বালিয়ে দেয়া যাবে। আর রুটিন সেট করে রাখা যায়, যাতে একাধিক কাজ একটি নির্দেশনার মাধ্যমে সম্পন্ন করা যায়।

Image Source: techcrunch.com

টেলিভিশনের সাথে গুগল হোম ও অ্যালেক্সা উভয়েই কানেক্ট করে এবং শুধু ভয়েস নির্দেশের মাধ্যমেই টিভি চালানো ছাড়াও নেটফ্লিক্স, হুলু ইত্যাদি চ্যানেল চালু করা যায়। তবে গুগল হোমের একটু সুবিধা বেশি ইউটিউব গুগলের মালিকানাধীন হওয়াতে, যে কারণে অ্যালেক্সা ইউটিউব প্লে করতে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়।

এই দুটি অ্যাসিস্ট্যান্টই ওয়াইফাই কানেকশনের সাহায্যে চললেও ইকো এর ওয়াইফাই কানেক্টিভিটি পাওয়ার তুলনামূলক বেশি। কারণ, হোম দুর্বল সিগন্যাল ধরতে পারে না তেমন। অ্যালেক্সা তে বিভিন্ন থার্ড পার্টি স্কিলস রয়েছে, যেমন- লোকাল বাস সিস্টেম, খেলাধুলার পরিসংখ্যান ইত্যাদি জানা। গুগলের এসব স্কিল কম হলেও বেশি আকর্ষণীয়, যেমন- ডমিনোস থেকে খাবার অর্ডার করা অথবা উবার থেকে গাড়ি কল করা ইত্যাদি।

এছাড়াও গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট ও অ্যালেক্সা উভয়ের সাহায্যেই যেকোনো জায়গায় ফোন করা যায়। অন্যদিকে, গুগল হোম ইনকামিং কল রিসিভিং সাপোর্ট না করলেও ইকো ডিভাইস থেকে আসা ফোনকল রিসিভ করা যায় অ্যালেক্সার সাহায্যে। ইকো কানেক্ট বক্স ব্যবহার করলে এটি হোম লাইন এর ফোনকল রিসিভ করতে পারে। আর দুটি অ্যাসিস্ট্যান্টেই ভয়েস রিকগনিশন রয়েছে। ফলে ভিন্ন ভিন্ন মানুষের ভয়েস শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একাউন্ট সুইচ করতে পারে এরা।

ভয়েস এক্টিভেশন কন্ট্রোল দুটি অ্যাসিস্ট্যান্টেই ব্যবহৃত হয়। কিন্তু ইকো তে শুধু নারী ভয়েস থাকলেও গুগল হোমে নারী-পুরুষ উভয় কণ্ঠই রয়েছে। যতগুলো হোম স্মার্ট ডিভাইস রয়েছে সবগুলো কন্ট্রোলের পাশাপাশি ইচ্ছামতো মিউজিক প্লে অথবা  অনলাইন সার্চ করা যায়।

এছাড়াও এদের কিছু ওয়েক আপ বা এক্টিভেশন ওয়ার্ড রয়েছে। অ্যালেক্সা ‘অ্যামাজন’, ‘ইকো’, ‘অ্যালেক্সা’ ইত্যাদি সাপোর্ট করলেও গুগল শুধু ‘হেই গুগল’ বললেই সাড়া দেয়। আবার অনলাইন সার্চের ক্ষেত্রে গুগল হোম অনেক এগিয়ে। কারণ, যেকোনো সার্চে গুগলের বিশাল তথ্যভান্ডার থেকে হোম তথ্য সরবরাহ করে, যেখানে অ্যালেক্সা মূলত উইকিপিডিয়ার উপরই নির্ভর করে থাকে।

হোমে ইচ্ছামতো শব্দ ব্যবহার করে কনভার্সেশন ও অনুসন্ধান করা গেলেও অ্যালেক্সা তে কিছু নির্দিষ্ট সেটের বাইরে শব্দ ব্যবহার করা যায়না। অন্যথায় সঠিক ফল পাওয়া যায়না। দুটিরই শব্দের বানান বলে দেয়া, খবর পড়িয়ে শোনানো, টাইমার সেট করা ইত্যাদি করলেও হোমের সাথে কথোপোকথন বেশি করা যায়। তবে অ্যালেক্সা শপিং বিষয়ক যেকোনো তথ্য দেয়ার ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে রয়েছে।

সাউন্ড সিস্টেমের ক্ষেত্রে ইকো ও হোম উভয়েই উন্নত হলেও হোমের সাউন্ড বেশি জোরালো। এবং উভয়েই স্পটিফাই, প্যান্ডোরা সহ অনেক মিউজিক স্ট্রিমিং সাইট সাপোর্ট করে এবং উভয়ের আলাদা এক্সক্লুসিভ সাইট রয়েছে। হোমে নিজস্ব মিউজিক ক্লাউডে আপলোড করার সুবিধা থাকলেও ইকো তে সেই সুবিধা নেই। আবার ইকো তে এক্সটারনাল স্পিকার লাগানো গেলেও হোমে সেই সুবিধা নেই।

অ্যালেক্সা ও গুগল হোম উভয়েরই বৈশিষ্ট্য পর্যালোচনা করে দেখা যায় উভয়েরই বেশ ভালো কিছু দিক রয়েছে এবং বিভিন্ন বিষয়ে এরা একে অপরের তুলনায় এগিয়ে। কাজেই এরা একটি অপরটির চেয়ে তেমন পিছিয়ে নেই। ব্যবহারকারী তার প্রয়োজনমাফিক মূল চাহিদার উপর জোর দিয়ে যেকোনো একটি বেছে নিতে পারেন নির্দ্বিধায়।

ফিচার ছবি- pcmag.com

রান্নার কাজ সহজ করতে ৫ টি বিশেষ কিচেন গ্যাজেট

দৈনন্দিন জীবনের যেকোনো কাজকে সহজ করতে আমরা ব্যবহার করে থাকি নানা ধরনের গ্যাজেট। বাসায় ও বাসার বাইরে আমরা কাজের সুবিধার্থে সাহায্য নিই নানা প্রযুক্তির তথা গ্যাজেটের। ফলে আমাদের জীবন হয়েছে আগের চেয়ে অনেক সহজ ও সুন্দর, কারণ পূর্বে যেকোনো ছোটখাটো কাজ করতেও মানুষকে দিতে হতো অনেক শ্রম ও সময়। কাজেই শ্রম ও সময় দুটোই কমিয়ে দিয়ে বিভিন্ন কাজের ঝামেলা হ্রাস করার মাধ্যমে মানুষের জীবনকে অধিক কর্মক্ষম করে দিয়েছে নানা ধরনের স্মার্ট যন্ত্রপাতি বা গ্যাজেট।

আমাদের সকল গৃহস্থালির অন্যতম প্রধান একটি কাজ হলো রান্না করা। বেশিরভাগ মানুষই পছন্দ করে বাইরে কোথাও খাওয়ার চেয়ে বাসায় রান্না করে খাওয়াদাওয়া করতে। আর বাসায় রান্না করে খাওয়া দাওয়া করতে প্রয়োজন হয় নানা সামগ্রীর। এই সামগ্রী বলতে যে শুধু যা রান্না করতে প্রয়োজনীয় স্টোভ, হাড়ি-পাতিল, প্লেট-বাটি এসব বোঝায় তা নয়। কিচেনের  যাবতীয় কাজকর্ম সহজ, কম শ্রম ও সময়সাপেক্ষ করতে ব্যবহৃত হয় নানা টুলস বা গ্যাজেটস।

আমরা শাকসবজি ও অন্যান্য জিনিস কাটা, রান্না চলার সময় স্টোভের উপর খাদ্যবস্তু কে নাড়াচাড়া করতে নানা সামগ্রী ব্যবহার করি। কিন্তু আবহমান কাল ধরে যেসকল সনাতন সামগ্রী ব্যবহৃত হয়ে আসছে সেগুলো ব্যবহার যেমন অধিক শ্রম ও সময় সাপেক্ষ, তেমনি কাজও হয়ে যায় কঠিনতর।

তাই রান্নাবান্নার নানা কাজকে সহজ ও দ্রুততর করতে ব্যবহৃত হয় বিভিন্ন টুল বা কিচেন গ্যাজেট, যেমন- সিলিকন স্প্যাচুলা, ম্যান্ডোলিন বা ভেজিটেবল কাটার, এগ বিটার, চিজ স্লাইসার, রোস্ট লিফটার, রোস্ট র‍্যাক, বারবিকিউ চুলা, জুসার মেশিন, টোস্টার মেশিন, ফ্রুট জ্যামার, ইত্যাদি। নিচে এমন ৫ টি কিচেন গ্যাজেটের তালিকা দেয়া হলো যা কুকিং বা রান্না বিষয়ক কাজকে করবে সহজ ও দ্রুত।

১. ডাবল ব্লেডেড চিজ গ্রেটার (Double-Bladed Cheese Grater):

চিজ বা পনির আমাদের অনেকেরই খুব পছন্দের একটি খাদ্যসামগ্রী। বিভিন্ন ধরনের সুস্বাদু খাবার তৈরি করতে আমরা পনির ব্যবহার করে থাকি কমবেশি। আর চিজ বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। এগুলোর মধ্যে কিছু চিজ রয়েছে যেগুলো কে কেটে কেটে বা গুড়ো গুড়ো করে ব্যবহার করতে হয়। আর এই চিজ বা পনিরগুলো কিন্তু চাইলেই ইচ্ছামতো যেকোনো কিছু দিয়ে কাটা বা গুড়া করা যায় না।

চিজ গ্রেটার; Image Source: delish.com

চিজ কাটার জন্য ব্যবহৃত হয় নানা ধরনের কাটার। আর এসব কাটারের মধ্যে অন্যতম সেরা ও জনপ্রিয় কাটার হলো বিখ্যাত অ্যাওয়ার্ড উইনিং ব্র্যান্ড ‘অক্সো’ এর ‘ডাবল ব্লেডেড চিজ গ্রেটার’।

সাধারণত যেসকল গ্রেটার বাজারে পাওয়া যায় সেগুলো একমুখী হয়ে থাকে এবং একদিকেই কাটা যায়। কিন্তু অক্সো এর এই ডাবল ব্লেডেড গ্রেটারে দুদিকে ব্লেড থাকায় সহজেই দুদিকে চিজ কাটা যায়। উপর-নিচ করে চিজ কে খুব কম সময়ে ও আরামে কোনোরকম ঝামেলা ছাড়াই গুড়ো গুড়ো করে ফেলা যায় এই গ্যাজেট টি দিয়ে। অনলাইন শপিং সাইট আমাজনে এটি পাওয়া যাবে এবং এর দাম পড়বে প্রায় ১৪০০-১৫০০ টাকার মতো।

২. ম্যান্ডোলিন (Mandolin):

শাকসবজি কাটতে আমরা ছুরি, বটিসহ নানা ধরনের কাটার ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু এগুলো দিয়ে কাটার সময় পছন্দমতো নির্দিষ্ট শেপে কাটতে হলে অনেক কসরত করতে হয়। তারপরও সঠিক আকারে কাটা যায় না।

ম্যান্ডোলিন; Image Source: aliexpress

ম্যান্ডোলিন হলো ভেজিটেবল/ফ্রুট স্লাইসার পরিবারের এমন এক সদস্য, যেটি দিয়ে অনেক সহজে সুন্দর করে কম সময়ে সবকিছু কাটা যায়। টমেটোর চিকন স্লাইস করতে, বা শসা-গাজর ছোট  করে কাটতে ম্যান্ডোলিনের জুড়ি নেই। এই বিশেষ কাটারটির বৈচিত্র্যের কারণে কম সময়ে, সুন্দর করে সবকিছু কাটা যায়। অনলাইন শপিং সাইট আমাজনে এটি পাওয়া যাবে এবং এর দাম পড়বে প্রায় ৩১০০-৩২০০ টাকা।

৩. মাইক্রোপ্লেন (Microplane):

মাইক্রোপ্লেন হলো কাটার পরিবারের আরেক সদস্য যেটির সাহায্যে শাকসবজি অথবা যেকোনো কিছু খুব সহজে প্লেইন করে অথবা সমান করে কাটা যায়। এটি আকারে ছোট, ওজনে অন্য যেকোনো কাটার বা গ্রেটারের চেয়ে অধিক হালকা। তাই এটি দিয়ে সহজে ও আরামে যেকোনো কিছু কাটা যায়। অনলাইন শপিং সাইট আমাজন ডটকমে এর দাম পড়বে প্রায় ৮০০-৯০০ টাকার মতো।

মাইক্রোপ্লেন; Image Source: knivesandtools.com

৪. সিলিকন স্প্যাচুলা (Silicone Spatula):

স্টোভের উপর রান্নারত অবস্থায় খাবার নাড়াচাড়া করতে আমরা নানাধরনের সামগ্রী ব্যবহার করি যেগুলো মূলত স্প্যাচুলা নামে পরিচিত। তবে বেশিরভাগ স্প্যাচুলা বানানো হয়ে থাকে নিম্ন মানের তাপ প্রতিরোধক যেমন রাবার, কাঠ ইত্যাদি দিয়ে। যার ফলে বিপদের আশঙ্কা থাকে এবং নানা ধরণের দুর্ঘটনাও ঘটে থাকে। রাবার বেশি তাপে গলে যায়, কাঠের স্প্যাচুলা পরিষ্কার করা কঠিন।

কিন্তু সিলিকনের তৈরি স্প্যাচুলা যেমন ব্যবহার সহজ, তেমনি উচ্চ মানের তাপ প্রতিরোধকও। ফলে এটি কোন প্রকার ঝামেলা ছাড়াই নিরাপদে ব্যবহার করা যায়। আমাজনে একটি সিলিকন স্প্যাচুলার দাম পড়বে প্রায় ৫৫০-৬০০ টাকা।

৫. জিগ-জ্যাগ কর্ক স্ক্রু (Zig-Zag Corkscrew):

কর্ক স্ক্রু মূলত বোতলের কর্ক খুলতে ব্যবহৃত হয়। কেউ যদি ক্লাসিক উপায়ে বোতলের কর্ক খুলতে পছন্দ করেন তাহলে একটি জিগ জ্যাগ কর্ক স্ক্রু তার জন্য আদর্শ। কোনো বোতলের কর্কের উপর স্ক্রুটি ঢুকিয়ে হাতল টান দিলে কর্ক টি সুন্দরভাবে খুলে যায়। অনলাইন শপিং সাইট আমাজনে একটি জিগজ্যাগ কর্কস্ক্রুর দাম পড়বে প্রায় ২৪০০-২৫০০ টাকার মতো।

জিগজ্যাগ কর্কস্ক্রু; Image Source: pinterest.com

দৈনন্দিন কিচেনের কাজ সহজ করতে এমন আরো অনেক গ্যাজেটস রয়েছে। সারাদিন কাজের পর বাসায় ফিরে নারী পুরুষ কারোই বেশি ঝামেলার মধ্যে গিয়ে কষ্ট করে রান্না করতে ইচ্ছা করে না। এসব গ্যাজেট অথবা টুলস ব্যবহার করলে রান্নাবান্না হবে সহজ ও আরামদায়ক।

ফিচার ছবি- howtohome.com

৫টি সাশ্রয়ী মূল্যের ল্যাপটপের রিভিউ

ল্যাপটপ হলো বহনযোগ্য ব্যক্তিগত কম্পিউটার। ব্যবহারকারীদের জন্য জনপ্রিয় ও প্রয়োজনীয় এক যন্ত্র এটি। স্মার্টফোনের রাজত্বে ল্যাপটপ এখনো তার প্রতাপ ঠিকই ধরে রেখেছে। সেজন্যই বাজারে সাশ্রয়ী মূল্যের ল্যাপটপগুলোর চাহিদা কম নয়।

প্রাত্যহিক জীবনের বিভিন্ন প্রয়োজনে বাজেট ল্যাপটপ ব্যবহার করে দারুণভাবে কাজ চালিয়ে নেওয়া যায়। তাই অফিস কিংবা পড়ালেখার কাজে বাজেট ল্যাপটপের জুড়ি নেই। এইচডি ডিসপ্লে, সহজে ব্যবহারযোগ্য হ্যান্ডি কিবোর্ড, লং লাস্টিং ব্যাটারি লাইফ, স্টোরেজ আর মাঝারি শক্তির প্রোসেসর ও র‍্যামে তৈরি হয় বাজেট ল্যাপটপের রেসিপি। এরকমই ৫টি সাশ্রয়ী মূল্যের ল্যাপটপ নিয়ে সাজানো হয়েছে এ লেখাটি।

১) Asus Vivobook X510UA (8th Gen Core i3):

যাদের ল্যাপটপের ক্ষেত্রে একটু বড় ডিসপ্লে পছন্দ, তাদের জন্য এই ল্যাপটপটি অনেকটাই যুতসই। ল্যাপটপটিতে রয়েছে ফুল এইচডি ১৫.৬’’ ইঞ্চি ডিসপ্লে। সাম্প্রতিক সময়ের চাহিদার কথা মাথায় রেখে এতে রয়েছে টাইপ সি USB পোর্ট। সুপার ব্যাটারি এবং ফাস্ট চার্জিং টেকনোলজি ল্যাপটপটিকে দিচ্ছে লং লাস্টিং ব্যাটারি লাইফ, সাথে পাওয়ার ব্যাকআপ। গ্রাফিক্সের জন্য আছে ইন্টিগ্রেটেড এইচডি গ্রাফিক্স। হাই গ্লসি লুকের কারনে ল্যাপটপটির আউটলুকও বেশ সুন্দর। ভ্যারিয়েন্ট হিসেবে রয়েছে গোল্ডেন সেড।  

Image Source: www.startech.com.bd

এক নজরে Asus Vivobook X510UA-এর স্পেসিফিকেশন:

  • Intel core i3-8130U Processor (2.20 GHz up to 3.40 GHz)
  • 4 GB DDR4 Ram
  • 1TB HDD
  • 15.6’’ FHD (1920*1080)
  • বাজার মূল্য: ৪১,০০০~৪৩,০০০ টাকা।

২) HP 14-BS732TU (7th Gen Core i3):

ছোট কমপ্যাক্ট আকারের ল্যাপটপের ক্ষেত্রে ১৪’’ খুবই সুবিধাজনক একটি সাইজ। কেননা এতে সহজেই ল্যাপটপটি বহন করা যায়। এইচপি এর  ফাস্ট চার্জিং টেকনোলজি থাকার কারণে মাত্র ১৫ মিনিটেই প্রায় ৪৫% চার্জ পাওয়া সম্ভব হবে এই ল্যাপটপটিতে। চার্জের সুযোগ ছাড়া বাইরে বেশিক্ষণ কাজের ক্ষেত্রে এ ল্যাপটপটি এগিয়ে থাকবে। সাধারণ ব্যবহারে ল্যাপটপটি চলবে প্রায় সাড়ে ৩ ঘন্টা।

Image Source: www.hpexclusive.com.bd

এক নজরে HP 14-BS732TU-এর স্পেসিফিকেশন:

  • Intel core i3-7020U (2GHz, 3M cache)
  • 4 GB DDR4-2133 SDRAM
  • 1TB HDD
  • Intel Graphics 620
  • 14’’ diagonal display (1366*768)

বাজার মূল্য: ৩৯,০০০~৪০,০০০ টাকা।

৩) Acer Aspire A315-51 (7th Gen Core i3):

আসুস, এইচপি বাদে অন্য কোন ব্র্যান্ডের প্রায় কাছাকাছি স্পেসিফিকেশনের ল্যাপটপের মধ্যে রয়েছে অ্যাসার ব্র্যান্ডের এই ল্যাপটপটি। মূল্য বেশ সাশ্রয়ী হলেও থাকছে ১৫.৬’’ ডিসপ্লে। এছাড়াও রয়েছে ৪ জিবি র‍্যাম এবং ১ টিবি এইচডিডি স্টোরেজ।

Image Source: www.startech.com.bd

এক নজরে Acer Aspire A315-51-এর স্পেসিফিকেশন:

  • Intel core i3-7130U Processor (3M Cache, 2.70 GHz)
  • 4 GB DDR4 Ram
  • 1 TB HDD
  • 15.6’’ HD (1366*768) resolution

 বাজার মূল্য: ৩৪,৫০০~৩৬,০০০ টাকা।

৪) Lenovo Ideapad D330 (Celeron Dual Core):

লেনোভো ব্যান্ডের মধ্যে আরো সাশ্রয়ী দামে ল্যাপটপ চাইলে এই ল্যাপটপটি থাকতে পারে পছন্দের তালিকায়। নরমাল ইউজের জন্য ল্যাপটপটির পারফরমেন্স অনেক ভালো। ১০.১’’ ইঞ্চি ডিসপ্লে যেটি একইসাথে টাচ স্ক্রিনও।

মাত্র ৫৯৪ গ্রামের কাছাকাছি ওজনের ল্যাপটপটি ব্যবহারকারীকে দিবে পোর্টেবিলিটি। কিন্তু এটিতে থাকছে ইন্টেলের পুরাতন সেলেরন প্রসেসর। যদিও ৪ জিবি  ডিডিআর র‍্যাম ল্যাপটপটিকে স্পেশাল প্রোটেকটিভ ফিনিশিং দিয়েছে। সাথে ইন্টিগ্রেটেড গ্রাফিক্স, স্ট্যান্ডার্ড কীবোর্ড, ডলবি প্রিমিয়াম অডিও স্পিকার মিডিয়া ক্যাটাগরি বেশ ভালোভাবেই ফুলফিল করবে। 

Image Source: www.startech.com.bd

এক নজরে Lenovo Ideapad D330-এর স্পেসিফিকেশন:

  • Intel Celeron N40000 Processor (4M Cache, 1.10 GHz up to 2.60 GHz)
  • 4 GB DDR4L
  • 64 GB eMMC storage
  • Intel integrated Graphics
  • 10.1’’ FHD (1920*1200), Touchscreen

বাজার মূল্য: ৩২,০০০~৩৪,৫০০ টাকা।

৫) HP 15-da0021tx (8th Gen Core i5):

একদম কাটায় কাটায় যদি বাজেট ৫০ হাজার করা যায় আর যদি ৮ম প্রজন্মের Core i5 প্রসেসরই ব্যবহারের লক্ষ্য থেকে থাকে, তাহলে এই ল্যাপটপটি হতে পারে প্রথম পছন্দ। এর ১৫.৬’’ ডিসপ্লের সাথে B&O Play, ডুয়েল স্পিকার, এইচপি অডিও বুস্ট মুভি দেখার জন্য এক দারুণ এক্সপিরিয়েন্স দেয়।

এছাড়াও ফুল সাইজ আইল্যান্ড স্টাইল কীবোর্ড সহজেই এনে দিবে টাইপিং ফ্লেক্সিবিলিটি। সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্পেসিফিকেশন এই মূল্যে ডেডিকেটেড NVIDIA GeForce MX110 গ্রাফিক্স পাওয়া, যা ল্যাপটপের গেমিং পারফরমেন্সকে অনেকটাই স্মুথ করে তোলে।

Image Source: www.startech.com.bd

এক নজরে HP 15-da0021tx-এর স্পেসিফিকেশন:

  • Intel Core i5-8250U (1.6 GHz up to 3.4 GHz with Intel Turbo Boost Technology ,6M cache,4 cores)
  • 4 GB DDR4-2400 SDRAM
  • 1 TB 5400 rpm SATA
  • 15.6’’ diagonal HD SVA BrightView micro-edge WLED-backlit display (1366*768)
  • NVIDIA GeFoorce MX 110(2 GB DDR3 dedicated)
  • 3-cell, 41 Wh Li-ion Battery

বাজার মূল্য: ৪৯,০০০~৫০,৫০০ টাকা।

সাশ্রয়ী বা বাজেট ফ্রেন্ডলি বলতে মোটামুটিভাবে ৩০,০০০~৫০,০০০ রেঞ্জের মধ্যে থাকা ল্যাপটপগুলো বুঝায়, যাতে ক্যাজুয়াল ইউজ বা স্টুডেন্ট লাইফের যাবতীয় কাজ করে ফেলা যায় সহজেই। যেখানে ঘুরেফিরে intel core i3 অথবা core i5, ৪ জিবি র‍্যাম ও ১ টিবি স্টোরেজ পাওয়া সম্ভব।

সাধারণ ব্যবহার, শিক্ষা সংক্রান্ত টুলস ব্যবহার করার জন্য এ ল্যাপটপগুলো যথেষ্ট। তাছাড়া ল্যাপটপের পারফরম্যান্স দ্রুতগতির করার জন্য আলাদা করে SSD লাগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তো থাকছেই। এছাড়াও বাড়তি RAM যুক্ত করে নিয়ে বাজেট ল্যাপটপগুলোকে আরো দ্রুতগতিসম্পন্ন করে ফেলা যায় সহজেই।

ফিচার ছবি- amazon.com

ক্যানন ইওএস ৫ডি মার্ক থ্রি : একটি অত্যাধুনিক ডিএসএলআর ক্যামেরা

ছবি তুলতে পছন্দ করেন না এমন মানুষ বর্তমান যুগে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। বন্ধুবান্ধবের আড্ডা থেকে শুরু করে যেকোনো অনুষ্ঠানে অথবা ঘুরতে গেলেও ছবি উঠানোর কাজটি চলতেই থাকে, যাতে স্মৃতি ধরে রাখা যায়। আর বিভিন্ন ছবিভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন ইন্সটাগ্রাম, ফেসবুক, স্ন্যাপচ্যাট ইত্যাদির যুগে মানুষের মধ্যে ছবি তোলার আগ্রহ আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।

আজকাল ছবি অনেক ধরণের ডিভাইসে তোলা যায়, আর স্মার্টফোনের আবির্ভাবের কারণে ছবি তোলা হয়েছে আগের চেয়ে অনেক সহজ। যে কেউ যেকোনো স্থানে ছবি তুলতে পারেন হাতে একটি স্মার্টফোন থাকলেই। কিন্তু স্মার্টফোন ক্যামেরার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে চাইলেই সবসময় মনমতো ছবি তোলা যায়না। আর ছবি সকলেই শুধু নিছক আনন্দের বশে তুলে থাকেন না, এটা অনেকের পেশাও।

তাই মনের মতো ছবি তোলার জন্য তাদের প্রয়োজন হয় সত্যিকারের ছবি তোলার ডিভাইস, একটি ডিএসএলআর ক্যামেরা। উচ্চমাত্রার রেজ্যুলেশনের কারণে ডিএসএলআর ক্যামেরা দিয়ে মনমতো ভালো মানের ছবি তোলা যায় যেকোনো আলোতে। ছবি তোলা একটি শিল্প, আর এই শিল্পকে গুরুত্ব সহকারে সম্পন্ন করতে ডিএসএলআরের বিকল্প নেই।

বিশ্বজুড়ে অনেক ভালো ভালো ব্র্যান্ড যেমন সনি, ক্যানন, নিকন ইত্যাদির ডিএসএলআর ক্যামেরা রয়েছে বাজারে। প্রত্যেকটি ব্র্যান্ডেরই অসংখ্য মডেলের ক্যামেরা রয়েছে যেগুলো দিয়ে খুব ভালো ছবি তোলা যায়। আর প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে সাথে নতুন নতুন ফিচারযুক্ত ক্যামেরা প্রতিবছরই আসছে বাজারে। এমনই একটি ক্যামেরার মডেল হলো ‘ক্যানন ইওএস ৫ডি মার্ক থ্রি’। এই মডেলটি সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য দিয়েই সাজানো হয়েছে এই লেখাটি।

ক্যানন বিশ্বের অন্যতম একটি জনপ্রিয় ক্যামেরা ম্যানুফ্যাকচারার ব্র্যান্ড; ছবি: nofilmschool.com

জাপানিজ ক্যামেরা ম্যানুফ্যাকচারিং ব্র্যান্ড ক্যানন ১৯৮৭ সালে তাদের প্রথম ‘ইওএস’ প্রযুক্তির ক্যামেরা বাজারে নিয়ে আসে। এসময় বাজারে আসে ক্যানন ইওএস ৬৫০ যাতে ছিলো ৩৫ মিলিমিটার অটোফোকাস সিঙ্গেল লেন্স রিফ্লেক্স। সম্পূর্ণ ইলেকট্রনিক লেন্স মাউন্ট, ইন-লেন্স এপারচার এবং ফোকাস মোটর, ইলেকট্রনিক বাটন ও ডায়াল অপারেশনের উপর নির্ভরতা বৃদ্ধি ইত্যাদি পরিবর্তনের মাধ্যমেই বাজারে আসে এই নতুন প্রজন্মের ক্যামেরা, যার ধারাবাহিকতায় একসময় বাজারে আসে ক্যানন ইওএস ৫ডি মার্ক থ্রি।

আর ক্যাননের ৫ডি পরিবারের ডিএসএলআর ক্যামেরাগুলো উন্নত প্রযুক্তির ক্যামেরার ক্ষেত্রে যুগান্তর ঘটিয়েছে। ক্যাননের ৫ডি ক্যামেরাগুলোর আগমনের শুরু থেকেই নানা নতুন নতুন ফিচার নিয়ে হাজির হতে থাকে, যেগুলোর মধ্যে ফুল ফ্রেম সিঙ্গেল লেন্স রিফ্লেক্স, সম্পূর্ণ এইচডি ভিডিও ধারণ করার ক্ষমতা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

ক্যানন ইওএস ৫ডি মার্ক থ্রি; ছবি: usa.canon.com

ক্যানন ইওএস ৫ডি মার্ক থ্রি ক্যামেরাটির সেরা ফিচারগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো এর ফুল ফ্রেম সিএমওএস সেন্সর যা উচ্চ মাত্রার রেজোল্যুশন তৈরিতে সাহায্য করে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত নাড়াচাড়া ও আলোর মধ্যেও ভালো ছবি তুলতে সাহায্য করে।

২২.৩ মেগাপিক্সেল রেজ্যুলেশনের লেন্স ব্যবহৃত হয়েছে এতে। ফটোইলেক্ট্রিক কনভার্সন রেট বাড়িয়ে সেন্সর গুলোর কর্মক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে এতে একটি নতুন ফটোডায়োড স্ট্রাকচার যুক্ত করা হয়েছে। আর এতে প্রসেসর হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে ডিজিআইসি ৫+ ইমেজ প্রসেসর, যা ক্যামেরার প্রসেসিং গতি কে অনেক বাড়িয়ে দেয় এবং যেকোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা কমিয়ে আনতে সহায়তা করে।

লেন্স হিসেবে এই ক্যামেরায় ব্যবহৃত হয়েছে ক্যানন ইএফ লেন্স এবং মাউন্ট হিসেবে রয়েছে ইএফ মাউন্ট। আর স্টোরেজ সুবিধা হিসেবে রয়েছে ৫ টি বিভিন্ন ধরনের মেমোরি কার্ড, যেগুলো ফটোগ্রাফার নিজের সুবিধামতো যেকোনো ধরনের কার্ড ব্যবহার করতে  পারেন।

লেন্সের এসপেক্ট রেশিও ৩:২, যা উল্লম্ব অবস্থায় বিদ্যমান। সেলফ ক্লিনিং সেন্সর ইউনিট এর মাধ্যমে অটোমেটিক সেন্সর ক্লিনিং কাজ করে ক্যামেরার লেন্সে। নিজে নিজেই লেন্সের ডাস্ট পরিষ্কার হয় এই সেন্সরের কারণে এবং অবলোহিত ও অতিবেগুনি রশ্মি ব্লকিং গ্লাসের মাধ্যমে ডাস্ট ক্লিনিং প্রক্রিয়াটি ঘটে।

বিভিন্ন ফরম্যাটের ভিন্ন ভিন্ন রেজ্যুলেশনের ছবি তোলা যায় এই ক্যামেরা দিয়ে। আর রেজ্যুলেশনের উপর ভিত্তি করে ভিন্ন ভিন্ন সাইজের ছবি উঠানো যায়। এছাড়াও আলোর স্বল্পতা ও অন্যান্য বিষয়ের উপর নির্ভর করে ইচ্ছামতো হোয়াইট ব্যালেন্স সেট করা যায়।

এই ক্যামেরাটির অটোফোকাস কন্ট্রোলিং অত্যন্ত উন্নতমানের; ছবি: trustedreviews.com

ক্যামেরাটির অটোফোকাস সেটিংস অত্যন্ত উচ্চমাত্রার। ৬১টি ফোকাস পয়েন্ট রয়েছে ঠিকভাবে অটোফোকাসিং করার জন্য। মেনুয়াল ফোকাসিং তো রয়েছেই, কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন অটোফোকাসিং ছাড়াও এতে আরো বেশ কয়েক ধরনের অটোফোকাসিং সুবিধা রয়েছে।

ফোকাস নির্দিষ্ট হওয়ার পর ফোকাস লক সাথে সাথেই কাজ করে। মূল আইএসও স্পিড ১০০ থেকে ২৫,৬০০ হলেও প্রয়োজনে বৃদ্ধি করে ৫১,২০০ এমনকি ১,০২,৪০০ পর্যন্ত নেয়া যায়। বাউন্স ফ্ল্যাশ, আলোর স্বল্পতা ইত্যাদির উপর নির্ভর করে এই বৃদ্ধি আনা যায়। আইএসও স্পিড, শাটার স্পিড ইত্যাদির এক্সপোজার কন্ট্রোল ও কম্পেন্সেশন ঘটে।

টিএফটি কালারের একটি ৩.২ ইঞ্চি সাইজের এলসিডি লিকুইড ক্রিস্টাল মনিটর রয়েছে এই ক্যামেরায়। আর লাইট সেন্সরের সাহায্যে আলোর পরিবর্তনের সাথে ব্রাইটনেস সুবিধামত পরিবর্তিত হয়।

ভিডিও শ্যুটিং এর ক্ষেত্রে এই ক্যামেরা অত্যন্ত উন্নত ফিচার প্রদান করে থাকে। ১০৮০ পিক্সেল পর্যন্ত রেজোল্যুশনের ভিডিও শ্যুট করা যায় এই ক্যামেরা দিয়ে। বিভিন্ন সাইজের ভিন্ন ভিন্ন ফরম্যাটের ভিডিও ইচ্ছামতো শ্যুট করা যায় এবং এইচডি কোয়ালিটির ভিডিও তৈরি করা যায়। ভিন্ন কোয়ালিটি, সাইজ ও স্টোরেজের উপর নির্ভর করে কন্টিনিউয়াস শ্যুটিং টাইম ২৪-৬০ ফ্রেমস পার সেকেন্ড পর্যন্ত হতে পারে।

ক্যানন ইওএস ৫ডি মার্ক থ্রি বর্তমান প্রজন্মের মিররলেস ক্যামেরাগুলোর মধ্যে অন্যতম সেরা একটি ক্যামেরা। এর উন্নতমানের ফিচারসমূহ ও প্রযুক্তির কারণে ফটোগ্রাফারদের নিকট অনেক জনপ্রিয় এই ক্যামেরা। বর্তমানে বাংলাদেশের বাজারে এই ক্যামেরার মূল্য প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা। ক্যামেরার উচ্চ প্রযুক্তির কথা বিবেচনা করে এই মূল্য সাশ্রয়ী বলা চলে।

ফিচার ছবি- front.net

দেশের বাজারে সাশ্রয়ী মূল্যে পাঁচটি ডিএসএলআর ক্যামেরা

ছবি তুলতে কমবেশি আমরা সবাই পছন্দ করি। কোথাও ঘুরতে গেলে, কোনো অনুষ্ঠানে গেলে বা বন্ধুবান্ধবের জমায়েত হলে সেখানে কোনো ছবি তোলা হবে না, তা অসম্ভব। আর বিভিন্ন ছবিভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন- ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, ইত্যাদির যুগে পারসোনাল ও গ্রুপ ফটো উভয়েরই গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে।

আধুনিক স্মার্টফোনের বদৌলতে এখন অনেক সহজেই ছবি তোলা সম্ভব। কিন্তু মনের মতো উচ্চ রেজ্যুলেশনে ছবি তুলতে ‘ডিএসএলআর’ বা ‘ডিজিটাল সিঙ্গেল লেন্স রিফ্লেক্স’ ক্যামেরা এখনো অদ্বিতীয়। স্মার্টফোন দিয়ে ছবি তোলা গেলেও সেগুলোর রেজ্যুলেশন মনমতো হয়না সবসময়, তাই ডিএসএলআর ক্যামেরা বিভিন্ন স্থানে ছবি তোলার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করে।

অনেকের কাছে ছবি তোলা নেশার মতো, অনেকের আবার পেশাদার কাজে ছবি তোলার প্রয়োজন হয়। অনেকে আবার শুধু শখের বশেই ছবি তুলে থাকেন। সবক্ষেত্রেই প্রয়োজন হয় ভালো ক্যামেরার। দেশে বিভিন্ন কোম্পানির বিভিন্ন মডেলের ডিএসএলআর ক্যামেরা পাওয়া যায়। কিন্তু খুব ভালো ব্র্যান্ডের ভালো মডেলের ক্যামেরা কিনতে গেলে অনেক টাকা গুনতে হতে পারে আপনাকে।

তার মানে এই নয় সব ভালো ডিএসএলআর ক্যামেরার দাম বেশি। সুলভ মূল্যে সকলের হাতের নাগালের মধ্যেই রয়েছে বেশ ভালো মানের ডিএসএলআর, যেগুলো কিনে যেকেউ মনমতো ভালো ছবি তোলার আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারেন। বাংলাদেশে পাওয়া যায় এমন ভালো ব্র্যান্ড ও মডেলের ৫ টি সুলভ মূল্যের ডিএসএলআর ক্যামেরার তালিকা নিয়ে এই লেখাটি।

১. নিকন ডি৭৫০ (Nikon D750):

ফুল ফ্রেম ডিএসএলআর গুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো নিকন ডি৭৫০। নিকন ব্র্যান্ডের এফএক্স ফরম্যাটের  ক্যামেরাগুলোর মধ্যে এটি হলো সবচেয়ে ছোট এবং হালকা। অনেক কম আলোতেও হাই রেজ্যুলেশনের ছবি তুলতে পারে এই ক্যামেরাটি। ২৪.৩ মেগাপিক্সেলের এই ক্যামেরাটির কন্টিনিউয়াস শ্যুটিং স্পিড ৬.৫ এফপিএস। এর আইএসও হচ্ছে ১০০ থেকে ১২,৮০০, যা ৫১,২০০ পর্যন্ত বাড়ানো যায়।

নিকন ডিএক্স লেন্স ব্যবহার করা হয় এই ক্যামেরায়, যা দ্বারা ১০৮০ পিক্সেল পর্যন্ত রেজ্যুলেশনের ভিডিও শ্যুট করা যায়। এক্সপার্ট লেভেলের ফটগ্রাফার দের জন্য এই ক্যামেরা উত্তম। বাংলাদেশে এই ক্যামেরার বডি এর বর্তমান বাজারদর প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার টাকার মতো।

নিকন ডি৭৫০; ছবি: digitaltrends.com

২. নিকন ডি৭২০০ (Nikon D7200):

ডিএসএলআর ক্যামেরা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘নিকন’ এর আরেকটি জনপ্রিয় ও উন্নতমানের মডেল হলো নিকন ডি৭২০০। নিকন পরিবারের সবচেয়ে নতুন সংযোজন এই মডেলটি। এই ক্যামেরাটিতে ধুলাবালি ও আবহাওয়া প্রতিরোধক থাকায় এটি দীর্ঘস্থায়ী হয়। ৫১ টি ফোকাস পয়েন্ট থাকায় এই ক্যামেরাটি ওয়াইল্ড লাইফ ও স্পোর্টস ফটোগ্রাফারদের নিকট খুব জনপ্রিয়। এই ক্যামেরার ফাস্ট অটোফোকাসিং সিস্টেমটিও অসাধারণ।

এতেও নিকন ডিএক্স ব্যবহার করা হয়েছে লেন্স হিসেবে এবং এর রেজ্যুলেশন ২৪.২ মেগাপিক্সেল। এর আইএসও সংখ্যা ১০০-২৫,৬০০ যা বাড়িয়ে ১,০২,৪০০ পর্যন্ত নেয়া সম্ভব। ১০৮০ পিক্সেল মানের ভিডিও শ্যুট করা যায় এই ডিএসএলআর ক্যামেরা দিয়ে। বর্তমানে বাংলাদেশি টাকায় এর বাজারদর প্রায় ৬৪ হাজার টাকা।

নিকন ডি৭২০০; ছবি: backscatter.com

৩. ক্যানন ৮০ডি (Canon 80D):

ডিএসএলআর ক্যামেরা ম্যানুফ্যাকচারিং ব্র্যান্ড গুলোর মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় একটি ব্র্যান্ড হলো ‘ক্যানন’। ক্যাননের বেশ কিছু উন্নতমানের মডেল রয়েছে যেগুলোর দাম ১ লক্ষেরও কম। তেমনই একটি মডেল হলো ক্যানন ৮০ডি। এর বেশকিছু উন্নত  ফিচার রয়েছে যেগুলো অ্যামেচার ও সেমি প্রোফেশনাল ফটোগ্রাফার রা সহজেই এটি ব্যবহার করতে পারে।

ক্যানন ইএফ লেন্স ব্যবহার করা হয়েছে এই ক্যামেরায় এবং এর রেজ্যুলেশন ২৪.২ মেগাপিক্সেল। এর কন্টিনিউয়াস শ্যুটিং স্পিড ৫ এফপিএস এবং আইএসও সংখ্যা ১০০-১২,৮০০, যা ২৫,৬০০ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা যায়। ১০৮০পি রেজ্যুলেশনের ভিডিও শ্যুট করা যায় এই ক্যামেরা দিয়ে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর বর্তমান বাজারদর প্রায় ৯৬,০০০ টাকা।

ক্যানন ৮০ডি; ছবি: bhphotovideo.com

৪. নিকন ডি৭১০০ (Nikon D7100):

নিকন ব্র্যান্ডের এটি আরেকটি সুবিধাজনক মডেল হলো নিকন ডি৭১০০, যার ‘অপটিকাল লো পাস ফিল্টার’ শার্প ছবি তুলতে সাহায্য করে। অল্প আলোতে সুন্দর ছবি তুলতে অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়া যায় এই ক্যামেরার বডিতে বিল্ট ইন অটো ফোকাস মোটরের কারণে। ক্যামেরাটির রয়েছে উচ্চ মাত্রার প্রফেশনাল বডি।

অন্যান্য নিকন ক্যামেরার মতো এটিতেও ব্যবহৃত হয় নিকন ডিএক্স লেন্স। ২৪.১ মেগাপিক্সেল রেজ্যুলেশনের এই ক্যামেরাটির কন্টিনিউয়াস শ্যুটিং স্পিড ৬ এফপিএস। এর আইএসও সংখ্যা ১০০-৬৪০০, যা বাড়িয়ে ২৫,৬০০ পর্যন্ত নেয়া যায়।নতুন ফটোগ্রাফারদের জন্য এই ক্যামেরাটি অত্যন্ত কার্যকরী। বাংলাদেশে এর বর্তমান মূল্য প্রায় ৭১ হাজার টাকা।

নিকন ডি৭১০০; ছবি: bhphotovideo.com

৫. ক্যানন ৭৬০ডি (Canon 760D):

ক্যানন ব্র্যান্ডের অপর একটি উন্নতমানের মডেল হলো ক্যানন ৭৬০ডি। এই মডেলটি ২০১৫ সালে বাজারে আসে। এর রয়েছে ২৪ এমপি ডিএক্স সেন্সর এবং ক্যানন ইএফ-এস লেন্স। ক্যামেরাটির রেজ্যুলেশন হলো ২৪.২ মেগাপিক্সেল এবং এটি দ্বারা ১০৮০ পি মানের ভিডিও শ্যুট করা যায়। এর কন্টিনিউয়াস শুটিং স্পিড ৫ এফপিএস এবং আইএসও সংখ্যা ১০০-১২৮০০, যা ২৫,৬০০ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা যায়।

ফটোগ্রাফির জগতে নতুনদের জন্য এই ক্যামেরাটি একদিকে যেমন সাশ্রয়ী, অন্যদিকে ব্যবহার করতে সুবিধাজনক। দেশের বাজারে এই ক্যামেরাটির বর্তমান দাম প্রায় ৫১ হাজার টাকা।

ক্যানন ৭৬০ডি; ছবি: ephotozine.com

উপরের মডেলের ডিএসএলআর ক্যামেরাগুলো ছাড়াও আরো অনেক ভালো মানের ক্যামেরা রয়েছে যেগুলোর দাম মোটামুটি সকলের সাধ্যের মধ্যেই রয়েছে। এসকল ক্যামেরা ব্যবহার করে সহজেই একজন ফটোগ্রাফির শখ পূরণ করতে পারেন। 

ফিচার ছবি- unsplash.com

বাংলাদেশের বাজারে লভ্য সবচেয়ে দামী পাঁচ ডিএসএলআর ক্যামেরা

ছবি তোলা কারো কাছে নেশার মতো, কেউ আবার এই নেশার বিষয়টিকে নিজের পেশার সাথে যুক্ত করে নিয়েছেন। অনেকে আবার ছবি তুলে থাকেন নিছক শখের বশে। যে যে কারণেই তুলুক না কেন, ছবি তোলা হলো একটি শিল্প। আর এই শিল্পের ব্যাপারটি বর্তমানে যেকোনো ডিভাইসে সম্ভব হলেও, ছবি তোলার ক্ষেত্রে ডিএসএলআর ক্যামেরা এখনো অদ্বিতীয়।

উচ্চ মাত্রার রেজ্যুলেশন সম্পন্ন ভালো মানের ছবি তুলতে ডিএসএলআরের জুড়ি নেই। আর প্রতিবছরই উন্নত প্রযুক্তির আবির্ভাবের কারণে বাজারে আসে নতুন নতুন ফিচারযুক্ত ও উচ্চমান সম্পন্ন ডিএসএলআর। যত মান বৃদ্ধি পায়, তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ে দামও। বর্তমানে বাংলাদেশের বাজারের সবচেয়ে দামী ডিএসএলআর ক্যামেরাগুলোর মধ্য থেকে ৫ টি মডেল নিয়ে সাজানো হয়েছে আজকের লেখাটি। 

১. নিকন জেড৭ (Nikon Z7):

বাংলাদেশে যেসব ডিএসএলআর ক্যামেরা পাওয়া যায় সেগুলোর মধ্যে অন্যতম দামী একটি মডেলের ক্যামেরা হলো নিকন জেড৭। এটি একটি মিররলেস ডিজিটাল ক্যামেরা, যার রয়েছে এফটিজেড এডাপ্টার। সিএমওএস সেন্সর যুক্ত এই ক্যামেরার রেজ্যুলেশন হলো ৪৫.৭ মেগাপিক্সেল।

ক্যামেরাটির কন্টিনিউয়াস শ্যুটিং স্পিড ৯ এফপিএস এবং এর আইএসও সংখ্যা হলো ৬৪ থেকে প্রায় ২৫ হাজার পর্যন্ত। এর লেন্স টাইপ হচ্ছে নিকন জেড এবং লেন্সের দৈর্ঘ্য ২৪-৭০ মিলিমিটার। ৪কে আল্ট্রা এইচডি মুভি শ্যুট করা যায় এই ক্যামেরা দিয়ে। এছাড়াও মনিটর, ব্যাটারি, শাটার স্পিড সবকিছুতেই উন্নত প্রযুক্তির ছোঁয়া রয়েছে। এই ক্যামেরাটির বর্তমান বাজারদর হলো ৩ লাখ ৬৩ হাজার টাকা, যার সঙ্গে রয়েছে ৩ বছরের সার্ভিস ওয়ারেন্টি।

নিকন জেড৭; ছবি: amateurphotographer.co.uk

২. ক্যানন ৫ডি মার্ক থ্রি (Canon 5D Mark III):

বর্তমানে বাংলাদেশের বাজারে প্রাপ্ত ডিএসএলআর ক্যামেরাগুলোর মধ্যে সবচাইতে দামী যে ক্যামেরাটি রয়েছে সেটি হলো ক্যানন ৫ডি মার্ক থ্রি। বিশ্বব্যাপী ক্যামেরা ম্যানুফ্যাকচারিং ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় ব্র্যান্ড হলো ক্যানন। আর বাংলাদেশের বাজারে ক্যাননের যেসব মডেল বিদ্যমান, সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সেরা মডেল এটি।

এর রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম-এলয় বডি এবং ধুলাবালি ও আবহাওয়া রেজিস্ট্যান্স। ফুল ফ্রেম সিএমওএস সেন্সরযুক্ত এই ক্যামেরাটির রেজ্যুলেশন ২২.৩ মেগাপিক্সেল। এর রয়েছে নতুন প্রজন্মের ডিআইজিআইসি ৫+ ইমেজ প্রসেসর, যার ফলে এর প্রসেসিং স্পিড অনেক বেশি এবং ভিডিওর ক্ষেত্রে রয়েছে এনহ্যান্সড নয়েজ রিডাকশন।

এই ক্যামেরার কন্টিনিউয়াস শ্যুটিং স্পিড ৬ এফপিএস এবং এর আইএসও সংখ্যা ১০০-২৫৬০০ যা উজ্জ্বল থেকে মৃদু সব আলোতেই সুন্দরভাবে ছবি তুলতে সহায়তা করে। উচ্চ রেজ্যুলেশন সম্পন্ন ভিডিও সহজেই ধারণ করা যায় এই ক্যামেরা দিয়ে। ক্যামেরাটির বর্তমান বাজারদর প্রায় ৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।

ক্যানন ৫ডি মার্ক থ্রি; ছবি: keh.com

৩. নিকন জেড৬ (Nikon Z6):

বাংলাদেশের বাজারে প্রাপ্ত ডিএসএলআর ক্যামেরাগুলোর মধ্যে অপর একটি দামী মডেলের ক্যামেরা হলো নিকন জেড৬। এটি একটি মিররলেস ডিজিটাল ক্যামেরা, যার আরও রয়েছে এফটিজেড এডাপ্টার। সিএমওএস সেন্সর যুক্ত এই ক্যামেরার রেজোল্যুশন হলো ২৪.৫ মেগাপিক্সেল।

এর রয়েছে ইএক্সপিড ৫ ইমেজ প্রসেসর। ক্যামেরাটির কন্টিনিউয়াস শ্যুটিং স্পিড ৫.৫ এফপিএস এবং এর আইএসও সংখ্যা হলো ১০০ থেকে প্রায় ৫১,২০০ পর্যন্ত, যা বাড়ানো যায় ২,০৪,৮০০ পর্যন্ত। এর লেন্স টাইপ হচ্ছে নিকন জেড এবং লেন্সের দৈর্ঘ্য ২৪-৭০ মিলিমিটার।

৪কে আল্ট্রা এইচডি মুভি অনায়াসে শ্যুট করা যায় এই ক্যামেরা দিয়ে। এছাড়াও মনিটর, ব্যাটারি, শাটার স্পিড সবকিছুতেই উন্নত প্রযুক্তির ছোঁয়া রয়েছে। জেএফপিজি, র ইত্যাদি বিভিন্ন ফরম্যাটের ছবি তোলা যায় এই ক্যামেরায়। এই ক্যামেরাটির বর্তমান বাজারদর হলো ২ লাখ ৫৮ হাজার টাকা, যার সঙ্গে রয়েছে ৩ বছরের সার্ভিস ওয়ারেন্টি।

নিকন জেড৬; ছবি: nikonusa.com

৪. নিকন ডি৮৫০ (Nikon D850):

দামী ডিএসএলআর ক্যামেরার এই তালিকায় চতুর্থ সংযোজন হলো নিকন ব্র্যান্ডের আরো একটি মডেল, যা নিকন ডি৮৫০ নামে পরিচিত। ক্যামেরাটির রেজ্যুলেশন হলো ৪৫.৭ মেগাপিক্সেল এবং একইসাথে এটি বিএসআই সিএমওএস সেন্সরযুক্ত। ক্যামেরাটির কন্টিনিউয়াস শ্যুটিং স্পিড ৭ এফপিএস এবং এর আইএসও সংখ্যা হলো ৬৪ থেকে প্রায় ২৫,৬০০ পর্যন্ত যা বাড়িয়ে নেয়া যায় ১,০২,৪০০ পর্যন্ত। এর রয়েছে ইএক্সপিড ৪ ইমেজ প্রসেসর

ক্যামেরাটির শাটার স্পিড মেনুয়ালি থেকে ঠিক করে নিতে হয়। উন্নতমানের ব্যাটারি, ৪ ধরনের স্টোরেজ সুবিধা, ৩.২” রিয়ার এলসিডি টাচস্ক্রিন মনিটর ছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন ফরম্যাটে ছবি তোলার সুবিধা। এই ক্যামেরাটির বর্তমান বাজারদর হলো ২ লাখ ৫৮ হাজার টাকা, যার সঙ্গে রয়েছে ৩ বছরের সার্ভিস ওয়ারেন্টি।

নিকন ডি৮৫০; ছবি: ephotozine.com

৫. ক্যানন ইওএস ৫ডি মার্ক থ্রি (Canon EOS 5D Mark III):

ডিএসএলআর ক্যামেরা ম্যানুফ্যাকচারিং প্রতিষ্ঠান ক্যাননের অপর একটি বিখ্যাত মডেল স্থান করে নিয়েছে এই তালিকাটির শেষে। এই মডেলটি হলো ক্যানন ইওএস ৫ডি মার্ক থ্রি। সিএমওএস সেন্সরযুক্ত এই ক্যামেরাটির রেজ্যুলেশন ২১.১ মেগাপিক্সেল।

এর রয়েছে ডিআইজিআইসি ৪ ইমেজ প্রসেসর যার ফলে এর প্রসেসিং স্পিড যথেষ্ট বেশি। কন্টিনিউয়াস শ্যুটিং স্পিড ৩.৯ ফ্রেম পার সেকেন্ড এবং এর আইএসও সংখ্যা ১০০-৬৪০০, যা পরবর্তীতে বিভিন্ন সংখ্যায় বর্ধিত করা যায়। এতে ৩ ইঞ্চি এলসিডি ডিসপ্লে রয়েছে, সাথে রয়েছে ডাস্ট রিডাকশন সিস্টেম এবং উচ্চমানের ব্যাটারি ও স্টোরেজ। বাংলাদেশে এর বর্তমান বাজারদর প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা।

ক্যানন ইওএস ৫ডি মার্ক থ্রি; ছবি: commons.wikimedia.org

এই তালিকার ৫টি মডেলের ডিএসএলআর ক্যামেরা বর্তমানে বাংলাদেশের বাজারে সবচেয়ে দামীগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। তাই সহজেই বলা যায় এগুলো একইসাথে সবচেয়ে উন্নত মান ও প্রযুক্তি সম্পন্ন এবং অত্যাধুনিক ফিচার সম্বলিত। প্রফেশনাল ফটোগ্রাফাররা এই মডেলগুলো ব্যবহার করে নিজেদের কাজ অত্যন্ত সূচারুরূপে সম্পন্ন করতে পারে এবং ফটোগ্রাফি শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

ফিচার ছবি- wallpapercave.com