আপনি কী এমন কিছু পেতে চান যা আপনার যোগাযোগকে আরও সহজ করে দেবে? আপনার সেলফোন স্পর্শ না করেই এর যাবতীয় সুবিধা দিতে পারবে? আপনার স্বাস্থ্যের সাথে জড়িত যাবতীয় দিক নির্দেশনা দিতে পারবে?

সবগুলো উত্তর হ্যাঁ হলে আপনার জন্যই অপেক্ষা করছে শাওমি’র মি ব্যান্ড। আর ব্যান্ড ধারার বিস্ময় হল শাওমি’র মি ব্যান্ড ৪। আজকে আমরা শাওমির মি ব্যান্ড ৪ এর বৈশিষ্ট্য, সুবিধা সমূহ, শাওমি মি ব্যান্ড ৩ এর সাথে এর পার্থক্য অর্থাৎ, শাওমির মি ব্যান্ড ৪ সম্পর্কে বিস্তারিত জানব।

বৈশিষ্ট্য

শাওমি মি ব্যান্ড ৪ এর অন্যতম হালনাগাদ সংস্করণ হলো এর রঙিন ডিসপ্লে। আগের মি ব্যান্ড ৩ ছিল সাদা কালো যার কালো ডিসপ্লেতে সাদা রঙয়ের ফন্টগুলো ভেসে উঠতো। লেখাগুলো ব্যান্ড ৪ এর তুলনায় বেশ ছোটও ছিল। অপরদিকে স্ক্রিন তুলনামূলক বড় হওয়ার সাথে ব্যান্ড ৪ ক্রেতাদের দিচ্ছে রঙিন AMOLED ডিসপ্লে। ব্যান্ডটির ওজন ২১ গ্রাম।

মি ব্যান্ড ৪ এর ভাষা সাধারণত চাইনিজ। ব্যান্ড ৪ এর সাথে যে দিকনির্দেশনামূলক বইটি পাওয়া যায় সেটিও চাইনিজ ভাষায় লেখা। তাই মি ব্যান্ড ৪ ক্রয় করার পর যখন আপনি এটি চালু করবেন তখন ডিসপ্লেতে এর ভাষা চাইনিজ হবে। তবে চার্জ করার পরে যখন ব্যান্ডটিকে আপনার সেল ফোনের সাথে যুক্ত করবেন, তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভাষা ইংরেজিতে রূপান্তরিত হবে। এর আরেকটি অনন্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে। সেটি হল ব্যান্ড লক (বন্ধ) করার ব্যবস্থা।

ব্যান্ড ৪ হাত থেকে খুলে রাখলে সেটি যখন পুনরায় ব্যবহার করা শুরু করবেন, তখন সেলফোনে একটি পাসওয়ার্ড চাওয়া হবে সেই পাসওয়ার্ডটি দেয়া মাত্র এটি আপনি পুনরায় হাতে লাগিয়ে ব্যবহার করতে পারবেন।

মি ব্যান্ড ৪ ধারায় দুই ধরনের খেলাধুলা অর্থাৎ, ইনডোর ও আউটডোর নামে আলাদা করে বাছাই এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব খেলাধুলায় কত সময় ব্যাপি অংশ গ্রহণ করা হয়েছে তা মি ব্যান্ড ৪ তুলনামূলক নির্ভুলভাবে পাঠ দিবে।

ব্যবহার

Image Source: notebookcheck.net

প্রথমত মি ব্যান্ড ফোর এর ভাষা শুরুতে চাইনিজ থাকবে। ক্রয় করার পর ফোনে মি ফিট অ্যাপ টি ডাউনলোড করে ইনস্টল করলে সেটিতে মি ব্যান্ড ৪ সংযোগ করলে ফোনে একটি আপডেট দেখাবে। উক্ত আপডেটের পরে ভাষা চাইনিজ থেকে ইংরেজিতে রূপান্তরিত হয়ে যাবে। মি ফিট অ্যাপে প্রবেশ করে হৃদপিন্ডের কম্পন অর্থাৎ, হার্ট রেট পরিমাপ করার জন্য এবং কত সময় পর পর হার্ট রেট দেখাবে সেটিও অপশনে গিয়ে ঠিক করে নেয়া যাবে।

ব্যান্ড ৪ বায়ুমণ্ডলীয় চাপ ৫ এটিএম পর্যন্ত সহ্য করতে পারবে। অর্থাৎ, পানির ৫০ মিটার গভীরে যাবার পরেও মি ব্যান্ড ৪ ঠিকভাবে কাজ করতে পারবে। তবে পানির বেশি গভীরে গিয়ে হাত দ্রুত নাড়াচাড়া করলে চাপের পরিমাণ ৫ এটিএম হতে বেশি হতে পারে সেক্ষেত্রে এটিতে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

সুবিধা সমূহ

ব্যান্ড ৪ এর বেল্ট আগের মতই বেশ টেকসই এবং আরামদায়ক। সহজে খোলা এবং বন্ধ করা যায়। যদি হনোর ব্যান্ডের সাথে তুলনা করা হয়, তাহলে হনোর ব্যান্ডের ঘড়ির মতো খাজ কাটা রয়েছে। তবে মি ব্যান্ড ৪ এর বেল্টের মান এবং গুনাগুন অন্যান্য ব্যান্ডগুলোর মতই।

ডিসপ্লে

মি ব্যান্ড ৪ এর ডিসপ্লে মি ব্যান্ড ৩ থেকে তুলনামূলকভাবে আকারে বড়। এর ক্যাপসুল এর মত অংশটি যেখানে এর যাবতীয় কার্যাবলী দেখা যায়, সেটির পাশের দিকের অংশটুকু অল্প খাঁজকাটা। এতে করে মি ব্যান্ড ৩ এর ক্যাপসুল সমূহের মতো স্টেপ থেকে পড়ে যাওয়ার ভয় মি ব্যান্ড ৪ এ নেই।

হনোর ব্যান্ডের সাথে যদি তুলনা করা হয়, তবে হনোরের ব্যান্ডে ক্যাপসুলটিকে স্টেপ হতে আলাদা করার জন্য ক্যাপসুলের দুই প্রান্তে দুটি অংশ থাকে, যেগুলো খুলে ফেললেই ব্যান্ডটিকে স্টেপ হতে আলাদা করা সম্ভব। মি ব্যান্ড ৪ এর ডিসপ্লে রঙিন যা এর আগের মি ব্যান্ডে ছিল না। ব্যান্ড ৪ এর ডিসপ্লে ০.৯৫ রঙিন এমোলেড (AMOLED) এবং এর দৃশ্যমান রেজুলেশন ১২০×২৪০ পিক্সেল যা পূর্বে মি ব্যান্ড ৩ থ্রি তে ছিল ডিসপ্লে ০.৭৮ ও রেজুলেশন ৮০×১২৮ পিক্সেল

AMOLED দ্বারা মূলত, তুলনামূলক কম খরচ এবং কম শক্তি ব্যবহারে ভালো মানের রঙিন দৃশ্য দেখার জন্য প্রাযুক্তিক যে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, তা বোঝায়। সাধারণত এই এমোলেড ডিসপ্লে টেলিভিশন, স্মার্টফোন এবং ব্যান্ডগুলোতে ব্যবহার করা হয়। ব্যান্ড ৪ ডিসপ্লের নিচের অংশে একটি সেন্সর রয়েছে যেখানে আঙ্গুল দিয়ে ধরে রাখলে ডিসপ্লের বাতি জ্বলে উঠবে।

তবে, সময় দেখা বা অন্যান্য যে কোন কাজ করার জন্য ডিসপ্লে সেন্সর এর উপরে স্পর্শ করার প্রয়োজন নেই। হাত নাড়াচাড়া করলে ডিসপ্লের বাতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে জ্বলে উঠবে এবং আপনি আপনার কাজের ফলাফল দেখতে পাবেন। হাতের আঙ্গুল দিয়ে ডিসপ্লের উপর দিকে স্পর্শ করে নিচের দিকে আঙুল নামালে ব্যান্ড ৪ এর যাবতীয় কার্যাবলী ও সুযোগ সুবিধা সমূহ দেখা যাবে। তারপর নিজের পছন্দ অনুযায়ী বেছে নেয়া যেকোনো কাজের ফলাফল দেখতে পাবেন

শারীরিক ব্যায়াম

ব্যান্ড ৪ এ যেকোনো ধরনের ব্যায়াম কত সময় ধরে করা হয়েছে, এতে করে কতটুকু শক্তি (ক্যালোরি) ক্ষয় হয়েছে, তা আগের থেকে তুলনামূলক সূক্ষ্মভাবে নিরূপণ করতে পারে। এতে পাঁচ ধরনের শারীরিক ব্যায়াম যথা- সাইক্লিং, সাঁতার, দৌড়ানো, হাঁটা ও অন্যান্য যেকোনো প্রকারের কাজ করার সময় শক্তি (ক্যালোরি) পরিমাপ করা যাবে। তবে অবশ্যই ব্যায়াম করার আগে টাইমার চালু করে হিসেব শুরু করতে হবে।

Image Source: techradar.com

ফোন রিসিভ

ব্যান্ড ৩ এর মতো ব্যান্ড ৪ এ-ও ফোনে আসা যেকোনো ধরনের বার্তার জন্য একটি কম্পন করবে। তখন ব্যান্ড থেকে ফোনটি রিসিভ করা যাবে এবং ফোনটি কোন নম্বর থেকে এসেছে অথবা নম্বরটি কোনো নামে সেইভ করা থাকলে সেই নামটিও ডিসপ্লেতে দেখা যাবে। তাছাড়া যেকোনো বার্তা মি ব্যান্ড ৪ এ পড়া যাবে।

ব্যান্ড ৪ যদি ফোনের বিভিন্ন অ্যাপের সাথে যুক্ত করা থাকে, তবে সংযুক্ত অ্যাপগুলোতে যত প্রকার বার্তা আসবে তার প্রত্যেকটির জন্য ব্যান্ড ৪ এ কম্পন অনুভূত হবে এবং সেই বার্তাসমূহ পড়া যাবে।

ব্যাটারি

ব্যান্ড ৪ এর ব্যাটারি সম্পূর্ণ চার্জ হতে ৪০ মিনিটের মতো সময় নেয় এবং এক চার্জে ২০ দিন পর্যন্ত চালানো যায়। এর ব্যাটারি ক্ষমতা ১৩৫ এমএএইচ। তবে অতিরিক্ত ব্যবহার না করলে এটি প্রযোজ্য নতুবা ১৫-১৭ দিনের মত অনায়াসে ব্যবহার করা যায়। আগের সংস্করণের ব্যান্ডটি ১০-১২ দিন এক চার্জে ব্যবহার করা যেত।

মি ব্যান্ড ৪ সত্যিকার অর্থেই স্মার্ট ওয়াচ ও ব্যান্ড ভক্তদের জন্য নিয়ে এসেছে যাবতীয় সুযোগ সুবিধা, যা এর পূর্ববর্তী মি ব্যান্ড ৩ থেকে আরো বেশি সক্রিয় ও টেকসই। রঙিন ডিসপ্লে ও সূক্ষ্ম পাঠের সাথে অন্যান্য সুবিধা একে করেছে অনন্য।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *