ব্লুটুথ ইয়ারফোনের কথা সবাই শুনেছে। এটি এমন ইয়ারফোন যার জ্যাক ফোনে না প্রবেশ করিয়ে কেবল ব্লুটুথের সাথে সংযোগ ঘটিয়েই ব্যবহার করা যায়। এখন এর থেকেও সহজতর ও চমকপ্রদ প্রযুক্তি এসেছে যা ইয়ারফোন জগতে এক বিস্ময়কর অধ্যায়ের সূচনা করেছে। আর এ কাজটিতে সবচেয়ে এগিয়ে যে ব্র্যান্ডটি আছে সেটি হলো অ্যাপল।

অ্যাপলের দ্বিতীয় প্রজন্মের এয়ারপড এখন বাজারে আছে। এর সাথে তাদের প্রথম প্রজন্মের পণ্য অ্যাপল এয়ারপডের সাথে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মিল রয়েছে। কেবল কিছু জায়গায় এটি ব্যতিক্রম। আমরা আজকে এ লেখায় অ্যাপলের দ্বিতীয় প্রজন্মের এয়ারপড সম্পর্কে বিস্তারিত জানব।

বিগত কয়েক বছর ধরেই অ্যাপল তাদের বিভিন্ন নতুন পণ্য নিয়ে বাজিমাত করে আসছিল, যার মধ্যে এটিই সবচেয়ে বেশি আলোচিত- সমালোচিত হয়েছে। তিনবছর আগে নির্মিত এয়ারপড প্রথম প্রজন্মের সাথে এয়ারপড দ্বিতীয় প্রজন্মের অনেক মিল। এমনকি খালি চোখে এবং যারা আগে কোনো অ্যাপল পণ্য ব্যবহার করেননি তারা দেখলেও আলাদা করতে পারবেন না যে কোনটা প্রথম প্রজন্মের আর কোনটা দ্বিতীয়!

উভয়ের আকার, নকশা এবং শব্দের গুনাগুন হুবহু এক। পার্থক্য করার মতো কোন উপায় নেই। তবে যেহেতু নতুন প্রজন্মের এয়ারপড তাই কিছু পরিবর্তন অবশ্যই আনা হয়েছে। এই পরিবর্তনগুলো বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। কিন্তু, অ্যাপল ভক্তদের কিছু আক্ষেপ আগে থেকেই ছিল এসব এয়ারপড নিয়ে, যেমন শব্দ-রোধের ক্ষমতা, কানে দৃঢ়তার সাথে সংযুক্ত থাকা ইত্যাদি। অ্যাপল এখনো পর্যন্ত এসকল সমস্যা নিয়ে কোনো খোলামেলা কথা বলে নি।

Image Source: finance.yahoo.com

সুবিধাসমূহ

দুর্দান্ত তারবিহীন কার্যক্ষমতার সাথে বেশ নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠেছে অ্যাপলের দ্বিতীয় প্রজন্মের এই এয়ারপড। বেশ স্বাচ্ছন্দের সাথেই এটি ব্যবহার করা যায়। তাছাড়া, যেকোনো জায়গায় খুব সহজে বহনযোগ্য, চার্জ নিয়েও কোনো প্রকার সমস্যার মুখোমুখী হতে হয় না। এর ব্যাটারির জীবন দীর্ঘস্থায়ী। এর কেসটিও খুবই হালকা, সম্পূর্ণ আগের প্রজন্মের সাথে মিল পাওয়া যায়। ফাস্ট চার্জিং ব্যবস্থার সংযোজনে সহজে এবং দ্রুততার সাথে চার্জ করে নেয়া যায় এয়ারপডের।

অসুবিধাসমূহ

যে সমস্যাটি আগেও ছিল সেটি এখনও বিদ্যমান। যেমন প্রথমটির মতো দ্বিতীয় প্রজন্মের এয়ারপডও সবার কানে ঠিক মত সংযুক্ত হতে পারে না। বাহির থেকে আসা শব্দগুলো তাই সম্পূর্ণ রোধ করতে পারে না। এখনো পর্যন্ত অবশ্য এমন কোনো এয়ারপডই বাজারে কেউ আনেনি যেটি দাবি করতে পারবে তারা সম্পূর্ণ শব্দ-রোধী এয়ারপড বানিয়েছে। কিছুনা কিছু শব্দ বাহির থেক ভেতরে প্রবেশ করেই থাকে।

তবে অ্যাপলের এখানেই সুযোগ ছিল তাদের ভক্তদের হতাশ না করার। তারা তাদের দক্ষ ও সৃজনশীল প্রযুক্তিবিদদের দ্বারা এয়ারপড গুলো আরো ভালো শব্দ-রোধী ব্যবস্থা সম্পন্ন করে বানাতে পারত।

এর আরও একটি সমস্যা রয়েছে যে এটি একই সাথে দুটি যন্ত্রের সাথে সংযুক্ত হতে পারে না। একই সময়ে একটির সাথেই যুক্ত হতে পারবে এই এয়ারপড। যেমন, আপনি যদি আপনার ফোনের সাথে যুক্ত করেন তবে সেটি কম্পিউটার বা আইপ্যাড এর সাথে তখইন যুক্ত করা যাবে না।

এদিকে আইফোনের অন্যতম আকর্ষণ হলো, “হ্যালো সিরি” ভয়েস প্রতিক্রিয়া। এই চমৎকার ফিচারটি দ্বিতীয় প্রজন্মের এয়ারপডে খুবই মন্থর গতিতে কাজ করে।

Image Source: timesofindia.indiatimes.com

মূল্য

অ্যাপল এই তারবিহীন দ্বিতীয় প্রজন্মের এয়ারপড দুটি তারবিহীন চার্জারের সাথে বাজারে বিক্রয় করছে ১৯৯ মার্কিন ডলার মূল্যে, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৭ হাজার টাকার মতো। আগের যে মডেলটি ছিল তার মূল্য ছিল ১৫৯ মার্কিন ডলার যার বাংলাদেশি মূল্য ১৩ হাজার ৫ শত টাকা।

আর কেউ যদি আগের এয়ারপডটি ব্যবহার করে আগ্রহী হন, কিন্তু নতুন চার্জিং কেস ব্যবহার করতে চান, সেক্ষেত্রে আগের এয়ারপড এই নতুন চার্জিং কেস দিয়েও চার্জ দেয়া সম্ভব। এই চারজিং কেসের মূল্য পরবে ৭৯ ডলার যার এদেশের মূল্য ৬ হাজার ৭শত টাকা।

পরিবর্তন

দ্বিতীয় প্রজন্মে যে পরিবর্তনগুলো আনা হয়েছে এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল এর তারবিহীন কেস চার্জার ক্ষমতা। চারজিং কেসটি তারবিহীন হলেও এটি কিউআই ধরনের, যা অন্যান্য যেকোনো ফোনের চার্জ ব্যবস্থার মতই। তাই যেকেউ এই কেস দিয়ে একই সাথে ফোন এবং এয়ারপড দুটোই চার্জ দিতে পারবেন।

এটিতে ডাব্লিউ-ওয়ান চিপ এর বদলে এইচ-ওয়ান চিপ ব্যবহার করা হয়েছে যা এই এয়ারপডটিকে আর দ্রুততার সাথে ব্যবহার করতে সাহায্য করবে। এছাড়া ‘হ্যালো সিরি’ ব্যবহার, এক প্রযুক্তি হতে আরেক প্রযুক্তিতে সংযোগ করা, ইচ্ছে হলে গান বন্ধ রাখা, এগুলো আগের প্রজন্মের এয়ারপডের তুলনায় দ্রুত করা যাবে।

তবে এসকল সুযোগ সুবিধা থাকা স্বত্বেও সম্পূর্ণরূপে ক্রেতাদের সন্তুষ্টি এটি অর্জন করতে পারেনি। ‘হ্যালো সিরি’ বলার পর ফিরতি প্রতিক্রিয়া দিতে এখনও মোটামুটি ভালো সময়ই লাগে। তাছাড়া একই সাথে একের অধিক ডিভাইসে যুক্ত করা যায়না এই সমস্যাটি তো রয়েই গেছে।

Image Source: apple.com

                                          

এই এয়ারপডটি অন্যান্য স্মার্টফোনের সাথেও ব্যবহার করা যাবে। যেমন গ্যালাক্সি এস-১০ অথবা হুওয়ায়ের কোনো ফোনের সাথে সংযোগ ঘটিয়ে এটি ব্যবহার করা যাবে। তবে সেক্ষেত্রে দ্বিতিয়বার স্পর্শ করে যে সুবিধাসমূহ পাওয়া যেত, তা পাওয়া যাবে না। কান থেকে খুলে রাখার সাথে সাথেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গান বন্ধ হয়ে যাবেনা।

ব্যাটারি জীবনকাল

এইচ ওয়ান চিপের জন্যে এর ব্যাটারি জীবনকাল বেশ উন্নত হয়েছে। এটি কথা বলার জন্য এখন তিন ঘণ্টা ব্যাটারি সহায়তা দিয়ে থাকে যা আগের তুলনায় আরো এক ঘণ্টা বেশি বেড়েছে। গান ও যেকোনো অডিও শোনার ক্ষেত্রে এয়ারপডের ব্যাটারির আয়ু পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যমান থাকে। অন্য যেকোনো তারবিহীন এরকম ব্যবস্থায় এই সুবিধা গুলো পাওয়া যাবে না। এটির ১৫ মিনিটের চার্জে তিন ঘণ্টা শোনা আর দুই ঘণ্টা কল করার ক্ষেত্রে টানা ব্যবহার করা যায়।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *