গত কয়েক বছর ধরে সনি ইয়ারফোন জগতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন করে চলেছে। সংস্থাটি অতিরিক্ত নয়েজ ক্যান্সেলিং বা শব্দ-রোধী হেডফোন তৈরি করার অসাধারণ সাফল্যটি অর্জন করেছে। তাছাড়া, তাদের প্রযুক্তিটি এমনভাবে তৈরি করা যা আপনি নিজের পকেটে রাখতে পারেন যেকোনো উপায়ে সংকুচিত করে। নতুন WF 1000Xp3 যার বাজার মূল্য ২৩০ মার্কিন ডলার, দুর্দান্ত শব্দনিরোধী প্রযুক্তিটিকে ক্ষুদ্রাকৃতিতে দেখার সর্বশেষ প্রয়াসকে উপস্থাপন করে। এগুলো কিছু চিত্তাকর্ষক অগ্রগতিরও প্রতিনিধিত্ব করে এবং সব মিলিয়ে ফলাফল, বাজারের অন্য যেকোনো সামগ্রীর বিপরীতে একটি দুর্দান্ত সেট।

1000XM3-এ সত্যিকারের ওয়্যারলেস ইয়ারবডগুলো সম্পর্কে যে জিনিসটি লক্ষ্য করা যায় তা হল, এগুলো এতটা ছোট নয়। চার্জারকে আকারে বেশ বড় একটি সাবানের বক্সের সাথে তুলনা করলে ভুল হবে না। ইয়ারবডিগুলো দেখতে অনেকটা মাকু আক্রিতির, ছোট তবে বাকানো। তবে সনির নতুন এই ইয়ারফোনের সাথে আগেরগুলোর যথেষ্ট মিল পাওয়া যায়। বলা যায় এই একই সনি পরিবারের আগের মডেলের ‘ওভারহেড’ অর্থাৎ, মাথার উপর দিয়ে নেয়া যে হেডফোনগুলো তৈরি করা হয়েছিল, সেগুলোর গুণাগুণের সাথে যথেষ্ট মিল পাওয়া যায়। তবে, যারা ওভারহেড হেডফোনগুলো ব্যবহার করে অভ্যস্থ, তাদের নিকট ভিন্ন মতও পাওয়া যায়। তথাপি, তাদের নিকটও সনির শব্দরোধী ইয়ারফোন যথেষ্ট পছন্দের। যাইহোক, কানের হেডফোনগুলো ওভারহেড হেডফোনগুলোর নকশার অনুকরণে তৈরি হয়নি। এর আছে মাইক্রোফোন এবং আরও শক্তিশালী শব্দনিরোধী ক্ষমতা।

Image Source: kopfhoerer.de

বাহ্যিক বর্ণনা 

ইয়ারবাডটি প্রায় দেড় ইঞ্চি লম্বা এবং শ্রোতার কানের অভ্যন্তরে খুব যথার্থভাবে প্রবেশ করে। বোস সাউন্ডস্পোর্ট ফ্রি তেমন বিশাল আকারের না হলেও ইয়ারবাড এর বাকি অংগশগুলো কানের বাইরে থাকে। এটি জাবরা এলিট-৬৫’র মতো কোনও বায়ুচাপ ফিট নয়। নতুন সনি ইয়ারবাডগুলোর ক্ষেত্রে আরো বলা যায় যে এগুলো সামান্য শিথিল ভাবে যুক্ত, অর্থাৎ ইয়ারবাডগুলো পাতাল রেল ট্রেনের পাশ দিয়ে যাওয়ার মতো উচ্চস্বরে আওয়াজকেও ঠেকিয়ে রাখবার চেষ্টা করে।

এর একটি নেতিবাচক ফলও রয়েছে। বাংলাদেশের মতো দেশে এতো বিপুল সংখ্যক মানুষ বসবাস করে এবং এখানে রেল লাইনের পাশেও বস্তি গড়ে ওঠে। সাধারণ মানুষ প্রতিদিন এসব পথে চলাচল করে থাকে। এক্ষেত্রে এধরনের ইয়ারফোন বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। আমরা অনেক সময় ইয়ারফোন কানে গুজে চলাচল করি যার ফলে নানান দুর্ঘটনার কথা সংবাদে শোনা যায়। আপনি যদি ভিড়ভাট্টা থেকে দূরে থাকতে চান অথবা সবার মাঝে থেকেও সবার কথা বার্তা, চিৎকার থেকে নিজেকে পৃথক করে রাখতে চান, তাহলে এই ইয়ারফোন খুব কার্যকরী।

Image Source: topspeed.com

ব্যাটারি

1000XM3 ইয়ারবাডগুলো (ইয়ারফোনের যে ক্ষুদ্র অংশ কানে প্রবেশ করানো হয় তা-ই ইয়ারবাড) বিশেষ ধরনের। এই মডেলটিতে যে ডিজিটাল শব্দনিরোধী প্রক্রিয়া ব্যবহৃত হচ্ছে তা অন্যকোনো সত্যিকারের ওয়্যারলেস ইয়ারবাডগুলোর তুলনায় তুলনামূলকভাবে উন্নত। আরো বলা যায় যে, সাধারনত আমরা যেসকল ওয়্যারলেস ইয়ারবাডগুলো দেখি, সেগুলো কোনো ধরনের শব্দ-বাতিল বৈশিষ্ট্য সরবরাহ করে না। সত্যিকারের ওয়্যারলেস ইয়ারবাড যথাযথভাবে কানের সাথে যুক্ত করার জন্য ছোট হওয়া দরকার। তাই, শব্দ নিরোধী প্রযুক্তির জন্য ব্যাটারি এবং বিশেষায়িত হার্ডওয়্যারের জন্য প্রচুর জায়গা দেয়া যায়না। যদিও 1000XM3 এখনো পর্যন্ত পরীক্ষা করা সবচেয়ে ছোট ইয়ারবাড নয়, তবে এটি একক চার্জে নির্ভরযোগ্য ছয় ঘন্টা ব্যাটারি লাইফ সরবরাহ করে থাকে। কেসটি আপনাকে আরও ১৮ ঘন্টা সার্ভিস দেবে। সনি বলছে যে, শ্রোতা আট ঘন্টার ব্যাটারি পেয়ে যাচ্ছেন শব্দদূষণ নিরোধ না করে এবং আরও 24 ঘন্টা বক্সের ক্ষেত্রে।

Image Source: www.cnet.com

                            

তুলনা

বেতার শব্দ-বাতিলকরণ প্রযুক্তিতে এটিই সনির প্রথম প্রচেষ্টা নয়। সংস্থাটি ২০১৭ সালে WF1000x মূল ইয়ারবাডগুলো প্রকাশ করেছিল এবং সেটি অনেক ক্ষেত্রেই মানের দিক থেকে পিছিয়ে ছিল। সুতরাং, মডেলটি সংস্কার করার সময়, সনি প্রযুক্তিবিদরা সম্ভবত নতুন কিছু করার চেষ্টা করেছিলেন। এর ফলে তারা অর্থবহ হার্ডওয়্যার আপগ্রেডগুলো অন্তর্ভুক্ত করেছে, যার অর্থ ইয়ারবাডের অভ্যন্তরীণ কাজগুলোতে বিশেষ পরিবর্তন আনতে পেরেছে এবং এর জন্য তারা প্রশংসিতও হয়েছে। WH-1000XM3 শব্দনিরোধী হেডফোনগুলোর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হতে শুরু করেছে। ওভারহেড হেডফোনগুলোর মতো, 1000XM3 ইয়ারবাডগুলোর প্রত্যেকটিতে একটি ডেডিকেটেড নয়েজ-ক্যান্সেলিং প্রসেসর রয়েছে, যা ডিজিটাল-টু-অ্যানালগ রূপান্তরকারী (ডিএসি) এবং একটি পরিবর্ধক হিসেবেও কাজ করে।

সমালোচনা

এটা নিশ্চিতরূপে বলা যাবে না যে শব্দরোধী এসব ইয়ারফোনগুলোর সীমাবদ্ধতা সমূহকে বিবেচনায় রেখেও ভালো বলতে হবে। তবে এখনো ওভারহেড শব্দরোধী হেডফোনগুলোর তুলনায় এসব এতটা ভালো বলা যায় না। ওভারহেড হেডফোনগুলোর আগত শব্দ প্রক্রিয়া করার জন্য আরও মাইক্রোফোন ব্যবহার করার সময় আপনার কান সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন করার অনন্য ক্ষমতা রয়েছে এর।

অন্য সনি বেতার হেডফোনগুলোর মতো, এরা একই সময়ে কেবল একটি ডিভাইসে সংযুক্ত হতে পারে। যদি আপনি ক্রমাগত ফোন থেকে একটি ল্যাপটপে স্যুইচ করে থাকেন, তবে সংযোগে সময় নিবে এবং পূর্বের সংযুক্ত ডিভাইসের সাথে সেটি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করতে হবে। উভয় ইয়ারবাড একই মূহুর্তে একাধিক ডিভাইসে সংযুক্ত হতে পারে না। যখন কেসটি থেকে ইয়ারবাডগুলি বের করে কানে রাখা হয় তখন তারা চালু হয় এবং কিছুটা সময় নিয়ে সংযুক্ত হয়।

সনি’র WF 1000Xp3 ইয়ারফোন জগতে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং এটির গ্রহণযোগ্যতাও বৃদ্ধি পাবার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, প্রথমত এটির শব্দরোধী বৈশিষ্ট্য, দ্বিতীয়ত এর ব্যাটারির ক্ষমতা। যারা ২০,০০ টাকা ইয়ারফোনের পিছনে খরচ করতে আগ্রহী, তারা এটিকে বিবেচনায় রাখতে পারেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *