পছন্দের তালিকায় সেরা পাঁচটি ইয়ারবাড বলতে হলে একটি হবে স্যামসাং গ্যালাক্সির বাড। কারণ, নতুন, আধুনিক এবং মোটামুটি সবধরনের  পরিস্থিতির সাথে খাপ খেয়ে নিতে পারে এমন একটি ইয়ারবাড এটি। ইয়ারবাডটি খুবই হালকা ও ছোট। এটি সাদা ও কালো রঙের মধ্যে পাওয়া যায়। তবে সিলভা রঙেরও একটি বাড বাজারে আসবে বলে শোনা যাচ্ছে।

অন্যান্য যেকোনো আগের ইয়ারবাডের সাথে তুলনা করতে হলে নিঃসন্দেহে এটিকে বলা যায় উন্নতমানের সংস্করণ। ইয়ারবাডটির আকার শ্রোতার কানের আকারের সাথে মিলে যাবে, অতিরিক্ত বড় মনে হবে না। তবে সব মানুষের কানের আকার প্রাকৃতিকভাবেই সমান নয় তাই অনেকের জন্যই এটি বড় বা ছোট হতে পারে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত এরকম সমালোচনা কমই শোনা গিয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন আকারের কানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একাধিক ইয়ারবাডও রয়েছে। এসব ইয়ারবাডের সম্মুখের রাবারের অংশ পরিবর্তন করে নিজের সুবিধামত ইয়ারবাড ব্যবহার করা যাবে।

স্যামসাং গ্যালাক্সি বাড; Image Source: zdnet.com

ব্যবহার

বাক্সটি খুললেই একটি কেস পাওয়া যাবে। এই কেসের ভেতরেই থাকে ইয়ারবাড। ইয়ারবাড দুটি নিয়ে প্রথমেই আপনার ফোনের সাথে যুক্ত করে নিতে হবে। যুক্ত হতে এটি খুবই কম সময় নেয়। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই একটি শব্দ করবে এবং ডিভাইসের সাথে যুক্ত হয়ে যাবে। অন্য ডিভাইসের যুক্ত করতে চাইলে ইয়ারবাড থেকে সরাসরি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে করেত পারেন আবার ফোন থেকেও বিচ্ছিন্ন করে অপর ডিভাইসের সাথে যুক্ত করতে পারেন।

ইয়ারবাডটি ফোনের সাথে যুক্ত করার পর একটি আপডেট হবে। এরপর ডিভাইসে থাকা সকল নাম্বার, অডিও ও ভিডিও মোড এবং আপনার অবস্থান জানতে চাইবে। এর প্রত্যেকটি প্রশ্নের উত্তর হ্যা দিলেই আপনি ইয়ারবাড দুটি ব্যবহার করতে পারবেন। কোন কোন অ্যাপ থেকে বার্তা আসলে ইয়ারবাড আপনাকে অবহিত করবে সেটিও আপনি আগে থেকেই ঠিক করে নিতে পারবেন।

ব্লুটুথ

এই ইয়ারবাডে ব্লুটুথ ৫.০ ব্যবহার করা হয়েছে। বর্তমান সময়ের সর্বোচ্চ ৫.০ পর্যন্তই ব্লুটুথ ব্যবস্থা রয়েছে। স্যামসাং গ্যালাক্সিও এটি দিয়ে থাকে। এ ইয়ারবাডে আরো দুটি উন্নত সুবিধা রয়েছে। একটি এর চার্জিং ব্যবস্থা ও আরেকটি হলো ব্যাটারির ক্ষমতা।

ব্যাটারি ও চার্জ

স্যামসাং গ্যালাক্সি ইয়ারবাডের চার্জিং কেস বেশ হালকা ও খুব সহজে বহনযোগ্য এবং ইয়ারবাডটি চার্জ করতে কোনো প্রকারের তারের প্রয়োজন হবে না। সম্পূর্ণ ওয়্যারলেস অর্থাৎ, তারবিহীন চার্জ হয় এতে। এর কেসটির উইএসবি পোর্টটি টাইপ সি ধরনের। এটি সবেচেয়ে আধুনিক এবং সমসাময়িক সময়ে বহুল ব্যবহৃত। এখন বেশিরভাগ ফোন বা পাওয়ারব্যাঙ্কের চারজার পোর্ট টাইপ সি ধরনের। এই টাইপ সি ধরনের পোর্টে দ্রুততার সাথে চার্জ করা যায়। সংগত কারণে এই ইয়ারবাডেও টাইপ সি উইএসবি দেয়া হয়েছে।

আবার এর আরেকটি সুবিধা হলো, দুই কানের দুই ইয়ারবাডে সমপরিমাণ চার্জ থাকতে পারে আবার না-ও থাকতে পারে। কেসে প্রবেশ করিয়ে বাড দুটিকে ফোনের সাথেও চার্জ করিয়ে নেয়া সম্ভব। ফোনের পাওয়ার শেয়ারিং অপশনে গিয়ে পাওয়ার শেয়ারিং চালু করে বাড দুটি কেসে রেখে কেসটিকে ফোনের উল্টো পাশের উপরে রেখে দিলেই একটি শব্দ হবে এবং চার্জ হওয়া শুরু হবে। চাইলে আপনি এভাবেও ইয়ারবাড দুটি চার্জ করতে পারেন।

ফোনের সাথে ইয়ারবাডের চার্জ শেয়ার; Image Source: theverge.com

ইয়ারবাডটি সম্পূর্ণ চার্জ হতে খুব বেশি সময় নেয় না। আর এর চার্জ অনেকক্ষণ যাবত বিদ্যমান থাকে। একবার সম্পূর্ণ চার্জে প্রায় চার থেকে সাড়ে চার ঘণ্টা ইয়ারবাডটি ব্যবহার করা যাবে। যদিও বাক্সের উপর লেখা আছে যে ৬ ঘণ্টার মতো এটি চালু অবস্থায় ব্যাটারি শক্তি যোগান দিবে এবং কেসের সাথে চার্জে যুক্ত থাকা অবস্থায় আরো ৭ সার্ভিস দিতে পারবে।

জল-নিরোধী ক্ষমতা

এই ইয়ারবাডের জল-নিরোধী ক্ষমতা খুব অল্প। এটি হালকা পানির ফোটা যদি অন্তত ১৫ ডিগ্রি কোণে এসে ইয়ারবাডটিকে স্পর্শ করে তবে এটি অক্ষত থাকবে। একটু এদিক-ওদিক হলেই পানি ঢুকে নষ্ট হয়ে যাবে ইয়ারবাডটি।

স্যামসাং গ্যালাক্সি বাড কালো রঙের; Image Source: amazon.com

শব্দ-নিরোধী ক্ষমতা

স্যামসাং গ্যালাক্সি ইয়ারবাডের তাৎপর্যপূর্ণ সুবিধা হলো, এটি উন্নতমানের ও একই সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ শব্দ-নিরোধী ক্ষমতা সম্পন্ন একটি ইয়ারবাড। যদি আশেপাশের পরিবেশ খুবই বিরক্তিকর ও শব্দবহুল মনে হয়, তবে এই ইয়ারবাডটি আপনাকে চারপাশের গোলযোগ থেকে পৃথক করে রাখতে পারবে।

যেকোনো গান বা অডিও অভ্যন্তরীন বাঁধা ছাড়াই আপনাকে পরিষ্কার সাউন্ড দিবে সাথে বাইরের শব্দ প্রবেশও বাঁধা দিবে। আরেকটি দিক হল রাস্তাঘাটে চলাচলের সময় যান চলাচলের আওয়াজ থেকে এটি আপনাকে পৃথক করবে না। আপনি চাইলে অ্যাম্বিয়েন্ট মোড চালু করতে পারেন। এতে করে চারপাশের শব্দ ভালো মত কানে প্রবেশ করবে। বিশেষ করে রাস্তাঘাটে চলাচলের সময় ইয়ারবাডে চলা গানের ভলিউম কমিয়ে ও অ্যাম্বিয়েন্ট মোড চালু করে রাখলে কোন অসুবিধা হবে না।

ফোনের অপশনে গিয়ে চালু বা বন্ধ করে এই সুবিধাটি ব্যবহার করা যাবে। বিশেষ কিছু শব্দই কেবল এটি বাঁধা দিবে বিষয়টা ঠিক এমনও নয়। এটি তৈরিই এমনভাবে করা হয়েছে যে শুধু  অত্যাধিক ক্ষমতা বা ডেসিবল সম্পন্ন শব্দ বাঁধা দিবেনা। যদি আপনি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে চিন্তা করেন তাহলে এই ইয়ারবাড পরে আপনি রাস্তায় চলাচল করতে পারবেন। বাকিটা নির্ভর করবে আপনি কতটুকু মনোযোগী ও ইয়ারবাডটির ভলিউম কত, অ্যাম্বিয়েন্ট চালু নাকি বন্ধ করে রেখেছেন এসবের উপর। সুতরাং বলা যায় যে এই ইয়ারবাড শব্দ-নিরোধী ক্ষমতার পাশাপাশি চারপাশের পরিবেশে কি ঘটছে এর মাঝে সামঞ্জস্য বজায় রেখেই সুবিধা দিচ্ছে।

আপনার বাজেট যদি মধ্যম পর্যায়ের হয় অর্থাৎ, ১০ হাজার টাকার নীচে, তবে স্যামসাং গ্যালাক্সি বাড আপনার জন্যই। এর বর্তমান বাজারমূল্য মাত্র ৮,৫০০ টাকা। এই দামে এরকম সুবিধাসমূহ খুব কম কোম্পানিই দিয়ে থাকে তাছাড়া ব্র্যান্ড ভ্যালুর কথা চিন্তা করলেও স্যামসাং এখন পর্যন্ত অনেক এগিয়ে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *