আপনি যখনই কোন ওয়াইফাই রাউটার কিনেছেন, হয়তো লক্ষ্য করেছেন যে রাউটারের গায়ে ২.৪ গিগাহার্জ বা ৫ গিগাহার্জ লেখা থাকে। ওয়াইফাই রাউটার তৈরি করে এমন কোম্পানিসমূহ এর গুরুত্ব বিচার করেই গিগাহার্জ লেখাটকে বড় ও স্পষ্ট করে প্রকাশ করে।

এই ২.৪ গিগাহার্জ বা ৫ গিগাহার্জ আসলে কী? অনেকের হয়ত ধারনা যে ২.৪ গিগাহার্জ বা ৫ গিগাহার্জের তুলনায় কম গতি সম্পন্ন। তবে এরকম সিদ্ধান্তে উপনীত হবার আগে আমাদের আরেকটু গভীরে গিয়ে জানা দরকার এটি কতটুকু কার্যকর। আর কার্যকর হলেও দুটির মাঝে কোনটির কার্যকারিতা কতটুকু তাও জানত হবে। এ ব্যাপারে আজকে আমরা বিস্তারিত জানবো।


 ৫ গিগাহার্জের রাউটার; image source: reichelt.com

যদি মনে হয়ে থাকে ৫ গিগাহার্জ একদম নতুন সংস্করণ এবং এটি এর আগে কখনো, কোথাও ব্যবহৃত হয় নি, তাহলে ভুল ধারণা পোষন করছেন। কারণ আই ই ই ই ৮.০ তে অনেক আগে থেকেই ৫ গিগাহার্জ ব্যবহার করা হয়েছে। পার্থক্য হলো প্রযুক্তিতে। তখনকার প্রযুক্তি আর এ সময়ের প্রযুক্তির মধ্যে রয়েছে আকাশ পাতাল তফাৎ।

তাছাড়া তখন যে চ্যানেল সমূহের ব্যবহার করা হতো এখন সেই চ্যানেল ব্যবহার করা হয় না। এখন প্রযুক্তি ও চ্যানেল সমূহের ব্যবহারে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।

গিগাহার্জ ২.৪ ও গিগাহার্জ ৫ এর মাঝে পার্থক্য করতে হলে তিনটি বিষয়ের দিকে আমাদের নজর দিতে হবে।

১. গতি

ওয়াইফাই রাউটারের ক্ষেত্রে সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি তা হলো তার গতি। ওয়াইফাইয়ের গতি ও সিগন্যাল যত ভালো হবে, এর থেকে তত বেশি সুবিধা পাওয়া যাবে। আর এই স্পষ্ট সিগন্যালের জন্য প্রয়োজন উচ্চ কম্পাঙ্কের। কম্পাঙ্ক যেকোনো ওয়াইফাইয়ের কার্যকারিতা প্রভাবিত করে। কম্পাঙ্ক যত বেশি হবে ইন্টারনেটের গতি তত বেশি হবে , কম্পাঙ্ক যত হ্রাস পাবে ইন্টারনেটের গতিও ততটাই হ্রাস পাবে।

ফলে এটি স্পষ্ট যে যখন আমরা ৫ গিগাহার্জের ওয়াইফাই রাউটার ব্যবহার করি, তখন ২.৪ গিগাহার্জ থেকে অনেক বেশি গতি পেয়ে থাকি। অর্থাৎ, বড় বড় ফাইল অধিক দ্রুততার সাথে আমরা ডাউনলোড ও আপলোড করতে পারি।

নেটওয়ার্তাক কার্রযকারিতায় তারতম্য; image source: dlink.com

এছাড়াও আপনি সরাসরি কোনো ভিডিও দেখতে পারবেন খুব সহজেই। ভিডিও ও অডিও কল দেশের ও দেশের বাইরে যেকোনো অঞ্চলে করতে পারবেন। এসব সার্ভিস ব্যবহার করতে পারবেন বিনা বাধায়। অপর দিকে ব্যান্ড ২.৪ দেবে ধীর গতির ইন্টারনেট সুবিধা যা ব্যবহার করে ডাউনলোড, আপলোড, ভিডিও ও অডিও কল, অনলাইন গেমস ইত্যাদিতে গতির স্বল্পতার সম্মুখীন হবেন।

এক্ষেত্রে ইন্টারনেট লোড নিতে অনেক সময় নেবে। ভিডিও দেখবার সময় বার বার আটকে যাবে। ইউটিউব, নেটফ্লিক্সে অ্যাকাউন্ট থাকা সত্ত্বেও এগুলো ব্যবহার করতে হিমশিম খেতে হবে।

২. পরিসর

গতি ছাড়াও যে বিষয়টি ব্যান্ড দুটিকে পৃথক করে সেটি হলো তাদের ওয়াইফাই সিগন্যালের পরিসর। এমনটি জরুরী নয়, যে ব্যান্ড উচ্চ কম্পাঙ্ক বিশিষ্ট তার পরিসরও বড় হবে। পরিসরের সাথে ব্যান্ডের কম্পাঙ্কের সম্পর্ক ব্যাস্তানুপাতিক। অর্থাৎ ব্যান্ডের কম্পাঙ্ক বেশি হলে এর পরিসরও কম হবে। ফলে অল্প জায়গার মাঝেই এর সিগন্যাল ভালো পাওয়া যাবে।

ওয়াইফাই ব্যান্ডের উচ্চ গতি সম্পন্ন ক্ষমতা বেশি দূর পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করতে পারে না। মাঝখানে দেয়াল বা আরো কিছুর বাঁধা থাকলে এই গতি আরো কমতে পারে।


২.৪ ও ৫ গিগাহার্জের কম্পাঙ্ক বিশিষ্ট রাউটার; image source: dhgate.com

অপরদিকে আমরা যদি ২.৪ গিগাহার্জের কথা বলি তাহলে এটি ব্যবহারের ফলে আপনারা পাবেন বিস্তৃত পরিসর। অর্থাৎ, রাউটারের অবস্থান হতে অনেক দূরত্ব পর্যন্ত এর সংযোগ পাওয়া যাবে। গতি কম হলেও আপনার কক্ষ হতে দুই-তিন কক্ষ দূরে এর সংযোগ অবিচ্ছিন্নভাবে পাওয়া যাবে।

উচ্চতর কম্পাঙ্ক বিশিষ্ট ব্যান্ডসমূহ দেয়াল ভেদ করে প্রবেশ করতে পারে না যা তুলনামূলকভাবে নিম্ন কম্পাঙ্ক বিশিষ্ট ব্যান্ডসমূহ করতে পারে। তাই এই দিক থেকে চিন্তা করলে ৫ গিগাহার্জ ব্যান্ড হতে ২.৪ গিগাহার্জ ব্যান্ড অধিক কার্যকর।

প্রতিবন্ধকতা                                                 

ওয়াইফাই রাউটারে সিগন্যাল স্থানান্তরের ক্ষেত্রে বাঁধা প্রাপ্ত হওয়া খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। কারণ এসব কিছুই তরঙ্গের কম্পাঙ্কের সাথে জড়িত। আশেপাশের জড় বস্তু ও প্রাকৃতিক অবস্থা, সব কিছুই কম্পাঙ্কের জন্য প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো চ্যানেল। প্রত্যেক ব্যান্ডে আলাদা চ্যানেল ব্যবহার করা হয়। যেমন, ২.৪ গিগাহার্জের ব্যান্ডে ১১ টি চ্যানেল ব্যবহার করা হয়। এই চ্যানেল সমূহ একটির উপর অপরটি আপতিত হয় যার ফলে সিগন্যালের মাঝে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয় যা পরবর্তী সময়ে ইন্টারনেট গতিকে মন্থর করে দেয়।

অপরদিকে ৫ গিগাহার্জের ব্যান্ড সমূহে চ্যানেলগুলো একটি অপরটির থেকে পৃথক দূরত্বে থাকে। এতে করে সিগন্যাল একে অপরের উপর আপতিত হয় না এবং ইন্টারনেটের গতিও মন্থর হয় না। আমাদের বাসা বাড়ির আশে পাশে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ২.৪ গিগাহার্জের ব্যান্ড ব্যবহার করা হয়।


বাক্সসহ শাওমি ৪ সি রাউটার; image source: youtube.com

এর ফলে আশে পাশের চ্যানেল সমূহ একই পরিসরের মধ্যে চলে আসা সম্ভব আর এ জন্যেই প্রতিবন্ধকতার সুযোগও অনেক বেশি। অপরদিকে ৫ গিগাহার্জে এই সমস্যাটা নেই। তবে একটিই সমস্যা হতে পারে তা হলো, এর পরিসর কম। এখন আপনারাই বিবেচনা করতে পারবেন কোনটি আপনাদের জন্য অধিক উপযোগী।

তথ্য সূত্রঃ

১. https://www.youtube.com/watch?v=mGwQ2RrAUmA

২. https://www.youtube.com/watch?v=J_bf_KE5llQ

৩.  https://support.stuff-fibre.co.nz/hc/en-us/articles/226438147-What-is-the-difference-between-2-4-GHz-and-5-GHz-

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *