বর্তমান সময়টা স্মার্টফোন ব্যবহারের। বাজারে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের স্মার্টফোন। আইফোন, স্যামসাং, এইচ টি সি, ওয়ান প্লাস এসব হলো বিখ্যাত কিছু ব্র্যান্ড। এগুলো ছাড়াও রয়েছে ওপ্পো, হুওয়ায়ে, শাওমির মতো তুলনামূলক স্বল্প মূল্যের জনপ্রিয় কিছ স্মার্টফোন। উন্নত ক্যামেরাসহ সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সবকিছুই আছে এসব ফোনে। এই ফোন সমূহের আরেকটি বিশেষ দিক হলো এগুলো সবই আকারে বেশ বড় হয়ে থাকে; পাঁচ ইঞ্চির কম তো নয়ই।

ইউনিহারটজ অ্যাটম; ছবি সূত্রঃ digitaltrends.com

ফোনের আকারই ফোনগুলোকে একটি থেকে অপরটিকে পৃথক করে। প্রত্যেক কোম্পানির ক্ষেত্রেই বাজারে আসা তাদের ভিন্ন ভিন্ন সংস্করণের ফোনগুলোয় মূল পার্থক্য হয়ে থাকে আকারে। অন্যান্য বিষয়গুলো মোটামুটি একই থাকে। এমনকি নামও প্রায় একই রকম হয়। যেমন আইফোন টেন পরবর্তী মডেলের নাম আইফোন টেন ম্যাক্স।

বিখ্যাত ফোন কোম্পানি সমূহের জন্য ফোনের আকার খুব গুরুত্বপূর্ণ। একটি বড় ফোন হাতে ধরতে সুবিধা হয়। অতিরিক্ত ছোট বা অতিরিক্ত বড় হলে তা সমস্যা। তবে ফোনের এই আকার শুরু থেকেই এমন ছিল না। আজ থেকে কুড়ি বছর আগে মানুষ যেসব ফোন ব্যবহার করতো, সেগুলো আকারে বেশ ছোট ছিল। এরও আগে আবার অনেক বড় আকৃতির ফোন প্রচলিত ছিল। ছোট ফোন সমূহের মধ্যে একসময় বিখ্যাত ছিল নোকিয়া ও সিমেন্স।

ইউনিহারটজ অ্যাটম; ছবি সূত্রঃ amazon.com

এখন নতুন করে বাজারে এসেছে ছোট আকারের ফোন। এগুলোর মধ্যে একটি হলো ইউনিহারটজ অ্যাটম। ফোনটির আকারই ফোনটিকে অন্য দশটি ফোন থেকে ভিন্ন করেছে। ফোনটির ডিসপ্লে ২.৪৫ ইঞ্চি লম্বা যা এ যুগের অন্যান্য ফোনের তুলনায় অর্ধেকও না।

এই ফোনের আকারের জন্যেই এটি মানুষের মাঝে বেশ আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। স্মার্টফোনের যুগে সবাই প্রতিনিয়ত ফোন ব্যবহার করে থাকেন। দীর্ঘক্ষণ বড় আকারের ভারী ফোন হাতে রাখা বেশ ঝামেলারই বটে। সেক্ষেত্রে এই ফোনটি অত্যন্ত সুবিধাজনক।

ইউনিহারটজ অ্যাটম; ছবি সূত্রঃ mobilesyrup.com

প্রথম দেখাতে অনেকেই এই ফোনটি কেনার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছেন কারন তারা মনে করেন ফোনের মাধ্যমে কেবল যোগাযোগ পর্যন্তই হওয়া উচিত, এর বেশি ব্যবহার না হওয়াই উত্তম। তবে এসব সুবিধার জন্য কি ২৬০ মার্কিন ডলার ব্যয় করতে উৎসাহী হবেন?

ফিচার সমূহ

  • আকারে ছোট হওয়ায় সহজেই যেকোনো জায়গায় প্রবেশ করতে পারবে। ছোট পকেটে স্বল্প জায়গাতেও এটি নিজের স্থান করে নিতে পারবে।
  • ব্যাটারি ক্ষমতা ভালো। একবার চার্জ করার পর এটি টানা ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে পারবে। চার্জ নিতেও ফোনটি বেশি সময় নেয় না।
  • কর্মক্ষমতা দারুন। অতিরিক্ত সুবিধা না থাকায় এবং সেই সাথে ব্যাটারি ক্ষমতা বেশি থাকায় এই ফোনের কার্যক্ষমতা অনেক ভালো। যারা মাঝে মধ্যে গেইম খেলতে পছন্দ করেন তারা এই ফোন ব্যবহার করতে পারবেন। কারন এটিতে ফ্ল্যাপি বার্ড ও লেজেন্ডস অফ কিক্সের মতো গেইমস অনায়াসে খেলা যায়।
    তবে দৌড় প্রতিযোগিতামূলক গেইম সমূহ খেলতে একটু অসুবিধা হয়। তবে, এই ফোনে অন্য যেকোনো অ্যাপ যেমন উবার, ব্যবহার করা যায়। ফোনের গ্রাফিক্সের মান তেমন ভালো না, তাছাড়া ডিসপ্লে ক্ষুদ্র হওয়ায় অনেক গেইমই স্বচ্ছন্দে খেলতে পারা যায় না। স্ন্যাপড্রাগন ৮৪৫ প্রসেসরের মতো সহজেই স্ক্রল করার আনন্দটাও পাওয়া যাবে না।
  • ফোনের ডিসপ্লে ২. ৪৫ ইঞ্চ এলসিডি
  • রেজুলেশন ২৪০/৪৩২
  • ২ গিগাহার্জ অক্টাকোর প্রসেসর
  • র‍্যামঃ ৪ জিবি।
  • স্টোরেজ ৬৪ জিবি তবে অতিরিক্ত মাইক্রো এসডি নেই।
  • ইয়ারফোন জ্যাক রয়েছে।
  • টাইপ সি চার্জার পোর্ট।
  • ফিঙ্গার প্রিন্ট ব্যবস্থা রয়েছে।
  • অ্যান্ড্রয়েড ওরিও ৮.১ ভার্সন।
  • ফোন ক্যামেরা সম্মুখে ৮ মেগা পিক্সেল ও পিছনে ১৬ মেগা পিক্সেল।
  • ওজন ১০৮ গ্রাম।
  • ফোনের সাউন্ডের মান মোটামোটি ভালো। কথা বলার ক্ষেত্রেও কোন সমস্যা হবে না। আপনা কথা আপনার বন্ধু ও আপনার বন্ধুর কথা আপনি স্পষ্টই শুনতে পারবেন। তবে ব্যতিক্রম হলো এর লাউডস্পিকার ব্যবস্থা যা যথাযথভাবে কাজ করে না।
    তাছাড়া ফোনের সাউন্ড বাইরে থেকে শুনতে খুব একটা ভালো না। আবার অন্য কাজে ফোন ব্যবহারের সময় গানও শোনা যাবে না। তাই ফোনের সাউন্ড মোটামোটি ভালো বলা যায়, যা কেবল কথা বলার ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ।
  • ইউনিহারটজ অ্যাটমের নকশা এটিকে সবার থেকে পৃথক করে। এর মূল আকর্ষণই মূলত নকশা। ফোনটি বেশ শক্ত ও কঠিন। যাদের হাত থেকে ফোন বার বার পরে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাদের জন্য এই ফোনটি বেশ কার্যকর।
    ফোনের আকার ৯৬/৪৫/১৮ যা বেশ চওড়া। তবে স্মার্টফোন হিসেবে আকারে বেশ ছোটই। এর ইয়ারফোন জ্যাকের পরিমাপ হলো মাত্র ৩.৫ মিলিমিটার। তাই উৎপাদকরা বলেছেন এগুলো পৃথক করা বেশ কঠিন কাজ।
    বাম দিকে ভলিউম বাটনের পাশেই রয়েছে সিম প্রবেশ করানোর স্থান। এই ফোনে দুটো সিম ব্যবহার করা যায়। আর ডান দিক রয়েছে ফোনের পাওয়ার বাটন। ফোনের সাথে তার ও চার্জার দেয়া থাকে। খুব সম্ভবত এটি পৃথিবীর একমাত্র ফোন যার চার্জার এর ফোনের আকারের প্রায় সমান।

আকারে ছোট হলেও ইউনিহার্টজ থেকে পাচ্ছেন অনেক কিছু। বিশেষ করে সম্মুখ ও পিছনের ক্যামেরাসহ ফিঙ্গার প্রিন্ট সেন্সর থাকা এই ছোট্ট একটি ফোনে আসলেও অবাক করে দেয়ার মতো। তাই ৫/৬ ইঞ্চির ফোনের রাজত্বে এটি ক্রেতাদের আকর্ষণ কেড়ে নিতে সফল হয়েছে।

ফিচার ছবি: digitaltrends.com

তথ্য সূত্র

১. https://www.androidauthority.com/unihertz-atom-review-936593/

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *